প্রবাসী

পবিত্র রমজান মাসে আরব আমিরাতে ৮২৩ খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড়

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা অঞ্চলে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় কমানো এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিশেষ ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যপণ্য কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আল ধাফরা পৌর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই এই জনবান্ধব কর্মসূচিটি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে রমজানের শুরুতেই কেনাকাটায় বড় অঙ্কের ছাড় পাচ্ছেন ক্রেতারা।

 

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় মোট ৮২৩টি খাদ্যপণ্য সাধারণ বাজারের চেয়ে বেশ কম দামে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অতি প্রয়োজনীয় ১০টি নিত্যপণ্যে আগে থেকে যে ভর্তুকি সুবিধা চালু ছিল, তা এই পবিত্র মাসেও সম্পূর্ণ বহাল থাকবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে সহায়তা করা, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করা এবং বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

 

ভর্তুকি মূল্যের এসব পণ্য সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দিতে আবুধাবি কো-অপারেটিভ সোসাইটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। আল ধাফরা অঞ্চলের মোট ১৩টি নির্ধারিত খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ক্রেতারা এই বিশেষ ছাড়ের সুবিধায় কেনাকাটা করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, ক্রেতাদের সুবিধার্থে সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য অর্ডারের আধুনিক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে রোজাদাররা ঘরে বসেই সহজে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

 

রমজানের এই বিশেষ কর্মসূচিতে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত চমৎকার ও মানবিক একটি উদ্যোগ। সামাজিক সহায়তার অংশ হিসেবে এসব মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে সরাসরি বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার হোম ডেলিভারি সেবা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমিরাত সরকারের এমন সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপে স্থানীয়দের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও বড় ধরনের স্বস্তি নেমে এসেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান, এক সপ্তাহে বহিষ্কার প্রায় ১৫ হাজার

সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের ধরপাকড় করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত এক সপ্তাহে পরিচালিত এই অভিযানে ১৪ হাজার ৮৫৫ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১১ হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের বরাতে জানা যায়, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করা হয়।   আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ১১ হাজার ৩০০ জনের মধ্যে ৬ হাজার ২৪৪ জন ইকামা বা আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ধরা পড়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছেন এবং ১ হাজার ৫১৩ জন শ্রম আইন অমান্যের অভিযোগে আটক হয়েছেন।   অভিযান শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সীমান্ত এলাকাতেও কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৩৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ৫৪ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সৌদি সরকার জানিয়েছে, অবৈধ বসবাস ও কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হজের নিয়ম ভেঙে মরুভূমি পাড়ি—ধাওয়া করে ৫ জনকে আটক সৌদি পুলিশের

পলাতক আলাউদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে কিশোরী ধর্ষণ, পলাতক বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে দালাল চক্রের প্রতারণা, বিপাকে শত শত বাংলাদেশি কর্মী

ছবি: সংগৃহীত
৫০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানের

মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুভিত্তিক একটি প্রকৌশল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি প্রায় ৫০ জন শ্রমিকের বকেয়া বেতন পরিশোধে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে আংশিক পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।   প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ল’ ইউক হুই বলেন, কোম্পানিটি ‌‘দায়িত্বশীলভাবে এবং মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী’ সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।   তবে অভিযোগকারী শ্রমিকদের দাবি, এখনো তাদের বকেয়া বেতন পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষ থেকে ‘এমডি রুবেল’ নামে পরিচিত এক শ্রমিক জানান, তাদের তিন থেকে আট মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।   রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তারা দেশে থাকা পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারছেন না, এমনকি মালয়েশিয়ায় আসার জন্য নেওয়া ঋণও পরিশোধ করতে পারছেন না।   তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার একদল শ্রমিক রাজ্য শ্রম দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে কয়েক মাস আগেও তারা অভিযোগ করেছিলেন।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার বাংলাদেশ হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। গত মার্চে তাদের দুর্দশার খবর প্রকাশের পর মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান কোম্পানিটিকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেন।   রুবেলের ভাষ্য, কিছু শ্রমিকের সমস্যা সমাধান হলেও অধিকাংশই এখনো মাসের পর মাস বেতন পাননি। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শ্রম দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান, যেন শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পান।   এদিকে বকেয়া বেতন সংকট সমাধানের পথে অগ্রগতি জানালো হাইকমিশন। হাইকমিশন বলছে, জোহর বাহরুর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি-এর অধীনে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের বকেয়া বেতন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে মিনিস্টার লেবার শ্রমিকদের জানান, সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি ইতিবাচক ফলাফল আশা করা যাচ্ছে।   এদিকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ডেপুটি হাইকমিশনার মনিকার সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বিষয়টি তার অধীনস্থ এক কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তা নিষ্পত্তির জন্য কাজ চলমান।   শ্রমিকদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন সমস্যা দ্রুতই সমাধান হবে এবং তারা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে বৈধতা পেলেও ইউরোপের অন্য দেশে কাজের সুযোগ কতটা?

ছবি: সংগৃহীত

কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে র‍্যালি

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের কারাগারে স্বজনহীন বাংলাদেশির মৃত্যু, সেখানেই দাফন

ছবি: সংগৃহীত
কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হাসিবুর রহমান (২৫) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।   নিহত হাসিবুর জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় আসেন। কোরিয়ায় অবস্থানরত তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় ফারজাদ সোবহান নাফি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার মধ্যরাতে বন্ধুর বাসা থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ি হাসিবুরকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির চালক 'মদ্যপ' ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রেসবিটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত হাসিবুর রহমান প্রথমে জনবুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কোরিয়ান ভাষা কোর্সে ভর্তি হন। পরে সওইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ফারজাদ সোবহান নাফি জানান, হাসপাতালের বিল পরিশোধ না হওয়ায় লাশ বর্তমানে হিমাগারে রাখা হয়েছে। দ্রুত লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের বন্ধু আরেক প্রবাসী রিপন হোসাইন বলেন, "এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। সোমবারের পর লাশ দেশে পাঠানো হতে পারে।" হাসিবুর গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে করেন এবং স্ত্রীসহ দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১১ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

আকাশপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত, সব ফ্লাইট স্বাভাবিক ঘোষণা আমিরাতের

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ভারসাম্যহীন প্রবাসী উদ্ধার, দেশে পাঠাল প্রবাসীরা

0 Comments