ঢাকা, ১৮ মে ২০২৬ (বাসস) : মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিল স্বাগতিক বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ৪৬ রানের লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভার ব্যাট করে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মুশফিক ১৩৭ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ ও পাকিস্তান ২৩২ রান করেছিল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ করেছিল বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিন বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিতে পঞ্চম উইকেটে লিটন দাসের সাথে ১২৩, সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সাথে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। সেই সাথে টেস্টে ১৪তম সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন তিনি। এই শতকে মোমিনুল হককে টপকে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন মুশি।
শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক আউট হলে ৩৯০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করেন মুশফিক।
এছাড়া লিটন ৬৯ ও মাহমুদুল হাসান জয় ৫২ ও তাইজুল ২২ রান করেন।
পাকিস্তানের খুররাম শাহজাদ ৪টি, সাজিদ খান ৩টি ও হাসান আলি ২টি উইকেট নেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বা উত্তর আমেরিকা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি। টুর্নামেন্টের মূল আসরে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যেই উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং নিজেদের শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নানা সমীকরণের কারণে এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ান পরাশক্তি ইরান ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপযাত্রা শুরু করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আধ্যাত্মিক এক আবহে। দেশ ছাড়ার আগে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফে চুমু দিয়ে এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে মেগা টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ইরানি ফুটবলাররা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা জটিলতায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে পার্সিয়ান লায়নরা। ইরানি ফুটবলারদের পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে ও চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার এই অনন্য ও আবেগঘন ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে। এক বিশেষ ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বকাপগামী বিশেষ বিমানে ওঠার আগে দলের তারকা ফুটবলার ও অফিশিয়ালরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে পরম শ্রদ্ধায় পবিত্র কোরআন শরিফে চুমু দিচ্ছেন এবং মাথায় ছোঁয়াচ্ছেন। এ সময় বিমানবন্দরের চারপাশে উপস্থিত শত শত সমর্থক ইরানি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করতে থাকেন এবং ফুটবলারদের উৎসাহিত করেন। এর আগে দলটি তাদের বিশেষ টিম বাসে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দেশপ্রেমের এমন অনন্য নিদর্শন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথে ইরান দলের সামনে অন্যতম বড় বাধা ছিল মার্কিন ভিসা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান দল এতদিন তুরস্কের আনতালিয়া শহরে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছিল। সেখান থেকেই তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেছিল পুরো বহর। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছিলেন যে, ইরানি ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেয়েছেন। তবে এর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বিপরীত ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদক তুরস্কের আন্তালিয়া শহর থেকে সরাসরি জানান যে, ইরান ফুটবল দলের মূল স্কোয়াড ভিসা পেলেও দলটির টেকনিক্যাল স্টাফ ও প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ জন সদস্যকে ভিসা দিতে চূড়ান্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ। ভিসা জটিলতার এই বড় ধাক্কা ও স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই ইরান ফুটবল দল সফলভাবে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, ইরান দলকে তাদের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ম্যাচই খেলতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। যেহেতু প্রতিনিধি দলের একটি বড় অংশের মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, তাই ইরান দলকে মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে অবস্থান করেই যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যেতে হবে। ম্যাচ শেষে মার্কিন মুলুকে অবস্থান না করে দিনে গিয়ে দিনেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হবে ইরানি ফুটবলার ও অফিশিয়ালদের, যা টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি ও মাঠের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। আগামী ১১ জুন পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে একদিকে যেমন দেখা যাবে ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের তারকা লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডদেরও। বিশ্বকাপের আগে নজর থাকছে যেসব ফুটবলারের দিকে: মেসির শেষ নাচ? ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছেন তিনি। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্যের কারণে এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম মেসি। ইয়ামালের বিশ্বকাপ অভিষেক: মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছেন স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ইউরো জয়ের পর এবার প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতায় ইয়ামাল হতে পারেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। এমবাপ্পের সামনে ইতিহাস: ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল ফুটবলার। ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপা হারিয়েছিলেন। এবার তাঁর লক্ষ্য বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার। পাশাপাশি ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে। হালান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ নরওয়ের: গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবেন। বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আসছেন তিনি। তাঁর গোল করার ক্ষমতা নরওয়েকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। রোনালদোর শেষ সুযোগ? ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। ক্লাব ও জাতীয় দলে অসংখ্য সাফল্য পেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই পর্তুগাল অধিনায়কের সামনে এটি স্বপ্নপূরণের শেষ বড় সুযোগ। ইংল্যান্ডের আশা কেইন: ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে আসছেন। ২০১৮ সালে গোল্ডেন বুট জেতা এই স্ট্রাইকার আবারও সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকার অন্যতম দাবিদার। ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণ ভিনিসিয়ুস: বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা উইঙ্গারে পরিণত হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে তাঁর ওপরই থাকবে আক্রমণের মূল দায়িত্ব। ঘানার নতুন তারকা সেমেনিয়ো: অঁতোয়ান সেমেনিয়ো সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ঘানার হয়ে বিশ্বকাপে দলের প্রধান আক্রমণভাগের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পারেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তুরস্কের ভরসা আরদা গুলের: দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আরদা গুলের। রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ তারকা বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রতিভার পূর্ণ প্রদর্শন করতে মুখিয়ে আছেন। সালাহর অসমাপ্ত স্বপ্ন: মোহাম্মদ সালাহ ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব বড় সাফল্য পেয়েছেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা এখনও অধরা। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে মিসরকে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য থাকবে তাঁর। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক অনন্য লড়াই। মেসি-রোনালদোর বিদায়ী অধ্যায়ের পাশাপাশি ইয়ামাল, এমবাপ্পে, হালান্ড ও ভিনিসিয়ুসদের নতুন যুগের সূচনাও দেখতে পারে ফুটবল বিশ্ব।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এখনো কোনো এশীয় দল ফাইনালে উঠতে পারেনি। তবে প্রতি আসরেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে আসছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও মহাদেশটির সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপে সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্য দক্ষিণ কোরিয়ার। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। এরপর আর সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি না হলেও ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়ে আসছে দলটি। এবারের আসরেও তাদের কাছ থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশা রয়েছে সমর্থকদের। অন্যদিকে জাপান এখনো দ্বিতীয় পর্বের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটির উন্নতি চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা এমন একটি দল গড়ে তুলেছে, যার অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলছেন। ফলে এবারের বিশ্বকাপে জাপানকে নিয়ে প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে পরের ধাপে ওঠার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। একই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে জাপানও। দুই দলই মনে করছে, সঠিক দিনে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে বড় দলগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। জাপানের শিবিরে কিছুটা হতাশা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দলটির আত্মবিশ্বাসে বড় প্রভাব ফেলেনি। দলটির কোচ বিশ্বাস করেন, বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়েই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা সম্ভব। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞ তারকা সন হিউং-মিন। ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে ভালো ফলের আশা করছে দলটি। এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় দলকে স্মরণীয় সাফল্য এনে দেওয়ার বাড়তি প্রেরণাও রয়েছে তার সামনে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো এখনো স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া আবারও প্রমাণ করতে চায় যে এশিয়ার ফুটবলও বড় আসরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম।