দাঁত ভালো রাখতে আমরা সাধারণত ব্রাশ আর ফ্লসের কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারও দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার দাঁতের এনামেল দুর্বল করে, ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে মাড়ির রোগের কারণ হতে পারে।
তাই দাঁতের জন্য কোন খাবার ক্ষতিকর এবং তার ভালো বিকল্প কী হতে পারে, তা জানা জরুরি।
নিচে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর কিছু সাধারণ খাবার এবং সেগুলোর তুলনামূলক ভালো বিকল্প তুলে ধরা হলো।
চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও সফট ড্রিংক
কেন ক্ষতিকর : এই পানীয়গুলোতে চিনি ও অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বাড়ায়, ফলে ক্যাভিটি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি, লেবু ছাড়া ফল মেশানো পানি বা চিনি ছাড়া হারবাল চা পান করা ভালো। পানি মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
আঠালো মিষ্টি ও ক্যান্ডি
কেন ক্ষতিকর : চিবানো মিষ্টি দাঁতে লেগে থাকে এবং দীর্ঘ সময় চিনি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে থাকে। এতে দাঁত ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ে।
ভালো বিকল্প : পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট বা চিনি ছাড়া চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, যা লালা তৈরি বাড়াতে সাহায্য করে।
টক ফল ও ফলের রস
কেন ক্ষতিকর : লেবু, কমলা বা জাম্বুরার মতো টক ফলের অ্যাসিড নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দাঁত সংবেদনশীল হয়।
ভালো বিকল্প : আপেল বা নাশপাতির মতো শক্ত ফল খাওয়া ভালো। এগুলো লালা তৈরি বাড়ায় এবং দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
বরফ চিবানো
কেন ক্ষতিকর : বরফ চিবোলে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে বা দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ভালো বিকল্প : খাস্তা কিছু খেতে চাইলে ঠান্ডা গাজর বা সেলারির মতো সবজি খাওয়া যেতে পারে।
শুকনো ফল
কেন ক্ষতিকর : কিশমিশ বা শুকনো এপ্রিকটের মতো ফল আঠালো এবং এতে চিনি বেশি থাকে, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে।
ভালো বিকল্প : তাজা ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো সহজে দাঁত থেকে সরে যায়।
আলুর চিপস
কেন ক্ষতিকর : এই ধরনের স্টার্চযুক্ত খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে পরিণত হয় এবং দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে।
ভালো বিকল্প : বাদাম বা বীজজাত খাবার খাওয়া ভালো, যা দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
অ্যালকোহলজাত পানীয়
কেন ক্ষতিকর : অ্যালকোহল লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। লালা কমে গেলে মুখ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়।
ভালো বিকল্প : অ্যালকোহল গ্রহণের সময় ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
স্পোর্টস ও এনার্জি ড্রিংক
কেন ক্ষতিকর : এগুলোতে চিনি ও অ্যাসিড বেশি থাকে, যা শিশু ও বড়দের দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।
ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি বা নারকেলের পানি ভালো বিকল্প হতে পারে।
আচার ও ভিনেগারযুক্ত খাবার
কেন ক্ষতিকর : খুব টক হওয়ায় নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ভালো বিকল্প : টক খাবারের সঙ্গে দই বা চিজ খেলে দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।
সাদা পাউরুটি ও পরিশোধিত শর্করা
কেন ক্ষতিকর : এই খাবারগুলো দ্রুত চিনিতে পরিণত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হয়ে দাঁড়ায়।
ভালো বিকল্প : আটা বা পূর্ণ শস্যের রুটি খাওয়া ভালো, যা ধীরে হজম হয়।
চিনি মেশানো চা ও কফি
কেন ক্ষতিকর : চিনি বা সিরাপ মেশালে দাঁতে দাগ পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
ভালো বিকল্প : চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা ভালো। পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উপকারী। গ্রিন টি দাঁতের জন্য তুলনামূলক ভালো।
খাবার কীভাবে দাঁতের ক্ষতি বাড়ায়
শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কতবার খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া, বারবার মিষ্টি পানীয় পান করা বা ঘুমের আগে টক খাবার খেলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে।
দাঁত ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস
- খাওয়ার পর পানি পান করা
- বারবার স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলা
- চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবানো
- ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
- খাস্তা ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া
দাঁতের জন্য উপকারী খাবার
- শাকসবজি যেমন পালং বা লেটুস
- দুধ, দই ও চিজ
- আপেল, গাজর ও সেলারি
- গ্রিন টি
- বাদাম
দাঁত সুস্থ রাখতে শুধু নিয়মিত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দাঁতবান্ধব খাবার বেছে নিলে ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র : Playa Family Dentistry
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নদী, বন, ঐতিহ্য, ইতিহাস আর আধুনিক বিনোদনের মিশেলে গড়ে ওঠা এই শহরে ঈদের ছুটিতে তৈরি হয় ভিন্ন এক উৎসবমুখর আবহ। কোথাও নদীর ঘাটে মানুষের ভিড়, কোথাও পার্কে শিশুদের উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও সুন্দরবনের পথে পর্যটকদের ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে খুলনা যেন হয়ে ওঠে জীবন্ত এক আনন্দ নগরী। কম খরচে কাছাকাছি দূরত্বে একাধিক দর্শনীয় স্থান থাকায় পরিবার, বন্ধু কিংবা শিশুদের নিয়ে ঘুরতে খুলনাকে বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ঈদের ছুটিতে খুলনার প্রতিটি গন্তব্যই এনে দেয় আলাদা অভিজ্ঞতা। করমজল: একদিনেই সুন্দরবনের স্বাদ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রবেশদ্বার করমজল ঈদের সময় পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে ওঠে। নদীপথে বন ভ্রমণের সময় দুই পাশের সবুজ বন, পাখির ডাক আর নদীর শান্ত সৌন্দর্য ভ্রমণকে করে তোলে অন্যরকম। করমজলে রয়েছে কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণের অবাধ বিচরণ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ। শিশুদের জন্য এটি যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি শিক্ষামূলকও। খুলনা শহর থেকে করমজলের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। খুলনা থেকে মংলা হয়ে অথবা সরাসরি ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সেখানে যাওয়া যায়। যাতায়াত খরচ সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। প্রবেশ ফি প্রায় ২০ থেকে ৪০ টাকা। ষাট গম্বুজ মসজিদ: ইতিহাসের সাক্ষী ঐতিহাসিক ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ঈদের ছুটিতে অন্যতম আকর্ষণ। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনাটি মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। বিশাল গম্বুজ, প্রাচীন ইটের নির্মাণশৈলী আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ ভ্রমণকারীদের ফিরিয়ে নেয় কয়েকশ বছর আগের ইতিহাসে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এখানে ইতিহাসের সঙ্গে কাটান অন্যরকম সময়। লনা শহর থেকে বাগেরহাটের দূরত্ব প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার। বাস বা মাইক্রোবাসে যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। যাতায়াত খরচ সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রবেশ ফি বাংলাদেশিদের জন্য ৩০ টাকা। শহীদ হাদীস পার্ক: নগরের ভেতরে সবুজের স্বস্তি শহরের ভেতরে যারা থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে শহীদ হাদিস পার্ক কিংবা স্থানীয় শিশু পার্কগুলো। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ হাদীস পার্ক ঈদের সময় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে। সবুজ গাছপালা, খোলা মাঠ আর জলাধার মিলিয়ে এটি নগরের ভেতরে এক স্বস্তির জায়গা। শিশুরা খেলাধুলায় মেতে ওঠে, আর বড়রা খোলা পরিবেশে কাটান নির্ভার কিছু সময়। বিকেলের দিকে পুরো পার্কজুড়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। শহরের যেকোনো স্থান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। যাতায়াত খরচ পড়ে প্রায় ২০ থেকে ৬০ টাকা। প্রবেশ ফি নেই। রূপসা নদী ও খান জাহান আলী সেতু: সূর্যাস্তের রঙিন বিকেল নদীমাতৃক খুলনার সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে রূপসা নদীর তীরে। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্তের সময় নদীর পানিতে লাল-কমলা আভা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর। খান জাহান আলী সেতু ঘিরে তরুণদের আড্ডা, ফটোগ্রাফি আর হাঁটাহাঁটিতে ঈদের সন্ধ্যাগুলো হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। অনেকে শুধু সূর্যাস্ত দেখতেই ভিড় করেন নদীর ধারে। খুলনা শহর থেকেই রিকশা বা সিএনজিতে সহজে যাওয়া যায় এই এলাকায়। যাতায়াত খরচ সাধারণত ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের আনন্দে জমজমাট বিনোদন পার্কগুলো ঈদের ছুটিতে শিশুদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে খুলনার বিভিন্ন বিনোদন পার্ক। মুজগুন্নির উৎসব পার্ক, খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও জাহানাবাদ সেনানিবাস এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এ সময় উপচে পড়ে ভিড়। বিভিন্ন রাইড, খেলাধুলা আর খাবারের দোকান ঘিরে জমে ওঠে উৎসবের আমেজ। পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য এসব পার্ক বেশ জনপ্রিয়। রিকশা বা সিএনজিতে যেতে খরচ পড়ে সাধারণত ৩০ থেকে ১০০ টাকা। রাইড ও অন্যান্য বিনোদনের জন্য আলাদা খরচ হতে পারে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
কাল বাদে পরশু পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দের এবং ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের দিন। আর্থিকভাবে সাবলম্বীদের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ নৈকট্য লাভ করা যায়। কুরবানির গোশত তিন ভাগ করা সুন্নত। এক ভাগ নিজের ও পরিবারের জন্য। আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য। আর তৃতীয় ভাগ হলো গরিব-অসহায় ও দুস্থদের জন্য। কুরবানি সময় অনেক গোশত দেখে অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েন। সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এটা কোনো সমস্যাই না। ফ্রিজে সংরক্ষণের নিয়ম জানা থাকলে গোশতের স্বাদ, পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না। এজন্য ফ্রিজ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা এবং কুরবানির গোশত দীর্ঘদিন ভালো রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও শরিয়তসম্মত নিয়ম জেনে নেই। কিছু জরুরি ধাপ অনুসরণ করতে হবে পানি ঝরানো: গোশত সংগ্রহের পর ধুয়ে সম্পূর্ণ পানি ঝরিয়ে তারপর রাখতে হবে। খোলা অবস্থায় না রাখা: ভেজা বা রক্তসহ গোশথ খোলা অবস্থায় ফ্রিজে রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়। গোশত রাখার জন্য ফুড-গ্রেড পলিথিন বা ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনার ব্যবহার করতে হবে। ছোট ছোট অংশে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ তৈরি অনেকে বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে এক গাদা গোশত একসঙ্গে ফ্রিজে রেখে দেন, যা অত্যন্ত ভুল পদ্ধতি। একবারের অংশ আলাদা করা: গোশত সবসময় ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’আকারে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে কার্যকর। পুনরায় ফ্রিজিং না করা: ফ্রিজ থেকে একবার গোশত বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে পুনরায় আবার ফ্রিজে রেখে দিলে গোশতের মান ও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্য খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ফ্রিজের নরমাল বা ডিপ উভয় অংশে কুরবানির কাঁচা গোশথ রাখার সময় সেটিকে আগে থেকে রান্না করা খাবার, ফলমূল বা মিষ্টি জাতীয় জিনিস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখুন। ডিপ ফ্রিজে গোশত কতদিন ভালো থাকে সঠিক উপায়ে ডিপ ফ্রিজের মাইনাস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হলে কুরবানির গরুর গোশত সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভালো ও খাওয়ার উপযোগী থাকে।
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাকে ‘অশোভন’ আখ্যায়িত করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ কামনীয় নয়। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিকে এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবে দেখছে। তবে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটি কেউ প্রত্যাশা করে না এবং সেটি মোটেও সমীচীন নয়। তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ঈদের ছুটির মধ্যেও সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি নিপীড়নের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার উদ্যোগী। আপনারা দেখবেন, আগামী ১ জুন থেকে রামিসা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর আদালত খোলার প্রথম দিনই বিচার শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে, সেটিও হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। এরপর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন মিশনারী মাঠ প্রাঙ্গণে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সেখানে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান প্রমুখ। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভ ফুল দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিদ্রোহী আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।