পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে।
দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন।
ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি।
পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’
পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়।
ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারত স্বাধীনতার পর থেকে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পুনর্গঠন শুরু করার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে, কারণ নয়াদিল্লি চীন ও পাকিস্তানকে জড়িয়ে সম্ভাব্য দুই-মুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তার সশস্ত্র বাহিনী গুলোর মধ্যে সমন্বয় উন্নত করতে চাইছে। এই সংক্রান্ত ‘ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ডস (আইটিসি)’ প্রস্তাবটি গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সংস্কারের মাধ্যমে ভারতের বিদ্যমান ১৭টি মূলত পরিষেবা-ভিত্তিক সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কমান্ডগুলোকে প্রতিস্থাপন করে ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত হুমকির উপর ভিত্তি করে যৌথ কমান্ড গঠন করা হবে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়ার গবেষক গৌরব কুমারের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে দৃশ্যমান সমন্বয় এই পরিকল্পনার পেছনে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চীনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী একটি নর্দান থিয়েটার কমান্ডের সদর দপ্তর হবে লখনৌয়ে, অন্যদিকে পাকিস্তানের দায়িত্বে থাকা একটি ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জয়পুর থেকে পরিচালিত হবে। তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত একটি মেরিটাইম থিয়েটার কমান্ড ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ভারতের স্বার্থ তদারকি করবে। কুমার বলেন, ‘আগে চীন ও পাকিস্তানকে মূলত দুটি পৃথক নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ক্রমশই এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে উভয় দিক থেকেই চাপ আসতে পারে, যা একই সাথে অথবা পরস্পর-সংযুক্ত উপায়ে হতে পারে।’ কুমার আরও বলেন, ‘চীনকে এখন আর শুধুমাত্র হিমালয় সীমান্ত বিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় না। ভারত মহাসাগরে তাদের নৌ উপস্থিতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এটি ভারতীয় পরিকল্পনাকারীদের সামুদ্রিক এলাকা এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্কে আরও গুরুত্ব সহকারে ভাবতে বাধ্য করেছে।’ থিয়েটার কমান্ড সংস্কারের পাশাপাশি ভারত একটি ত্রি-বাহিনী যৌথ অভিযান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ড্রোন পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্র সচেতনতা উন্নত করা যায়। কুমার বলেন, ভারত চীনসহ বিভিন্ন বিদেশি সামরিক বাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে, যাদের ২০১৬ সালের ব্যাপক সামরিক সংস্কারে সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড তৈরি করা হয়েছিল। চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড সমগ্র চীন-ভারত সীমান্তের তত্ত্বাবধান করে এবং এটিকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির আধুনিক যৌথ-অপারেশন কাঠামোর একটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়। যদিও ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারের এই ধারণাটি ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাতের পর গঠিত কারগিল রিভিউ কমিটির সময় থেকে চলে আসছে, বিশ্লেষকরা বলছেন যে ২০১৯ সালে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদ তৈরির পর এই অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছে। ভারতের প্রাক্তন এয়ার ভাইস-মার্শাল কপিল কাক বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুরের মতো চীন ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা একটি সাধারণ হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের আজকের প্রস্তুতি প্রয়োজন। যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো যৌথ পরিকল্পনা এবং সমন্বিত ত্রি-বাহিনী অভিযান।’ তবে, এই সংস্কার নিয়ে ভারতের সামরিক বাহিনীতে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। কুমার বলেছেন, ভারতীয় বিমান বাহিনী উদ্বিগ্ন যে থিয়েটার কমান্ডগুলো বিমান শক্তির নমনীয়তাকে সীমিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি ভারত একই সাথে চীন এবং পাকিস্তান উভয়ের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
হরমুজ প্রণালিতে গুলি করে ভূপাতিত করা একটি অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ড্রোন। সমুদ্রে কর্মীদের উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চালকবিহীন নৌযান বা সি ড্রোন ব্যবহার করা হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ড্রোনটির নাম ‘সারোনিক করসেয়ার’। ২৪ ফুট (৭.৩ মিটার) দৈর্ঘ্যের এ নৌযান সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে। প্রথাগত সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি চালকবিহীন যানের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন যে উদ্যোগ নিয়েছে, এ ড্রোনটি তারই অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সি ড্রোন বা সামুদ্রিক ড্রোন প্রযুক্তির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: নৌবাহিনীর নতুন ধরনের ইউনিট ২০২১ সালে বাহরাইনে ‘টাস্কফোর্স ৫৯’ নামে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম চালকবিহীন যানবিষয়ক বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্স গত মার্চ মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘করসেয়ার’ ড্রোন মোতায়েন শুরু করে। পানির ওপরে ও নিচে ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রের উপরিভাগ ও নিচে—উভয় স্থানেই চালকবিহীন যান মোতায়েন করে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী অধিনায়কেরা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধা পান। পানির নিচের অনেক অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির তথ্য এখনো অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে। এসব ড্রোন মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বিশেষ সুবিধা দেয়। নজরদারি থেকে আক্রমণ সামুদ্রিক ড্রোনগুলো সাধারণত নজরদারি, মাইন বা সমুদ্রবোমা শনাক্তকরণ ও শত্রুর গতিবিধি ট্র্যাক বা নজর রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কিছু ড্রোনকে যুদ্ধের উপযোগী করেও গড়ে তোলা হচ্ছে। সাধারণ নজরদারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ—উভয় ধরনের অভিযানেই এগুলো বেশ কার্যকর। কম খরচ ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুবিধা কম খরচে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেন্টাগন স্বয়ংক্রিয় নৌযানের পেছনে বিনিয়োগ করছে। মার্কিন নৌবাহিনী ভবিষ্যতে শত শত বা হাজার হাজার ‘করসেয়ার’ ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে এ প্রযুক্তি এখনো বিকাশমান এবং এটি কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। যুদ্ধের প্রমাণিত সক্ষমতা এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো ড্রোন না হলেও, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সি ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধক্ষেত্রে এটির বড় প্রভাব প্রমাণ করেছে। ইউক্রেন সি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, এমনকি একটি হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করেছে। চালকবিহীন নৌযানের জন্য এটি একটি নজিরবিহীন সাফল্য।
চলতি বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে, যা বিশ্বের আবহাওয়া, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ১০টি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন— ১. খরা ও খাদ্য সংকট আফ্রিকা, এশিয়া ও অন্যান্য বৃষ্টিনির্ভর কৃষি অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ২. বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে ধাক্কা গম, ধান, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৩. দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিতে পারে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ৪. অতিবৃষ্টি ও বন্যা কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা, ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। ৫. কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। ৬. বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকি তৈরি হবে। ৭. মাছের উৎপাদন কমে যাওয়া সমুদ্রের স্বাভাবিক পুষ্টি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশে মাছ ধরা কমে যাবে। ৮. সার নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ফসল রক্ষায় সারের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে সার রপ্তানি ও বাণিজ্য নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ বাড়তে পারে। ৯. তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি অতিরিক্ত গরমে কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। ১০. সংঘাত ও অস্থিরতা খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। কিছু দেশে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো শুধু একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়; এটি খাদ্য, জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান