সারাদেশ

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুদের তাণ্ডব, আহত ১২ জেলে

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সাগরে মাছ ধরা একটি ট্রলারে জলদস্যুদের হামলায় ১২ জন জেলে আহত হয়েছেন। এ সময় ট্রলারটি থেকে মাছ, জাল ও জ্বালানি তেলসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শেষ রাতে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে খাম্বা বয়াবাতি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

আহত জেলেদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ট্রলারের মাঝি আইয়ুবকে (৪০) কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

আহত সব জেলের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায়।
ট্রলারের মালিক ইব্রাহিম জানান, গত বৃহস্পতিবার ১৪ জন জেলেকে নিয়ে ‘এফবি মিম’ নামের ট্রলারটি চরফ্যাশন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। কয়েক দিন মাছ ধরার পর মঙ্গলবার রাতে তীরে ফেরার পথে হঠাৎ একটি ট্রলার এসে তাদের ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর পরই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রলারে উঠে জেলেদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

 

ইব্রাহিম আরো বলেন, হামলাকারীরা জেলেদের বেদম মারধর করে ট্রলারে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মাছ, জাল, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে জেলেরা আহত অবস্থায় কোনোভাবে ট্রলারটি চালিয়ে উপকূলে ফিরে আসেন।

 

 

এ বিষয়ে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন কারকুন জানান, ঘটনাস্থলটি সরাসরি নৌ-পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় না হলেও খবর পাওয়ার পর তারা আহত জেলেদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

 

 

কোস্টগার্ডের নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা আগে থেকে অবগত ছিলাম না। তবে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তায় আমরা সব সময় তৎপর রয়েছি।

 

 

গভীর সাগরে একের পর এক জলদস্যুতার ঘটনায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বঙ্গোপসাগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার ও নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ফ্যামিলি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড চালুই হয়নি, আগেই ৫০০ টাকা

সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হওয়ার আগেই কুমিল্লার চান্দিনায় কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অসহায় ও দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অন্তত ৫৯ নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।   অভিযোগের তীর স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির দুই নেতার দিকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১৬ আগস্ট চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের প্রায় এক মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের। পরে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের দেওয়া লিখিত অভিযোগের নথি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।   অভিযুক্তরা হলেন মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম এবং জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আবুল হোসেন।   জোরপুকুরিয়া গ্রামের রাশিদা বেগম অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেন। প্রায় দুই মাস পার হলেও কার্ড না পাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিভিন্ন কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়।   রাশিদা বেগম বলেন, পরে এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।   একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ কয়েকজন নারী। তাদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও তারা কোনো কার্ড পাননি।   অভিযোগকারী শামীম আহমেদ মজুমদার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট স্মারক নম্বরসহ ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।   তিনি আরও বলেন, প্রায় এক মাসেও অভিযোগের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি নথিতে নেই। বিষয়টি তাদের হতাশ করেছে।   তবে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কথামতো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল হোসেনও টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনটি গ্রাম থেকে মোট ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা ও কাগজপত্র এখনো তার কাছে রয়েছে। যারা টাকা ফেরত চাইবেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।   চান্দিনায় এখনো ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, আগে কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে রাখা হয়েছে। কর্মসূচি চালু হলে তখন কার্ড দেওয়া হবে।   এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, খোরশেদ আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেও আবুল হোসেনের দলের কোনো পদ-পদবি নেই। তারা এ ধরনের কাজ করে থাকলে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযোগের বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়ে থাকলে আবেদনটি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সেলফি পরিবহণের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ।

সেলফি পরিবহনের ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে চলছে ১৭০টি বাস

সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে শিশুসহ ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নুসরাত জাহান রাফী
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর নুসরাত হত্যা মামলার আসামিদের মুক্তি

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় খালাসের আদেশপ্রাপ্ত ১০ আসামি তিনটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।     সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম সাড়ে সাত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।     সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। মাকসুদ আলম সোনাগাজী উপজেলার চর গণেশ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে।     সোনাগাজী কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন গাজীপুর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সোমবার বিকালে মুক্তি পেয়েছেন।     মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মণি গাজীপুর কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের সবাইকে তাদের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করেন।     ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।     ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদের আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে গত ২৪ আগস্ট অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড ও চারজন আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন এবং ১০ জন আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।     ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনী কর্তৃক প্রেরিত রোববার রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। সেই আদেশের আলোকে ১৪ সেপ্টেম্বর মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলরকে কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের সম্পর্কের পর হত্যা, ট্রলি ব্যাগে নারীর খণ্ডিত লাশ

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশীদের ইজারার উদ্যোগের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ৪ প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য দলের নেতারাই দায়ী: আইনমন্ত্রী

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা ও কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, প্রকাশ্যে দলের পক্ষে অবস্থান নিলেও কেউ কেউ নির্বাচনের সময় গোপনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত নেতা ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।   নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত মানার আহ্বান   মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো আসনে দল একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে দলের সব পর্যায়ের নেতা কর্মীর দায়িত্ব হলো তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা দলের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।   তিনি অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের ক্ষেত্রে দলের কিছু নেতা কর্মী ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ দিনের বেলায় দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও রাতে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করে প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।   আসাদুজ্জামান বলেন, দলের অভ্যন্তরে কারা কী ভূমিকা রেখেছেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার কথাও জানান তিনি।   ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’ নিয়ে কাজ করার তাগিদ   সভায় নেতা কর্মীদের বক্তব্যের ধরন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। তাঁর মতে, অনেকেই বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত ত্যাগ ও ভূমিকার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।   তিনি বলেন, দলের রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অবস্থানের পরিবর্তে সম্মিলিত উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাতক্ষীরা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে ঐক্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।   দলের অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।   চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান   দলের কোনো নেতা কর্মী চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন আসাদুজ্জামান।   তিনি বলেন, কেউ দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করে থাকলেও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।   সভায় সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু হাসান ডাবলুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় নয়: মানিকগঞ্জের এমপি জিন্নাহ কবির

নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা গ্রেফতার

বিজয়নগরে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারি গ্রেফতার।

বিজয়নগরে অটোরিকশাসহ পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

0 Comments