সর্বশেষ

সফল উদ্যোক্তাদের জন্য মহানবী (সা.)–এর ১০টি মূল্যবান উপদেশ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সাফল্যের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা। আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে মুনাফার জন্য অনৈতিক পথ অবলম্বন করাকে অনেকে ‘স্মার্টনেস’ মনে করেন। কিন্তু নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন সততা ও বিশ্বস্ততাই হলো ব্যবসার আসল মূলধন।

 

একজন সফল উদ্যোক্তা বা কর্মজীবী হওয়ার জন্য তাঁর জীবন থেকে ১০টি বৈপ্লবিক সূত্র তুলে ধরা হলো:

 

১. সততাই শ্রেষ্ঠ মূলধন

ব্যবসার সাফল্যের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ধ্বংস ডেকে আনে। নবীজি (সা.) সত্যবাদী ব্যবসায়ীদের পরকালে উচ্চ মর্যাদার সুসংবাদ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “সত্যবাদী ও আমানতদার (বিশ্বস্ত) ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবীগণ, সত্যবাদীগণ এবং শহীদদের সঙ্গী হবেন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯)

 

২. ভেজাল ও প্রতারণা বর্জন

পণ্যের ত্রুটি গোপন করা বা ওজনে কম দেওয়া শুধু নৈতিক অপরাধ নয়, বরং এটি ব্যবসায়িক বরকত নষ্ট করে দেয়।

একবার রাসুল (সা.) এক খাদ্য বিক্রেতার শস্যের স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন ভেতরে ভেজা। তিনি বললেন, “যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২)

 

৩. সহজলভ্যতা ও সহমর্মিতা

বেচাকেনার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া বা গ্রাহককে ঠকানো নয়, বরং উদার ও নমনীয় হওয়া বরকতের চাবিকাঠি।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এবং পাওনা দাবির সময় নমনীয় থাকে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৭৬)

 

৪. শ্রমিকের অধিকার ও মজুরি

একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে তার কর্মীদের সন্তুষ্টির ওপর। নবীজি (সা.) শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করো তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৪৪৩)

 

৫. অতিরিক্ত শপথ না করা

পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে কসম বা শপথ করা ব্যবসার সুনাম নষ্ট করে এবং গ্রাহকের আস্থা কমিয়ে দেয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “বেচাকেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কসম করা থেকে বিরত থাকো; এটি পণ্য বিক্রি বাড়ালেও বরকত মিটিয়ে দেয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৭)

 

৬. মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি

মুনাফার লোভে পণ্য জমা রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাকে নবীজি (সা.) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “পণ্য মজুদকারী ব্যক্তি অত্যন্ত অপরাধী।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৫)

 

৭. ঋণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা

পেশাদার জীবনে লেনদেনের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। ঋণ পরিশোধের সদিচ্ছা এবং সময়মতো তা ফেরত দেওয়া সফল ব্যক্তিত্বের পরিচয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩০৫)

 

৮. সুদের ভয়াবহতা থেকে দূরে থাকা

আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য সুদবিহীন অর্থনীতির ওপর জোর দিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষী—সকলের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)

 

৯. অলসতা ত্যাগ ও স্বাবলম্বিতা

কারো ওপর বোঝা না হয়ে নিজ হাতে উপার্জন করাকে নবীজি (সা.) ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ খাদ্য আর কেউ কখনো খায়নি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬১)

 

১০. ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ

উপার্জনের পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা আর্থিক সমৃদ্ধির অন্যতম সূত্র। অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা অপচয় করো না; নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৭)

রাসুল (সা.)-এর এই অর্থনৈতিক দর্শন শুধু ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি নয়, বরং একটি সুষম ও ইনসাফপূর্ণ অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখায়। সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সচেতনতাই হলো প্রকৃত ও স্থায়ী সাফল্যের ভিত্তি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।   এর আগে বুধবার ছয় শিশুর মৃত্যু নিয়ে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ জন্য তাকে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে এই নোটিশ দেওয়া হয়।   গত শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবসরের ভাবনা প্রত্যাখ্যান করলেন শেখ হাসিনা

ছবি : সংগৃহীত

নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ আজ, দোষী সাব্যস্ত হলে হতে পারে কঠোর শাস্তি

ছবি : সংগৃহীত

আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে আপিল শুনানি আজ

ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গল সলিমপুর দখলদারের তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পরিবারের প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের তিন লাখ শতক (৩১শ একর) খাসজমির মধ্যে প্রায় দুই লাখ শতকই ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র থেকে গায়েব হয়ে গেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের সঙ্গে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই জমি যে যেভাবে পেরেছে লুট করেছে। দখলদারদের তালিকায় আছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই বিশাল খাসজমি লুটের মহোৎসবে যোগ দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও।    ভূমিদস্যুরা প্রথমে পাহাড়ের গাছ কেটেছেন। এরপর পাহাড় কেটে মাটি ও বালু সরিয়ে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন। তাদের এই ধ্বংসযজ্ঞে ৭০ ভাগ পাহাড়-টিলা উজাড় হয়ে গেছে। এতে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা এখন খালে পরিণত হয়েছে। এমনকি পাহাড় কাটার মাটি ও বালু সরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়েই নির্মাণ করেছেন ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। এতে যে কোনো সময় গ্যাসলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুগান্তরের মাসব্যাপী অনুসন্ধানে জঙ্গল সলিমপুরের এই চাঞ্চল্যকর জমি লুটের তথ্য উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ জমি বেহাত হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমদ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের জমির প্রকৃত চিত্র জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন আকারে চাওয়া হবে। যেসব প্রভাবশালী আলোচনায় আসছেন, তারা কে কীভাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন, তাও জানতে হবে। বিষয়টি আমি দেখছি। অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডপত্রে জঙ্গল সলিমপুরে ৩ লাখ ১০ হাজার শতক খাসজমির হিসাব আছে। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা। তবে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সংরক্ষিত রেকর্ডপত্রে অর্ধেকেরও বেশি জমির রেকর্ড নেই। সেখানে আছে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতকের জমির তথ্য। অবশিষ্ট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমি চলে গেছে পাহাড়খেকোদের পেটে। সীতাকুণ্ড রেজিস্ট্রি অফিসেই সরকারি খাসজমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একজন দলিল লেখক। সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সরেজমিন কথা হয় ওই দলিল লেখকের সঙ্গে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ইয়াসিনকে মালিক সাজিয়ে সলিমপুরের বহু জমি বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি বিক্রির পর সেগুলো নামজারিও হয়েছে এসি ল্যান্ড অফিসে। নামজারি ও রেজিস্ট্রি করার সুবিধা পেতে রেকর্ডপত্র থেকেই খাসজমির তালিকা গোপন করা হয়। এই দুটি অফিসের অনেক কর্মচারী ইয়াসিনের সহযোগী। তারা সবাই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত করা হলে সব বেরিয়ে আসবে। রেজিস্ট্রির পর নামজারির তথ্য-উপাত্ত গোপন করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় র‌্যাব সদস্য নিহত হওয়ার পর রেজিস্ট্রি ও এসি ল্যান্ড অফিসে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। সেখান থেকে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। গোপন করা হয়েছে সব রেকর্ডপত্রও। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরের সব রেজিস্ট্রি মৌখিকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেকর্ডপত্রে নেই খাসজমি : তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া রেকর্ডপত্রে দেখা যায়, বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী জঙ্গল সলিমপুরে খাসজমির ১৪০টি দাগ আছে। এর মধ্যে পাহাড় শ্রেণিতে ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৮, নাল ১ হাজার ৩০১, খাল ৩১৯, ছড়া ২ হাজার ২১৩, গোপাট ৭৭, ছনখোলা ১ হাজার ৩১৭, টিলা ১ হাজার ৫৭, জঙ্গল ৪৭৪, কবরস্থান ৫৪৯, বাড়ি ৭৬, রাস্তা ২৯, মিল ৯০১ এবং খিলা শ্রেণিতে ৩৪ শতক জমি রয়েছে। খাসজমির এই তালিকা সংগ্রহ করতেও অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে প্রতিবেদককে। তালিকায় দেখা গেছে, উল্লিখিত শ্রেণিবদ্ধ জঙ্গল সলিমপুরে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতক জমি আছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের হিসাবে তিন হাজার ১০০ একর (৩ লাখ ১০ হাজার শতক) জমির তথ্য প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমির হদিস নেই। প্রকৃত তথ্য গোপন করে রেজিস্ট্রির পাশাপাশি নামজারিও করা হয়েছে এসব জমি। খাসজমি উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ : আলোচ্য খাসজমি উদ্ধারে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাস্টারপ্ল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সচিব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা। সভায় খাসজমি প্রভাবশালীরা কীভাবে দখল করেছে তার অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীরা প্রথমে পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলে। এরপর পাহাড় কেটে মাটি ও বালু বিক্রি করে। পরে সেখানে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে দেয়। প্রায় ৭০ ভাগ পাহাড়-টিলা উজাড় করা হয়েছে। এর ফলে একসময় যেখানে ৪-৫ কিলোমিটার বিস্তৃত পাহাড় ও টিলার সারি ছিল, তা এখন দীর্ঘ খালে পরিণত হয়েছে। এমনকি তারা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিসিএল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েক কিলোমিটার লম্বা রাস্তা তৈরি করেছে। সেই রাস্তা দিয়ে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর, ড্রাম্প ট্রাক এবং বালু ও মাটিবাহী বড় বড় ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে ওই গ্যাসলাইনে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সভায় আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে এখানে প্রথম উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খাসজমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের দখলেও সেখানে শত শত একর খাস জায়গা থাকায় সেই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। প্রভাবশালীদের সাইনবোর্ডে সয়লাব : সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে সয়লাব হয়ে গেছে জঙ্গল সলিমপুরের খাসজমি। জমি দখলের তালিকায় আছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও। তার বাবা আখতারুজ্জমান বাবুর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘চৌধুরী অ্যাগ্রো’র নামেও জমি দখল করতে দেখা গেছে। এছাড়াও দখলের তালিকায় আছে চট্টগ্রাম ব্রিকস অ্যান্ড ক্লে ওয়ার্কস লিমিটেড, পোর্টলিংক লজিস্টিকস কনটেইনার লিমিটেড, খান অ্যাগ্রো, সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকা, মুক্তিযোদ্ধা বসতিনগর, জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিলস। এমনকি ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজের সীমানার ভেতরেও আছে এই জমি। জমি চায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান : দখল উচ্ছেদ করে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ঘোষণার পর ২০২২ সালের পর চট্টগ্রামের অন্তত অর্ধশত প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই সরকারি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দের আবেদনে যে পরিমাণ জমির চাহিদা দেওয়া হয়েছে, তার অর্ধেকও সেখানে নেই। জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়েছে ৩৫০ একর। পুলিশের ৫টি ইউনিট থেকে পৃথক আবেদন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের জন্য ২৫, মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ের জন্য ১৪৫, বাংলাদেশ পুলিশ (আরআরএফ) ২৫, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ১৫ এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক একর জমি চেয়েছে। জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে চট্টগ্রাম সেনানিবাসও। তারা চেয়েছে এক হাজার একর এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি ২৩৮ দশমিক ১৩ একর। র‌্যাব-৭ দশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১২০, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ১০, চট্টগ্রাম ওয়াসা ১০০, বাংলাদেশ বেতার ২৫ এবং বিজিএমইএ ২০০ একর জমি চেয়েছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ একর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য ৫০, সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানার জন্য ২০, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চেয়েছে ৫০০ একর। এছাড়া কারা ডিআইজির কার্যালয় ৭৫ এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা চেয়েছে ৪০ একর জমি। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১২, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ ২৫, আল মানাছিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৫০, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ৩০, ইউনিভার্সিটি অব গ্র্যান্ড ৫, বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১০, খাদ্য বিভাগ ৫০, ফায়ার সার্ভিস ১০, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ২৫, মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাব ২০, অটিস্টিক বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ৬, বাংলাদেশ স্কাউটস চট্টগ্রাম অঞ্চল ৫, বুড্ডিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেন্টার ১০, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্র ৬৬, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির প্রশিক্ষণকেন্দ্র ১০ এবং জেএম শিপব্রেকিং রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশ কারখানা তৈরির জন্য ২৫ একর জমি চেয়েছে। এদিকে বারবার চেষ্টা করেও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সরকারি নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। পরে যোগাযোগ করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে আরও ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। সাখাওয়াত জামিল বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে আমাকে জানিয়েছেন তার অফিসের রেকর্ডপত্রে আছে ৯১০ একর। এই জমি এখন কীভাবে আবেদনকারীদের দেওয়া হবে, সেটি ভূমি মন্ত্রণালয় দেখবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ১ হাজার শহর ঘুরে দেখলেন তানভীর অপু

ছবি: সংগৃহীত

কিউবায় ১৫০ বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ছাড়াই ভূমিকম্পে ভবন রক্ষা করবে নতুন ডিভাইস

করিম খান। ছবি : সংগৃহীত
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুন) আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থা এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।   সংস্থাটি জানায়, করিম খানকে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিসেবা কার্যালয় পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের সামনে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এক বিবৃতিতে ব্যুরো জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি অ্যাড হক প্যানেলের পরামর্শ এবং লিখিত উপস্থাপনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যুরো আরও বলেছে, সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত নথিপত্র গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গোপনীয়তা, অধিকার ও চলমান প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন যত দ্রুত সম্ভব আহ্বান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যে বিদ্যুৎকেন্দ্র কখনো থামবে না: বাংলাদেশেও কি সম্ভব এমন বিদ্যুৎ উৎপাদন?

ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় ছেলেকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বাবা

ছবি: সংগৃহীত

হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৪১ হাজার ২৩২ হাজি

0 Comments