পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে।
দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন।
ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি।
পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’
পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়।
ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পাকিস্তানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাফতান সীমান্ত দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ রুপিতে। খবর জিও নিউজের। এদিকে সরকার নির্ধারিত এলপিজির দামও প্রতি কেজিতে ১৪ রুপি বাড়িয়ে ২৯৪ রুপি করা হয়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বেলুচিস্তানের কোয়েটাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৭০০ রুপিতে। করাচি ও লাহোরে এই দাম ৫২০ থেকে ৫৮০ রুপি। অন্যদিকে পেশোয়ারে প্রতি কেজি গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ রুপিতে। লাহোরের ভোক্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২৯৪ রুপি নির্ধারণ করলেও স্থানীয় দোকানগুলোতে তা ৫৫০ থেকে ৬০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। এদিকে লাহোরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে তেল ও গ্যাসের বাজারে। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সরকার সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। পাশাপাশি দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আরও বলেন, কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে পেট্রোল সরবরাহ করছে বলেও জানান। অন্যদিকে, এলপিজির মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন পাকিস্তান এলপিজি মার্কেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলী হায়দার। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতি কার্যকর হলে এলপিজির দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নীতিটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আলী হায়দারের মতে, এলপিজির দাম বাড়লে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণে এলপিজি খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে বাজারব্যবস্থা উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, নতুন এই ওয়ারহেডের বিস্ফোরণে একসঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস করা সম্ভব। রোববার (১ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন এই পরীক্ষা পরিচালনা করে। দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য জেনারেল কিম জং সিক সরাসরি পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করেন। কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ‘টাইপ-২ স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস্টার ওয়ারহেডের’ কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই ওয়ারহেড প্রায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে অত্যন্ত ঘন বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। ফলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর ব্যাপক ধ্বংসাত্মক প্রভাব তৈরি হতে পারে। চার ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড তৈরির পরিকল্পনা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের উপযোগী এবং সাধারণ ধরনের ওয়ারহেড। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চার ধরনের ওয়ারহেডই সামরিক ইউনিটগুলোর কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক অভিযানের ধরন এবং লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো প্রয়োজনীয় ওয়ারহেড নির্বাচন করতে পারবে। অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চলমান গবেষণার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন। কীভাবে কাজ করে ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র? ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণ বিস্ফোরক অস্ত্রের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করে। লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর এর মূল ওয়ারহেড থেকে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিস্ফোরক বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু সংস্করণ থেকে ২০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ছোট বিস্ফোরক অংশ ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিটি অংশে শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকায় বড় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অবিস্ফোরিত ছোট বোমাগুলো পরবর্তী সময়েও প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ইরানের পর উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা এর আগে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইরান। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের এই অস্ত্র ব্যবহারের পর উত্তর কোরিয়ার নতুন পরীক্ষা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দুই দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মধ্যে সরাসরি কোনো সমন্বয় রয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সারিৎসিনো জাদুঘর এলাকায় না যাওয়ার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) জারি করা এক জরুরি নিরাপত্তা বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, মস্কোর দোলস্কায়া উলিৎসা এলাকার সারিৎসিনো মিউজিয়াম রিজার্ভে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে, এমন বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাটি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, মস্কোয় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন অংশীদারদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খালি করা হলো জাদুঘর প্রাঙ্গণ নিরাপত্তা হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারিৎসিনো জাদুঘর প্রাঙ্গণ খালি করে দেওয়া হয়। ওই সময় সেখানে একটি কনসার্ট চলছিল। সংগীতশিল্পী লিলিয়া পেচেনকিনা মঞ্চে পরিবেশনা করছিলেন। রুশ সংবাদমাধ্যম অস্টোরঝনো, নভোস্তিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, অনুষ্ঠানের শেষ গান চলাকালে মাইকে এলাকা খালি করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, কারিগরি কারণে জাদুঘর প্রাঙ্গণটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টেলিগ্রাম চ্যানেল বাজার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে প্রায় ৫০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশের গাড়ি দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে টহলও দেওয়া হয়। ক্রোকাস সিটি হল হামলার স্মৃতি ফিরছে মস্কোয় নতুন করে হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ২০২৪ সালের ভয়াবহ ক্রোকাস সিটি হল হামলার স্মৃতি সামনে এসেছে। ওই বছরের ২২ মার্চ মস্কোর একটি কনসার্ট হলে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৪৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকশ মানুষ। সেই হামলার আগেও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সে সময় রাশিয়ার গোয়েন্দাপ্রধান সের্গেই নারিশকিন মার্কিন গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে কিছু তথ্য পেলেও সেগুলো এতটাই সাধারণ ছিল যে সম্ভাব্য হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এবারের নিরাপত্তা হুমকির পেছনে কারা রয়েছে, কিংবা সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: রয়টার্স ও মস্কো টাইমস।