জাতীয়

শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র নাকি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট ২০২৬। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তী শাসনের পর এ ভোটকে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রের সামনের দিনের গতিপথ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এরই মধ্যে একে ‘জেন জি আন্দোলন-পরবর্তী প্রথম নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আরব বসন্তের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে গণ-আন্দোলন ও শাসন পরিবর্তনের পরবর্তী সময়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের গতিপথ নির্ধারিত হয়। আরব দেশগুলোয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ রূপান্তর যাত্রা দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা, সংঘাত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে গড়িয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় স্থিতিশীলতার দিকে যাবে, নাকি ফলাফল ঘিরে বিতর্ক ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার চক্রে ঢুকে পড়বে—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

 

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত হয় কিনা তার ওপর। ফলাফল ঘিরে বিতর্ক, আস্থার সংকট ও রাজনৈতিক টানাপড়েন দেখা দিলে স্থিতিশীলতার বদলে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

 

দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে আজ ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে স্থাপন করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোট কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে থাকছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ। প্রায় ২৪ হাজার ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করবে সামগ্রিক নির্বাচনী পরিস্থিতি ও ভোটার উপস্থিতির হারের ওপর। উচ্চ ভোটার উপস্থিতি সাধারণত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু ভোটার উপস্থিতি যদি ৫০ শতাংশের কম হয়, তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভোটাররা কতটা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন, প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং কেন্দ্রভিত্তিক সহিংসতার মতো বিষয়ও নির্বাচনের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের পর আরো বড় প্রশ্ন হলো ফলাফল মেনে নেয়ার রাজনৈতিক মানসিকতা। পরাজিত দল যদি ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে নেমে যায়, তাহলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

 

সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘দেশের স্বার্থে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে। আর তা না হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে বর্তমান উত্তেজনাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।’

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের ফলাফল-পরবর্তী উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার নজির রয়েছে। তাই এবার রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা, দ্রুত ফল ঘোষণা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা ফলাফল গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে ভোটের আগের দিন বিভিন্ন জেলায় নগদ টাকা উদ্ধার ও আরো কিছু অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গতকাল বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা উদ্বেগজনক। তবে পরবর্তী পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নির্ভর করবে তিনটি পর্যায়ে—ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা। নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে আরো সতর্ক থাকতে হবে, যাতে গণনা ও ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো সংশয়-সন্দেহ তৈরি না হয়। কারণ শেষ পর্যন্ত ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতাই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’

 

wef

 

কেবল কারিগরি দিক নয়, নৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও এখানে বড় বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে দল পরাজিত হবে, তারা ফলাফলকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং নাগরিক সমাজ ও পর্যবেক্ষকরা প্রক্রিয়াটি কীভাবে মূল্যায়ন করে এসবের ওপরই নির্ভর করবে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা যেন তৈরি না হয়, এটাই এখন আমাদের প্রধান প্রত্যাশা।’ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এ নির্বাচন যদি একটি নতুন গণতান্ত্রিক উত্তরণের সূচনা হিসেবে ভূমিকা রাখে, সেটিই হবে বড় অর্জন।

 

নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর নয় লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগে থেকেই সারা দেশে মোতায়েন আছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবার বিশেষ করে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের মাঠে যদি তারা ভোটার, প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, কেন্দ্রভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অনিয়ম-সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভোটের গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি পেশাদারত্বের একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বলা যায়, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্বের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে গণতন্ত্রে উত্তরণ। এর ব্যতিক্রম হলে আরব বসন্তের মতো অভিজ্ঞতা হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। ২০১০ সালে তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। প্রথম ধাপে স্বৈরশাসকের পতন ঘিরে জনতার উচ্ছ্বাস ছিল প্রবল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বহু দেশে রাজনৈতিক রূপান্তর প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতায় রূপ নিতে পারেনি।

 

মিসরে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব এলেও রাষ্ট্র পুনর্গঠনকালে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্রতর হয়। লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতনের পর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সংঘাতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং দীর্ঘকালীন গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইয়েমেনে শাসন পরিবর্তনের পরও আঞ্চলিক ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। তিউনিসিয়া প্রথমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। এক পর্যায়ে দেশটি কর্তৃত্ববাদী শাসনেই ফিরে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এ দেশগুলোয় পুরনো ক্ষমতা কাঠামো ভাঙলেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার করতে পারেনি। এছাড়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্যের অভাব দীর্ঘ অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও বিনিয়োগ সংকট জনগণের অর্থনৈতিক প্রত্যাশাকে পূরণ করতে পারেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনঅসন্তোষ বেড়ে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। ফলে গণ-অভ্যুত্থানের পরের নির্বাচনগুলো স্থিতিশীলতা আনার বদলে অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে আরো গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের পর পরাজিত পক্ষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাই নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতার বড় নির্ধারক। ১৯৯১ সালে ধরে নেয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ জিতবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে পরে তারা সংসদে গেছে। পরবর্তী সময়েও গ্রহণযোগ্য যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোতে ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলেও বিরোধী দল সংসদে গেছে।’

 

তার মতে, ‘শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক দলগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার ভেতরে থেকে কীভাবে এগোয়। বিরোধী পক্ষ যদি সংসদে অংশ নেয় এবং রাজনৈতিক বিরোধকে সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই ধরে রাখতে পারে, তাহলে তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেবে। এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। যদি তা না হয় তাহলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। যেমনটি আরব বসন্ত-পরবর্তী বহু দেশে দেখা গেছে।’

 

আরব বসন্তের বিপরীতে শ্রীলংকার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট দেখিয়েছে। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট ও গণবিক্ষোভে মাহিন্দা রাজাপাকশে সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, রাজস্ব সংস্কার ও ব্যয়সংকোচন নীতির পথ নেয় দেশটি। ২০২৪ সালে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েক। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী শ্রীলংকাকে বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ার মডেল হিসেবে অভিহিত করেন। দেশটির অভিজ্ঞতা বলছে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া গণ-আন্দোলনের পরবর্তী স্থিতিশীলতা টেকসই হয় না।

 

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর শাসনভার গ্রহণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। জন-আকাঙ্ক্ষা ছিল স্পষ্ট—দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর রাষ্ট্রকে আবার গণতান্ত্রিক পথে ফেরানো, দুর্নীতির পুরনো নেটওয়ার্ক ভাঙা, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করাসহ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। বলা যায়, রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এ সরকারের মূল ম্যান্ডেট। যদিও গত দেড় বছরে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রত্যাশিত সংস্কার দৃশ্যমান হয়নি। মূল্যস্ফীতি কমেনি, বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটেনি, একই সঙ্গে বেকারত্ব বেড়েছে। বিপরীতে ক্ষমতা গ্রহণের পর কয়েক মাসে সরকারের সবচেয়ে সক্রিয়, দ্রুত ও দৃশ্যমান সিদ্ধান্তগুলো এসেছে এমন সব খাতে, যেগুলো রাজনৈতিক সংস্কারের চেয়ে বেশি ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালেও কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট চুক্তি কিংবা চুক্তি প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের নীতিগত পরিসর সংকুচিত করার ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে করা কিছু চুক্তির কারণে দেশ ভূরাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এ সরকার বাংলাদেশকে একটা বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গণসম্মতির বাইরে গিয়ে গোপনে ও অযৌক্তিকভাবে এমন কিছু দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ঝুঁকি বাড়াবে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বিশেষ করে এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। কোন প্রক্রিয়ায়, কী যুক্তিতে এবং কার স্বার্থে এসব করা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এসব চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে; তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে।’

 

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রের পথে এগোতে পারবে, নাকি নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক ও আস্থার সংকট দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াবে—আজকের দিনটি সেই দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটি কার্যকর সংসদ গঠন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া যায়, তাহলে সেটাই বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি ফলাফল মেনে নিয়ে সহনশীল আচরণ করে, তাহলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।’

 

দেশে এখনো পরিপক্ব গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি, সেটি রাতারাতি অর্জিত হবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতা বা টাকাসহ গ্রেফতারের যে ঘটনাগুলো সামনে এসেছে তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ। গণ-অভ্যুত্থান ঘটলেই সব ব্যাধির অবসান হয় না। রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইন-কানুন, রাজনৈতিক আচরণ, এমনকি সামাজিক-সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনতে হয়। গত ১৮ মাসে এসব ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল কিন্তু সেখানে একশভাগের একভাগ অগ্রগতিও হয়নি।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

তারেক রহমান ও শেহবাজ শরীফ। ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।     প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।     দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দিনই অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অধিবেশনের পর্বটি অনুষ্ঠিত হবে।     সেখানে নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে নির্ধারিত ১৮ জন বক্তার মধ্যে তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন ১১তম বক্তা হিসেবে।     ভাষণের আগে বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বগত সংকট মোকাবেলাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে পাঁচ মিনিটের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক আরেকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।   বৃহস্পতিবারের অন্যান্য কূটনৈতিক সূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টা পর্যন্ত ‘ইউএন বাইল্যাটেরাল বুথে’ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন সরকারপ্রধান।     প্রেস উইং আরো জানায়, সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন অথবা নিজের আবাসন হোটেল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে’ ফিরবেন।     রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।   পরদিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ১১টায় কুয়েতের স্থায়ী মিশনে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক প্রবণতা ও ঝুঁকি নিয়ে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যাহ্নভোজ শেষে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে তার।       জাতিসংঘ সফর সমাপ্ত করে ওই দিনই (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় (দুবাই সময়) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় দুবাই থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইটটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ফাইল ছবি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ড. মঈন খানের

হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

পেনশন বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ছেলের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপির গুলশান বিভাগের নতুন ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবির খান

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে মোহাম্মদ রুহুল কবির খানকে বদলি করা হয়েছে।       সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সদর দপ্তর ও প্রশাসন শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।         আদেশে বলা হয়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে গুলশান বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।      এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হলেন আলীমুল আমীন

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম কমানোর দাবিতে মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
জামতৈল স্টেশনে অস্ত্র হাতে যুবকদের ভিডিও, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় কয়েকজন যুবকের অস্ত্রসদৃশ বস্তু হাতে তৈরি করা একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে ধারণ করা ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যুবকদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা অস্ত্রগুলো আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এগুলো কাঠ দিয়ে তৈরি খেলনা অস্ত্র। অ্যাকশনধর্মী ভিডিও তৈরির অংশ হিসেবেই যুবকেরা এসব খেলনা ব্যবহার করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   তবে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মতো দেখতে বস্তু হাতে নিয়ে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে কামারখন্দ থানা পুলিশ সংশ্লিষ্টদের ডেকে এনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য সতর্ক করে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট যুবকেরা দীর্ঘদিন ধরে তামিল সিনেমার আদলে বিভিন্ন অ্যাকশন ও বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বেশ কিছু ভিডিও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়েছে।   ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত এস কে শাহিন বলেন, জামতৈল স্টেশনে ধারণ করা ভিডিওটি প্রায় পাঁচ মাস আগের। পুলিশ তাদের থানায় ডেকে নিয়ে বিষয়টি জানতে চেয়েছে এবং তারা ভিডিও তৈরির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। ভবিষ্যতে জনসম্মুখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।   কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী বলেন, অস্ত্র হাতে মহড়ার একটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওতে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কাঠের তৈরি খেলনা। ভিডিওটিও প্রায় পাঁচ মাস আগের।   ওসি জানান, সংশ্লিষ্ট যুবকদের থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। তারা মুচলেকা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে জনসম্মুখে খেলনা অস্ত্র প্রদর্শন করে এ ধরনের ভিডিও তৈরি করবেন না বলে জানিয়েছেন।   সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা বা বেশি ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসদৃশ বস্তু ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি ও প্রচার না করতে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শাহজালালে বিমানের ফ্লাইটে অভিযান, শতাধিক স্বর্ণবার জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

আজমুল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খুলনায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

0 Comments