বিশ্ব

রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ১০ দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোট

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ইউরোপকে রক্ষা করতে নতুন একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেনসহ ইউরোপের মোট ১০টি দেশ। গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের যে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা এই জোটে কাজে লাগানো হবে। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ফ্র্যান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ১০ দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতিতে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পুরো ইউরোপের সুরক্ষায় একটি যৌথ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।” ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং মহাদেশটিতে মস্কোর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তারের আশঙ্কার মুখে, প্রায় দুই ডজন ইউরোপীয় নেতার কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগিতা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। এরই ধারাবাহিকতায় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই জোট গঠনে সম্মত হয়।

 

 

যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, “ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোনের তুলনায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কঠিন। আমরা এই ক্রমবর্ধমান হুমকিকে গভীরভাবে অনুধাবন করছি। ইউরোপকে সুরক্ষিত রাখতে একটি সমন্বিত ও সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সফলভাবে নস্যাৎ করতে পারবে।” বিবৃতিতে জোটের কার্যক্রম শুরুর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা না হলেও জানানো হয়েছে, এই প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার পথ অন্যান্য দেশের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ও তার সহযোগী দেশগুলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে যৌথভাবে একটি কম খরচের এবং ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থা যেমন ইউরোপের নিজস্ব সুরক্ষার চাহিদা মেটাবে, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সুরক্ষায়ও সরবরাহ করা যাবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই উদ্যোগের বিপরীতে কঠোর অনমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 

 

রাশিয়ার তেল শোধনাগার, ট্যাংকার ও টার্মিনালগুলোতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুতিন। তেল অবকাঠামোগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার ফলে রাশিয়ায় বর্তমানে ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার মস্কোতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন বলেন, “তারা রাশিয়ার ভূখ-ে যেখানেই আঘাত করার চেষ্টা করবে, আমরা ঠিক সেভাবেই জবাব দেব, তবে আমাদের আঘাত হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী।’’ এদিকে একই দিনে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথক একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে ইউক্রেনের জরুরি সামরিক চাহিদা এবং ইউরোপের নিরাপত্তার প্রতি রাশিয়ার সামগ্রিক হুমকি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখেই তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে চান। কারণ প্রতি বছর শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, পানি ও হিটিং ব্যবস্থা ধ্বংস করতে রাশিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করে তোলে।

 

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্ব মাটিতে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাকে কিয়েভের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবে উৎপাদন শুরু করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে ইউরোপের এই নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ব্যবস্থাটি কত দ্রুত কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মূল লক্ষ্য হলো সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে রাশিয়াকে চাপে ফেলে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শান্তি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মস্কো এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি।

.

প্যারিস বৈঠক নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘যুদ্ধবাজ ও বিভ্রান্তদের জোট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পেসকভ বলেন, “তারা এই চরম ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে রয়েছে যে রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা সম্ভব। মূলত এরা যুদ্ধকে আরো উসকে দিতে চাইছে।” তবে সামরিক বিশ্লেষক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক অবিশ্বাস্য অগ্রগতি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে। রাশিয়ার পেছনের সারির মূল রসদ ও সরবরাহ রুটে ইউক্রেনের নিখুঁত ড্রোন হামলার কারণে রুশ বাহিনী তাদের আক্রমণের গতি হারিয়েছে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি এখন ধীর ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

 

সূত্র : এপি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে হিমবাহ ধসেই ভয়াবহ বন্যা, বলছে চীন

তিব্বত থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানির পেছনে বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন যে প্রশ্ন উঠেছে তা নাকচ করেছে চীন। নেপালের চীন দূতাবাস জোর দিয়ে বলেছে, নেপালের একটি উচ্চভূমির হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।   শুক্রবার রাতে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে এক বিবৃতিতে নেপালের চীন দূতাবাস বলেছে, তারা বিদেশি এবং চীনা নাগরিকদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।   এর আগে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের চীনা অংশে একটি ভূমিধস প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে এই বিপদ তৈরি করেছে কিনা, সে প্রশ্ন তোলা হয়। চীনের ভূখণ্ডে বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া গেলে আগাম সতর্কতা দিয়ে ভাটির দিকে মানুষের প্রাণহানি কমানো সম্ভব ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়।   বৃহস্পতিবারও এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে নেপালের চীন দূতাবাস। তাদের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতা না দেওয়ার কারণে নেপালের দিকে প্রাণহানি হয়েছে, এমন দাবিকে ‘ভুয়া’ বর্ণনা করে তারা বলেছে, “২৬ অগাস্ট সকালে নেপাল প্রান্তে একটি ভূমিকম্প বা ভূমিকম্পের মত হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে সৃষ্ট বিশাল কাদার স্রোতে জিরং-রাসুয়া সীমান্ত অঞ্চলের নেপাল ও চীন উভয় পাশেই ব্যাপক হতাহত এবং নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।”   দুর্যোগের সময় দোষারোপ কাজে আসে না বরং সহযোগিতাই জীবন বাঁচায় বলেও মন্তব্য করে তারা।   বুধবার সকালে উত্তর নেপালের পাহাড়ি ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এর জেরে তিব্বত সীমান্তের কাছে রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।   ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্ত এলাকায় কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত বহু মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৫৭৯ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে নেপাল ও চীনা কর্মকর্তাদের ধারণা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬

নেপালের হিমবাহধসে বাঁচার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন দম্পতি

প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা আইপিও নিয়ে শীর্ষ দুই শেয়ারবাজারের লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

বিমানে চেপে জার্মানিতে ম্যালেরিয়ার মশা, প্রাণ গেল ২ জনের

নেপালের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক। ছবি: বিবিসি
বন্যার্তদের পাশে নেপালের মন্ত্রীরা, দেবেন এক মাসের বেতন

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এক মাসের বেতন প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির মন্ত্রীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ। এ বিষয়ে বিবিসি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মন্ত্রিপরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনে একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। সম্প্রতি নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রাসুওয়াগাধি, ভোতেকোশি নদী ও এর নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। এদিকে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির চীন সীমান্তবর্তী দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপালি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বুধবারের বন্যা ও ভূমিধসের পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ৪৬৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে কর্তৃপক্ষ নেপালে ৩৯০ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। ওই দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যায়। নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকিং বা তীর্থযাত্রার জন্য দুর্যোগকবলিত এলাকায় গিয়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। সূত্র: বিবিসি

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬

প্রথা ভেঙে মুখ্যমন্ত্রীর আসন ছেড়ে মন্ত্রীদের পাশে বসলেন বিজয়

যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে চাপে কাজ হবে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বন্যার পর এবার ভূমিকম্প, তিব্বতে বাড়ছে আতঙ্ক

নিরাপত্তাঝুঁকিতে চীনে টেসলার ৩০ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার

দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে দ্রুত বের হতে হবে, অথচ সেই মুহূর্তে যদি দরজার হাতলই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়, আধুনিক নকশার এই সুবিধাই এবার টেসলার জন্য তৈরি করেছে বড় নিরাপত্তা প্রশ্ন। তাই চীনে প্রায় ৩০ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি ফেরত টায়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জরুরি সময়ে যাত্রীদের দ্রুত বের হতে না পারার আশঙ্কাই এর মূল কারণ।   বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে তৈরি প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার টেসলা গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। একই ধরনের সমস্যার কারণে চীনের আরও কয়েকটি নির্মাতার বৈদ্যুতিক গাড়িও ফেরত নেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রত্যাহারের আওতায় আসছে ৪০ লাখের বেশি গাড়ি।   টেসলার কিছু মডেলে দরজার হাতল গাড়ির ভেতরের অংশের রং ও নকশার সঙ্গে মিশে থাকায় জরুরি সময়ে সেটি শনাক্ত ও ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে, বড় দুর্ঘটনার পর গাড়ির লো-ভোল্টেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে যাত্রীদের বের হওয়া এবং বাইরে থেকে উদ্ধারকাজ— দুটিই বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোতে দরজার ভেতরে সতর্কতামূলক লেবেল লাগানোর পাশাপাশি সফ্‌টওয়্যার হালনাগাদ দেবে টেসলা। দুর্ঘটনার পর গাড়ির জানালার কাচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নামানোর ব্যবস্থাও করা হবে।   বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে চীনে শাওমির বৈদ্যুতিক গাড়ির দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার পর গাড়ির বিদ্যুৎব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় ভেতর থেকে দরজা খোলার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল।   অটোমোটিভ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনো অটো ইনসাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তু লে বলেন, টেসলার নকশা অনুসরণ করে চীনের বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতাও লুকানো দরজার হাতল ব্যবহার শুরু করে। তবে তার মতে, শুধু স্টিকার বা সফ্‌টওয়্যার হালনাগাদ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।   নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় চীনা কর্তৃপক্ষও লুকানো দরজার হাতল নিয়ে কঠোর হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গাড়ির ভেতরে ও বাইরে অন্তত একটি হাতে চালিত যান্ত্রিক লক ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক হবে।   যুক্তরাষ্ট্রেও টেসলার দরজার হাতল নিয়ে আগে অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছে। ফলে আধুনিক নকশার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, টেসলার এই প্রত্যাহার সেটিই আবার সামনে এনেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-কুয়েতের অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

কাদা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ, নেপালে মৃত্যু ৩৮৯

0 Comments