শিক্ষা

যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত ও গবেষণা চৌর্যবৃত্তিতে বরখাস্তকে জাবিপ্রবির উপাচার্য নিয়োগ

মারিয়া রহমান মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত এবং গবেষণাপত্রে জালিয়াতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন।

তবে তার এই নিয়োগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মুখে পড়েন তিনি। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, মানসিক নির্যাতন, অশালীন মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটূক্তি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ তোলা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক আমির হোসেন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি চালাতেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, ফলাফলে বৈষম্য, গবেষণায় নিরুৎসাহিত করা এবং সহকর্মী শিক্ষকদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আইরীন আক্তার। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও দীর্ঘ সময়েও সেই তদন্ত শেষ হয়নি।

এছাড়া গবেষণাপত্রে জালিয়াতির দায়ে ২০১৯ সালের ৩ আগষ্ট সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বরখাস্ত হন অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

গবেষণা জালিয়াতির বিষয়ে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাশয়ে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশের প্রভাব নিয়ে ২০১২ সালে একটি গবেষণা করে পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০১৭ সালে ওই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নতুন একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এসএম দিদারুল ইসলাম। এতে সহ-গবেষক হিসেবে আমির হোসেন, দিদারুলের স্ত্রী ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিনা রুমী এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গাউসুল আজমের নাম রয়েছে। তখনই তাদের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ তপন কুমার মজুমদার। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই বছর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং একটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করা হয়।

যৌন নিপীড়নে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আইরিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিবে।’

অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে স্ট্রাকচারাল কমিটি (উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন অধিকতর তদন্ত কমিটি) গঠন থাকার পরেও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘অধ্যাপক ড আমির হোসেন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ইতোমধ্যে স্ট্রাকচারাল কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে অন্যান্য অ্যাজেন্ডা থাকায় তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের আরেকটি মিটিংয়ের প্রয়োজন হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগাল যে অ্যাডভাইজার রয়েছে তার সঙ্গে কথা বলব এবং তার পরামর্শেই অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে কি না সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৬ পদে চাকরির সুযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বিভাগে ১৮৬ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ জুনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।   পদের বিবরণ—   ১. পদের নাম: অধ্যাপক   পদসংখ্যা: ৩৬টি বিভাগে মোট ৫৬ জন   বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৫৫ বছর (বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য)   বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা (গ্রেড-৪)   যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিএমডিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত এমবিবিএস/বিডিএস বা সমমানের ডিগ্রি এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে এমএস/এমডি/এফসিপিএস/এমফিল (এমফিল শুধু বেসিক সায়েন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের জন্য) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছর এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৬ বছরসহ মোট যথাক্রমে ১০ বছর ও ১২ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে ন্যূনতম ১২টি অরিজিনাল আর্টিকেল থাকতে হবে।   ২. পদের নাম: সহযোগী অধ্যাপক   পদসংখ্যা: ২৪টি বিভাগে মোট ৫০ জন   বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৫০ বছর (বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য)   বেতন স্কেল: ৫০,০০০-৭১,২০০ টাকা (গ্রেড-৫)   যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা অধ্যাপকের মতোই হতে হবে, তবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে ন্যূনতম ছয়টি অরিজিনাল আর্টিকেল থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হবে।   ৩. পদের নাম: সহকারী অধ্যাপক   পদসংখ্যা: ২৯টি বিভাগে মোট ৮০ জন   বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪৫ বছর (বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য)   বেতন স্কেল: ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা (গ্রেড-৬)   যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: সমমানের মূল শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ন্যূনতম তিন বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে এমডি/এমএস/এফসিপিএস ডিগ্রি থাকলে কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে না (যেহেতু এই ডিগ্রিগুলোকে তিন বছরের অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয়)। এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হবে। স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে ন্যূনতম তিনটি অরিজিনাল আর্টিকেল থাকতে হবে।   আবেদনের প্রক্রিয়া ও ফি: আগ্রহী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ মোট ১০ সেট আবেদনপত্র ‘রেজিস্ট্রার’ বরাবর পৌঁছাতে হবে। আবেদন ফি বাবদ ৬০০ টাকা জমা দিতে হবে।   আবদেন যেভাবে: নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য www.bmu.ac.bd এই ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।   আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দেয়ার সুযোগ রয়েছে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এইচএসসি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : পুনঃ ভর্তির চক্রে শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর
গবেষণার উন্নয়নে ঢাবি ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড

গবেষণার উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার একটি এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়াত প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর ময়নুল হক এবং তাঁর এমএস গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ড. জন আলফ্রেড ট্যালেন্ট-এর স্মৃতি সংরক্ষণে ‘মীর ময়নুল হক এন্ড জন ট্যালেন্ট মেমোরিয়াল এনডাউমেন্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।   আজ মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত মীর ময়নুল হকের ছোট ভাই ড. মীর মুবিনুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম-এর কাছে ১ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন।   ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম এ লতিফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া, প্রয়াত মীর ময়নুল হকের সহোদর মীর মফিদুল হক, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, ভূতত্ত্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং দাতা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   এনডাউমেন্ট ফান্ডের মোট অর্থের ৩০ শতাংশ ব্যয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগে ‘ময়নুল-ট্যালেন্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের লভ্যাংশ থেকে গ্র্যাজুয়েট গবেষকদের পিএইচডি ও এমফিল গবেষণা, এমএস ফেলোশিপ, স্কলারশিপ এবং ফিল্ডওয়ার্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে।   অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠনের জন্য দাতা পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ অনুদান ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি ড. মীর মুবিনুল হকের এই উদ্যোগকে অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০২, ২০২৬
ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর

ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে ঢাবি ও চীনের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল

ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
বৃত্তিতে এআইসহ নানা বিষয়ে পাকিস্তানে পড়াশোনার সুযোগ

পাকিস্তানের কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয় ওআইসি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে কয়েকটি প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে। এ বৃত্তির আওতায় কোনো টিউশন ফি ছাড়াই স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিসের ওপর মাস্টার্স অব সায়েন্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ২৫টি বৃত্তি দেবে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়টি।   কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ পাকিস্তানের একটি ফেডারেল চার্টার্ড পাবলিক সেক্টর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৮ সালে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।   আবেদনের যোগ্যতা স্নাতকোত্তরে ১৬ বছরের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। স্নাতকোত্তরের জন্য একাডেমিক ক্যারিয়ারে ন্যূনতম সিজিপিএ–২ দশমিক ৫ (৪–এর মধ্যে বা ৫৫ শতাংশ নম্বর) পেতে হবে। পিএইচডির জন্য ১৮ বছরের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। একাডেমিক ক্যারিয়ারে ন্যূনতম সিজিপিএ–৩ (৪–এর মধ্যে বা ৬০ শতাংশ নম্বর) পেতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ৩১ মে ২০২৬ অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের বিস্তারিত জানতে এ আবেদনের পদ্ধতি দেখতে এখানে ক্লিক করুন https://internationaladmissions.comsats.edu.pk

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি নয়: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের ২টি জামাত

ছবি : সংগৃহীত

শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ঢাবিতে একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে

0 Comments