অন্যান্য

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল বাণিজ্যে চীনের কঠোর অবস্থান

মারিয়া রহমান মে ১০, ২০২৬
সি চিন পিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প।ফাইল ছবি: এএফপি
সি চিন পিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প।ফাইল ছবি: এএফপি

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করে। ২০২১ সালে তৈরি এক আইনের আওতায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য বিদেশি আইনের অন্যায্য চাপ ঠেকানো।

সহজ করে বললে, এই নির্দেশে বলা হয়েছে—চীনের কিছু তেল শোধনাগারের ওপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা চীনের ভেতরে মানা যাবে না, কার্যকর করা যাবে না।

যে পাঁচটি চীনা রিফাইনারিকে নিশানা করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (দালিয়ান), শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই শিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংসিং কেমিক্যাল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তারা ইরান থেকে তেল কিনছে।


চীনের এই পদক্ষেপ শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়। এর আগে চীন অনেক সময় মুখে আপত্তি জানিয়েছে, কিন্তু এবার তারা সরাসরি আইন করে সে আপত্তির বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ তারা জানিয়ে দিল—ইরানের সঙ্গে তেল–বাণিজ্য রক্ষায় তারা আইনি শক্তিও প্রয়োগ করবে।

এদিকে আমেরিকা অনেক দিন ধরেই ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল—ইরানের তেল বিক্রি কমিয়ে দেওয়া।

গত এপ্রিলের ২৪ তারিখে হেংলি পেট্রোকেমিক্যালকে আমেরিকার কালোতালিকায় তোলা হয়। বলা হয়, তারা বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কিনেছে, এমনকি গোপন জাহাজ ব্যবস্থার মাধ্যমেও লেনদেন করেছে। তবে তাদের কিছু সময় দেওয়া হয় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য।

আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার। তা হলো—চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য ইরানের তেল কেনা কঠিন করে তোলা এবং অন্য দেশগুলোকেও ভয় দেখানো, যাতে তারা এই ধরনের লেনদেন না করে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইরানের তেল তুলনামূলক সস্তা। তাই চীনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলোর কাছে এটি খুব আকর্ষণীয়। অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতির জন্য এই তেল বিক্রি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সম্পর্ক শুধু ব্যবসা নয়, বরং তা রাজনীতি, জ্বালানিনিরাপত্তা এবং বড় শক্তির লড়াইয়ের অংশ।

এই অবস্থায় চীনের নতুন নির্দেশটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বলা হয়েছে—আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা তারা মানে না। এমনকি দেশের ভেতরে কেউ যদি তা মানতে চায়, সেটাও আইনত বাধা দেওয়া হবে।

চীন এর জন্য আরেকটি আইনও ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে তারা বিদেশি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নিজেদের কোম্পানিকে রক্ষা করতে পারে। এর ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালাতে পারবে, আর অযথা ভয় পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেবে না।

এই পদক্ষেপের বড় লক্ষ্য আমেরিকার ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ দুর্বল করা। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সরাসরি আমেরিকার নাগরিকদের জন্য নয়, বরং অন্য দেশের কোম্পানিগুলোকেও চাপ দেয়, যাতে তারা নিষিদ্ধ দেশের সঙ্গে ব্যবসা না করে। চীন ঠিক এই চাপটাই ভাঙতে চাইছে।

চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একধরনের সুরক্ষা। এতে বলা হচ্ছে—আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা বৈধ নয়, তাই তা মানার দরকার নেই। এমনকি বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও সতর্ক করা হচ্ছে—যদি তারা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চীনা কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে চীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

এর ফলে চীন ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও এগোতে পারে। ইরানের সঙ্গে তেল–বাণিজ্যে তারা নিজেদের মুদ্রা ব্যবহার করতে পারে, বা অন্য বিকল্প পদ্ধতিতে লেনদেন করতে পারে।

তবে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক থাকবে। তারা হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা এড়িয়ে চলবে বা নিজেদের কাজ ভাগ করে নেবে। একদিকে থাকবে আমেরিকা, অন্যদিকে চীন। ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্নতা না হলেও ব্যবসার পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠবে।

চীনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে জ্বালানিনিরাপত্তার বড় ভূমিকা আছে। তাদের অনেক তেল আসে এমন দেশ থেকে, যেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। তাই এই সরবরাহ চালু রাখা তাদের জন্য জরুরি।

ইরানের তেল চীনকে সুবিধা দেয়—খরচ কমায়, বিকল্প বাড়ায় এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষির শক্তি বাড়ায়। আবার চীনের বাজার ইরানের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সম্পর্ক চট করে ভাঙা কঠিন।

এই নির্দেশ তাই শুধু আইনি সিদ্ধান্ত নয়, একটি কৌশলগত বার্তাও। এতে বলা হচ্ছে—চীন তার অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত এলে চুপ করে থাকবে না।


অনেক দিন ধরে চীন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা লাভও করেছে। যেমন—তারা কম দামে তেল কিনতে পেরেছে। কিন্তু এবার তারা সরাসরি মোকাবিলার পথে হাঁটছে। এতে বোঝা যায়, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

ইরানের জন্য এটি ভালো খবর। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব দেশ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মানে না। আর আমেরিকার জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ, কারণ এতে তাদের চাপ প্রয়োগ কঠিন হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে, চীনের এই পদক্ষেপ একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার লড়াই শুধু অর্থনৈতিক থাকবে না, আইনি লড়াইও বাড়বে।

এখন দেখার বিষয়—চীন কতটা কঠোরভাবে এই আইন বাস্তবায়ন করে। যদি তারা শক্তভাবে আইনটি প্রয়োগ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সমস্যা তৈরি হবে। আর যদি শুধু কথার মধ্যে থাকে, তাহলে এটি মূলত রাজনৈতিক বার্তাই হয়ে থাকবে।

বিশ্ব তেল বাজারের জন্যও এটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের ব্যবসা এখন আরও বেশি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে, আর আর্থিক ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনাটি দেখাচ্ছে—একটি বড় অর্থনীতির বিরুদ্ধে একতরফা চাপ সব সময় কাজ করে না। আর চীন দেখিয়ে দিচ্ছে—আইন ব্যবহার করেও কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

দীর্ঘ মেয়াদে এটি হয়তো শুধু কয়েকটি কোম্পানিকে ঘিরে ঘটনা হিসেবে থাকবে না। বরং এটি এমন এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত, যেখানে এক দেশের চাপের জবাব অন্য দেশ আইনের মাধ্যমে দেবে।

উমুদ শোকরি জ্বালানি কৌশলবিদ ও গালফ স্টেট অ্যানালিটিকস-এর উপদেষ্টা।

মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য আসতে পারে স্বস্তির খবর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বারবার পরীক্ষার তারিখ পেছানোয় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তবে আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পরীক্ষার্থীদের এ অপেক্ষা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। চলতি মাসেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ঠিক কবে ফল প্রকাশ করা হবে, তার দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ২০ তারিখের (জুলাই) মধ্যে ফল প্রকাশের চেষ্টা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। এখন ২৭ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে ফল রেডি করে ফেলব। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন বলবে, সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ড যদি ২৮ তারিখের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে তাহলে চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সেটা হতে পারে ৩০ জুলাই। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল; কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি: সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মো. সাহাবুদ্দিন: চমক জাগানো উত্থান, করুণ প্রস্থান

ছবি: সংগৃহীত

সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে? রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে প্রতিক্রিয়া জানালেন জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেল।    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   শফিকুর রহমান বলেন, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) কী কারণে পদত্যাগ করেছেন- সে বিষয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ আমরা আগেই বিবেচনায় নিয়েছি- তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।   এই নেতা বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। এবং আশ্বস্ত তাকে করছি, তিনি যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আশা করি ন্যায়নিষ্ঠ, নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারো প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব করবেন না এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করবেন। একদিনের জন্যও যদি তিনি দায়িত্ব পালন করেন, তবুও আমরা চাই তিনি একইভাবে দায়িত্ব পালন করুন। তিনি যদি এভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করি।   তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু এর মধ্যেই সংসদের অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে, তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করি। সময় এলে আমাদের ভূমিকা কী হবে, তা আপনারা দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক, এটাই সবার প্রত্যাশা। সংবিধান অনুযায়ী তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই এ সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। তাই এখানে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই কোনো সংকট তৈরি না হোক। তবে জনগণের যে মৌলিক প্রত্যাশা, একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ। সেদিকে নবগঠিত সংসদ এখনো এগোয়নি। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।   এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি তার বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাসযোগ্য (ক্রেডিবল) আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করব, ইনশাআল্লাহ।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হবে। যিনি প্রার্থী হবেন, তার প্রস্তাবক, সমর্থক ও সম্মতি থাকবে। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আমরা রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করতে পারে এমন রাষ্ট্রপতি চাই, কোনো তোষামোদকারী নয়। আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তা তোষামোদের সংস্কৃতি শেষ করার জন্যই। যার যার অবস্থানে সবাই মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, অন্য কারও নির্দেশে নয়; নীতি মেনে চলবেন। রাষ্ট্রপতিও রাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, অন্য কারও কাছে নিজের বিবেক সমর্পণ করবেন না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।   জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজকে তার বক্তব্যে জেনেছি, তিনি গুরুতর অসুস্থ, মাঝে মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে ও বিশ্রামে থাকতে চান। বিষয়টি সরকার দেখবে, আমরাও খেয়াল রাখব। তবে আমি মনে করি, সব ধরনের চিকিৎসাই দেশে সম্ভব। আমার নিজেরও একটি জটিল রোগ হয়েছিল, চিকিৎসকেরা বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি যাইনি। এখানেই চিকিৎসা নিয়েছি। আমি চাই সবাই দেশেই চিকিৎসা নিক। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা যেতে পারে।   তিনি আরও বলেন, তার দায়ভার আছে, তিনি তা অস্বীকার করতে পারেন না। অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি একটি কথাও বলেননি, ‘এটা থামাও’, ‘এটা অন্যায়’, ‘জনগণের ওপর জুলুম’ এ ধরনের কোনো বক্তব্য আমরা তার মুখে শুনিনি। নীরবে তিনি সমর্থন দিয়েছেন।   আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, সবার ক্ষেত্রেই চাই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, যেই হোন না কেন, সবাই যেন দেশের ভেতরেই চিকিৎসা নেন। নির্বাচিত ব্যক্তিরা যদি সবাই বিদেশে চলে যান, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হবে কীভাবে? দেশের চিকিৎসকেরা আস্থা ফিরে পাবেন কীভাবে? তারা তাদের কর্তব্য বুঝবেন কীভাবে? তাই আমাদের সবারই দেশে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৪, ২০২৬

ভ্রমণের রোমাঞ্চ নষ্ট করে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া : জরিপ

ছবি : সংগৃহীত

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রীসহ সাংবাদিক আশফাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে দিল আদালত

ছবি: সংগৃহীত
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা, কারাগারে এক আসামি

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।    বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।    মামলার আসামিরা হলেন—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।   এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না।   এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।   বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।    এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।   এদিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারকে চাপে ফেলতে জামায়াতের কৌশল কী?

ছবি: সংগৃহীত

তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে এমপি নজরুলের বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে জামায়াত

স্ত্রী দাবি করা নারীসহ গাজী নজরুল ইসলাম ও উম্মে সালমা। ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি চাকরির সুপারিশ? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডাকসু নেত্রী

0 Comments