খেলাধুলা

দল ঘোষণার পরও বিশ্বকাপ বয়কটের নতুন বার্তা, খেলা জমিয়ে দিল পাকিস্তান

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এবার ভারত যাচ্ছে না বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই সমর্থন জানিয়ে এসেছে পাকিস্তান। শুধু সমর্থন বললে অবশ্য কমই বলা হবে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মহসিন নাকভি তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটেরও হুমকি দিয়েছেন।

এর মধ্যেই অবশ্য আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। দল ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন, আইসিসির হুমকিতে ভীত হয়েই বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। কিন্তু না, যারা এমন ধারণা পোষণ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে এবার বোমা ফাটালেন খোদ নির্বাচক কমিটির এক সদস্য।

এ প্রসঙ্গে পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ও পুরুষ জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিভ জাভেদ গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করা হলেও তাদের অংশগ্রহণ এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়। দল ঘোষণার পর জাভেদ যা বলেছেন, তাতে বোঝা গেলে এখনো নাটকীয়তার অবসান ঘটেনি। তার এমন মন্তব্যে খেলাটাকে যেন আরও জমিয়ে তুলেছেন বলেও মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকে।

আকিভ জাভেদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচক, আমাদের কাজ হলো দল নির্বাচন করা। আমরা সময়সীমার (ডেডলাইন) ঠিক আগমুহূর্তে দল ঘোষণা করেছি। আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, তাই সেই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না। চেয়ারম্যানও একই কথা বলেছেন, তাই আমরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব।’


যদিওবা বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার জন্য ভারত যেতে হচ্ছে না। কেননা, পিসিবি, বিসিসিআই ও আইসিসি গত বছর একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছিল, যার অধীনে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তানের সমস্ত ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা। তাই পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায় এবং সেখানে গিয়েই তাদের বিপক্ষে খেলবে ভারত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৪ জনের মৃত্যু, কোপা দেল রের ২৪ ম্যাচ স্থগিত

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় কোপা দেল রের প্রথম রাউন্ডের বুধবারের নির্ধারিত ২৪টি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। দুর্ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। একটি ট্রেন থেমে থাকা অপর ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।   দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়াগামী রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এতে কয়েকটি ফুটবল দলের যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়।   স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান এবং সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে বুধবারের সব ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।   ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলোর নতুন সূচি পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।   বুধবার কোপা দেল রের প্রথম রাউন্ডে স্পেনের শীর্ষ ফুটবল লিগ লা লিগার বেশ কয়েকটি দলের খেলার কথা ছিল।   এর মধ্যে ছিল রিয়াল বেতিস, ভ্যালেন্সিয়া, সেল্তা ভিগো, লেভান্তে ও দেপোর্তিভো আলাভেস।   সূচি অনুযায়ী, রিয়াল বেতিসের প্রতিপক্ষ ছিল নাভালকারনেরো। অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাভেরনেস দে লা ভালদিগনার।   তবে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে এসব ম্যাচসহ মোট ২৪টি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।   স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত শুধু বুধবারের ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ম্যাচগুলো পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬

এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের স্বর্ণ জয়

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল

ছবি: সংগৃহীত

পেশির তীব্র ব্যামোয় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেন তাওহীদ হৃদয়

ছবি: সংগৃহীত
হ্যারি কেইন ও জো রুট: নিখাদ নম্রতার দুই ইংলিশ মহানায়ক

হ্যারি কেন এবং জো রুট এমন দুই ধ্রুপদী ইংলিশ অধিনায়ক, যারা তাদের অনন্য খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ঐতিহ্যগত ব্রিটিশ মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন। সম্প্রতি ফুটবলার হ্যারি কেন এবং ক্রিকেটার জো রুটের দীর্ঘস্থায়ী অবদান, মাঠের সংযম ও নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এ একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।     নিবন্ধটিতে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে এই দুই তারকা স্যার আলফ র‍্যামসি বা ব্রায়ান ক্লোজের মতো কিংবদন্তি ইংলিশ ড্রেসিংরুমের সোনালী যুগের সঙ্গে বর্তমানের এক নিখুঁত সেতু বন্ধন তৈরি করেছেন।       এই নিবন্ধে ইংল্যান্ডের দুই সফল অধিনায়ক—হ্যারি কেন (ফুটবল) এবং জো রুট (ক্রিকেট)—এর অনন্য সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়াঙ্গনভিত্তিক পরিচয়কে তুলে ধরা হয়েছে। অতি-বাণিজ্যিক এবং আমেরিকান ধাঁচের চটকদার ক্রীড়া বিনোদনের এই যুগেও তারা কীভাবে নিজেদের মাটির মানুষ হিসেবে ধরে রেখেছেন, লেখায় তারই প্রশংসা করা হয়েছে।       খ্যাতি আর প্রাচুর্যের চূড়ায় পৌঁছেও কীভাবে নিজেদের অপরিবর্তিত রাখা যায়, হ্যারি কেইন ও জো রুট তার জলন্ত উদাহরণ।   ক্যারিয়ারের শুরুতে লেটন ওরিয়েন্ট কিংবা মিলওয়ালের মতো ছোট ও সাধারণ ক্লাবে খেলা কেইন আজ ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সফল অধিনায়ক। অথচ তাঁর স্বভাব ও আচরণে বিন্দুমাত্র অহংকারের ছোঁয়া লাগেনি। ঠিক এই জায়গাতেই তাঁকে মনে হয় ইংল্যান্ডের ক্রিকেট অধিনায়ক জো রুটের আপন ভাই মনে হয়। রুটও ঠিক কেইনের মতোই একজন নিরহংকার মানুষ, যাকে এক দেখায় একদম আদর্শ এক জামাতা বলে মনে হয়।     ব্রিটিশ খেলাধুলায় আমূল পরিবর্তন আনার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ভিক্টোরিয়ান যুগের বিখ্যাত উপন্যাস ‘টম ব্রাউনস স্কুল ডেস’-এর পাতা থেকেই যেন সোজা উঠে এসেছেন এই দুই সোনালী তারকা। ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ খেলাধুলার মূল লক্ষ্য যদি খেলোয়াড়দের উন্নত চরিত্র গঠন করা হয়ে থাকে, তবে জো রুট এবং হ্যারি কেন সেই ভাবধারার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। আধুনিক তারকা খ্যাতির চটকদার মোহ, পপ-স্টার জীবনসঙ্গী, দামি ও অতিরঞ্জিত গাড়ি কিংবা অদ্ভুত হেয়ারস্টাইল—এসবের কোনোটাই তাঁদের ছুঁতে পারেনি। কেন তাঁর শৈশবের ভালোবাসা কেট-কে বিয়ে করে চার সন্তান নিয়ে এক নিভৃত, শান্ত জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে রুট তাঁর স্ত্রী ক্যারির দেখা পেয়েছিলেন ইয়র্কশায়ারের ঘরের মাঠ হেডিংলিতে।   এটা আজ প্রায় নিশ্চিত যে, কেইন এবং রুট তাঁদের নিজ নিজ খেলায় ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবেন। অথচ এত বড় মহাতারকা হওয়া সত্ত্বেও, ছুটির দিনে স্থানীয় কোনো সাধারণ ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমে পড়তে তাঁদের একটুও দ্বিধা হবে না। খাঁটি বা অকৃত্রিম হওয়া বলতে এটাই বোঝায়—কোটি টাকার তারকা হয়েও তাঁরা এখনো সাধারণ খেলাধুলার সেই তৃণমূল পরিবেশের সাথে নিজেদের নাড়ির টান রেখে দিয়েছেন, যেখান থেকে একদিন তাঁদের উত্থান হয়েছিল।       রুটের ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয়েছিল শেফিল্ডের ক্লাব দিয়ে। বাবা ম্যাট যখন মাঠে খেলতেন, তখন রুট এবং তাঁর ভাই বিলি (যিনি পরে গ্ল্যামারগনের হয়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলেন) মাঠের সীমানার বাইরে ছোট ছোট ব্যাট-বল নিয়ে মেতে থাকতেন। অন্যদিকে কেইনের শুরুটা পুরোপুরি হ্যাকনি মার্শের মতো বিখ্যাত ফুটবল মাঠ থেকে না হলেও, সেটি খুব দূরের কিছু ছিল না। আট বছর বয়সে আর্সেনাল একাডেমিতে মাত্র একটি ব্যর্থ মৌসুম কাটানো ছাড়া, কেইনের শৈশবের সিংহভাগ সময় কেটেছিল স্থানীয় পার্কের 'রিজওয়ে রোভার্স' ক্লাবের হয়ে সাধারণ ফুটবল খেলে।       এই দুই খেলোয়াড়ের কাছে শুরু থেকেই খেলাটাই ছিল ধ্যান-জ্ঞান, যা আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। নিজেদের অসাধারণ প্রতিভার জোরে তাঁরা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক, তবুও মনে হয় ১৯৬০-এর দশকের খেলোয়াড়দের মতো সামান্য বেতনেও তাঁরা সমান সুখে খেলে যেতে পারতেন—যদি কেবল মাঠে নামার সুযোগটুকু থাকত। তাঁদের মধ্যে এক ধরনের চিরন্তন এবং সাধারণ মানুষের গুণাবলি রয়েছে। আজ যদি স্যার আলফ রামসে বা ব্রায়ান ক্লোজের মতো অতীত যুগের কিংবদন্তি কঠোর মেজাজের কোচদের ড্রেসিংরুমেও কেইন বা রুটকে বসিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা সেখানেও নিমেষেই মানিয়ে নেবেন; কারণ তাঁরা খেলাধুলার মূল ভাষাটা বোঝেন।     ব্যালন ডি'অর জয়ের পর কেইন তাঁর টুইটারে একটি গভীর অর্থপূর্ণ কথা লিখেছিলেন, ‘নীরবে কঠোর পরিশ্রম করো। তোমার সাফল্যকেই তোমার হয়ে আওয়াজ করতে দাও।’  রুটের মতো কেইনও খেলার প্রতি এক অদ্ভুত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ধরে রেখেছেন, যার সাথে যুক্ত হয়েছে বিশ্বমানের পেশাদার কাজের নৈতিকতা।     তবে প্রশ্ন হলো, আমরা কি ভবিষ্যতে আর কখনো তাঁদের মতো খেলোয়াড় দেখতে পাব?      ব্রিটিশ ক্রীড়া সংস্কৃতি এখন দ্রুত আমেরিকান বাণিজ্যিক মডেলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন চারপাশের ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট বাদ দিয়ে ‘দ্য হান্ড্রেড’কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ এখন স্থানীয় ঘরের ছেলেদের চেয়ে বৈশ্বিক তারকাদের বেশি প্রাধান্য দেয়। এমনকি রাগবির মতো খেলা, যা একসময় অহংকার ও লোকদেখানো আচরণ কঠোরভাবে এড়িয়ে চলত, তারাও এখন নতুন তারকা হিসেবে মাঠ কাঁপানো চটপটে ও বাচাল খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকছে।     খেলাধুলার জগৎ এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, চারপাশ এখন ঔদ্ধত্যে ভরা চরিত্রদের দখলে। তাই কেইন এবং রুটের মতো প্রাচীন, খাঁটি ও নম্র মূল্যবোধের খেলোয়াড়দের খেলা যতদিন সম্ভব উপভোগ করা উচিত। বছরের পর বছর অবিরাম অনুশীলন আর ক্লান্তির ধকল নেওয়ার পরেও তাঁদের এই নিখাদ নম্রতা সত্যিই অলৌকিক। তাঁরা যখন সেঞ্চুরি করেন বা গোল করেন—কিংবা ব্যালন ডি'অর জেতেন—তখন সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের আনন্দটা বহুগুণ বেড়ে যায়; কারণ মনে হয়, তাঁদের এই মাটির মানুষ হয়ে জেতার সাফল্যে আমাদেরও ছোট্ট একটা অংশ রয়েছে।     —দ্য টেলিগ্রাফের জনপ্রিয় ক্রীড়া লেখক সাইমন ব্রিগসের কলাম থেকে অনূবাদিত

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এশিয়া কাপ আরচ্যারিতে কাজাখস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়

ছবি: সংগৃহীত

১ রানের আক্ষেপে সাদমান, আলোকস্বল্পতায় থামল বাংলাদেশের দাপুটে ব্যাটিং

ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে কারণে বাদ মুশফিক

ছবি: সংগৃহীত
চতুর্থ স্তরের দলের কাছে হেরে লিগ কাপ থেকে বিদায় আর্সেনালের

লিগ কাপের ইতিহাসে বড় অঘটনের শিকার হয়েছে আর্সেনাল। ইংল্যান্ডের চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে গতবারের রানার্সআপরা। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় ছিল।   ফ্লিটউডের মাঠ হাইবারি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে ছিল আর্সেনাল। ম্যাচের ২১তম মিনিটে অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্লি স্যালমনকে পেছনে ফেলে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শটে গোল করেন তিনি। পরে স্টেডিয়ামের ওপর একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ায় প্রায় আট মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।   বিরতির পর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডকে মাঠে নামান আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। এতে আক্রমণে গতি বাড়ে গানারদের। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিয়োকেরেস। আর্সেনালের সিনিয়র দলে অভিষেক হওয়া সিডাখ ও’নিলের বাড়ানো বল থেকে কাছের দূরত্বে গোলটি করেন তিনি। চলতি মৌসুমে এটিই ছিল গিয়োকেরেসের প্রথম গোল।   এরপর একাধিক চেষ্টা করেও জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি আর্সেনাল। উল্টো নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ১৬ বছর বয়সী ম্যাক্স ডোম্যান। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় গানাররা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।   পেনাল্টি শ্যুটআউটে দুই দলই প্রথম তিনটি করে শটে গোল করে। ফ্লিটউডের চতুর্থ শটও জালে জড়ায়। কিন্তু আর্সেনালের হয়ে চতুর্থ শট নিতে এসে ব্যর্থ হন ব্রাজিলিয়ান তারকা ব্রুনো গুইমারেস। তাঁর নেওয়া শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক। এরপর নিজেদের পঞ্চম শটে গোল করে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকেরা।   এই হারের মধ্য দিয়ে লিগ কাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ডের মুখে পড়েছে আর্সেনাল। টুর্নামেন্টে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চতুর্থ স্তরের কোনো দলের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া প্রথম দল এখন তারা। গত মৌসুমে কারাবাও কাপের রানার্সআপ হওয়া আর্সেনালের জন্য এই বিদায় বড় ধাক্কা হয়ে এল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইতিহাসের হাতছানি, মাইলফলকের সামনে মুশফিক

ছবি: সংগৃহীত

. ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে ৪-০ গোলে হারিয়ে এআইইউবি-এর দাপুটে জয়

ছবি: সংগৃহীত

মিরাজ-লিটন-তাসকিনকে নিয়ে ওয়ালটনের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন

0 Comments