অর্থনীতি

পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বেড়ে ৫ শতাংশ

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল, বিশেষ করে সুতা ও কাপড় সংগ্রহ করে প্রস্তুত করা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তার হার তিন গুণের বেশি বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করল সরকার। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে এতদিন বিকল্প নগদ সহায়তা ছিল দেড় শতাংশ। রপ্তানিকারকদের দাবির মুখে এই হার বাড়ানো হয়েছে। এতে স্পিনিং মিল ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান উভয়ে উপকৃত হবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের মাধ্যমে গত ১ জুলাই থেকে জাহাজীকৃত পণ্যে নতুন হারে নগদ সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের সুতার উল্লেখযোগ্য আমদানি হয় ভারত থেকে। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রে উৎসাহিত করতে ২০২৪ সালের আগে এ ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিন ধাপে কমিয়ে দেড় শতাংশে নামানো হয়। এরপর দেশীয় সুতা ব্যবহার ব্যাপক কমে স্পিনিং মিলগুলো সংকটে পড়ে। সর্বশেষ অর্থবছর রপ্তানি আয়ও কমে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছর যা ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

 

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সমকালকে বলেন, এক থেকে দুই সেন্ট দরের পার্থক্যের কারণে রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে চলে যায়। সরকারের সাড়ে ৩ শতাংশ প্রণোদনা বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তের ফলে রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অনেক বাড়বে। আবার দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে নগদ সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে সরকার থেকে বের হতে আরও তিন বছর সময় চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে। আগের সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ হওয়ার কথা ছিল। এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না। এ কারণে চলতি অর্থবছরে নগদ সহায়তার হার কোনো ক্ষেত্রে কমানো হয়নি; বরং তৈরি পোশাকের একটি ক্ষেত্রে বাড়ানো হলো।

 

গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে হবে। আর প্রণোদনার জন্য দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল, বিশেষ করে সুতা ও কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। গত ১ জুলাই থেকে জাহাজীকৃত পণ্যে এ হারে নগদ সহায়তা দিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

 

তৈরি পোশাকসহ বর্তমানে ৪৩ ধরনের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দেয় সরকার। গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত থাকবে জানিয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। এখন কেবল দেশীয় বস্ত্র ব্যবহার করে রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। দেশীয় বস্ত্রে বিকল্প নগদ সহায়তার বাইরে ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বহাল থাকছে। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাকের বিশেষ নগদ সহায়তা শূন্য ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে প্রণোদনার হার আপাতত একই থাকছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
স্বপ্নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা এসিআইর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্লুচিপ কোম্পানি এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডে (ব্র্যান্ড নাম স্বপ্ন) ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।   আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এসিআই পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।   কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।   সূত্র অনুসারে, বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি এসিআই পিএলসির এক হাজার টাকা মূল্যের ৭০ লাখ কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার কিনবে। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই বিনিয়োগ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বেড়ে ৫ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি

সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৪,৩৭৪ টাকা

ব্রয়লার মুরগির খামার। ছবি : সংগৃহীত

ব্রয়লার উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, বাংলাদেশ ৫৩তম

ছবি : সংগৃহীত
৮১ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বাবদ আদায়কৃত অর্থের মধ্যে ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার প্রকাশিত বাজেট পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।     মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুল্ক ফেরতের এই বিপুল উল্লম্ফন পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে। বেশিরভাগ অর্থই ফেরত দেওয়া হয়েছে গত মে ও জুন মাসে।    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে গত বছর আমদানিকৃত পণ্যের ওপর একতরফাভাবে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত শুল্কের বড় অংশ বাতিল করেন। ফলে শুল্ক প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় সরকার।   যুক্তরাষ্ট্রের চলতি অর্থবছর শুরু হয়েছে গত অক্টোবরে। বাজেট পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে।    ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, দেশের অভ্যন্তরে কারখানা চালু, ভালো বাণিজ্য চুক্তি এবং ফেডারেল বাজেটের ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শুল্ক নীতিকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এ থেকে আসা আয়ের কারণে গত বছর বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমলেও এখন তা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।   যুক্তরাষ্ট্র কেবল তার ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৫ শতাংশ।   মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। তবে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এ সংক্রান্ত সবশেষ প্রস্তাবটি যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, তাইওয়ান ও চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় অংশীদার দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি ট্রাম্পকে তাঁর সুরক্ষাবাদী নীতির ওপর আদালতের জারি করা আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়ানোর সুযোগ দেবে। নতুন এই শুল্ক ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিকাশ অ্যাপে ন্যানো ঋণ: সাড়ে চার বছরে ৩৫ লাখ গ্রাহক

ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে আসছে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং, স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুমোদন দিল বিএসইসি

বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ

ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মাসটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারে।   তবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের চিত্র এখনো নেতিবাচক। জানুয়ারি-মে ২০২৬ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।   এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)।   তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ (ভলিউম) ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে গড় ইউনিট মূল্যও কমেছে ২ শতাংশ। ফলে কম পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রির প্রভাবও পড়েছে রপ্তানি আয়ে।   বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা দুর্বল থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমতে থাকে। তবে এ সময় প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ক্রয়-উৎসে (সোর্সিং) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।   চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।   একই সময়ে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, আমদানি কমার প্রধান কারণ ছিল ক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস।   প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া সবচেয়ে ভালো করেছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।   ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণও ৩ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়েছে।   প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীনের পতন ছিল সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে।   এছাড়া ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।   ওটেক্সার তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ধীরে ধীরে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।   যদিও জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি চাপের মধ্যেই ছিল, তবে মে মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণচুক্তি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২৩ মাসের রেকর্ড ভাঙল ডিএসইর লেনদেন

0 Comments