টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এবার ভারত যাচ্ছে না বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই সমর্থন জানিয়ে এসেছে পাকিস্তান। শুধু সমর্থন বললে অবশ্য কমই বলা হবে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মহসিন নাকভি তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটেরও হুমকি দিয়েছেন।
এর মধ্যেই অবশ্য আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। দল ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন, আইসিসির হুমকিতে ভীত হয়েই বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। কিন্তু না, যারা এমন ধারণা পোষণ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে এবার বোমা ফাটালেন খোদ নির্বাচক কমিটির এক সদস্য।
এ প্রসঙ্গে পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ও পুরুষ জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিভ জাভেদ গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করা হলেও তাদের অংশগ্রহণ এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়। দল ঘোষণার পর জাভেদ যা বলেছেন, তাতে বোঝা গেলে এখনো নাটকীয়তার অবসান ঘটেনি। তার এমন মন্তব্যে খেলাটাকে যেন আরও জমিয়ে তুলেছেন বলেও মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকে।
আকিভ জাভেদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচক, আমাদের কাজ হলো দল নির্বাচন করা। আমরা সময়সীমার (ডেডলাইন) ঠিক আগমুহূর্তে দল ঘোষণা করেছি। আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, তাই সেই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না। চেয়ারম্যানও একই কথা বলেছেন, তাই আমরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব।’
যদিওবা বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার জন্য ভারত যেতে হচ্ছে না। কেননা, পিসিবি, বিসিসিআই ও আইসিসি গত বছর একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছিল, যার অধীনে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তানের সমস্ত ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা। তাই পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায় এবং সেখানে গিয়েই তাদের বিপক্ষে খেলবে ভারত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কাফ ইনজুরির কারণে ব্রাজিল জাতীয় দলের আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলো থেকে ছিটকে গেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও তার খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এমআরআই স্ক্যানে নেইমারের ডান পায়ের কাফে গ্রেড-টু ইনজুরি ধরা পড়েছে। এতে তাকে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। লাসমার বলেন, নেইমার গতকাল গ্রানজা কোমারিতে দলের সঙ্গে যোগ দেয়। এরপর তার সব ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়। এমআরআই স্ক্যানে শুধু ফোলা নয়, বরং গ্রেড-টু ক্যাফ ইনজুরি ধরা পড়েছে। তাকে সুস্থ হতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে এই ইনজুরির কারণে নেইমারকে চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় দলে যোগ দিলেও বুধবারের প্রথম অনুশীলনে অংশ নেননি নেইমার। ডান পায়ের কাফে ফোলাভাবের অভিযোগ করায় তাকে তেরেসোপোলিসের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে স্ক্যানের জন্য পাঠানো হয়। ব্রাজিল দল ঘোষণার আগে নেইমারের ক্লাব সান্তোসের চিকিৎসক রদ্রিগো জোগাইব জানিয়েছিলেন, তার সমস্যাটি কেবল সামান্য ফোলাভাব এবং তিনি অনুশীলনে যোগ দেওয়ার মতো ফিট আছেন। কিন্তু জাতীয় দলের মেডিকেল পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। এই ইনজুরির কারণে রোববার মারাকানায় পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না নেইমার। এছাড়া ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষের ম্যাচেও তার খেলা হচ্ছে না। সবশেষ পরিস্থিতিতে আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তার খেলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বিশ্বকাপে ব্রাজিল রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে। একই গ্রুপে আছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই রোববারের ম্যাচে পাচ্ছেন না ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মার্কিনিওস এবং ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে আর্সেনাল ও পিএসজির হয়ে ব্যস্ত থাকায় তারা আপাতত জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। গত সপ্তাহে নেইমারের দলে ফেরা ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। কার্লো আনচেলত্তির দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো এক বছর তার পরিকল্পনায় ছিলেন না ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমার গত কয়েক বছর ধরেই চোটের সমস্যায় ভুগছেন। ক্লাব সান্তোসে ফেরার পরও প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি তিনি। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছিলেন, নেইমারকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। জাতীয় দলে তার জায়গা নির্ধারণ হবে শুধুই ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। ফলে আপাতত নেইমারকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে ব্রাজিলকে।
ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সিনিয়র (পুরুষ) দলের প্রধান কোচ নিয়োগ নিয়ে চলছে নানা নাটকীয়তা। যদিও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্মীরতন শুক্লাকেই বেঙ্গলের প্রধান কোচ হিসেবে পুনর্বহাল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে পেস বোলিং কোচ পদের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান পেস বোলিং কোচ শন টেইটও। শুক্লার প্রথম মৌসুমে (২০২২-২৩) বেঙ্গল রানার্স-আপ হয়েছিল এবং সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে তারা সেমিফাইনাল খেলেছে। তবে বড় ম্যাচে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্লার ব্যর্থতা নিয়ে সিএবির ভেতরে সমালোচনাও কম নয়। এদিকে সুরেন্দ্র ভাবেকে বেঙ্গলের সহকারী কোচ এবং ব্যাটিং কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে শন টেইটকেও বেঙ্গলে নিয়ে আসতে দারুণ আগ্রহী সিএবি। কিন্তু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজেট। সিএবি’র এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, শন টেইটের মতো হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক কোচকে পেস বোলিং পরামর্শক হিসেবে পুরো মৌসুমের জন্য পেতে হলে সিএবি’কে ২ কোটি বা তারও বেশি ভারতীয় রুপি গুনতে হবে, যা অ্যাসোসিয়েশনকে বড় ধরণের আর্থিক ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। এদিকে বেঙ্গলের হয়ে যে টেইট ইন্টারভিউ দিয়েছে, সে বিষয়ে জানেনা বিসিবি। কেননা আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে বিসিবির। তবে নিদিষ্ট সময়ের আগে যদি সে চলে যায়, তাহলেও খুব বেশি জোরাজুরিও হয়তো করবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
করিন্থিয়ান্স ফরোয়ার্ড মেমফিস ডিপেকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভূক্ত করেছেন নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোম্যান। কিন্তু এবারের দল থেকে বাদ পড়েছেন লিভারপুল উইং-ব্যাক জেরেমি ফ্রিমপং। ৫৫টি আন্তর্জাতিক গোল করে নেদারল্যান্ডসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ডিপে। ইনজুরির কারনে দীর্ঘ দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার কারনে সম্প্রতি তার ম্যাচ ফিটনেস শঙ্কার মধ্যে ছিল। কিন্তু তারপরও কোম্যান তাকে বিশ্বকাপ দলে বিবেচনা করেছেন। গত সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান সিরি-এ লিগে ফিরে ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মাত্র ৩৪ মিনিট মাঠে ছিলেন। ২০২৬ সালে ১৩ ম্যাচে মাত্র এক গোল করেছেন। কোম্যান বলেন, ‘শারিরীক ভাবে ফিট হলে তার মানের একজন খেলোয়াড়কে আমি বাদ দিতে পারিনা।’ লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের প্রথম ভাগ মোটেই ভাল কাটেনি ফ্রিমপংয়ের। যে কারনে তিনি বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন। ইনজুরির কারনে আরও বাদ পড়েছেন টটেনহ্যামের ফরোয়ার্ড জাভি সিমন্স, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেন্টার-ব্যাক মাথিস ডি লিট ও ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার স্টিফান ডি ভ্রিজ। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডিকসহ কোম্যানের ২৬ সদস্যের দলে ১৫ জনই প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়। স্কোয়াডে ফন ডিক ছাড়াও লিভারপুলের কোডি গাকপো ও রায়ান গ্রাভেনবাখ রয়েছেন। ব্রাইটনেরও তিনজন খেলোয়াড় এবারের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। গ্রুপ-এফ’এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন ও তিউনিশিয়া। স্কোয়াড : গোলরক্ষক : মার্ক ফ্লেকেন, রবিন রোফেস, বার্ট ভারব্রাগেন ডিফেন্ডার : ন্যাথাস এ্যাকে, ভার্জিল ফন ডিক, ডেনজেল ডামফ্রাইস, ইয়ান পল ফন হিক, জুরিয়েন টিম্বার, জোরেল হাতো, মিকি ফন ডি ভেন মিডফিল্ডার : রায়ান গ্রাভেনবাখ, ফ্রেংকি ডি জং, জাস্টিন ক্লুইভার্ট, টেয়ান কুপমেইনার্স, টিয়ানি রেইনডার্স, মার্টিন ডি রুন, গাস টিল, কুইনটেন টিম্বার, ম্যাটস উইফার ফরোয়ার্ড : ব্রায়ান ব্রবি, মেমফিস ডিপে, কোডি গাকপো, নোয়া ল্যাং, ডোনিয়েল মালেন, ক্রিসেনসিও সামারভিলে, ওট ওয়েগর্স্ট।