আন্তর্জাতিক

গাজার পথে ত্রাণবাহী নৌবহর জব্দ করল ইসরায়েল

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে তুরস্ক থেকে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জব্দ করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।

 

সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৪টি নৌকা ও জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরে ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। তারা গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি নৌবাহিনী পুরো বহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের প্রথমে একটি ভাসমান আটককেন্দ্রে নেওয়া হবে, পরে তাদের আশদোদ বন্দরে স্থানান্তর করা হবে।

 

ফ্লোটিলার আয়োজকেরা এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ছিল একটি বৈধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ। তারা বিভিন্ন দেশের সরকারকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, গাজার অবরোধ বজায় রাখতে ‘জলদস্যুতার মতো’ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

 

এর আগে গত ৩০ এপ্রিলও গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

 

২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর স্থল, নৌ ও আকাশপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৬৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

 

সূত্র : শাফাক নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজার পথে ত্রাণবাহী নৌবহর জব্দ করল ইসরায়েল

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে তুরস্ক থেকে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জব্দ করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।   সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৪টি নৌকা ও জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরে ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। তারা গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি নৌবাহিনী পুরো বহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের প্রথমে একটি ভাসমান আটককেন্দ্রে নেওয়া হবে, পরে তাদের আশদোদ বন্দরে স্থানান্তর করা হবে।   ফ্লোটিলার আয়োজকেরা এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ছিল একটি বৈধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ। তারা বিভিন্ন দেশের সরকারকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, গাজার অবরোধ বজায় রাখতে ‘জলদস্যুতার মতো’ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।   এর আগে গত ৩০ এপ্রিলও গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।   ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর স্থল, নৌ ও আকাশপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৬৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।   সূত্র : শাফাক নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যেভাবে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

রানওয়েতে ইন্ডিগো বিমানে হঠাৎ আধাঘণ্টার ব্ল্যাকআউট

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে খামারিদের দুর্দশা, আত্মহত্যার হুমকিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত

পশ্চিমবঙ্গে কুরবানির ঈদ সামনে রেখে গবাদি পশুর হাট ও জবাই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরোপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।    এর প্রভাব পড়েছে পশু খামারিদের ওপর, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের হিন্দু গরু খামারিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ক্রেতা কমে যাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন পশুর হাট কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে।    খামারিদের অভিযোগ, তারা সারা বছর ধারদেনা করে গরু পালন করেন মূলত ঈদের মৌসুমে ভালো দামে বিক্রির আশায়। কিন্তু নতুন নিয়মকানুন ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে অনেক ক্রেতা এখন হাটে আসতে অনাগ্রহী, কেউ কেউ আইনি জটিলতার ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন।    ফলে পশু বিক্রি প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এতে ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়ছে।    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের আগে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।    একই সঙ্গে গর্ভবতী পশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া খোলা জায়গায় পশু জবাই নিষিদ্ধ করে শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানায় জবাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    আইন ভঙ্গ করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।    অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাঠপর্যায়ে গরুর সঠিক বয়স নির্ধারণ কীভাবে সম্ভব হবে, কারণ অধিকাংশ খামারির কাছে বয়স প্রমাণের কোনো নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র থাকে না।    এতে প্রশাসনিক হয়রানির ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদসহ কয়েকটি জেলার হাটে দেখা গেছে, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি উলে­খযোগ্যভাবে কমে গেছে।    আইনি জটিলতার ভয়েই অনেকে হাটে আসছেন না বলে স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে। ফলে গবাদি পশু বিক্রির ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবার এখন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র প্রকাশ করে ইরানকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা মোতায়েন করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ইনজেকশন, প্রতি ডোজের দাম কত

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর প্রদেশে যোগী সরকার হটানোর পরিকল্পনা শুরু করল কংগ্রেস

ভারতের কেরলম (সাবেক কেরালা) রাজ্যে সরকার গঠনের পর কংগ্রেসের নজরে এখন উত্তর প্রদেশ। আগামী বছর দেশের এই বৃহত্তম রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। কংগ্রেস চাইছে, দেরি না করে এখন থেকেই ভোট প্রস্তুতি শুরু করতে। রাজ্যস্তরের নেতাদের বলা হয়েছে, জয়ের সম্ভাবনা আছে এবং লড়াইয়ের শক্তি আছে, এমন ১০০–১২০টি আসন চিহ্নিত করতে। উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ভোট আগামী বছর ফেব্রুয়ারি–মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   এআইসিসিতে উত্তর প্রদেশের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পান্ডে সম্প্রতি রাজ্যের ৬ সম্পাদককে জানিয়েছেন, মোট ৪০৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে জমা দিতে। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, কংগ্রেসের শক্তি আছে, সংগঠন আছে এবং লড়াইয়ের ক্ষমতা রয়েছে—এমন শ খানেক আসন চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, যাতে জোটবদ্ধ লড়াই করতে হলে ওই আসনগুলো দাবি করা যায়।   উত্তর প্রদেশে একার শক্তিতে বিজেপিকে হারানো কংগ্রেসের পক্ষে সম্ভবপর নয়। এই বাস্তবতা কংগ্রেস অস্বীকার করে না। শীর্ষ নেতারা চান, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপির মোকাবিলা করতে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় না থেকে কংগ্রেস তাই আগেভাগেই কেন্দ্র বাছাই করে ফেলতে চাইছে, যাতে পূর্ণ শক্তিতে নামা যায়। জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে লড়লে কংগ্রেস অন্তত ৮০টি আসন দাবি করবে।   উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আমলে ঠাকুর বা ক্ষত্রিয়দের রমরমার কারণে রাজ্যের ব্রাহ্মণেরা বেশ অখুশি। কংগ্রেস সেই সুযোগ নিতে চাইছে। মূল ভোটব্যাংক হিসেবে দল নজর দিচ্ছে ব্রাহ্মণ, দলিত ও মুসলিমদের ওপর। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে জোট হলে যাদব ও অন্যান্য অনগ্রসর সমাজের সমর্থন আসবে। সে ক্ষেত্রে বিজেপিকে ভালোমতো বেগ দেওয়া যাবে বলে শীর্ষ নেতাদের ধারণা। সে জন্যই দল আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।   আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ছাড়াও ভোট রয়েছে আরও ৬ রাজ্যে। ফেব্রুয়ারি–মার্চে উত্তর প্রদেশের সঙ্গে ভোট হবে উত্তরাখন্ড, গোয়া, পাঞ্জাব ও মণিপুরে। নভেম্বরে ভোট কংগ্রেসশাসিত হিমাচল প্রদেশে। ডিসেম্বরে ভোট হবে গুজরাটে।   হিমাচলে ক্ষমতা ধরে রাখা কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি তারা চাইছে, উত্তরাখন্ডে বিজেপির হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে। প্রশাসনিক নানা কারণে উত্তরাখন্ডে বিজেপি বেশ কোণঠাসা। সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন বেড়ে চলেছে।   কংগ্রেস ভালো ফলের আশা করছে পাঞ্জাবেও। তবে লড়াই সেখানে ত্রিমুখী। আম আদমি পার্টিকে (এএপি) সরিয়ে ক্ষমতা দখলে বিজেপিও সচেষ্ট। গোয়ায় কংগ্রেসের হাল খুবই খারাপ। সম্প্রতি স্থানীয় পৌরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিকে বিজেপি পর্যুদস্ত করেছে।   দুদিন আগে সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, দেশের ৮০ শতাংশ ভূখণ্ডে এখন বিজেপির শাসন বলবৎ। আগামী দিনে তা আরও ব্যাপ্তি পাবে।   ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০২৮ সালে কংগ্রেসকে দুটি বড় রাজ্যে বিজেপির মোকাবিলা করতে হবে। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানা। এই দুই রাজ্যেই কংগ্রেস ক্ষমতায়। এ ছাড়া গো–বলয়ের তিন রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেসই বিজেপির একমাত্র প্রতিপক্ষ।   বিজেপির পক্ষে এই দুটি বছর আরও গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে, কংগ্রেসশাসিত রাজ্যগুলো দখল করতে পারলে রাজ্যসভায় তাদের আসনসংখ্যা বেড়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ঘটিয়ে তারা রাজ্যসভায় তাদের আসন বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। ওই রাজ্যে লোকসভায়ও তাদের সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর হবে।   কংগ্রেস এই মুহূর্তে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ ও কেরলমে ক্ষমতায়। এ ছাড়া শরিক হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছে ঝাড়খন্ডে। তামিলনাড়ুতেও টিভিকে সরকারে তারা মন্ত্রিত্ব পেতে চলেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বোঝা যাবে, বিজেপির দখলে আরও বেশি ভূখণ্ড আসবে, নাকি কংগ্রেস তার হারানো শক্তি কিছুটা ফিরে পাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে কমল হাসানের বড় চাওয়া কী?

ছবি: সংগৃহীত

চীনে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, প্রাণহানি ২

ছবি: সংগৃহীত

হান্টা ভাইরাস আক্রান্ত সেই প্রমোদতরী রটারডামে যাচ্ছে

0 Comments