অন্যান্য

যেসব খাবার আপনার দাঁতের ক্ষতি করছে নীরবে

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬


দাঁত ভালো রাখতে আমরা সাধারণত ব্রাশ আর ফ্লসের কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারও দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার দাঁতের এনামেল দুর্বল করে, ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে মাড়ির রোগের কারণ হতে পারে।

তাই দাঁতের জন্য কোন খাবার ক্ষতিকর এবং তার ভালো বিকল্প কী হতে পারে, তা জানা জরুরি।

নিচে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর কিছু সাধারণ খাবার এবং সেগুলোর তুলনামূলক ভালো বিকল্প তুলে ধরা হলো।

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও সফট ড্রিংক
কেন ক্ষতিকর : এই পানীয়গুলোতে চিনি ও অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বাড়ায়, ফলে ক্যাভিটি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।


ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি, লেবু ছাড়া ফল মেশানো পানি বা চিনি ছাড়া হারবাল চা পান করা ভালো। পানি মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আঠালো মিষ্টি ও ক্যান্ডি
কেন ক্ষতিকর : চিবানো মিষ্টি দাঁতে লেগে থাকে এবং দীর্ঘ সময় চিনি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে থাকে। এতে দাঁত ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ে।

ভালো বিকল্প : পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট বা চিনি ছাড়া চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, যা লালা তৈরি বাড়াতে সাহায্য করে।

টক ফল ও ফলের রস
কেন ক্ষতিকর : লেবু, কমলা বা জাম্বুরার মতো টক ফলের অ্যাসিড নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দাঁত সংবেদনশীল হয়।

ভালো বিকল্প : আপেল বা নাশপাতির মতো শক্ত ফল খাওয়া ভালো। এগুলো লালা তৈরি বাড়ায় এবং দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

বরফ চিবানো
কেন ক্ষতিকর : বরফ চিবোলে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে বা দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভালো বিকল্প : খাস্তা কিছু খেতে চাইলে ঠান্ডা গাজর বা সেলারির মতো সবজি খাওয়া যেতে পারে।

শুকনো ফল
কেন ক্ষতিকর : কিশমিশ বা শুকনো এপ্রিকটের মতো ফল আঠালো এবং এতে চিনি বেশি থাকে, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে।

ভালো বিকল্প : তাজা ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো সহজে দাঁত থেকে সরে যায়।

আলুর চিপস
কেন ক্ষতিকর : এই ধরনের স্টার্চযুক্ত খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে পরিণত হয় এবং দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে।

ভালো বিকল্প : বাদাম বা বীজজাত খাবার খাওয়া ভালো, যা দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

অ্যালকোহলজাত পানীয়
কেন ক্ষতিকর : অ্যালকোহল লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। লালা কমে গেলে মুখ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়।

ভালো বিকল্প : অ্যালকোহল গ্রহণের সময় ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

স্পোর্টস ও এনার্জি ড্রিংক
কেন ক্ষতিকর : এগুলোতে চিনি ও অ্যাসিড বেশি থাকে, যা শিশু ও বড়দের দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি বা নারকেলের পানি ভালো বিকল্প হতে পারে।

আচার ও ভিনেগারযুক্ত খাবার
কেন ক্ষতিকর : খুব টক হওয়ায় নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ভালো বিকল্প : টক খাবারের সঙ্গে দই বা চিজ খেলে দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।

সাদা পাউরুটি ও পরিশোধিত শর্করা
কেন ক্ষতিকর : এই খাবারগুলো দ্রুত চিনিতে পরিণত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ভালো বিকল্প : আটা বা পূর্ণ শস্যের রুটি খাওয়া ভালো, যা ধীরে হজম হয়।

চিনি মেশানো চা ও কফি
কেন ক্ষতিকর : চিনি বা সিরাপ মেশালে দাঁতে দাগ পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

ভালো বিকল্প : চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা ভালো। পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উপকারী। গ্রিন টি দাঁতের জন্য তুলনামূলক ভালো।

খাবার কীভাবে দাঁতের ক্ষতি বাড়ায়

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কতবার খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া, বারবার মিষ্টি পানীয় পান করা বা ঘুমের আগে টক খাবার খেলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে।

দাঁত ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস
- খাওয়ার পর পানি পান করা

- বারবার স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলা

- চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবানো

- ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

- খাস্তা ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া

দাঁতের জন্য উপকারী খাবার
- শাকসবজি যেমন পালং বা লেটুস

- দুধ, দই ও চিজ

- আপেল, গাজর ও সেলারি

- গ্রিন টি

- বাদাম

দাঁত সুস্থ রাখতে শুধু নিয়মিত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দাঁতবান্ধব খাবার বেছে নিলে ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র : Playa Family Dentistry

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি
আ.লীগের কৃপা পেতে জামায়াত সবসময় চেষ্টা করে: রিজভী

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।   মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।   এরআগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মুক্তিযোদ্ধা দল। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর  বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমার পরিচয় বাংলাদেশি, এটা একাত্তরের অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তে যুদ্ধ করেছে।   মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা কারা করছে, সে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এদের বীরত্বের ইতিহাস নাই, শুধু আছে দালালির ইতিহাস।   রিজভী অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সব সময় চেষ্টা করে। ছিয়াশি সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।   তিনি আরও বলেন, জামায়াত জোরেশোরে বলেছে- পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানদের তাড়িয়ে দেবে, যারা ইসরাইলকে তাদের পিতৃভূমি বলে, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলাম আঁতাত করতে চায়।   জামায়াতে ইসলামী প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনো ছবি নেই। সেখানে ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘এখানেই বোঝা যায়।’   রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের দাঁড়িপাল্লা আঁকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ৭১-কে হালকা করে দেখিয়েছে। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানরা চব্বিশে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।   রিজভী আরও বলেন, আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড় কোনটা ছোট এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোনো লাভ হবে না। এ জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।   জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জাহেদুল হক শামীম ও সহ-সভাপতি ড. কে এম আই মন্টি প্রমুখ।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঘরে বসেই থাইরয়েডের সমস্যা বোঝার সহজ উপায়

ছবি: সংগৃহীত

হেফাজতে নির্যাতন ও গুম প্রতিরোধে মানবাধিকার কমিশনের নতুন আইনের খসড়া

ছবি: সংগৃহীত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি তাদের খেয়াল-খুশিমতো দেশ চালাচ্ছে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, উত্তরাঞ্চলের এই বৃহত্তর রংপুরকে কৃষির রাজধানী বানাব। কিন্তু আমরা সরকার গঠন করতে পারলাম না। সে কারণে বিএনপি সরকার গঠন করে তাদের খেয়াল-খুশিমতো দেশ পরিচালনা করছে।   তিনি বলেন, আপনারা নাকি জামায়াত আর জাতীয় পার্টিকে ভোট দেন। সে জন্যই বর্তমান সরকারের একজন বড় নেতা বলেছেন, উত্তরাঞ্চলকে সারা জীবন পিছিয়ে পড়েই থাকতে হবে।   সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।   জামায়াত আমির বলেন, এই বোনারপাড়ায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ভালো মানুষ ছিলেন। তারা নারীলোভী ছিলেন না, খারাপ মানুষ ছিলেন না, সন্ত্রাসীও ছিলেন না। তারপরও তাদের জীবন দিতে হলো। দেশে খুনের রাজনীতি কায়েম করতে দেওয়া হবে না।   তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার লোভ আর দখলদারির কারণে দেশ ছেড়ে গেছে, খুনের ঘটনা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। তাই আপনারা প্রস্তুত হোন, যেভাবে ২০২৪ সালে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন।   তিনি বলেন, আমরা একটি সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। মায়েরা-বোনেরা এবং সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকবে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। মানুষ আজ নিরাপত্তাহীন। এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।   এর আগে ডা. শফিকুর রহমান নিহত জামায়াত-শিবির নেতার কবর জিয়ারত করেন এবং নিহতের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   গাইবান্ধা-৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সংসদ সদস্য মো. আবদুল করিম, সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান, সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১০, ২০২৬
এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস প্রফেশনালস সোসাইটি (বিসিপিএস)

কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের এআই দক্ষতা বাড়াতে বিসিপিএসের মাস্টারক্লাস

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা সফরে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কর্নেল অলিকে প্রার্থী করল জামায়াত

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আজ রবিবার ১১ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তার নাম ঘোষণা করেন। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সব দলের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। পরে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বললেন, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে আমরা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, আমি ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বললেন, আমরা জাতিকে বলতে চাই আমরা এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। আমরা হারব বা জিতব সেটা প্রশ্ন না। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াব। এর আগে রবিবার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়।   জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের নেতারা। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা জানায় জামায়াত। রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না: কর্নেল অলি

বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

0 Comments