বিশ্ব

উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ কিমের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের দক্ষিণ সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করার এবং একই সঙ্গে সামনের সারির সেনা ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সামরিক বৈঠকে কিম জং উন এ নির্দেশ দেন। 

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) কর্তৃক প্রকাশিত একটি ছবিতে তাকে পূর্ণ সামরিক পোশাক পরিহিত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক কর্মকর্তাদের বলেন, যুদ্ধ প্রতিরোধে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি কমান্ডিং কর্মকর্তাদের ‘প্রধান শত্রু’ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও কঠোর ও স্পষ্ট করার নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে ‘প্রধান শত্রু’ বলতে দক্ষিণ কোরিয়াকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কেসিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ প্রতিরোধকে আরও কার্যকর করতে সামনের সারির ইউনিট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন কিম জং উন। 

তিনি এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

কিম জং উন আরও বলেন, দক্ষিণ সীমান্তে সামনের সারির ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করে সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ রূপান্তর করা হবে।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হং মিন বলেন, কিম জং উনের এই নির্দেশনায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া সামরিক শিক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। 

ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়ে মস্কোকে সহায়তা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে দেখা ড্রোন যুদ্ধ, নির্ভুল হামলা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও বহু-মাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রের বিষয়গুলো এখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

হং মিন আরও বলেন, কিমের পরিকল্পনায় স্থল, নৌ ও আকাশসীমার বাইরে পানির নিচে, মহাকাশ, সাইবার ও ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রকেও যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাহুলের আন্দোলন, মোদি সরকারের কাছে ৫ দাবি

ভারতে শিক্ষার্থীদের ‘জেন-জি’ আন্দোলন ও পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।   আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার। শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা। বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা। দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার।   এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। রাহুলকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাতের দিকে দুই নেতাকেই মুক্তি দেওয়া হয়।     বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার অন্যায় আচরণ করছে। নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।   শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে কেন পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন, আর এসব প্রশ্ন করায় কোনো ভুল নেই।’   তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সবাই চান, বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক।   শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে যারা লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’   এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।   অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। তার দাবি, সমস্যার সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য।

মারিয়া রহমান জুলাই ২২, ২০২৬
ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পেল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ব্রিটেন, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া ও চীন বিভিন্নভাবে ইরানকে সহায়তা করছে, দাবি পিট হেগসেথের

ছবি: সংগৃহীত

টানা দশম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতি বিদ্রোহীরা। ছবি : সংগৃহীত
বাব আল-মান্দেবে উত্তেজনা, বাড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ

বাব আল-মান্দেব ঘিরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হুমকি জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেলের বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। খবর রয়টার্সের।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির বিকল্প নৌপথ হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আইইএর মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের উদ্ভূত হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বিদ্যমান উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।   সংস্থাটি আরও জানায়, সদস্য দেশগুলোর জরুরি তেল মজুত থেকে তেল ছাড়ার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাজারে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলছে।   আইইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ কৌশলগত মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে সদস্য দেশগুলো।   এদিকে গতকাল ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ঘোষণা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।   চহুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে।   সারি অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর অব্যাহত অবরোধ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আর মেনে নেওয়া হবে না।   এর আগে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদেরকে নির্দেশ দেয় তেহরান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানায়।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুতিদের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক এক সূত্র পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি হুতিদের এই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দেবেও অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি রপ্তানি পথ একযোগে কার্যত অচল হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

সংগৃহীত ছবি

“ককরোচ পার্টির আন্দোলন: মোদি সরকারের জন্য কি সত্যিই বিপদের সংকেত?”

ছবি: সংগৃহীত

আটকের পর রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হলো?

ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দিল্লিতে মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও বিরোধী দল ভারতীয় কংগ্রেসের অন্যান্য সদস্যদেরও আটক করা হয়।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দিল্লিতে তাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় পুলিশ। ককরোচ পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে আজ দিল্লির লোককল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান নেন কংগ্রেস নেতারা।     সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে পুলিশ যে হামলা চালিয়েছে সেটির জবাব নিতে আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যান কংগ্রেস নেতারা।   তারা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নেওয়ার পর মোদি সরকার প্রাথমিক দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানায়। এরপরও অবস্থান নেওয়ায় তাদের জোরপূর্বক আটক করা হয়। রাহুল গান্ধীকে যখন পুলিশ সদস্যরা ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার নাক থেকে রক্ত বের হতে দেখা গেছে।   এদিকে গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। এরপর তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও মারধর করা হয়।   এ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জবাব মোদি সরকারকে দিতে হবে এবং ভারতীয় তরুণদের ভবিষ্যত নষ্ট করার জন্য মোদিকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে।   সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
অগ্নি নির্বাপণে নিয়োজিত হেলিকপ্টার। ছবি: সংগৃহীত

দাবানলের আশঙ্কায় দক্ষিণ ফ্রান্সে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

নেদারল্যান্ডস ও ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস

রাহুল গান্দীকে আটক করে গাড়িতে তুলছে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, সরানো হলো রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে

0 Comments