কাগজে যা লেখা থাকে, আইন সবসময় তা বলে না। আইনের পরিভাষার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অন্যকিছু।
গত ১ জুলাই থেকে চীনে কার্যকর হওয়া একটি নতুন আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেইজিং ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইন’টিকে জাতীয় সংহতি এবং আধুনিকায়নের একটি রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং চীনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এটিকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রশ্ন উঠেছে, সংখ্যালঘুদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দিয়ে মূলধারায় একীভূত হতে বলা কী ঐক্যের বার্তা দেয়? দিনের পর দিন অনেক তিব্বতি, উইঘুর, মঙ্গোলীয় এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের কাছে এর উত্তরটি বেদনাদায়কভাবে স্পষ্ট।
সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের মনোভাব নিয়ে বিতর্ক আর অস্বস্তি দীর্ঘদিনের। ঐক্যের জন্য প্রণয়ন করা আইনটি সেই বিতর্ককে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। চীন সরকার যেখানে নতুন আইনটিকে সম্প্রীতি বাড়ানো, বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবেলা এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে; সেখানে মানবাধিকার সংস্থা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং তিব্বতি অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর যুক্তি হলো, এটি এমন একটি একীভূতকরণ এজেন্ডাকে আইনি রূপ দিচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের অধীনে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে।
গত ১ জুলাই আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তিব্বতি সম্প্রদায় এবং তাদের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।
টোকিওতে বিক্ষোভকারীরা তিব্বতের পতাকা হাতে চীনা দূতাবাসের সামনে জড়ো হন এবং সতর্ক করেন যে, এই নতুন আইন তাদের ভাষা, ধর্ম ও পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে। মুম্বাইতে চীনা কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর ‘তিব্বতি যুব কংগ্রেস’-এর বেশ কয়েকজন সদস্য ও সমর্থককে আটক করা হয়। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, এইসব কর্মসূচি তাদের বিশ্বব্যাপী প্রচারণার অংশ; যার মধ্যে রয়েছে গণসমাবেশ, মোমবাতি প্রজ্বালন, অনশন এবং তিব্বতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা। বিক্ষুব্ধরা বলছে, বেইজিং যাকে সংহতি বা ঐক্য বলছে, তারা সেটিকে অস্তিত্ব মুছে ফেলার আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।
চীন অবশ্য এসব অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই আইনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত দেশের ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে, সংখ্যালঘু অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। বেইজিং ধারাবাহিকভাবে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, ম্যান্ডারিন ভাষার প্রসার ঘটানো, নাগরিক পরিচয় শক্তিশালী করা এবং জাতিগত অঞ্চলগুলোকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা যেকোনো সার্বভৌম সরকারের বৈধ দায়িত্ব। জোরপূর্বক আত্মীকরণের অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। তারা বরং শিক্ষা, অবকাঠামো ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুক্তি দিচ্ছে যে, এই আইনটি শিক্ষা ও ভাষানীতি থেকে শুরু করে ধর্ম, গণমাধ্যম এবং জনপ্রশাসন পর্যন্ত সংখ্যালঘু জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে রাষ্ট্রীয় প্রভাবের আওতায় নিয়ে আসবে। সমালোচকরা বলছেন, এই আইনটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব ভাষা, রীতিনীতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়ে আসা সুযোগকে আরো সীমিত করে দিচ্ছে।
আইনটির ভাষার অস্পষ্টতা ও ব্যাপকতা নিয়েও সমালোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। ‘জাতিগত ঐক্য বিনষ্ট করা’র মতো শব্দ বা শর্তগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় - এমন আচরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক ও একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সরকারি নীতিমালার যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমালোচনাকেও এখন থেকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদ বা জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
গত এক দশকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, গবেষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো তিব্বতের মঠগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, ম্যান্ডারিন ভাষার শিক্ষার বিস্তার, তিব্বতি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নথিভুক্ত করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। তবে তিব্বতি সংস্থাগুলো এগুলোকে ‘চীনায়ন’-এর একটি বৃহত্তর নীতির ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে, যা ধীরে ধীরে তিব্বতি পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার পরপরই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে তিব্বতি শরণার্থী লোবগা রাংজেন নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার এই মৃত্যু বিশ্বজুড়ে তিব্বতি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে যারা তার জন্য শোক প্রকাশ করছেন, তারাও তাদের বার্তার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থেকেছেন। তিব্বতি সম্প্রদায়ের নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তারা কোনো সহিংসতার মাধ্যমে নয়; বরং শান্তিপূর্ণ সমর্থন, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার চান। আত্মাহুতির মতো ঘটনাকে কখনোই মহিমান্বিত করা উচিত নয়।
নতুন এই আইনটি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ শুধু তিব্বতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিনজিয়াং, ইনার মঙ্গোলিয়া এবং হুই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসহ চীনের সমস্ত সংখ্যালঘু জাতিগত অঞ্চলের ওপর প্রযোজ্য। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুক্তি দেয় যে, এই আইনটি এমন কিছু নীতিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে, যা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমাগত সমালোচিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ম্যান্ডারিন ভাষার শিক্ষার বিস্তার, কঠোর আদর্শিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।
কেউ এই সমালোচনাগুলোকে গ্রহণ করুক বা বেইজিংয়ের আত্মপক্ষ সমর্থনকেই মেনে নিক না কেন, একটি সত্যকে উপেক্ষা করা কঠিন : এই আইনটি মূলত প্রশাসনিক নীতি হিসেবে থাকা বিষয়গুলোকে জাতীয় আইন বা বিধানে বদলে দিয়েছে। চীনের নেতৃত্ব আগামী বছরগুলোতে কীভাবে জাতিগত বিষয়াবলিকে পরিচালনা করতে চায়, আইনটি স্পষ্টভাবে সেই দিকনির্দেশনা দেয়।
যেহেতু চীনের ভেতরে বিক্ষোভ বা বিতর্ক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই নতুন আইনটি নিয়ে ওঠা বিতর্ক মীমাংসায় আন্তর্জাতিক মহলের সম্পৃক্ত হওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ আর অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রায়শই প্রতিযোগী হয়ে ওঠে। অনেক দেশ তিব্বত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে। এতে মনে হতে পারে, অর্থনৈতিক সুযোগের সামনে মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি আপসযোগ্য। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার জন্য চীনের প্রতি শত্রুতার প্রয়োজন নেই বা রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনাকে চীনা জনগণের প্রতি শত্রুতা হিসেবেও ভুল করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করা।
ভাষা, বিশ্বাস এবং ভাগ করে নেওয়া স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পরিচয়গুলো সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করলেই বিলুপ্ত হয়ে যায় না। সেগুলো পরিবার, মঠ, শ্রেণীকক্ষ, গান এবং নির্বাসিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকে থাকে। এগুলো টিকে থাকে কারণ সংস্কৃতি মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয়, কোনো সরকারি ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা নয়।
বেইজিং বিশ্বাস করে যে নতুন আইনটি জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে এর সমালোচকরা মনে করেন, এটি সাংস্কৃতিক আত্মীকরণ বা বিলুপ্তিকরণকে ত্বরান্বিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে। এই আইনের আসল মূল্যায়ন কোনো সরকারি স্লোগান বা আইনি পাঠ্যের মধ্যে পাওয়া যাবে না; বরং এটি দেখা যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তিব্বতি এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুরা তাদের ভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে কিনা, কোনো ভয় ছাড়াই তাদের ধর্ম পালন করতে পারছে কিনা এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারছে কিনা তার ওপর।
এটি এমন একটি প্রশ্ন যা চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বৈচিত্র্যকে দমন করে জোরপূর্বক একতা চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে, বৈচিত্র্যকে রক্ষা করার মাধ্যমে একতাকে শক্তিশালী করার সর্বজনীন নীতি রক্ষায় এখনও প্রস্তুত কিনা, এটি তারই একটি পরীক্ষা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব মাইন সরানো বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আমাকে এইমাত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার ভেতর থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে এবং/অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। ট্রাম্পের পোস্টে বিষয়টিকে নতুন কোনো ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, গত ১৮ আগস্টও প্রায় একই দাবি করেছিলেন তিনি। সেসময় ট্রাম্প লিখেছিলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং কার্যকর রয়েছে। সব জলমাইন সরানো হয়েছে অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আদৌ মাইন পাতা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, কোনো জাহাজ বা নৌযান নতুন করে মাইন পেতে গেলে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হবে। তিনি বলেন, ইরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো জাহাজ বা নৌযান নতুন করে মাইন পেতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হবে। হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, স্পেস ফোর্সের মাধ্যমে প্রণালির প্রতিটি বর্গইঞ্চির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এবং ইতোমধ্যে ধ্বংস করা আরও তিনটি পারমাণবিক স্থাপনাও যুক্তরাষ্ট্র নজরদারির আওতায় রেখেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মাইন পেতে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স নীতি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের আফিপস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ক্রাসনোদার গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এ তথ্য জানান। গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আফিপস্কি রেলস্টেশনে অন্তত দুজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা আলজাজিরার। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হলো, মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির আর্থিক আয় কমিয়ে দেওয়া। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আফিপস্কির তেল শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই রাতে রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা ওডেসার কাছে পিভদেনি বন্দরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য পণ্য বহনকারী একটি জাহাজ ও সামরিক পণ্য খালাসের কাজে ব্যবহৃত বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (২৫ আগস্ট) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে হামলা থেকে যথাযথভাবে সুরক্ষিত নয়- এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কিয়েভে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নেতারা দেশটিকে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ায় আরও হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে চায়। ৩০ দেশের নেতাদের নিয়ে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি ও উসকানি বাড়তে পারে। বৈঠকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ইউক্রেনের মিত্রদের রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তার আহ্বান জানান। তবে ক্রেমলিন বার্নহ্যাম ও স্টাবকে ‘যুদ্ধপন্থি দল’-এর সদস্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
কলকাতায় অগ্নিনিরাপত্তা ও ভবন নির্মাণের নিয়ম না মানায় গত ছয় দিনে আরও প্রায় ২০০টি হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধের নোটিশ দিয়েছে কলকাতা পৌরসভা। সোমবার ( ২৪ আগস্ট) পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি লজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হওয়ার পরে হোটেল ও গেস্টহাউজগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে নিরাপত্তা ও ভবনের নিয়মকানুন যাচাই করা হচ্ছে। পৌরসভার নোটিশের পাশাপাশি, মধ্য কলকাতার বেশ কয়েকটি লজ, গেস্ট হাউস ও হোটেল নিজস্ব উদ্যোগে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হঠাৎ বন্ধের নির্দেশ আসতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া নিউ মার্কেট ও আশেপাশের এলাকার অনেক হোটেল নতুন করে বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছ। তাদের আশঙ্কা, অতিথিদের অল্প সময়ের নোটিশে হোটেল ছেড়ে যেতে বলতে হতে পারে। গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ে কলকাতায় ২০০টির বেশি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু হোটেলকে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু মধ্য কলকাতা নয়; বুরাবাজার, ইএম বাইপাসের আশপাশ এবং টালিগঞ্জ-যাদবপুর এলাকাতেও হোটেল ও গেস্টহাউজগুলোকে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা গোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজেশ শেঠি বলেন, নিউ মার্কেট ও শিয়ালদহ-সহ মধ্য কলকাতার হোটেল ব্যবসায়ীরা এই ধরনের ‘বাছবিচারহীন’ বন্ধের নোটিশে আতঙ্কিত। গত সপ্তাহে হোটেল বন্ধের কার্যক্রম শুরু হলে,কয়েকজন হোটেল মালিক কর্তৃপক্ষের এমন হঠাৎ ও পরিকল্পনাহীনভাবে হোটেল বন্ধের প্রতিবাদে প্রতীকী ধর্মঘটের কথা ভাবছিলেন। তবে বর্তমানে ২০০টির হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক হোটেল আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার কারণে নিজেরাই বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে এই ধর্মঘটের কোনো অর্থ নেই বলে মন্তব্য করেন রাজেশ শেঠি।