চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করে। ২০২১ সালে তৈরি এক আইনের আওতায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য বিদেশি আইনের অন্যায্য চাপ ঠেকানো।
সহজ করে বললে, এই নির্দেশে বলা হয়েছে—চীনের কিছু তেল শোধনাগারের ওপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা চীনের ভেতরে মানা যাবে না, কার্যকর করা যাবে না।
যে পাঁচটি চীনা রিফাইনারিকে নিশানা করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (দালিয়ান), শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই শিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংসিং কেমিক্যাল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তারা ইরান থেকে তেল কিনছে।
চীনের এই পদক্ষেপ শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়। এর আগে চীন অনেক সময় মুখে আপত্তি জানিয়েছে, কিন্তু এবার তারা সরাসরি আইন করে সে আপত্তির বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ তারা জানিয়ে দিল—ইরানের সঙ্গে তেল–বাণিজ্য রক্ষায় তারা আইনি শক্তিও প্রয়োগ করবে।
এদিকে আমেরিকা অনেক দিন ধরেই ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল—ইরানের তেল বিক্রি কমিয়ে দেওয়া।
গত এপ্রিলের ২৪ তারিখে হেংলি পেট্রোকেমিক্যালকে আমেরিকার কালোতালিকায় তোলা হয়। বলা হয়, তারা বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কিনেছে, এমনকি গোপন জাহাজ ব্যবস্থার মাধ্যমেও লেনদেন করেছে। তবে তাদের কিছু সময় দেওয়া হয় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য।
আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার। তা হলো—চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য ইরানের তেল কেনা কঠিন করে তোলা এবং অন্য দেশগুলোকেও ভয় দেখানো, যাতে তারা এই ধরনের লেনদেন না করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইরানের তেল তুলনামূলক সস্তা। তাই চীনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলোর কাছে এটি খুব আকর্ষণীয়। অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতির জন্য এই তেল বিক্রি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সম্পর্ক শুধু ব্যবসা নয়, বরং তা রাজনীতি, জ্বালানিনিরাপত্তা এবং বড় শক্তির লড়াইয়ের অংশ।
এই অবস্থায় চীনের নতুন নির্দেশটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বলা হয়েছে—আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা তারা মানে না। এমনকি দেশের ভেতরে কেউ যদি তা মানতে চায়, সেটাও আইনত বাধা দেওয়া হবে।
চীন এর জন্য আরেকটি আইনও ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে তারা বিদেশি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নিজেদের কোম্পানিকে রক্ষা করতে পারে। এর ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালাতে পারবে, আর অযথা ভয় পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেবে না।
এই পদক্ষেপের বড় লক্ষ্য আমেরিকার ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ দুর্বল করা। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সরাসরি আমেরিকার নাগরিকদের জন্য নয়, বরং অন্য দেশের কোম্পানিগুলোকেও চাপ দেয়, যাতে তারা নিষিদ্ধ দেশের সঙ্গে ব্যবসা না করে। চীন ঠিক এই চাপটাই ভাঙতে চাইছে।
চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একধরনের সুরক্ষা। এতে বলা হচ্ছে—আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা বৈধ নয়, তাই তা মানার দরকার নেই। এমনকি বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও সতর্ক করা হচ্ছে—যদি তারা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চীনা কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে চীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।
এর ফলে চীন ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও এগোতে পারে। ইরানের সঙ্গে তেল–বাণিজ্যে তারা নিজেদের মুদ্রা ব্যবহার করতে পারে, বা অন্য বিকল্প পদ্ধতিতে লেনদেন করতে পারে।
তবে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক থাকবে। তারা হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা এড়িয়ে চলবে বা নিজেদের কাজ ভাগ করে নেবে। একদিকে থাকবে আমেরিকা, অন্যদিকে চীন। ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্নতা না হলেও ব্যবসার পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠবে।
চীনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে জ্বালানিনিরাপত্তার বড় ভূমিকা আছে। তাদের অনেক তেল আসে এমন দেশ থেকে, যেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। তাই এই সরবরাহ চালু রাখা তাদের জন্য জরুরি।
ইরানের তেল চীনকে সুবিধা দেয়—খরচ কমায়, বিকল্প বাড়ায় এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষির শক্তি বাড়ায়। আবার চীনের বাজার ইরানের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সম্পর্ক চট করে ভাঙা কঠিন।
এই নির্দেশ তাই শুধু আইনি সিদ্ধান্ত নয়, একটি কৌশলগত বার্তাও। এতে বলা হচ্ছে—চীন তার অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত এলে চুপ করে থাকবে না।
অনেক দিন ধরে চীন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা লাভও করেছে। যেমন—তারা কম দামে তেল কিনতে পেরেছে। কিন্তু এবার তারা সরাসরি মোকাবিলার পথে হাঁটছে। এতে বোঝা যায়, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
ইরানের জন্য এটি ভালো খবর। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব দেশ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মানে না। আর আমেরিকার জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ, কারণ এতে তাদের চাপ প্রয়োগ কঠিন হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, চীনের এই পদক্ষেপ একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার লড়াই শুধু অর্থনৈতিক থাকবে না, আইনি লড়াইও বাড়বে।
এখন দেখার বিষয়—চীন কতটা কঠোরভাবে এই আইন বাস্তবায়ন করে। যদি তারা শক্তভাবে আইনটি প্রয়োগ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সমস্যা তৈরি হবে। আর যদি শুধু কথার মধ্যে থাকে, তাহলে এটি মূলত রাজনৈতিক বার্তাই হয়ে থাকবে।
বিশ্ব তেল বাজারের জন্যও এটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের ব্যবসা এখন আরও বেশি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে, আর আর্থিক ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনাটি দেখাচ্ছে—একটি বড় অর্থনীতির বিরুদ্ধে একতরফা চাপ সব সময় কাজ করে না। আর চীন দেখিয়ে দিচ্ছে—আইন ব্যবহার করেও কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
দীর্ঘ মেয়াদে এটি হয়তো শুধু কয়েকটি কোম্পানিকে ঘিরে ঘটনা হিসেবে থাকবে না। বরং এটি এমন এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত, যেখানে এক দেশের চাপের জবাব অন্য দেশ আইনের মাধ্যমে দেবে।
উমুদ শোকরি জ্বালানি কৌশলবিদ ও গালফ স্টেট অ্যানালিটিকস-এর উপদেষ্টা।
মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বর্তমান সময়ে গৃহস্থালির বিদ্যুৎ খরচের বড় একটি অংশ আসে ফ্রিজ থেকে। কারণ এটি এমন একটি যন্ত্র, যা দিনে ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে। ফলে ব্যবহারজনিত ছোটখাটো ভুলও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। অনেকেই মনে করেন, পুরোনো ফ্রিজ হওয়ার কারণেই বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে বাস্তবে নতুন বা পুরোনো উভয় ধরনের ফ্রিজের ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ ভুল বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতন ব্যবহার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ফ্রিজের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে শুধু যন্ত্রের মানই নয়, ব্যবহারকারীর অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে ফ্রিজের আয়ুও দীর্ঘ হবে। ফ্রিজ ব্যবহারে যেসব অভ্যাস বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক ফ্রিজের ভেতর পরিকল্পনা করে সাজান প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে খুঁজে পাওয়া গেলে দরজা দীর্ঘ সময় খোলা রাখতে হয় না, ফলে ঠান্ডা বাতাস কম বের হয়। ফ্রিজ পুরোপুরি খালি রাখবেন না একেবারে খালি ফ্রিজের তুলনায় মাঝারি পরিমাণ খাবার থাকা ফ্রিজ তাপমাত্রা ধরে রাখতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ডিফ্রস্ট করুন নন-ফ্রস্ট প্রযুক্তি না থাকলে ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমে বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর বরফ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফ্রিজের ভেন্ট বা বাতাস চলাচলের পথ খোলা রাখুন খাবার দিয়ে ভেন্ট ঢেকে দিলে ঠান্ডা বাতাস সমানভাবে ছড়াতে পারে না, ফলে কুলিং সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়ে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় দরজা খোলা থেকে বিরত থাকুন লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজের দরজা বন্ধ রাখলে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা তাপমাত্রা ধরে রাখা সম্ভব হয়। ফ্রিজের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন দেয়াল বা আসবাবপত্রের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখলে তাপ বের হতে সমস্যা হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিজের আকার নির্বাচন করুন পরিবারের সদস্যসংখ্যার তুলনায় অনেক বড় ফ্রিজ ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শুধু ফ্রিজ নয়, ঘরের সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রই সচেতনভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। তবে যেহেতু ফ্রিজ সারাক্ষণ চালু থাকে, তাই এটির ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদে বড় সাশ্রয় এনে দিতে পারে। তাদের পরামর্শ, ফ্রিজের বয়স অনেক বেশি হলে বা ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির মডেল ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর পাশাপাশি ফ্রিজের কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) বিকালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে বড়বাড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এই প্রবীণ রাজনীতিকের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ বালিয়াডাঙ্গীতে সমবেত হন। জানাজার আগে মরহুমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে উপস্থিত হন তার ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বালিয়াডাঙ্গীর নিজ বাসভবনে পৌঁছান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া এই নেতা শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক এই সংসদ সদস্য। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবা দবিরুলের জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন। শনিবার সকালে তিনি কারাগার থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন। জানাজায় অংশ নিয়ে সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, বাবা সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৫ বছর এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। ওনার যদি কোনও ভুলত্রুটি থাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। তিনি সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
রাতে মোবাইল হাতে শুরু হয়েছিল ‘মজা করে’ একটি খেলা। প্রথমে জিতলেন কয়েকশ টাকা। বিকাশে টাকা ঢুকতেই বাড়লো আত্মবিশ্বাস। এরপর আরও বড় বাজি, আরও বড় স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে গেলো সঞ্চয়, ঋণ হলো, ভাঙলো পরিবার। এমন গল্প এখন শুধু শহরের নয়, গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, রিকশার গ্যারেজ থেকে অভিজাত ড্রয়িংরুম— সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য জাল। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ানো আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আর সহজ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ জুয়া ও বাজি ধরার আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ গ্যাং বা নেটওয়ার্ক (বেটিং চক্র) বাংলাদেশে তৈরি করেছে হাজার কোটি টাকার এক ভয়ংকর অর্থনীতি। এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা, বাড়ছে ঋণ, প্রতারণা, খুন, আত্মহত্যা ও অর্থপাচারের ঘটনা। পরিস্থিতিকে ‘সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই ১৮৬৭ সালের পুরানো আইন বাতিল করে অনলাইন জুয়া দমনে আনতে যাচ্ছে কঠোর ও আধুনিক নতুন আইন। ফুটপাত থেকে ড্রয়িংরুম: সর্বত্র অনলাইন জুয়ার থাবা একসময় জুয়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা পৌঁছে গেছে হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন অনলাইন বেটিংয়ে। ফুটপাতের চা-দোকানি, সেলুন কর্মী, হকার, সিকিউরিটি গার্ড, বিক্রয়কর্মী, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজিচালক, এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দিনের বড় একটি সময় কাটাচ্ছেন অনলাইনে বাজি ধরে। শুরুতে 'ফ্রি বোনাস', 'গ্যারান্টি জয়' কিংবা ‘প্রথম ডিপোজিটে দ্বিগুণ টাকা’র মতো অফারে আকৃষ্ট করা হয় ব্যবহারকারীদের। প্রথম দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু টাকা জিতিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এতে দ্রুতই তৈরি হয় আসক্তি। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেকেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধে অ্যাকশনে সিআইডি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত জুয়াড়ি ও স্থানীয় এজেন্ট গ্রেফতার হলেও আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি সূত্র জানায়, তাদের সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে তালিকা পাঠিয়েছে। এছাড়া অবৈধ লেনদেনে জড়িত ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক স্তরে পরিচালিত এই চক্রগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছে। সিআইডির তথ্যমতে, একটি চক্রই গত কয়েক মাসে দৈনিক গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করেছে, যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনাকারী একটি চক্রের মূলহোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বেটিং পরিচালনা করছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। জুয়ার নেশায় বাড়ছে খুন, আত্মহত্যা ও অপরাধ অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা এখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বাড়ছে খুন, আত্মহত্যা ও সহিংস অপরাধও। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার ধামরাইয়ে জুয়ার ঋণ শোধ করতে গিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা করে তার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে এক যুবক নিজের বাবা-মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠে। রাজধানীর কলাবাগানে জুয়ার টাকার জন্য পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও আলোড়ন তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধের সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুলিশের বক্তব্য ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, পুলিশের সাইবার টিমগুলো সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং জুয়ার সাইটগুলো বন্ধে কাজ করছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ গোপনে আসক্ত হয়ে পড়লে পুলিশের পক্ষে তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে আমাদের সাইবার মনিটরিং ও বিশেষ অভিযান চলছে। নিয়মিত জুয়ার সাইট শনাক্ত করে বিটিআরসিতে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বিষয়টিকে সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বলেন, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, প্রচারণা চালানো বা এজেন্ট হওয়া— তিনটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে কেউ যেন একে ডিজিটাল আসক্তিতে রূপ দিতে না পারে, সেজন্য পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয় রয়েছে। আসছে কঠোর ও আধুনিক আইন ১৮৬৭ সালের পুরোনো আমলের পুরনো জুয়া আইন দিয়ে বর্তমানের আধুনিক ডিজিটাল অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।