খেলাধুলা

বাংলাদেশকে সঙ্গী করে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল আফগানিস্তান

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে আফ্রিকার দক্ষিণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল তারা। তাদের এই জয়ে চূড়ান্ত হয়ে গেছে কাট-অফ তারিখের মধ্যে কোন আট দল শীর্ষ র‌্যাংকিংয়ের ৯টি স্থানে থাকবে।

 

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর শীর্ষ আট র‌্যাংকিংধারী দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। তবে সেরা আটে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা থাকায় নবম স্থানের দলও সুযোগ পাচ্ছে বিশ্বকাপে খেলার। আর যোগ্যতা অর্জনের এই শেষ জায়গাটিতে আছে বাংলাদেশ। তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে যোগ দেবে।

 

দশ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে কাট-অফ তারিখের আগে দুটি ওয়ানডে রয়েছে। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সেই দুই ম্যাচ জিতলেও ৯ নম্বরে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মানে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবারও তাদের কোয়ালিফায়ারে খেলতে হবে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার বাছাইপর্ব খেলবে উইন্ডিজ।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পায়নি। কোয়ালিফায়ার খেলতে হয়েছিল তাকে। সুপার সিক্স স্টেজে তারা পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করে এবং ছিটকে যায়। প্রথমবার বিশ্বকাপে দর্শক ছিল তারা।

 

কোয়ালিফায়ারের বিজয়ী দল ২০২৭ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি খেলবে। তারপর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তদল সুপার সিরিজ নামের একটি পর্বে খেলবে। এই ত্রিদেশীয় সিরিজের শীর্ষ দল উঠবে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সে স্টোকস-চাপম্যানের সঙ্গী রউফ

অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) আগামী আসরে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলবেন পাকিস্তান পেসার হারিস রউফ।    অ্যাডিলেড দলে বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় রউফের সাথে আরও আছেন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস ও নিউজিল্যান্ডের মার্ক চ্যাপম্যান।    অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে রউফকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান কোচ টিম পাইন।    অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার পাইন বলেন, ‘রউফ একজন ম্যাচ-উইনার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করেছে সে। বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির বোলার এবং যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে সে। পুরো টুর্নামেন্টের জন্য রউফকে পেয়ে আমরা রোমাঞ্চিত।’   ২০১৯-২০ মৌসুমে প্রথম বিবিএলে খেলা শুরু করেন রউফ। মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে টানা পাঁচ মৌসুম খেলেছেন তিনি। এই পাঁচ মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে ১৬.৪৮ গড়ে ৫৬ উইকেট শিকার করেছেন রউফ। সর্বশেষ আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন এই ডান-হাতি পেসার। ১১ ইনিংসে ৩৩৫ রানে ২০ উইকেট শিকার করেন তিনি। সেরা বোলিং ছিল ২৩ রানে ৩ উইকেট।    মেলবোর্ন ছেড়ে অ্যাডিলেডে যোগ দিয়ে উচ্ছসিত রউফ। অ্যাডিলেডের হয়ে খেলার জন্য তর সইছে না তার। রউফ বলেন, ‘অ্যাডিলেড ওভাল বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি ভেন্যু এবং এই ভেন্যুতে সবসময় আমি খেলতে পছন্দ করি।    এবারের অ্যাডিলেড দলটি বেশ শক্তিশালী। এই দলে আছে স্টোকস-চাপম্যান ও ম্যাথু শর্টের মত ক্রিকেটাররা। তাদের সাথে খেলার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। অ্যাডিলেডে প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে। দলকে ফাইনালে তুলতে এবং শিরোপা জয়ের জন্য আমরা অবদান রাখতে চাই।’   এখন পর্যন্ত একবার বিবিএলের শিরোপা জিতেছে অ্যাডিলেড। সেটি ছিল ২০১৭-১৮ মৌসুম।    ১২ ডিসেম্বর থেকে বিগ ব্যাশের আগামী আসর শুরু হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে র‍্যাংকিংয়ে ইতিহাস গড়ল আফগানিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে জ্ঞান হারালেন স্ট্রাইকার

ছবি: সংগৃহীত

বর্ষসেরা একাদশের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি ও রোনালদো

ছবি: ক্রিকইনফো
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আজ সোমবার অজি তারকার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো।     গত অক্টোবরেই ঊনচল্লিশ বছরে পা রেখেছেন ম্যাক্সওয়েল। তার আগে গত বছরের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন এই অজি অলরাউন্ডার। এবার সব ধরণের ক্রিকেট থেকেই সরে দাঁড়ালেন ম্যাক্সওয়েল।     ২০১২ সালে ২৩ বছর বয়েসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয় ম্যাক্সওয়েলের। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৪৯ ওয়ানডে খেলে ৩৩.৮১ গড় আর অবিশ্বাস্য ১২৬.৭০ স্ট্রাইকরেটে ৩৯৯০ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার একা ম্যাচ জেতানো ২০১ রানের ইনিংস অনেকের মতে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা। লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করা ম্যাক্সওয়েল ৪ সেঞ্চুরি আর ২৩ ফিফটি করেছেন। অফ স্পিনে এই সংস্করণে নিয়েছেন ৭৭ উইকেট। দুর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে ৯১টি ক্যাচও আছে তার।     সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ১৩০টি। যেখানে ২৮.৯৭ গড়ে তার মোট রান ২৮৯৭। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ম্যাক্সওয়েলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস অপরাজিত ১৪৫ রান। অজিদের জার্সিতে তার টেস্ট খেলার সংখ্যা মাত্র ৭টি। যেখানে ২৬.০৭ গড়ে মোট রান ৩৩৯। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১০৪।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি : ফিফপ্রো

প্রকাশিত হলো ফিফপ্রো পুরুষ বিশ্ব একাদশ ২০২৬-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা

ছবি: সংগৃহীত

বিপিএল আয়োজন করার কোনো সক্ষমতাই নেই বর্তমান বোর্ডের: আসিফ আকবর

ছবি: সংগৃহীত

চীনকে এবার রুখে দিল বাংলাদেশ

অনন্য এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি

বয়স যেন আর্জেন্টাইন্টান সুপারস্টার মেসির কাছে শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সে মেসি ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি কীর্তি গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।   রোববার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। শেষ দিকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।   এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে লিগে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬’এ। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এফসি ডালাসের স্ট্রাইকার পেতার মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।   এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক সম্ভাবনা।   ২০০৫ সালে গোল ও অ্যাসিস্টের ভিত্তিতে পয়েন্ট পদ্ধতির পরিবর্তে শুধু গোলসংখ্যার ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম চালুর পর থেকে কোনো খেলোয়াড় টানা দুই মৌসুম এমএলএস গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। দুই খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট এবং এরপর মাঠে কম সময় কাটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।   নিয়মিত মৌসুমের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা এখন গোল্ডেন বুট ধরে রাখার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।   মজার বিষয় হলো, একাধিক খেলোয়াড় একাধিকবার এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতলেও ২০০৫ সালে গোলভিত্তিক পদ্ধতি চালুর পর কেউ টানা দুই মৌসুম এই পুরস্কার জিততে পারেননি।   ক্রিস ওয়ানডোলোস্কি ২০১০ ও ২০১২ সালে এবং ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস ২০১৪ ও ২০১৬ সালে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। তবে কেউই টানা দুই মৌসুম পুরস্কারটি ধরে রাখতে পারেননি।   এবার সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ মেসির সামনে।   ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কার জিতে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।   আরেকটি গোল্ডেন বুট জয় তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারে যোগ করবে নতুন এক কৃতিত্ব।   ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচে ফিরতে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মায়ামি। ৬৯তম মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার সঙ্গে দারুণ এক আক্রমণ সাজানোর পর জার্মান বেরতেরামে হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান। সেই আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেসির।   ৮৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারকে পরাস্ত করেন মেসি।   এ যেন চিরচেনা মেসি- দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া।   এই জয়ের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।   ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। বর্তমানে এমএলএসে নিজের চতুর্থ মৌসুম খেলছেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রথমবার গোল্ডেন বুট জেতেন মেসি। নিয়মিত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জেতেন তিনি। সেই অসাধারণ মৌসুমে সতীর্থদের দিয়ে ১৯টি গোলও করিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।   এমএলএস গোল্ডেন বুটের হিসাব করা হয় শুধু নিয়মিত মৌসুমে করা গোলের ভিত্তিতে। প্লে-অফে করা গোল এই পুরস্কারের হিসাবে যুক্ত হয় না।   গোল্ডেন বুটের দৌড় শেষ হওয়ার আগে গোলসংখ্যা বাড়ানোর জন্য মেসির হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি সুযোগ। আগামী ৭ নভেম্বর নিজেদের নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি।   ২৬ গোল নিয়ে এবং মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে থাকায় পুরস্কারটি জয়ের পথে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন মেসি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেসির অ্যাসিস্টের পর চোখধাঁধানো গোল, ইন্টার মায়ামির জয় ২-১ ব্যবধানে

ছবি: সংগৃহীত

চাপম্যান-রাচিনের চোটে বদল নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াড, পুরো সিরিজে সেইফার্ট

ছবি : রয়টার্স

লিভারপুলকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আর্সেনাল

0 Comments