অন্যান্য

মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবে বিএমইউ

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসাবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করতে পারবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এই ক্ষমতা দিয়ে আনা ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

 

মূলত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য এ বিল পাস করা হয়েছে। তবে বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দল।

 

বিল পাস হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, এই বিল পাস হলে চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ হবে। এটি নজিরবিহীন হবে। এটি হলে এই হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষ এখনকার মতো সেবা পাবেন না। দরিদ্র মানুষ সেবাবঞ্চিত হবে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় আয় বা ব্যবসার জন্য কাজ করবে, তখন আর জনকল্যাণ থাকবে না।

 

বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশে স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাই। এখানে তাঁরাই আসেন, যাদের সামর্থ্যে কুলায় না। এখন লাভজনক কোনো বিষয় যুক্ত করা হলে জনগণের ওপর দায় চাপবে। যতটুকু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে তাতেও বিঘ্ন ঘটবে।

 

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দক্ষ, উঁচু মানের একটি হাসপাতাল করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ হাসপাতাল থেকে লাভ হলে, সেটা কেউ বাইরে নিতে পারবে না। এখানে সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আছে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটাকে কোম্পানি আইন দিয়ে অধিক বিজ্ঞ এক্সপার্ট লোক এনে আরও ভালো, উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। অনেক দরিদ্র মানুষ এখানে যেতে পারবেন না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা ঠিক না। দরিদ্রদের জন্য কোটা থাকবে। হাসপাতালকে জনকল্যাণমুখী করা হচ্ছে। এখানে সন্দেহ থাকার কোনো অবকাশ নেই।

 

একপর্যায়ে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসেবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের অধীনে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা বা অন্য কোনো আইনের অধীনে দাতব্য কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্যে কোনো সংগঠন গঠন করা এবং এ ধরনের কাজ থেকে উদ্ভূত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। যেকোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করতে পারবে।

 

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এবং পরিচালনার পদ্ধতি সুস্পষ্ট না হওয়ায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পরিচালনা পদ্ধতি ও জনবল নিয়োগ করার জন্য এই হাসপাতালকে কোম্পানি আইনের অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
আলোর উৎসবেও অন্ধকারে ডুবে থাকে যে গ্রাম

 দীপাবলি মানেই আলো, প্রদীপ, আতশবাজি আর উৎসবের আমেজ। অথচ ভারতের একটি পাহাড়ি গ্রামে এই উৎসবের দিনগুলোতেই নেমে আসে অন্ধকার। জ্বলে না ঘরের আলো, রান্না হয় না উৎসবের বিশেষ খাবার, বাজে না আতশবাজি।   স্থানীয়দের বিশ্বাস, দীপাবলিতে আনন্দ-উৎসব করলেই নাকি নেমে আসতে পারে ভয়াবহ বিপদ, এমনকি মৃত্যুও। আর এই বিশ্বাসের নেপথ্যে রয়েছে এক তরুণীর করুণ মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু পুরোনো লোককথা।   হিমাচল প্রদেশের হামিরপুর জেলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত সাম্মো গ্রাম। শান্ত, নিরিবিলি এই গ্রামটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও দীপাবলির সময় এর চেহারা হয়ে ওঠে অন্য রকম। যখন আশপাশের শহর-গ্রাম আলোয় ঝলমল করে, তখন সাম্মো থাকে অনেকটাই নিস্তব্ধ ও অন্ধকার।   আলো জ্বালাতেও ভয়   গ্রামবাসীদের প্রচলিত বিশ্বাস, দীপাবলির রাতে বাড়িঘর অতিরিক্ত আলোয় সাজানো কিংবা উৎসব উপলক্ষে বিশেষ খাবার রান্না করা অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে। এমনকি পরিবারের কারও জীবনে বিপদ বা মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।   স্থানীয়দের দাবি, এই ভয় কেবল সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই বিশ্বাস। গ্রামের প্রবীণদের কেউ কেউ জানান, তাঁদের শৈশব থেকেই সাম্মোতে দীপাবলি পালনের রীতি দেখেননি।   এক তরুণীর করুণ পরিণতির গল্প   লোককথা অনুযায়ী, কয়েকশ’ বছর আগে গ্রামের এক বিবাহিত তরুণী দীপাবলির সময় বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে তিনি জানতে পারেন, তার সৈনিক স্বামী মারা গিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারেননি ওই তরুণী। স্থানীয় কাহিনিতে বলা হয়, তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বাও ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সহমরণের সিদ্ধান্ত নেন এবং মৃত্যুর আগে গ্রামবাসীদের উদ্দেশে একটি অভিশাপ দিয়ে যান।   বিশ্বাস করা হয়, তার সেই অভিশাপের কারণেই সাম্মো গ্রামে দীপাবলি উদ্‌যাপন করা হয় না।   প্রদীপ জ্বলে, তবে উৎসবের জন্য নয়   তবে আশ্চর্যের বিষয়, দীপাবলির রাতে গ্রামবাসীরা একেবারেই প্রদীপ জ্বালান না তা নয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির দরজার সামনে একটি প্রদীপ জ্বালানো হয় ওই তরুণীর স্মরণে। তাদের ধারণা, এভাবে শ্রদ্ধা জানানো না হলে তার আত্মা অসন্তুষ্ট হতে পারেন।   উৎসব করলেই কী বিপদ?   গ্রামবাসীর মধ্যে প্রচলিত নানা ঘটনাও এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। একসময় গ্রামের বাইরে বসবাসকারী এক পরিবারের বাড়িতে দীপাবলির উপলক্ষে বিশেষ খাবার রান্না করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। ওই দিন তাদের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাকে অনেকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করেন।   তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ এই কুসংস্কারকে অগ্রাহ্য করে দীপাবলি পালনের চেষ্টা করেছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকেও অনেকে সেই পুরোনো অভিশাপের ফল হিসেবে দেখেছেন।   অবশ্য এসব ঘটনার সঙ্গে কথিত অভিশাপের বাস্তব কোনও বৈজ্ঞানিক সম্পর্কের প্রমাণ নেই। এগুলো মূলত স্থানীয় লোকবিশ্বাস ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা গল্পের অংশ।   যজ্ঞ করেও কাটেনি ভয়   গ্রামবাসীর একাংশ নাকি এই বিশ্বাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্রও বসবাস শুরু করেছেন। কিন্তু তারপরও দীপাবলি নিয়ে তাদের ভয় কাটেনি।   ফলে দেশের অন্যান্য প্রান্ত যখন প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়, তখনও সাম্মো গ্রামের অনেক বাড়িতে থাকে নীরবতা। আতশবাজির শব্দের বদলে শোনা যায় পাহাড়ি রাতের নিস্তব্ধতা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমিরের কড়া জবাব

সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।

সালাহউদ্দিন গুম মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির জিয়াউল আহসান

ছবি : সংগৃহীত

‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেজে কী পোস্ট করা উচিত, কমনসেন্স থাকা দরকার’: সারজিস আলম

ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের ‘ছায়া সরকার’ নিয়ে রাশেদ খানের মন্তব্য, ‘এনসিপি আউট’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এনসিপিকে আসন ও নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় মোছার চেষ্টা করেছে।   বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট! জামায়াত কখনো ক্ষমতায় গেলে প্রকৃত সরকার থেকেও এভাবেই এনসিপি আউট থাকবে।’ এনসিপিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনী খরচ দেওয়ার প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, এর পেছনে দলটির ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় মোছার চেষ্টা ছিল। তিনি দাবি করেন, ‘শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না, এনসিপিকে দিয়ে ৭১-এর গণহত্যার দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।’ তার ভাষ্য, জামায়াত যতদিন থাকবে, ততদিন দলটিকে ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায় নিয়েই থাকতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকেও ২০২৪ সালের গণহত্যার দায় নিয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ছায়া সরকার নিয়ে রাশেদ খানের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ও বিভিন্ন জরিপে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতাদের হতাশা ছায়া সরকার গঠনের মাধ্যমে কিছুটা কমবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ছায়া সরকার গঠনের পর জামায়াত নেতাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বাড়তে পারে। ক্ষমতায় যেতে না পারার আক্ষেপ থেকে তাদের মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও কমে আসতে পারে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারকে বিকল্প নীতির প্রস্তাব দিয়ে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুর রহমান আজাদের মতো গুম নিয়ে ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার’ চালানো হলে মানুষ ছায়া সরকারকে ‘গুজব সরকার’ এবং এর মন্ত্রীদের ‘গুজব মন্ত্রী’ বলা শুরু করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।   নারী নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ছায়া মন্ত্রিসভায় ৫ আগস্টের পর ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া নারী নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধিকে রাখার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। এ প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজের নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো নারীকে মন্ত্রিত্বে বসাবে কি না। রাশেদ খান আরও দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করে জামায়াত কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের আগেই নারী প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে এবং সরকারে দায়িত্ব পাওয়ার পরও সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার এসব মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুদিন পর বিরল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে

নারী এমপিদের তদারকি ক্ষমতা অসাংবিধানিক: ৬৭ এমপির আপত্তি

কথা বলছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: সংগৃহীত

একদিন জামায়াতই বাংলাদেশ পরিচালনা করবে: হামিদুর রহমান আযাদ

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর) বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভা শেষে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এসব কর্মসূচির কথা জানান। এর আগে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবরা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবরা অংশ নেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী: ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৯টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে দলের সিনিয়র নেতাসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ; যৌথসভায় বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিও গৃহীত হয়েছে। অনুরূপভাবে সারাদেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের নতুন নাম দিলেন সোহেল তাজ

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ফাইল ছবি

নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চে ভোগান্তির আশঙ্কা, আগেই ক্ষমা চাইল জামায়াত

0 Comments