জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেভাবে হবে ভোটগ্রহণ

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ আগস্ট। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন। এরপর পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে রাখবেন। ভোট গ্রহণ শেষে একই স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

 

সচিব বলেছেন, আজ সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার, সরকারদলীয় এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি জানালেন, যদি কোনো অনির্ধারিত কারণে কোনো সংসদ সদস্য এসে পৌঁছাতে দেরি করেন সে জন্য পাঁচটা পর্যন্ত কন্টিনিউ করা হবে। পাঁচটার সময় যখন ভোট গ্রহণ শেষ হবে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গণনা করব।

 

এক দলের সংসদ সদস্য অন্য দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বললেন, এটা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জানতে হবে।

 

ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে সচিব জানান, প্রাথমিক ফলাফল সেখানেই ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
৩ মাসের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে জনপ্রতি খরচ ১ লাখ ৩৬ হাজার

কর্মহীন ৫০ হাজার ১০০ তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৬৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।এতে প্রশিক্ষণার্থীপ্রতি সরকারের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৭ টাকা। তবে প্রশিক্ষণ ব্যয়ের এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বেসরকারি পর্যায়ে তিন থেকে চার মাসের ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়। সে হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে সরকারি প্রকল্পে একজন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য বরাদ্দ প্রায় সাড়ে চার গুণ বেশি। এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৫০ হাজার ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের ৫০১টি ওয়ার্ডের কর্মহীন যুবক ও যুব নারীদের লক্ষ্য করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস। মোট ২ হাজার ৪টি ব্যাচে প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেবেন ২৫ জন।   প্রস্তাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এর প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের খাত, বাস্তবায়ন কাঠামো ও সম্ভাব্য সুফল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পিইসি পর্যায়ে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনায় পাঠানো হবে। পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের সঙ্গে এটি একীভূত করা, মেয়াদ কমানো, পরামর্শক ব্যয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের যুক্ত করার বিষয়গুলো পিইসি সভায় আলোচিত হতে পারে। এদিকে সরকারি প্রশিক্ষণের উচ্চ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য বিপুল সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। ইন্টারনেট ও ইউটিউবের মাধ্যমেও শেখার সুযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, বাজারে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়।   বর্তমান প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের ডিজিটাল স্কিল, ক্লায়েন্ট ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল পেমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ছয় মাসের মধ্যে আয় শুরু করানো এবং ৬০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে আয়মূলক কাজে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, প্রকল্পের ব্যয় শুধু প্রশিক্ষণ বাবদ নয়। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে খাবার, প্রতিদিন ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য অন্যান্য সহায়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

সম্পদের হিসাব না দিলে নতুন পে-স্কেল নয়: টিআইবি

জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু

শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল্লাহ আল কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত কয়েক দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বর্তমানে তিনি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

সরকারকে অবশ্যই আইনের শাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

জনগণের আস্থা অর্জন করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয় চাই : আমিনুল হক

ছবি: সংগৃহীত

বিমান চলাচলে ৪২ বছর পর নতুন বিধিমালা

ছবি: সংগৃহীত
হাসিনার শাসনে গুম-নিপীড়নের ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়।    তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের ওপর অমানুষিক নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের মৌলিক বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।   শেখ হাসিনার শাসনামলের অমানবিকতার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের বিভীষিকাময় গুম ও নিপীড়নের শিকার হয়নি।   মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের সাথে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।    অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।   স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের আবহ তৈরি করা হয়।   অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ গুমের মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বিগত শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক গুম ও দমন-পীড়নের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।   সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ‘আয়নাঘরে’ বন্দিজীবনের নির্মম গুম ও নিপীড়নের অধ্যায় তুলে ধরেন।   সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাকে দীর্ঘ ৭ মাস সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে চরম অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতন চালানোর ভয়াবহ বর্ণনা দেন।   সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল আমার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি নতুন করে পরিচিতি পায়। তৎকালীন সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। এ সময় তিনি বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ বক্তব্যে তৎকালীন সরকারের মাফিয়াতন্ত্র ও ভয়ের সংস্কৃতির তিক্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।   আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের ওপর নিপীড়ন অত্যন্ত অমানবিক ও জঘন্য। তিনি উল্লেখ করেন, তার জন্মভূমি রোমানিয়ায় নিকোলাই চসেস্কুর নির্মম দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের চরম মিল পরিলক্ষিত হয়।   এ সময় তিনি জানান, সফর শেষে আইপিইউ-এর গভর্নিং বডির নিকট বাংলাদেশে সংঘটিত বিগত শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবেন।   অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বড় সুখবর, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ-গ্যাসে ৭ মাসের ভর্তুকি এক মাসেই দিতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী

0 Comments