গাইবান্ধা সফরে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গত ২১ জুন গাইবান্ধার সাঘাটায় সংঘটিত হামলায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করতে আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) গাইবান্ধায় যাবেন তিনি।
রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন ডা. শফিকুর রহমান।
সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া-কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০টায় এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং গাইবান্ধা জেলা আমির আবদুল করিম।
জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; কমিউনিকেশনস পেশায় এটি ইতিমধ্যে দৈনন্দিন কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস হয়ে উঠেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন লেখা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও যোগাযোগ পরিকল্পনায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস প্রফেশনালস সোসাইটি (বিসিপিএস)। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরের উন্নয়ন সমন্বয় মিলনায়তনে ‘ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশনসে এআইয়ের ব্যবহার’ শীর্ষক এই মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এতে উন্নয়ন সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩৫ জন কমিউনিকেশনস পেশাজীবী অংশ নেন। মাস্টারক্লাসে বিভিন্ন এআই টুলসের ব্যবহার, কার্যকর নির্দেশনা বা প্রম্পট লেখার কৌশল এবং পেশাগত কাজে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি, প্রতিবেদন, বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও যোগাযোগ পরিকল্পনা তৈরিতে এআই কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবভিত্তিক অনুশীলনে অংশ নেন। এ ছাড়া গবেষণা ও তথ্য অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্টের মানোন্নয়ন এবং দৈনন্দিন কাজের সময় কমিয়ে দক্ষতা বাড়াতে এআই কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাস্টারক্লাসটি পরিচালনা করেন নগদের ক্রিয়েটিভ লিড (এআই) মো. আব্দুর রউফ। কমিউনিকেশনস, সৃজনশীল পরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর ১২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিসিপিএসের গবেষণা পরিচালক মালিহা তাবাসসুম ‘এআই দিয়ে গল্প, নিবন্ধ, উপস্থাপনা ও নানা ধরনের লেখা তৈরি’ শীর্ষক একটি সেশন পরিচালনা করেন। লেখালেখি ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। বিসিপিএসের চেয়ারপারসন টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, “এআই কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের বিকল্প নয়; বরং যারা এআই দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবেন।” তিনি বলেন, এআইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাজীবীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। কোন দক্ষতাগুলো মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কোন এআই সরঞ্জামগুলো দৈনন্দিন কাজে কার্যকর এবং কীভাবে প্রযুক্তিটিকে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজে লাগানো যায়—মাস্টারক্লাসে এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকেরা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশে কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে বিসিপিএস এ ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুধু বিভিন্ন এআই সরঞ্জাম সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিয়মিত পেশাগত কাজে প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক প্রয়োগের সুযোগ পান। এতে কমিউনিকেশনস পেশায় এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং কাজকে আরও সহজ ও দক্ষ করার সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রশিক্ষণটি সমন্বয় করেন বিসিপিএসের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং পরিচালক জাকিয়া হক নীলা।
১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সকল নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা হারব না জিতব, এটা প্রশ্ন না। প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব। আজকেও সেই মন-মানসিকতা নিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে হয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে উনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।’ বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে আমরা নির্বাচন ও মনোনয়ন দিতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে, আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জুলাই বিপ্লবের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক ও যোদ্ধাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করেছি। মামুনুল হক বলেন, ‘আমি আশা করব, আমাদের ১১ দলের বাইরেও, এমনকি বিএনপিরও যারা দেশকে ভালোবাসেন, দেশপ্রেমিক, তারাও আমাদের এই প্রার্থীর যোগ্যতার কথা এবং তার অগ্রগণ্যতার কথা স্বীকার করবেন। সেই হিসাবে আমরা প্রত্যাশা রাখি, তিনি ইনআশাল্লাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আগামী বাংলাদেশকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের সকলের কাছ থেকে আমরা সে সহযোগিতা চাই। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কোনো আপস করব না। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য দায়িত্ব হিসেবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে। শনিবার (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (০৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।