সারাদেশ

রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে জি কে শামীমের একক নিয়ন্ত্রণের আবেদন, তোলপাড়

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬

রেলওয়ের সব স্টেশন, স্থাপনা, অবকাঠামো ও প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন স্থাপনে টানা ১০ বছর এককভাবে ব্যবহার করতে চান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের আলোচিত নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। এ বিষয়ে তাকে ‘প্রয়োজনীয় সহযোগিতা’ দিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার আবেদনে মন্ত্রীর এমন লিখিত নির্দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে সদর দপ্তর এবং এর অধীন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে। পুরো মন্ত্রণালয়কে এক ব্যক্তির জন্য ব্যবহারের এমন আবেদন ও নির্দেশনা দুটিই নজিরবিহীন বলে জানান তারা। তাদের মতে, রুলস অব বিজনেস ও বিজ্ঞাপন নীতিমালা অনুযায়ী এমন আবেদন ও নির্দেশনা দুটিই অস্বাভাবিক ঘটনা।

 


এদিকে রেলমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন এমন অনেক আবেদন আসে। এগুলো আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য সচিবকে মার্ক করে পাঠিয়ে দেই। যুবলীগ নেতা জি কে শামীম কিংবা তার মনোনীত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্কও নেই বলে জানান তিনি। সরল বিশ্বাসেই তিনি আবেদনটিতে সহযোগিতা করার কথা লিখেছেন।

 

অন্যদিকে জি কে শামীমের এমন আবেদনকে ‘সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি ও যুবদলের নেতারা। এ বিষয়ে দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার এমন আবেদনকে কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের দুই বছর পার না হতেই গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এসে রেলওয়ের সব স্টেশন, কম্পার্টমেন্ট, প্ল্যাটফর্মসহ সব স্থাপনার বিজ্ঞাপনের নিয়ন্ত্রণ নিতে জি কে শামীমের আবেদন আমাদের ব্যথিত করেছে। যে সময়ে তার (জি কে শামীম) বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার কথা, ঠিক সে সময়ে দাপট দেখিয়ে সরকারের সঙ্গে তার ব্যবসা করার ঘটনা বিস্ময়কর। 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জি কে শামীম তার মালিকানাধীন জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের পক্ষে নিজেকে এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে গত ১১ জুন রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড–একটি সরকারি তালিকাভুক্ত (স্পেশাল ক্লাস পিডব্লিউডি) প্রকৌশল নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক, সংযোগ ও স্থাপন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ের সমগ্র নেটওয়ার্কব্যাপীÑ সব স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, রোলিং স্টক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে একটি সমন্বিত বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন, স্থাপন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার নিমিত্তে আগামী ১০ বছরের জন্য একক অধিকার চাই।’

 

 

রেলওয়ের সব স্থাপনায় নিজের একক অধিকার প্রতিষ্ঠার এ আবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি জি কে শামীম রেলওয়ের সব স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ও রোলিং স্টকে বিজ্ঞাপন পরিচালনার এককভাবে অধিকার দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদনের অনুরোধ করেন।

 

বিজ্ঞাপন সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা দিতে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। একই সঙ্গে জি কে বি কোম্পানির প্রতিনিধিদের রেলওয়ের সব জায়গায় ঢোকার অধিকারও নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানান জি কে শামীম। পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে রেলওয়ের কোনো স্থাপনায় বিজ্ঞাপন স্থাপন করতে না পারে, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রার্থনা জানান তিনি।

 

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১১ জুন জি কে শামীমের স্বাক্ষরিত আবেদনটিতে রেলমন্ত্রী ১৫ জুন সচিবকে নির্দেশনাসহ পাঠান। আবেদনের উপরে মন্ত্রী সচিবকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করুন।’ 

 

আবেদনটি মন্ত্রীর দপ্তরের ডায়েরিতে অন্তর্ভুক্ত না করেই সরাসরি সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়। এরপর ১৭ জুন সচিবের দপ্তরের রেজিস্ট্রারে এটি ১২৯২ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের আইন ও ভূমি শাখায় পাঠিয়ে দেন।

 

টানা ১০ বছরের জন্য এককভাবে রেলওয়ের সব স্থাপনা, নেটওয়ার্ক, স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম বিজ্ঞাপনের জন্য এককভাবে ব্যবহারের আবদার করে জি কে শামীমের করা আবেদনের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় চলছে। কর্মকর্তারা জানান, সহযোগিতা করার বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা মানতে গেলে বিজ্ঞাপন নীতিমালা ও প্রচলিত আইন এবং বিধি-বিধান লংঘন করতে হবে। তবে মন্ত্রীর নির্দেশনা ও প্রচলিত বিধিবিধান সামনে রেখে আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা।

 

কর্মকর্তাদের মতে আবেদনটিই বেআইনি

রেল মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টানা ১০ বছর রেলওয়ের সব স্থাপনা এককভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়ে জি কে শামীমের আবেদনটিই বেআইনি। এমন আবেদন কোনোভাবেই মন্ত্রণালয় গ্রহণ করতে পারে না।

 

২০২৬ সালে করা রেলওয়ে বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং নীতিমালা অনুযায়ী, রেলওয়ের যে কোনো স্থাপনায় বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। প্রতি বর্গফুট ১২ হাজার টাকা দাম নির্ধারণের নির্দেশনাও রয়েছে এ নীতিমালায়। জি কে শামীমের আবেদন গ্রহণ করলে নীতিমালার প্রতিটি ধারাকে অমান্য করা হবে বলেও জানান তারা।

 

রুলস অব বিজনেস না মেনে আবেদনের ওপর মন্ত্রীদের দেওয়া নির্দেশনাগুলো নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তাদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় বলে জানান জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়া। আমার দেশকে তিনি বলেন, মন্ত্রীরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় জনগণের অনেক আবদার তাদের মানতে হয়। কিন্তু এটাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বিপদে পড়েন। যেখানে আইন, বিধি-বিধান ও নীতিমালার বিষয় জড়িত, সেসব বিষয়ে কেউ আবেদন করলে তা পদ্ধতিগতভাবেই নিষ্পত্তি করতে হয়। এখানে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আগ্রহীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা কোনো নির্দেশ দিলেও সেটা রুলস অব বিজনেস ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যকর নয়। কাজেই এসব ক্ষেত্রে মন্ত্রীদেরও নিয়ম মেনে চলা উচিত। তবে সেবামূলক কাজে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন্ত্রীর যে কোনো নির্দেশনা দেওয়াটা দোষের কিছু নয়। এমনিতেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা জনবান্ধব নয় বলে সাধারণ মানুষের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেবার জন্য রাজনীতিবিদদের কাছেই তারা যায়। 

 

জি কে শামীমকে নিয়ে প্রশ্ন

২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে জি কে শামীমের নাম আসে যুবলীগের তৎকালীন বিতর্কিত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে। রাজধানীর ক্যাসিনোকেন্দ্রিক অবৈধ আয়ের একাংশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে ভাগাভাগি হতো, আর এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন জি কে শামীম ও সম্রাট। তবে জি কে শামীমের মূল পরিচিতি ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একের পর এক বড় সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশ বাগিয়ে নিতেন।

 

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে দেশের মানুষ প্রথমবারের মতো জানতে পারে, রাজধানীর অভিজাত ক্লাবগুলো ঘিরে কীভাবে গড়ে উঠেছিল বিশাল অবৈধ অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক। তখন রাজধানীর নিকেতনে তার বিলাসবহুল কার্যালয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও নগদ অর্থের পরিমাণ দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। তার অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, শত কোটি টাকার এফডিআর, বিপুল নগদ টাকা আর বিদেশি মদ। সাত দেহরক্ষীসহ তাকে গ্রেপ্তার করার পর দেশের মানুষ ভেবেছিল মাফিয়াতন্ত্রের বুঝি অবসান ঘটল। এরপর একে একে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলা। এর মধ্যে অর্থপাচার মামলায় নিম্নআদালত তাকে দণ্ডিত করলেও পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত সেই রায় বাতিল করে খালাস দেয়। অন্যদিকে দুদকের মামলায় আদালত হাজতবাসে কাটানো সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে বিবেচনা করায় ওই মামলাতেও তাকে কারাগারে রাখার সুযোগ থাকেনি বলে কারা সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে। এর আগে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার ও তার মায়ের নামে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য। এসব সম্পদের বড় অংশের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়। 

 

রেলওয়ের সবকিছুই এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আবেদনের বিষয়ে জি কে শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে আমার দেশ। আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা দেওয়ার পর তিনদিন অপেক্ষা করলেও তিনি জবাব দেননি।

 

সরেজমিনে গত সোমবার জি কে শামীমের অফিস রাজধানীর গুলশান-১-এর নিকেতন আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দেয়ালে অস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ‘জি. কে. বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড’। নিকেতন কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত বাড়িটির মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে গেলে কোম্পানির নাম ও লোগোসংবলিত গোলাকার মনোগ্রামও চোখে পড়ে।

 

প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল একাধিক স্টাফ এ প্রতিবেদককে জানান, বাড়িটি জি কে শামীমের মালিকানাধীন এবং এখানেই কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জি কে শামীম নিয়মিত এ কার্যালয়ে আসেন। তবে দিনের বেলায় নয়, অধিকাংশ সময় সন্ধ্যার পর তিনি অফিসে প্রবেশ করেন। এ সময় কোম্পানির অফিস দেখার কথা বললে গেটে দায়িত্বরত কর্মী সন্ধ্যার পর আসতে বলেন।

 

এ বিষয়ে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন আমার দেশকে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সহযোগী বা তাদের কোনো স্টেকহোল্ডার একচ্ছত্রভাবে ব্যবসার সুযোগ পাকÑ এটি দেশের মানুষ চায় না। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমিও তা চাই না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।’ 

 

জি কে শামীমের এমন অদ্ভুত আবেদনের বিষয়ে রেলমন্ত্রী আমার দেশকে আরো বলেন, ‘আমরা নীতিমালার বাইরে যাব না। যাওয়ার সুযোগও নেই।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি আরো ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
আলিয়া মাদ্রাসায় ফের উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।    পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর হলের ‘বৈধ সাধারণ শিক্ষার্থী’ ও শিবির নেতারা সম্মিলিতভাবে আবাসিক হলে উঠতে যাওয়ার পথে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।   সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসার হলের পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা ছিল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রশিবিরের হল শাখার নেতাকর্মী ও বৈধ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়ার জন্য বকশীবাজার মোড়ে সামনে উপস্থিত হলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ।   এদিকে পুলিশ কিছু পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড যাচাই করে মাদ্রাসায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলেও, যাদের অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে ছিল তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির।   দুপুর ১২টার দিকে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়ায় যানবাহন মাদ্রাসার ভেতরের দিকে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে মাদ্রাসার দিক থেকে বকশীবাজারের দিকে যানবাহন বের হচ্ছে।   বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও মাদ্রাসার গেটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।   চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসার সড়ক ও গেটের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। একটি গ্রুপ আজ আলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে দ্বন্দ্ব মোকাবিলা ও নিরাপত্তার জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেখে মাদ্রাসার দিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা একত্রিত হয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।   পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানায়, কোনো বিষয়ে কথা থাকলে দুই-একজন প্রতিনিধি প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু তারা পুলিশের কথা না শুনে সবাই একত্রিত হয়ে ঢুকার কথা বলে। ভেতরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো বহিরাগতকেও মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।   এদিকে আলিয়া মাদ্রাসার হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম বলেন, তারা শনিবার সকালে দুটি উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রথমত, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের বাধা দিয়েছে।   তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে থাকায় তাদের মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে ছিল। তাদেরও হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তারা পরীক্ষা দিতে পারতেন। কিন্তু হলের কার্ড থাকা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা প্রশাসন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।   আব্দুল আলীম আরও বলেন, তারা পরীক্ষার আগেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। তাদের ধারণা ছিল- সেখানে অবস্থান করতে পারলে মাদ্রাসা প্রশাসন এসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে পরীক্ষার হলে নিয়ে যাবে। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে নিয়ে যায়নি। এতে তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি এবং তারা নিজেরাও হলে যেতে পারেননি।   তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের বৈধ হল কার্ডধারী ও বৈধ শিক্ষার্থীরাই হলে প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছেন।   আব্দুল আলীম বলেন, আমরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্য আসিনি। আমাদের লড়াই হচ্ছে— বৈধ ছাত্র ছাড়া ছাত্রদল বা শিবির পরিচয়ে কেউ হলে থাকবে না। আমরা চাই, হলে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান করুক।   তিনি আরও বলেন, তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রেখে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে আগামীকাল থেকে দেশবাসী ও ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামীকাল তাদের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান।   পুলিশের ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করেন। এর পরও মাদ্রাসার আশপাশে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।   বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ছাত্রশিবিরের প্রবেশ ঠেকাতে সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৪৬ মণ রুপালি ইলিশ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম চা-নিলামে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হলো এনটিসির চা

ছবি: সংগৃহীত

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি অর্ধকোটি টাকায়

ছবি: সংগৃহীত
‘ফিল্মি স্টাইলে’ পুলিশের কাছ থেকে পালাল আসামি

ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের হেফাজত থেকে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ‘ফিল্মি স্টাইলে’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০টা ১৮ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম মোহাম্মদ সাঈদার (৩২)। তিনি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সাতখামার এলাকার শামসুল হকের ছেলে।   এর আগে গত ৬ আগস্ট বিকালে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে র‍্যাব-১ একটি ওয়ারেন্ট মামলায় তাকে আটক করেছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীকালে আটোয়ারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে পথিমধ্যে ঠাকুরগাঁও পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই আসামি হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি অনেকটা চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো। এতে উপস্থিত মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ঢাকা থেকে আটোয়ারী থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ঠাকুরগাঁও শহরের বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় থামলে আসামি পালিয়ে যায়।   তিনি আর বলেন, আটোয়ারী থানা পুলিশের সঙ্গে আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার বড়বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

বাজারে স্বস্তি কাঁচা মরিচে, তবে বাড়ছে ডিম ও মুরগির দাম

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল ফোনে ব্যস্ত চালক, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস

ধলা সীমান্ত এলাকা।
মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

মেহেরপুরের গাংনী এলাকা সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ধলা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ধলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৫/৪-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধলা মাঠ এলাকায় বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার পুরুষ ও এক নারীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার নিজাম উদ্দীন শিকদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তারাও বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৮

ছবি : সংগৃহীত

গফরগাঁওয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত: বন্ধ ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল

ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৬ শ্রমিক নিহত

0 Comments