অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে বসবাসরত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তার স্ত্রীর সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তার এবং পুলিশি নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) তাকে গ্রেপ্তার করে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আওলাদ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে ৯০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাঠান। এসব অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
এএফপি জানিয়েছে, রেহানা পারভিন একজন অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তার মরদেহ পাওয়া যায়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ফরেনসিক পরীক্ষায় মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয়। একই সময় অস্ট্রেলিয়ান ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসের মাধ্যমে ওই নারীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এএফপি। বাংলাদেশে তার মরদেহ শনাক্ত এবং মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহের তথ্য পাওয়ার পর তদন্তটি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ক্রিমিনাল কোডের অধীনে বিদেশে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মৃত্যুসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের দিকে নেওয়া হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে এএফপি সিডনি ও ব্রিসবেনের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করে। পরে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এএফপি সদস্যরা কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইন্স এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালান এবং আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্যমতে আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিমিনাল কোডের ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি এই ধারার আওতায় পড়ে।
এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, গুরুতর কোনো অপরাধের তদন্তের ফলাফল প্রভাবিত করতে ঘুষ বা দুর্নীতির চেষ্টা করা হলে তা অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশ উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্তের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে যে কোনো ধরনের প্রচেষ্টা আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এএফপি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
তবে এএফপি স্পষ্ট করেছে, বাংলাদেশি কোনো সরকারি কর্মকর্তা ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন বা কথিত ঘুষের অর্থ তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলেছে এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার কথিত প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশও পৃথকভাবে রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে।
এদিকে আওলাদ হোসেনের আইনজীবী তোরিক ডিব জানিয়েছেন, তার মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার জামিনের আবেদন আগামী মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হতে পারে।
রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের তদন্তের পাশাপাশি এএফপির তদন্তও চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে কোনো দণ্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় হত্যার অভিযোগের বিচার হয়নি। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ক্ষেত্রে এটি সংস্থাটির প্রথম ঘটনা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের সম্পর্কে তার কাছে ‘অনেক তথ্য’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সের উপস্থাপক রব ফিনার্টির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগে এই তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকলেও এখনো সে সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, চাইলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে পারেন অথবা তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে তার দাবির পক্ষে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। সাবেক এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি আবার অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন বলেও মন্তব্য করেন, এরপর প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুল্ক কার্যকরের নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগে শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত হলো। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত আদেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর থাকবে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি মনে করলে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়ে এ ধরনের শুল্ক স্থগিত রাখতে পারেন। সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে তৈরি আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি কেনে এমন পাঁচটি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান ছিল। এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। রাশিয়ার বড় দুই জ্বালানি ক্রেতা চীন ও ভারত এ আইনের বিষয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। চীন বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ছাড়া অন্য দেশের ওপর একতরফা কর্তৃত্ব প্রয়োগের বিরোধী তারা। ভারতও সতর্ক করেছিল, অতিরিক্ত শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। সূত্র: শাফাক নিউজ
জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে শনিবার শ্রীলঙ্কাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ায় এ বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেশটির গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। কলম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন লঙ্কা (ইডিএল) জানায়, পুরো গ্রিডে দেখা দেওয়া ত্রুটি সারাতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে এ বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুনাথিলাকা বলেন, কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালুর আশা করছে। সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মালিকদের তাদের সিস্টেম বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও পুরো বিদ্যুৎ গ্রিড বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেদিন রৌদ্রোজ্জ্বল রোববারে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল। শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তিন হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কর ছাড়ের সুবিধায় গ্রাহকেরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন। তারা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা। সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় চার হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এতে করে ২০২৪ সালের তুলনায় এ সক্ষমতা ৩৮৮ শতাংশ বাড়বে।