আন্তর্জাতিক

হরমুজ সংকটে তুরস্কের জন্য ভাগ্য বদলের সুযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা যখন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত, তখন নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ভাগ্য বদলের বড় সুযোগ দেখছে তুরস্ক। কাস্পিয়ান সাগর, দক্ষিণ ককেশাস এবং তুরস্ক হয়ে চীন ও মধ্য এশিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তকারী ‘মিডল করিডোর’ বা মধ্যবর্তী বাণিজ্য পথটিকে জনপ্রিয় করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে আঙ্কারা। তবে এই পথটিকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর পেছনে বড় ধরনের পরিবহন, আর্থিক ও রাজনৈতিক বাধা রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

 

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্য দিয়ে যাওয়া উত্তর দিকের স্থলপথগুলো (নর্দার্ন করিডোর) বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই মিডল করিডোরের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে শুরু করে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এই রুটের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

 

তুরস্কের আগ্রহের নেপথ্যে কী?

মিডল করিডোর, যার আনুষ্ঠানিক নাম ট্রান্স-কাস্পিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট রুট (টিআইটিআর) হলো একটি বহুমাত্রিক (রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথের মিশ্রণ) চীন-ইউরোপীয় প্রকল্প। এটি চীন থেকে শুরু হয়ে মধ্য এশিয়া, কাস্পিয়ান সাগর, আজারবাইজান ও জর্জিয়া হয়ে তুরস্কের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কাস্পিয়ান পলিসি সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, এই করিডোরে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মাইল রেলপথ এবং ৩১০ মাইলের কাস্পিয়ান সাগর পারাপার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই এই করিডোর বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে। আঙ্কারা এটিকে মধ্য এশিয়ার বিশাল জ্বালানি সম্পদের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করে। যার মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তানের ৩০ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল ও ৮৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তুর্কমেনিস্তানের ৪০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাসের মজুত। একই সঙ্গে এই করিডোরকে মধ্য এশিয়ার তুর্কি প্রজাতন্ত্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং তুর্কি বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত পথ হিসেবে দেখছে আঙ্কারা।

 

এই রুটটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর সঙ্গেও মিলে যায়। এটি বেইজিংকে রাশিয়া ও ইরান এড়িয়ে ইউরোপীয় বাজারে পৌঁছানোর একটি নির্ভরযোগ্য পথ তৈরি করে দেয়। ফলে তুরস্ক এটিকে নিজেদের নেতৃত্বাধীন কৌশল এবং চীনের বিআরআই-এর পরিপূরক রুট উভয় হিসেবেই উপস্থাপন করছে।

 

গত সপ্তাহে কাজাখস্তানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, ‘আমাদের রেল সংযোগ, বন্দর অবকাঠামো ও ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা কাস্পিয়ান-ট্রানজিট মিডল করিডোরকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছি। ইউরেশীয় অঞ্চলকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও প্রতিযোগিতামূলক করাই আমাদের লক্ষ্য।’

 

কেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এই রুট?

২০২২ সালের আগে চীন-ইউরোপ স্থল বাণিজ্যের ৮৬ শতাংশেরই বেশি হতো রাশিয়ার নর্দার্ন করিডোর দিয়ে। যুদ্ধ সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এর ওপর চলতি বছর যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির সংকট। প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী এই সরু জলপথটি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ গত এপ্রিলে বলেছিলেন, ‘ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের পর মিডল করিডোর এখন আর কেবল বিকল্প নয়, এটি একটি বাধ্যতামূলক পছন্দ।’

 

ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের তুরস্ক প্রোগ্রাম-এর অনাবাসিক ফেলো পিনার দোস্ত মনে করেন, হরমুজের এই অচলাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তুরস্ক পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে নিজের অবস্থান পাকা করতে চায়।

 

তা ছাড়া, আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তার ছিটমহল নাখচিভানকে আর্মেনিয়ার সিউনিক অঞ্চলের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত করার জন্য মার্কিন মধ্যস্থতায় যে ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি (টিআরআইপিপি) বা ট্রিপ প্রকল্পের আলোচনা চলছে, তা সফল হলে মিডল করিডোরের কার্যকারিতা আরও বাড়বে।

 

পাশাপাশি, ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনে ঘোষিত ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর, যা ভারত, আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান ও ইসরায়েলকে যুক্ত করার কথা ছিল; তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, লোহিত সাগরের সংকট এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আইমেক প্রকল্পের উপযোগিতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রগুলো এড়িয়ে যাওয়া মিডল করিডোর এখন বিশ্ববাজারের কাছে অনেক বেশি নিরাপদ মনে হচ্ছে।

 

সামনে যত চ্যালেঞ্জ

ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা থাকলেও মিডল করিডোরকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা বেশ কঠিন। পিনার দোস্ত স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘এই রুটটি হরমুজ প্রণালির বিপুল বাণিজ্য বা তেল পরিবহনের পরিপূরক হতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প হতে পারে না।’ এটি মূলত কন্টেইনার পণ্য এবং অ-জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত।

 

অন্যতম বড় বাধা হলো এর বিশাল খরচ। আর্মেনিয়ার মতো নতুন রুটগুলো যুক্ত করে অবকাঠামো তৈরি করতে শত শত কোটি ডলারের প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবশ্য তাদের গ্লোবাল গেটওয়ে এজেন্ডার আওতায় রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে এই প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে।

 

লজিস্টিক বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বড় দুর্বলতা রয়েছে। কাস্পিয়ান সাগরের অংশটি এই রুটের সবচেয়ে বড় বাধা। কারণ এখানে ট্রেন থেকে পণ্য খালাস করে জাহাজে তুলতে হয় এবং ওপারে গিয়ে আবার ট্রেনে তুলতে হয়। ফলে বন্দর সক্ষমতা, ফেরির প্রাপ্যতা এবং আবহাওয়ার ওপর বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। এর ওপর কাস্পিয়ান সাগরের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার কারণে আজারবাইজান ও কাজাখস্তানকে এখন বন্দর খনন কাজের জন্য বাড়তি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরতে দুই দেশকে উৎসাহিত করবে পাকিস্তান।  এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি। খবর জিও নিউজের    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে ওই সমঝোতা অনুযায়ী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়ে যাবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তান পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের বিশ্বাস, বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপ। তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত কারও স্বার্থে নয়। তাই সব পক্ষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মতপার্থক্যের সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে পাকিস্তান আশা করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের হাজারো গোপন তথ্য অনলাইনে ফাঁস, তদন্তে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

টানা চতুর্থ দিনও বাড়ল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা

ছবি: সংগৃহীত
ভোরেই এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি তেহরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দিমেশক শহরের আকাশে শত্রুপক্ষের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে এক বিবৃতিতে এ দাবি করে তারা।   আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, বাহিনীর মহাকাশ বিভাগের পরিচালিত নতুন মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোনটিকে প্রথমে শনাক্ত ও অনুসরণ করা হয়, এরপর আন্দিমেশক শহরের আকাশে সেটি ধ্বংস করা হয়। তবে ড্রোনটির মালিকানা বা ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত অবসান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকটি অকার্যকর হয়ে গেছে। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ খবর দেয় আলজাজিরা।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থায়ী রাডার স্থাপনা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা তাদের ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপের অংশ। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ওপর চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানশাহরের বাম্পুর ব্যারাকে হামলায় সাতজন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

অস্তিত্বের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি ইরান : গালিবাফ

ছবি : সংগৃহীত

'মুজতাবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ'—বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের নিয়মই এখন ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র

ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডে প্রথমবার শনাক্ত হলো এইচ৫ বার্ড ফ্লু

নিউজিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো এইচ৫ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। ওয়েলিংটনের পেটোন সৈকতে পাওয়া একটি পরিযায়ী বাদামি স্কুয়া সামুদ্রিক পাখির শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।   দেশটির জৈব নিরাপত্তা মন্ত্রী অ্যান্ড্রু হগার্ড বলেন, ঘটনাটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বন্য পাখিদের মধ্যে ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বা অনেক পাখি মারা যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এইচ৫ বার্ড ফ্লু বিশ্বজুড়ে গৃহপালিত ও বন্য পাখির মধ্যে ব্যাপক অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ হয়েছে।   এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ায়ও প্রথমবার এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর সেখানে ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।   নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ দেশটির সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি বিরল পাখি প্রজাতি কাকাপো, তাকাহে, শোর প্লোভার, ব্ল্যাক স্টিল্ট এবং অরেঞ্জ-ফ্রন্টেড প্যারাকিট রক্ষায় প্রজননকারী পাখিদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোথাও একসঙ্গে তিনটি বা তার বেশি অসুস্থ পাখি দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ট্রাম্প ও ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করল মেক্সিকো

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ থামাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে নেতানিয়াহুকে চাপ ট্রাম্পের

0 Comments