বিশ্ব

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন খামেনি

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি রাজধানী তেহরানের একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয় বা বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছেন। ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সর্বোচ্চ নেতাকে সতর্ক করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই খামেনিকে একটি সুরক্ষিত স্থাপনায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আশ্রয়কেন্দ্রটি অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত এবং এটি একাধিক ভূগর্ভস্থ টানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থান পরিবর্তন ও যোগাযোগ বজায় রাখার সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই স্থাপনাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

এদিকে, খামেনির দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সূত্রের ভাষ্যমতে, সর্বোচ্চ নেতার তৃতীয় পুত্র মাসুদ খামেনি বর্তমানে তার দপ্তরের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কার্যত নির্বাহী শাখাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও শীর্ষ নেতৃত্বের চলাচলে পরিবর্তন; পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ইরানে হামলার প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এই সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করেছে। এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে আনা হয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং উন্নত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ায় আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে ২০২২ সালের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। চরম আবহাওয়া, কৃষিপণ্যের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা এবং কৃষ্ণসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।    শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে সংস্থাটির খাদ্য মূল্যসূচক গড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।   তবে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর তৈরি হওয়া রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের তুলনায় আগস্টের সূচক এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ কম।   এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাজারে ঝুঁকির প্রভাব আবারও ফিরে আসার সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ুজনিত ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন একসঙ্গে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।   আগস্টে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচকের আওতাভুক্ত শস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধ সব কটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে ভুট্টা ও চিনিবিটের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার আশঙ্কা এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।   আগস্টে শস্যের মূল্যসূচক এক মাসে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।   সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন হয়েছে চিনির দামে। আগস্টে এফএওর চিনি মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার আবহাওয়াজনিত উদ্বেগও এতে ভূমিকা রেখেছে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত সাড়ে চার বছরে চলা এ যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরে হামলা বাড়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহেও চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে এফএও।   সব মিলিয়ে জলবায়ু, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।   এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে এফএও। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় উৎপাদনের হিসাব ৩৪ লাখ মেট্রিক টন কমিয়ে ২৯৮ কোটি টন করা হয়েছে।   এটি ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম এবং ২০১৮ সালের পর এক বছরে শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।   ২০২৬-২৭ মৌসুম শেষে বৈশ্বিক শস্যের মজুতের পূর্বাভাসও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমিয়ে ৯৪ কোটি ৭২ লাখ টন করা হয়েছে। এই মজুত আগের মৌসুমের তুলনায় সামান্যই বেশি হবে।   এফএও জানিয়েছে, মোটা দানার শস্যের মজুত কমার পূর্বাভাসের প্রভাব গমের মজুত বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য পরিবহনে বিঘ্নের কারণে ওই দুই দেশে গমের মজুত বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।   সূত্র : রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ‘চিকেনস নেকে’ নতুন মহাসড়ক বানাবে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে কড়া বার্তা আর্জেন্টিনার

ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের সংঘর্ষে নিহত ৮১

মার্কিন সিনেট। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলকে বয়কট করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিল পাস

ইসরাইলকে বয়কট করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফেডারেল সরকারি সহায়তা বন্ধের লক্ষ্যে একটি বিল পাশ করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। গাজা যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইল সরকারের সমালোচনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।  রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউসে ‘প্রটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ নামের বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ২৩৭টি, বিপক্ষে ১৬৯টি। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে এখন বিলটি সিনেটেও পাশ হতে হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে  যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও ইসরাইল বয়কটের দাবি জোরালো হয়। এর জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের অনেক রিপাবলিকান অভিযোগ করেন, এসব বিক্ষোভে ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থার সমর্থন রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার সমর্থন করা বা গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ করাকে ইহুদিবিদ্বেষ কিংবা চরমপন্থার সমর্থন হিসেবে দেখানো উচিত নয়। বৃহস্পতিবারের ভোটে মূলত দলীয় বিভাজনই দেখা গেছে। মাত্র দুই রিপাবলিকান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন, আর ৩৩ জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে ভোট দেন। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেরল্ড ন্যাডলার বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস (বিডিএস) আন্দোলনের বিরোধী। তবে মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিডিএস আন্দোলনের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলি আচরণের প্রতিবাদে দেশটিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা। বিলটির সমর্থকেরা অবশ্য বলছেন, এর উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশ বা একাডেমিক বিতর্ক বাধাগ্রস্ত করা নয়; বরং ইসরাইল  ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ঠেকানো। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জশ গটহাইমার বিলটির পক্ষে বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় যদি করদাতাদের ফেডারেল অর্থ নেয়, তাহলে একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে একাডেমিক অংশীদারত্ব বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য করতে পারবে না—বিলটি শুধু এটুকুই বলে।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি- সংগৃহীত

নেপালে ধসের ৯ দিন পর টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক

‘জু্ইশ পাওয়ার’ পার্টির নেতা ইতামার বেন-গভির।ছবি: রয়টার্স

৭ বছরের মধ্যে গাজার সব বাসিন্দাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত ভারত: জয়শঙ্কর

ছবি: রয়টার্স
রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেই প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি মিয়ানমারের

বাস্তুচ্যুত হয়ে বিদেশে অবস্থান করা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে। তবে ‘রোহিঙ্গা’ নামে দেশটিতে কোনো জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে তারা। মালয়েশিয়া থেকে দেড় হাজার মানুষের আসন্ন প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশের পর মিয়ানমার সরকার থেকে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হলো। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বলেছে, তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এ কারণে দেশে ফেরানোর রোহিঙ্গারা আবারও বিপদে পড়তে পারে। জুলাই মাসে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে এই গোষ্ঠীটি চরম সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। দুই দেশই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রথম ধাপে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবে মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিক। তবে এর মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যাচাই–বাছাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি গণহত্যার মামলা চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছে। তবে তাদের দেশে ফেরানোর আলোচনা খুব সামান্যই এগিয়েছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় বাস করছে। সেখানে মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত নাগরিকেরাও রয়েছে। মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আলাদা কোনো ঐতিহ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর। এমনকি তারা ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতেও রাজি নয়। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও তাদের সেই পুরোনো দাবি তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি দিয়ে এমন এক জাতিগত পরিচয়ের মিথ্যা দাবি করা হয়, যার অস্তিত্ব মিয়ানমারে কখনোই ছিল না। এ ছাড়া সম্প্রতি কয়েকটি দেশে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ পালনেরও নিন্দা জানিয়েছে তারা। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, দেশে ফিরলে ‘যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বা জীবনের ঝুঁকি থাকে’, তবে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাবে না তাঁর দেশ। কিন্তু অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, যেই দেশে রোহিঙ্গাদের পরিচয়ই মুছে ফেলা হয়েছে, সেখানে তাদের ফেরত পাঠালে নতুন করে আবার নির্যাতনের পথ তৈরি হবে। গতকাল বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ বর্তমানে (মিয়ানমারে) নেই।’ মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসীকে আটককেন্দ্রে (ডিটেনশন সেন্টার) আটকে রাখা হয়েছে। তাই দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি তারা স্বাধীনভাবে নিতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হোটেল না পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

বসনিয়া সীমান্তে আটকদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগে বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ব্রনওয়েন জেমস। ছবি: সংগৃহীত

কিশোর ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ব্রিটিশ শিক্ষিকা বিচারের মুখে

0 Comments