বিশ্ব

অজিত দোভালের সঙ্গে পরপর দুই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
সার্জিও গর ও অজিত দোভাল। ফাইল ছবি
সার্জিও গর ও অজিত দোভাল। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে টানা দুই দিন বৈঠক করেছেন ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে সেখানকার সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট।



এদিন সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গর ও দোভাল দুটি ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক করেছেন। পরপর দুই দিন দুই কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে।



সাউথ ব্লকের এই মুখপাত্র জানান, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশের অনেক লক্ষ্য অভিন্ন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছে।

 

বৈঠকে দুই দেশই অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বলে জানানো হয়।


 

মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গরও বৈঠকটির বিষয় নিশ্চিত করেছেন; জানিয়েছেন, দোভালের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে। তারা মার্কিন-ভারত কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।


 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটিতে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন ভারতীয় কর্মকর্তাদের দেখা করা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে গরের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ তিনি একজন রাষ্ট্রদূতের চেয়ে বেশি মর্যাদা বহন করেন। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত।

 

গত ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেছিলেন গর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সার্জিও গর ও অজিত দোভাল। ফাইল ছবি
অজিত দোভালের সঙ্গে পরপর দুই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর

বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে টানা দুই দিন বৈঠক করেছেন ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে সেখানকার সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। এদিন সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গর ও দোভাল দুটি ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক করেছেন। পরপর দুই দিন দুই কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে। সাউথ ব্লকের এই মুখপাত্র জানান, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশের অনেক লক্ষ্য অভিন্ন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছে।   বৈঠকে দুই দেশই অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বলে জানানো হয়।   মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গরও বৈঠকটির বিষয় নিশ্চিত করেছেন; জানিয়েছেন, দোভালের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে। তারা মার্কিন-ভারত কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটিতে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন ভারতীয় কর্মকর্তাদের দেখা করা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে গরের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ তিনি একজন রাষ্ট্রদূতের চেয়ে বেশি মর্যাদা বহন করেন। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত।   গত ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেছিলেন গর।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন সিরিয়ার আদালত

ছবি : সংগৃহীত

৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

ছবি : সংগৃহীত

পৌনে দুই লাখ বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসকে এড়িয়ে যেভাবে গোপনে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ইরানি ঝুঁকির কারণে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের তথ্য এড়িয়ে গোপনে একটি সামরিক বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।  সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল, ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে আছেন, অথচ বাস্তবে তিনি ভিন্ন একটি ফ্লাইটে রওনা হন। আঙ্কারায় নেটোর সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার পাওয়া নতুন বিমানে করে যান, কিন্তু ফেরার সময় হঠাৎ পুরোনো বিমানে ওঠায় নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমানা থাকায় ও সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর গোপনে একটি খাবারের ক্যাটারিং ট্রাকে করে সি-৩২এ নামের ছোট সামরিক বিমানে চলে যান। ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি রাত ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় এবং তার কিছু সময় পর সাংবাদিক ও কর্মীদের নিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান সেখানে অবতরণ করে। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, পুরোনো স্মৃতির খাতিরে তিনি পুরোনো বিমানে ভ্রমণ করছেন এবং নতুন বিমানটি সেনাসদস্যদের প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাজ্যে থামানো হয়েছে। এই গোপন ভ্রমণের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চ্যাউং বলেন, প্রেসিডেন্টের সুরক্ষায় সর্বাধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখায় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: এনডিটিভি

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০১

সর্বোচ্চ চূড়া ছুঁয়ে টানা চার বছর নিম্নমুখী এসএসসির জিপিএ ৫

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আবেদনে আসছে অনলাইন বাধ্যবাধকতা

ছবি: সংগৃহীত
মেটার নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’, ওপেন এআই ইস্যুতে নতুন বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন একটি মডেল উন্মুক্ত করেছে মেটা প্ল্যাটফর্মস। ‘মিউজ গ্লিমার’ নামের এই মডেল কম্পিউটারে ডাউনলোড করে চালানো যাবে।     ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী মডেলটি পরিবর্তনও করতে পারবেন। মেটার এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি কতটা উন্মুক্ত রাখা হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্ক আরো জোরালো হয়েছে। একদিকে কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। অন্যদিকে মেটার মতো প্রতিষ্ঠান মনে করে, শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি আরো বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া উচিত।     মেটা সোমবার জানিয়েছে, ‘মিউজ গ্লিমার’ তাদের ‘মিউজ স্পার্ক ১.২’ মডেলের ছোট ও উন্নত সংস্করণ। কম কম্পিউটার ক্ষমতা, কম বিদ্যুৎ এবং সীমিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেও যাতে এটি চালানো যায়, সেভাবেই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, মিউজ গ্লিমারে ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে। এআই মডেল কীভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়, তার পেছনে এসব প্যারামিটার কাজ করে।     মডেলটি চালাতে একটি গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউই যথেষ্ট।       মিউজ গ্লিমার মূলত দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের সহকারী হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সময়সূচি তৈরি ও পরিচালনা, ফাইল গোছানো এবং এ ধরনের অন্যান্য কাজ এটি করতে পারবে। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করার লক্ষ্যেই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। নতুন মডেল প্রকাশের পাশাপাশি মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।     প্রবন্ধে জাকারবার্গ শক্তিশালী এআই প্রযুক্তিকে কোনো একটি কম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, অতি শক্তিশালী এআই একটি জায়গায় কেন্দ্রীভূত না করে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এই প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরিচালনার সুযোগ থাকা দরকার। জাকারবার্গের মতে, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের নতুন একটি যুগ শুরু হতে পারে। মানুষ এআইয়ের শক্তি ব্যবহার করে নিজের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবে। তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করলেও এমন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করেছেন, যারা মূলত কম্পানি, সরকার বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।     জাকারবার্গের এই অবস্থান এআই খাতের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নীতির সঙ্গে ভিন্ন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী এআই মডেল নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বেশি সতর্ক। এআই মডেল পরীক্ষার সময় নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে চলে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উন্মুক্ত মডেল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে। এর বিপরীতে জাকারবার্গ বলেছেন, মেটা এমন এআই তৈরি করছে, যা সবার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারযোগ্য হবে। মেটার এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চলমান বিতর্ককে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কম খরচে উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরি করায় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনা প্রতিষ্ঠান মুনশট এআইয়ের কিমি কে৩-এর মতো মডেল দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব মডেল যুক্তরাষ্ট্রের বড় এআই কম্পানিগুলোর মালিকানাধীন মডেলের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।     গুগলও স্থানীয় কম্পিউটারে চালানো যায় এমন উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরি করছে। এর মধ্যে ‘জেমা’ পরিবারের মডেল রয়েছে। চীনের ডিপসিক, মুনশট এবং আলিবাবা গ্রুপও কম খরচের উন্মুক্ত মডেল তৈরি করছে। ফলে এআই ব্যবহারের জন্য অর্থ নেওয়া মার্কিন কম্পানিগুলোর ওপর প্রতিযোগিতার চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারক চীনের উন্মুক্ত এআই মডেলের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন। তবে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মধ্যে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াংও রয়েছেন। প্রযুক্তি খাতের এসব নেতার যুক্তি, দীর্ঘমেয়াদে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত মডেল ভালো। তাদের মতে, এ ধরনের মডেল এআইয়ের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতেও সাহায্য করতে পারে। জাকারবার্গও একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদেশি উন্মুক্ত উৎসের এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা কার্যকর সমাধান নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের উন্মুক্ত উৎসের মডেলগুলোকে বিশ্বের সেরা মডেলে পরিণত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।     জাকারবার্গ বহু বছর ধরেই উন্মুক্ত এআই প্রযুক্তির পক্ষে কথা বলে আসছেন। মেটা এর আগে ‘লামা’ নামে একাধিক উন্মুক্ত  এআই মডেল প্রকাশ করেছে। তবে এসব মডেল নিয়ে প্রযুক্তি খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নতুন মিউজ গ্লিমারের মডেলকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা মূল মানগুলো হাগিং ফেস নামের একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হবে। এগুলো বিনা মূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। তবে মডেল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং খরচ ব্যবহারকারীকেই বহন করতে হবে। মেটা আরো শক্তিশালী মিউজ স্পার্ক মডেলের একটি সংস্করণও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।     এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন উন্মুক্ত এআই মডেলের ওপর নতুন কোনো বড় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেনি। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেশটির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছেন, আপাতত উন্মুক্ত এআই মডেলগুলোকে সরকারের পরীক্ষার আওতায় আনা হবে না। চলতি মাসের শুরুতে চূড়ান্ত হওয়া নতুন এআই নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় অত্যাধুনিক এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য মডেল জমা দিতে পারবে। এ জন্য তাদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। জাকারবার্গ অবশ্য এআই উন্নয়নে অতিরিক্ত কঠোর প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ পর্যালোচনার ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এর বদলে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো দ্রুত নতুন এআই মডেল বাজারে আনতে পারবে। এর ফলে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাও সহজ হবে।       এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কম্পানিগুলো বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। মেটা, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট এবং মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন কোম্পানি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই বিপুল ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এত বড় বিনিয়োগের বিপরীতে কম্পানিগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা লাভ করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে মেটা প্রথমবারের মতো মিউজ স্পার্ক ১.১ মডেল ব্যবহারের জন্য উন্নয়নকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া শুরু করে। মেটা অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের মতো একটি ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবসাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবসার মাধ্যমে এআই মডেল এবং এআই চালানোর প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ব্যবসা নিয়ে জাকারবার্গ এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ হতাশ হয়েছেন। তাদের উদ্বেগ, বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে নতুন ব্যবসা থেকে মেটা কতটা আয় করতে পারবে।     এদিকে সোমবার মেটা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব এলাকায় তাদের তথ্যকেন্দ্র রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সেগুলো পরিচালনা করে, সেসব এলাকার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করেছে। মেটা ও গুগলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় তথ্যকেন্দ্র ও অবকাঠামো প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে। তবে এসব প্রকল্প নিয়ে অনেক এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। বিরোধিতাকারীদের অভিযোগ, বড় তথ্যকেন্দ্রগুলো বিপুল পরিমাণ জমি, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করে। ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর এসব প্রকল্পের চাপ তৈরি হতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ার জাওয়িয়া তেল শোধনাগারে আগুন

ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments