ভারতের আলোচিত ব্যবসায়ী গৌতম আদানি ও তাঁর ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা সব ফৌজদারি অভিযোগ স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। প্রসিকিউটররা এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবেন না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর নিউইয়র্কের এই হাই প্রোফাইল সিকিউরিটিজ ও ওয়্যার ফ্রড (প্রতারণা) মামলার পুরোপুরি শেষ হলো।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন গতকাল সোমবার গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রতারণার অভিযোগ খারিজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রধান প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগেরও মীমাংসা করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে গত দু-এক দিনে ভারতীয় এই ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ও আইনি সংস্থার একাধিক তদন্তের সব কটিই বন্ধ হয়ে গেল। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস গত সপ্তাহে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা জুনিয়র (যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ব্যক্তিগত আইনজীবী) এক উপস্থাপনায় বলেছিলেন, আদানি যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মামলার কারণে তা করতে পারছিলেন না।
আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভারতের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন পেতে আদানি গ্রুপ সে দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিল। আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আদানি এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।
এর আগে গতকাল আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড (এইএল) ইরানের ওপর ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’–এর (ওএফএসি) আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য দেওয়ানি দায় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ওএফএসির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এ জন্য তারা ২৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে।
এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে আদানি এন্টারপ্রাইজেস (এইএল) জানিয়েছে, ওএফএসির আনা অভিযোগ স্বীকার না করেই এই সমঝোতা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় চুক্তি।
এইএল জানায়, সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানি ওএফএসিকে ২৭ লাখ ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আইনগত সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে কিছুটা কমানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সম্মতিসূচক রায়ের সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেয়। এর আগে তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’-এর বন্ড ছাড়ার ক্ষেত্রে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল এসইসি। আদালত এটি অনুমোদন করলে গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে দেওয়ানি আর্থিক জরিমানা হিসেবে যথাক্রমে ৬০ লাখ ডলার এবং ১ কোটি ২০ লাখ ডলার দিতে হবে।
ওএফএসির মতে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আদানি এন্টারপ্রাইজেস দুবাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এলপিজি কিনেছিল। ওই ব্যবসায়ী ওমানি ও ইরাকি গ্যাস সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছিল। ওএফএসি এক বিবৃতিতে বলেছে, কিছু সতর্কবার্তা বা ইঙ্গিত ছিল, যা থেকে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বোঝা উচিত ছিল, ওই এলপিজি আসলে ইরান থেকে এসেছিল।
ওএফএসি বলেছে, ওই সময়ের মধ্যে আদানি এন্টারপ্রাইজেস ওই চালান বাবদ মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৩২টি কিস্তি পরিশোধ করেছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ৪৪ ডলার।
ওএফএসি আরও বলেছে, জরিমানার এই পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে ওএফএসির বিবেচনা ছিল, আদানির এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং তারা নিজেরা এটি স্বেচ্ছায় প্রকাশ করেনি। তবে আচরণটি ধরা পড়ার পর আদানি এন্টারপ্রাইজেস যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ওএফএসির তদন্তে যে সহযোগিতা করেছে—সে জন্য জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
২০২৩ সালের জুনে আদানি এন্টারপ্রাইজেস এলপিজি আমদানি করে ভারতের গ্রাহকদের কাছে বিক্রির মাধ্যমে এলপিজি বাজারে প্রবেশ করে। তবে এর আগে আদানি এন্টারপ্রাইজেস বা তাদের কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান মুন্দ্রা বন্দরের মাধ্যমে নিজস্ব উদ্যোগে এলপিজি ব্যবসা করেনি।
ওএফএসি জানিয়েছে, এই ব্যবসায়িক সম্পর্কের শুরুর দিনগুলো থেকেই বেশ কিছু সতর্কবার্তা দুবাইয়ের ওই সরবরাহকারীর জ্বালানির আসল উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ওএফএসির মতে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্তত চারটি ভিন্ন সময়ে আদানি এন্টারপ্রাইজেস তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে জানতে পেরেছিল, দুবাইয়ের সরবরাহকারীর পাঠানো জ্বালানি ইরান থেকে এসে থাকতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও আদানি এন্টারপ্রাইজেস অসতর্কভাবে কাজ করেছে এবং এই স্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয়টি তাদের জানার কারণ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া সতর্কবার্তা। এতে ইঙ্গিত ছিল, আদানি এন্টারপ্রাইজেসের আমদানি করা এলপিজি ইরানের হতে পারে। এই জ্বালানির উৎস ও মূল্যের বিষয়টি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক্যালি অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য ছিল।
ওএফএসি বলেছে, আদানি এন্টারপ্রাইজেস ওএফএসিকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে দ্রুততম সময়ে এবং বিপুল খরচ করে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা, ওএফএসির তথ্যের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং এই স্পষ্ট লঙ্ঘনসংক্রান্ত বিশাল তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা।
ওএফএসি আরও বলেছে, এই স্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় আদানি এন্টারপ্রাইজেস উল্লেখযোগ্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ভারতে এলপিজি আমদানি বন্ধ করা, তাদের নিষেধাজ্ঞা পরিপালন নীতি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি রাতে ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমরা (ইরান থেকে) লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছি—সত্যিই লাখ লাখ ব্যারেল। প্রতি রাতে আমরা এই তেল সরিয়েছি। তার এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে নাগালের মধ্যে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনা হয়েছে বলেই আজ প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২৫০ ডলারে না ঠেকে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পুরো কৃতিত্ব নিজের প্রশাসনের এই কথিত গোপন বা বিশেষ অভিযানের ওপর দিতে চাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, যার ফলে তীব্র রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে নিজের অবস্থান সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই ট্রাম্প তেলের বাজারের এই ভেতরের খবর প্রকাশ করলেন। একই সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হওয়া মাত্রই জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। তবে ইরান থেকে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই তেল সরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সূত্র: আল-জাজিরা।
আফগানিস্তানের হেরাত শহরে ‘শালীনভাবে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের ওপর পুলিশের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওপর চলমান বিধিনিষেধ ও পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে হেরাতে বিরল এক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারীদের পাশাপাশি কিছু পুরুষও অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাজা গুলিও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় অনেক বিক্ষোভকারী আহত হন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি, চাবুক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এবং আকাশের দিকে গুলিও ছোড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নারী বিক্ষোভকারীদের চিৎকার ও গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি এলে তার জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দাবি করেছেন, মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ইরান কোনো ইচ্ছাকৃত হামলা চালায়নি। এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মঙ্গলবার প্রায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। নতুন সামরিক অভিযানের আগে ইসরায়েল কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে বাধা দেওয়ায় অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটছে। তাদের দাবি, চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তথ্যসূত্র : আলজাজিরা।