সারাদেশ

কুমিল্লার ডিসি হতে ৮ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আট কোটি টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের চেয়ারে বসতে চান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) এস এম সরওয়ার কামাল। এমন অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে তাকে যে নোটিশ দেয়া হয় তাতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে সরওয়ার কামাল একটি অঙ্গীকারনামা ও সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

 

বিভিন্ন সূত্রে এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে- কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা থেকে জারি করা ওই নোটিশে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

 

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যেহেতু মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে, তাই তার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

এদিকে সরওয়ার কামালের নামে প্রকাশ হওয়া অঙ্গীকারনামা ও সম্মতিপত্র দাবি করা হয়েছে, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন নিশ্চিত হলে তিনি নগদ আট কোটি টাকা প্রদান করবেন। পাশাপাশি দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা এবং মনোনীত রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

 

তবে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, তিনি এবিষয়ে কিছু জানেন না। যে বিভাগ থেকে নোটিশ ইস্যু হয়েছে, সেখানে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। 

 

একের পর এক অভিযোগ এস এম সরওয়ার কামালের ইস্যু করা অনিয়মের তিনটি বদলি আদেশ বাতিল করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনিয়মের অভিযোগ ওঠা তিনটি বদলি আদেশ গত ১২ এপ্রিল এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র।  

 

চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি বাড়াতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারিকে উপকর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। তারই আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে তার একটি তালিকা মেয়র নিজে ঠিক করে দেন। একেকটি কর অঞ্চলে কয়েকটি ওয়ার্ড রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন উপকর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেয়া হবে তা ঠিক করার জন্য মেয়র মৌখিকভাবে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে বলে দেন। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। মেয়রের নির্দেশিত সেই ১৪ জনের বাইরে আরো অন্তত এক ডজন উপকর কর্মকর্তা ও কর আদায়কারিকে বিভিন্ন অঞ্চলে বদলির আদেশ দিয়ে তিনটি চিঠি ইস্যু করেন। বিষয়টি মেয়রের নজরে এলে তিনি তা বাতিল করেন। 

 

এদিকে, রাজস্ব বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারির অভিযোগ, মজিদ, রাশেদ ও দবির এই তিনজনকে কর কর্মকর্তা স্কেল দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। এধরনের লিখিত একটি অভিযোগ মেয়রের কাছে দিয়েছেন বঞ্চিতরা।

 

বঞ্চিতদের অভিযোগ, মূল পদে স্থায়ী না করার কারণে তারা তিনজন স্কেল পায় না। কিন্তু তাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফিস মিটিং এর নাম করে অঞ্চল এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাছ থেকে অর্থ হাতানো এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পিকনিকের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশ পূরনো। এছাড়া সার্কেল ভিজিট করতে গেলেই তাকে সম্মানির নামে মোটা অংকের অর্থ দিতে হয়। যা কর্মকর্তাদের জন্য নতুন আপদ।

 

এবিষয়ে কথা বলার জন্য নগর ভবনে গেলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস. এম. সরওয়ার কামালকে পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে ছেলের সামনেই মাকে হত্যা, অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা নিহত হওয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় অবশেষে ৪৮ ঘণ্টা পর উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   সোমবার (১৮ মে) রাত ৮টার দিকে নিহত নারীর ছেলে আব্দুর রহমান ১০ জনকে এজহারনামীয় আসামি ও আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে উখিয়া থানায় মামলার এজাহার জমা দেন।   গত ১৬ মে (শনিবার) রাতে উপজেলার সদর এলাকার টাইপালং গ্রামে নিজের ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী ছৈয়দা খাতুন (৫৫)।   হত্যা মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।  তিনি বলেন, নিহতের ছেলের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।   মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে- স্থানীয় রাজাপালং ইউপি নির্বাচনে ৭নম্বর ওয়ার্ডে  সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করা উখিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদারকে।  এছাড়াও তার ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানের নাম আসামিদের মধ্যে ৩ নম্বরে রয়েছে।   এ ঘটনায় অন্য আসামিরা হলেন- পূর্ব টাইপালং গ্রাম তথা রাজাপালং ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সরকারি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গাড়ি (এম্বুলেন্স) চালক শামসুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল করিম ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, রাজাপালং ইউনিয়ন শ্রমিকদল (দক্ষিণ) এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, স্থানীয় শামসুল আলমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে জামাল উদ্দিন ও পার্শ্ববর্তী ৮নম্বর ওয়ার্ডস্থ দরগাবিল গ্রামের বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে রফিক উদ্দিন।   মামলার বাদী আব্দুর রহমান জানান, আমার মাকে ওরা আমার সামনে মেরেছে, নিরীহ কাউকে আসামি করিনি। যাদেরকে আমি চোখে দেখেছি, তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। আমার মায়ের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আইনি লড়াই লড়ে যাব।   প্রসঙ্গত, রোববার (১৭ মে) দুপুরে টাইপালংয়ের একটি মাঠে সৈয়দা খাতুনের জানাজায় অংশ নেন বিএনপি, জামায়াত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ হাজারো সাধারণ মানুষ।    জানাজায় অংশ নিয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, অপরাধীদের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ ও প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে।   জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারীও বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের শাস্তি থেকে রেহাই দিতে না পারে। দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন।   জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জেলায় এমন ঘটনা নিন্দনীয়, প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে এবং অনতিবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।   এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে রোববার বিকেলে উখিয়া থানার সামনে টাইপালংয়ের ৫ শতাধিক গ্রামবাসী উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং কক্সবাজার শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল।   তবে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পর মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২৮ মে পালিত হবে ঈদুল আজহা

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার ডিসি হতে ৮ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ

আমির হামজা।ছবি: সংগৃহীত

আমির হামজাকে গ্রেফতারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
বাধ্যতামূলক হচ্ছে সেপটিক ট্যাংক ও এসটিপি: প্রতিমন্ত্রী

ঢাকার লেকগুলোতে সরাসরি সুয়ারেজের পানি ফেলা যাবে না এবং এখন থেকে নতুন কোনো বাড়ি বা ভবন নির্মাণ করতে হলে সেপটিক ট্যাংক ও এসটিপি (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে যেসব পুরনো বাড়ি রয়েছে, সেগুলোতে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বৈঠক শেষে মীর শাহে আলম আরও জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে জলজট তৈরি হবে। সেই পানি ধীরে ধীরে নেমে যাবে উল্লেখ করে তিনি নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহবান জানান। বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, সেগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট সিস্টেম বা নিয়মের মধ্যে আনা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।  এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি-বিএনপির উত্তেজনা

আটক শিবির কর্মী। ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ‘শিবির কর্মী’ আটক

ছবি: সংগৃহীত

‘কক্সবাজারের কর্তৃত্ব বাংলাদেশের নাকি জাতিসংঘের?’

ভাঙচুর করা হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ।
চিকিৎসককে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক চিকিৎসককে পিটিয়ে ও মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে হাসপাতালের অফিস সহায়ক, পাঁচ আনসার সদস্যসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।  গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে –এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে নিহতের স্বজনদের ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল জরুরি বিভাগে ঢুকে হামলা চালায়।  আহত চিকিৎসক নাসির ইসলাম বলেন, ‘রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে আমি ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেছিলাম কিন্তু স্বজনরা রাতে যেতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর পর আচমকা তারা কক্ষে ঢুকে আমার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে।’   অন্যদিকে, মৃতের পুত্রবধূ লাকি আক্তারের অভিযোগ, রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বারবার ডাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক কেবিনে আসেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর এসে জানান, রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তার জানান, আহত চিকিৎসকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৯০ শতাংশ কমবে : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মাজারে হামলার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

ভালুকায় উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও যান চলাচল বন্ধ

0 Comments