জুলাই শহীদ দিবস ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশের সব মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (১৩ মে) বোর্ডের পৃথক দুই বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জুলাই শহীদ দিবস পালন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে সুবিধাজনক সময়ে স্মরণ সভা এবং বিশেষ মোনাজাত আয়োজন করার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের অন্বেষণ, বিকাশ এবং ক্রীড়ামুখী মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ক্রীড়া পরিদপ্তরের আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম ঢাকায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, এ অনুষ্ঠানকে উৎসবমুখর, প্রাণবন্ত ও সাফল্যমন্ডিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরে অবস্থিত বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসে স্বত:স্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজে যে ছেদ ঘটেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা কি উতরাতে পারবে বিএনপি সরকার? প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যেই আহ্বান করা হয়েছে। তবে দরপত্র উন্মুক্ত ও চূড়ান্ত করা, মূল্যায়ন, মন্ত্রণালয়ে ও সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর বই ছাপার কাজ শুরু হতে সেপ্টেম্বর গড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বছরের অর্ধেক চললেও পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছর যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হতে যাচ্ছে, সেগুলোর লেখার কাজও এখনো শেষ হয়নি। এমন বাস্তবতায় বই ছাপা শেষে করে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলছেন, এবার বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছবে। তার ভাষ্য, বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নতুন শ্রেণির পাঠ্যবই হাতে পাবেন। সরকার নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। নানা জটিলতা থাকলেও সেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে বই ছাপানো ও সরবরাহের তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বড়দিনের আগেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এজন্য প্রচলিত সময়ে যে কাজে যতটুকু সময় প্রয়োজন হতো তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। “আশা করছি, আমরা নির্ধারিত সময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব। এজন্য সব মহলের সহযোগিতা চাই।” শিক্ষাক্রম পরিমার্জন চূড়ান্ত হয়নি, নতুন বই লেখাও বাকি বিদ্যমান ২০১২ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম আরও পরিমার্জন করে আগামী বছরে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হবে। আর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বিস্তরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনো চলছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর এবং সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ইকবাল হায়দার। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অধ্যাপক ইকবাল হায়দার বলেন, “আমাদের শিক্ষক্রম পরিমার্জনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছে। পরিমার্জন চূড়ান্ত হলে তা জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি-এনসিসিসিতে অনুমোদনের পর তা বই ছাপার কাজ শুরু হবে।” অগাস্টের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন চারটি বিষয় চালুর পরিকল্পনা করেছিল সরকার; তবে তা এগিয়ে এনে আগামী বছরই চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এ নতুন বইগুলো লেখার কাজ এখনও শেষ হয়নি। এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন বইগুলো লেখার কাজ করছে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের যে কমিটি গঠন করেছে, তারা। তাদের মাধ্যমে এনসিটিবি এ কাজটি করছে। বই ছাপার শুরু আগে যথাসময়ে পরিমার্জন ও নতুন বই লেখার কাজ শেষ হবে। “এরপর এনসিসিসির সামনে আমরা পরিবর্তনগুলো তুলে ধরব। তাদের অনুমোদন পাওয়ার পর ছাপার কাজ শুরু হবে।” মুদ্রাকররা কী বলছেন বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে এনসিটিবির যে প্রস্তুতি তাতে ঈশান কোণে মেঘ দেখছি। জুনে এসে পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পাঠ্যবই সংশোধন চূড়ান্ত হয়নি। “এদিকে এবার লটের আকার বাড়িয়ে সংখ্যা কমানো হয়েছে। এর ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাবে না। আর সেপ্টেম্বরে আগে ছাপার কাজ শুরুর কোনো আলামত দেখছি না। অগাস্টের শুরুতে টেন্ডার মূল্যায়নের পর মন্ত্রণালয় ও ক্রয় কমিটির মূল্যায়নে সময় যাবে আরও এক মাস। “এরপর চুক্তির পর প্রকাশকরা কাজ শুরু করতে আরও ২৮ দিন সময় পাবেন। সেপ্টেম্বরে একসঙ্গে সবাই কাজ শুরু করলে কাগজের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।” চলতি বছরে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ছাপাখানার। এ বিল এখনও পাননি মুদ্রাকররা। যদিও এনসিটিবি দ্রুত এ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্যাংক ঋণ পাওয়া নিয়ে মুদ্রাকরদের আশঙ্কা রয়েছে বলে ভাষ্য রূপালী প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী তোফায়েল খানের। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বছরের বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করেনি এনসিটিবি। “এ পরিস্থিতিতে তারা নতুন করে ব্যাংক ঋণও পাবেন কি না তা নিয়েও আশঙ্কা আছে। এমন বাস্তবতায় বই ছাপার কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা আছে।” বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এনসিটিবির পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে অগাস্টের শুরুতে তারা চুক্তি সই করবেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা কাজ শুরু করতে পারব। অগাস্টের শুরুতে চুক্তি হলে ১০ অগাস্টের মধ্যে আমরা ছাপা শুরু করতে পারব।” বই ছাপানোর কাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দোহার প্রিন্টিং প্রেসের এ স্বত্বাধিকারী বলেন, “এবার আমাদের মেশিনগুলো ঠিক আছে, নতুন মেশিনও যুক্ত হয়েছে। বই ছাপার কাজ করতে এবার তিন মাসের বেশি সময় লাগবে না।” ৩০ কোটি বই ছাপাতে ব্যয় হবে ১৯০০ কোটি টাকা আগামী বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ কোটি ২৭ লাখ বই ছাপা হবে। এজন্য ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু। তিনি জানান, ১৪১টি লটে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার কপি বই ছাপানো হবে। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর এবতেদায়ী স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ৫৩৫টি লটে ছাপা হবে ২২ কোটি ৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ কপি বই। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৬০১ টাকা। সবস্তরে বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এনসিটিবি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দরপত্র উন্মুক্ত করার পর সেসব মূল্যায়ন হবে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের পর প্রকাশকদের সঙ্গে চুক্তি করবে এনসিটিবি। তারপর শুরু হবে ছাপার কাজ। অগাস্টের প্রথম দিকেই বই ছাপার কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু মনে করছেন, সেপ্টেম্বর নাগাদ বই ছাপানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। যা বলছে সরকার নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বছরের শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই ধরনের আশার কথা শুনিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকুও। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বই ছাপার কাজ করতে আড়াই মাস সময় প্রয়োজন। সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হলেও বই ছাপাতে দেরি হওয়ার কথা নয়। তবে প্রকাশকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।” বছর শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি পাঠ্যবইয়ের বকেয়া বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অধ্যাপক ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। তারা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করবেন। আমরা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করে দেব।” আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে ৮০ হাজার টন কাগজের প্রয়োজন। কাগজের সংকট যেন না হয় তা নিয়ে কাগজকলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গেল সোমবার বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। ওই বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট ছাড়াই বাজারমূল্যে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকরা। এহছানুল হক মিলন বলেন, “বিগত বছরগুলোতে শেষ সময়ে এসে প্রেস মালিকদের প্রায়ই অভিযোগ থাকত যে তারা সময়মতো কাগজ পাচ্ছেন না কিংবা বাজারে কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতা ও সিন্ডিকেট দূর করতেই এবার দেশের খ্যাতনামা পেপার মিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন—বাজারে কাগজের দাম বাড়াবেন না, নির্ধারিত বাজারমূল্যেই সঠিক সময়ে কাগজ সরবরাহ করবেন। “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। দেশীয় মানসম্মত কাগজে যেন বই ছাপা হয়, সেটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। পেপার মিল মালিকদের এই আশ্বাসের পর এবার মুদ্রণ খাতের প্রেস মালিকদের সাথেও বৈঠক করা হবে। এবার একটি আইনি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় চুক্তি করা হবে, যেন মাঝপথে কেউ চুক্তির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ না পায়। দেশের পেপার মিলগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ কাগজ আগামী দুই মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা সম্ভব দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পেপার মিল মালিকরা প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫৫ হাজার টন মানসম্মত কাগজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ডিএমডি মুস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা পেপার মিলস লিমিটেডের জিএম ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, টি কে কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের জিএম মোস্তফা কামাল, বেস পেপারস লিমিটেডের জিএম জব্বার। এছাড়াও যথাসময়ে বই ছাপানোর কাজ সফল করতে সরকারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সুইস কোয়ালিটি পেপার বিডির প্রতিনিধি শাখওয়াত হোসেন, ক্রিয়েটিভ পেপার মিলসের পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, এথিক্যাল পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের মাসুদ কামাল রানা ও পারটেক্স পেপার মিলসের লুৎফর রহমান।
রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্ষা মৌসুম ও টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সকালের দিকে প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা আগে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় তৎপর রয়েছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নেওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার থেকে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার বিকেলে ৩ থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিটে আসন রয়েছে ৪৪৯৮টি। ২৩ হাজার ৩৬৫ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছেন। প্রতি আসনে লড়বেন ৫ জন পরীক্ষার্থী। যেসব নির্দেশনা মানতে হবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত ৭ কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৪০ নম্বর প্রয়োজন। তবে কাঙ্ক্ষিত বিষয় পেতে হলে নির্ধারিত বিষয়ে অন্তত ৫ নম্বর পেতে হবে। ব্যবসা শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা দুই শিফটে ১৭ জুলাই হবে। এ দিন সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিজ্ঞান ইউনিটের আর বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আসন বিন্যাস ১৪ জুলাই থেকে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আবেদনের মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটে মোট পড়েছে ৩১ হাজার ৫৫৩টি যা মোট আবেদনের ৪৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় মোট আবেদনের ১১ হাজার ২৪৪টি যা মোট আবেদনের ১৭শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান, কলা ও সমাজবিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা এই তিন ইউনিটের বিভিন্ন বিভাগে ৪ বছর মেয়াদি প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ভর্তিচ্ছুরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে (www.dcu.ac.bd) থেকে সব তথ্য জানতে পারবে। মোট আসন ১১ হাজার ২৯০টি। এর মধ্যে কলাও সমাজ বিজ্ঞানে ৪৪৯৮ টি, বিজ্ঞানে ৪৭৯৫ টি, ব্যবসায় ১৯৯৭ টি আসন রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।