সারাদেশ

লোহালিয়া নদীর সেতু পরিদর্শনে সেতুমন্ত্রীর গাড়ি অবরুদ্ধ, বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে তিনি বাউফল প্রান্তের জনসভায় না গিয়ে দুমকি উপজেলার একটি সভায় বক্তব্য দেন।

 

আজ মঙ্গলবার দুমকি ও বাউফলের মধ্যবর্তী লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এ উপলক্ষে পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফল প্রান্তে জনসভার আয়োজন করেন। একই সময়ে নদীর অপর প্রান্ত দুমকি উপজেলায় আরেকটি জনসভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

 

এলাকাবাসী জানায়, দুপুরের দিকে সেতুমন্ত্রী বাউফল প্রান্তে পৌঁছালে এবং তার গাড়িবহর জনসভার মঞ্চের দিকে যেতে চাইলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে পথ আটকে দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সেখানে সভার ব্যানারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি রাখা হয়নি। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পাল্টা স্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

ঘটনাস্থলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বাউফলের সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন। পরে সেতুমন্ত্রী ফেরিতে করে দুমকি প্রান্তে ফিরে যান এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ দাবি করেন, “সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন।

 

অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুল ইসলাম বলেন, "বগা সেতু একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হওয়ায় বিষয়টি দলীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চায়নি জামায়াত। তাই ব্যানারে স্থানীয় এমপি ও সেতুমন্ত্রীর ছবি রাখা হলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করা হয়নি।" এটিকে অজুহাত বানিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে বাধা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রায় এক হাজার মিটার দীর্ঘ নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এখন নতুন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
দেশের ৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত হলো ‌‘সরকারি’

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ দেশের ৪৯টি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউটের নামের সঙ্গে ‘সরকারি’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। এ শব্দটি সংযোজন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ১১ মের এ সংক্রান্ত পরিপত্রটি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্মাণাধীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর নামেও ‘সরকারি’ শব্দটি অনুরূপভাবে সংযোজন করতে হবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

লোহালিয়া নদীর সেতু পরিদর্শনে সেতুমন্ত্রীর গাড়ি অবরুদ্ধ, বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি সরকার গোপালগঞ্জে চালু করছে ২টি নতুন ট্রেন

ছবি : সংগৃহীত

সাবেক এমপি-বিমান কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অযোগ্যরাও পাইলট!

সংগৃহীত ছবি
সোনারগাঁয়ের সাবেক ইউএনও এবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

নিজের সততা, মেধা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে একের পর এক ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা রহমান। তার নতুন কর্মস্থল ঢাকা জেলা।   গত রোববার (১০ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ফারজানা রহমানের পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফারজানা রহমান নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার সন্তান। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশলে লেখাপড়া করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস ৩৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা ফারজানা রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কক্সবাজার সদরে সততার সঙ্গে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোনারগাঁয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়। সোনারগাঁয়ে ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর তিনি প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মানুষের জন্য মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন তিনি। এ কারণে অল্প সময়েই সর্বমহলে প্রশংসিত হন ফারজানা রহমান। সোনারগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলার মানুষের কল্যাণে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ফারজানা রহমান বলেন, “পদোন্নতি হলো কাজ করার আরও বড় সুযোগ। তবে সোনারগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে সোনারগাঁবাসীর জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেন, সোনারগাঁবাসীর কথা চিরকাল মনে থাকবে আমার।”

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ছেলেকে দিয়ে পাঠদান করানোয় সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

পিচ্চি রাজা। ছবি : সংগৃহীত

মাদকের গডফাদার পিচ্চি রাজা আটক

ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার, চট্টগ্রাম। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই অভ্যুত্থান মামলায় ২৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

সিলেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ৫৯ মামলায় ২৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) রাতে মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮ এ ধারা ১৭৩ (এ) সংযোজন করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। এই ধারা অনুযায়ী, হয়রানিমূলকভাবে কারো নাম কোনো মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন এবং আদালত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারবেন। এর প্রেক্ষিতে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানার ৩৯টি মামলায় ১৪৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়। একইভাবে সিলেট রেঞ্জের ৩ জেলার ২০টি মামলায় ১৪০ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে পূর্ব বিরোধ, প্রতিশোধপরায়ণতা কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অনেককে এসব এজাহারে আসামি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তে ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারার কার্যকর প্রয়োগ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মান আরো উন্নত হয়।

মারিয়া রহমান মে ১৯, ২০২৬
ফাইল ছবি

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, পাল্টা ফায়ার বিজিবির

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহায় চামড়া সংরক্ষণে লবণ, ঋণ ও বিদ্যুৎ নিশ্চিতের উদ্যোগ সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে ছেলের সামনেই মাকে হত্যা, অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা

0 Comments