প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করা প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াস সোমবার নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর জাহাজটির যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।
কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে জাহাজটি বন্দরে নোঙর করতে পারে। পরে জাহাজে থাকা ২৫ জন ক্রু সদস্য ও দুইজন চিকিৎসাকর্মীসহ মোট ২৭ জনকে নামিয়ে দেওয়া হবে। বেঁচে থাকা অল্পসংখ্যক ক্রুকে কয়েক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
জাহাজটিতে হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এটি কোভিড-১৯-এর মতো মহামারির ঝুঁকি তৈরি করছে না। সংস্থাটির মতে, সাধারণ মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বর্তমানে খুবই সীমিত।
গত ১২ মে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভাইরাসটির সুপ্তিকাল কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আরও আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ছয়জনের শরীরে হান্টা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আরও একজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংক্রমণের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে কানাডাতেও এক যাত্রীর শরীরে প্রাথমিক পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে উচ্চ সতর্কতা জারি করে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরবর্তীতে দাবি করে, তাদের বিমানবাহিনী ইরান থেকে নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে নতুন করে আরও উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আল জাজিরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স। রোববার (৭ জুন) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক সাক্ষাৎকারে জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পরও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আগামী দিনগুলোতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গত মাসের শেষদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই পদক্ষেপের পরই ফ্রান্সের এই কড়া অবস্থান সামনে আসে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতার জন্য দায়ীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স। এসব প্রতিষ্ঠান বসতি স্থাপনকারীদের সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিম তীরের চলমান উত্তেজনা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং সহিংসতা কমানোর আহ্বান জানায়। সূত্র: রয়টার্স
টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটডান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং সম্পদের পরিমাণে ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। সাম্প্রতিক সম্পদ বৃদ্ধির ফলে চীনের ধনকুবেরদের তালিকায় নিজের শীর্ষ অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে আম্বানি এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন। ঝ্যাং ইমিং ২০১২ সালে বাইটডান্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে টিকটক ও এর চীনা সংস্করণ ডউইন বাইটডান্সের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রযুক্তি খাতে কোম্পানিটির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকটক নিয়ে রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাইটডান্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কোম্পানিটির মূল্যায়ন বাড়াতে সহায়তা করেছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপরও। এদিকে, ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি। অবকাঠামো, বন্দর, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ব্যবসার সম্প্রসারণ এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ঝ্যাং ইমিংয়ের উত্থান সেই প্রবণতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বর্তমানে এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম স্থানে গৌতম আদানি, দ্বিতীয় স্থানে ঝ্যাং ইমিং এবং তৃতীয় স্থানে মুকেশ আম্বানি রয়েছেন। এছাড়া বৈশ্বিক ধনীদের তালিকাতেও ঝ্যাং ইমিংয়ের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।