প্রবাসী

‘প্রবাসী কার্ড’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, থাকছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বহুল আলোচিত ‘প্রবাসী কার্ড’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা জানতে চাইছেন কারা আগে এই কার্ড পাবেন এবং এতে কী ধরনের সুবিধা মিলবে।

 

বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই বিশেষ পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রবাসী সংগঠন ও বিদেশে বিভিন্ন কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি মো. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে দেশের জন্য কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের জন্য আলাদা পরিচয় ও সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাহলে সেটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ হবে।’

 

আরেক প্রবাসী শরীফুল ইসলাম জানান, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। যদি এই কার্ডের মাধ্যমে দূতাবাস ও সরকারি সেবা দ্রুত পাওয়া যায়, তাহলে অনেক উপকার হবে।

 

মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত।

 

জাতীয় নাগরিক কমিটির মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র দেয়, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।

 

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে পিএলকেএসের হিসাব অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবাখাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এই প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

 

প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত এবং সরকার অনুমোদিত উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানো বাংলাদেশিরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর বৈধ পাসপোর্ট, কর্ম অনুমতি এবং নিবন্ধিত তথ্য রয়েছে, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম ধাপে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমঘন দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। কারণ এসব দেশ থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া দক্ষকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও পরবর্তী ধাপে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে আলোচনা চলছে।

 

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্রবাসী কার্ডে থাকবে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর পরিচয় ব্যবস্থা। এতে কার্ডধারীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি নম্বর, বিদেশে অবস্থানের তথ্য, কর্মক্ষেত্র এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই কার্ডের সঙ্গে অনলাইন ডাটাবেস সংযুক্ত করা হলে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাস বা সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

 

প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, বিমানবন্দর সেবায় বিশেষ সহায়তা, ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সেবায় অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগে সহায়তা, সরকারি বিভিন্ন সেবায় দ্রুততা, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক সুবিধা, জরুরি সহায়তা ও আইনি সহযোগিতা ও দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন সুবিধা।

 

এছাড়া ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা সুবিধা এবং সন্তানদের শিক্ষাবিষয়ক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গণমাধ্যমকে জানান, বিএমইটি কার্ডে যে তথ্যগুলো আছে, প্রবাসী কার্ডেও সেই বিষয়গুলো থাকবে। তবে এই কার্ডে আরও বাড়তি কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সিস্টেমও যুক্ত থাকবে এই কার্ডে।

 

তিনি জানান, অনেক সময় দেশের বাইরে যারা থাকে, তারা যে টাকা পাঠান সেটি অনেক সময় তাদের নিকটআত্মীয় বা পরিবারের লোকেরা খরচ করে ফেলেন। এই কার্ডটা চালু হলে পরিবার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারবে। আনলিমিটেড টাকা খরচ করতে পারবেন না।

 

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিভাগীয় শহর থেকে জেলা শহর পর্যন্ত প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী সিটি গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে যাদের কাছে এই প্রবাসী কার্ড থাকবে তারা প্রবাসী সিটিতে আবাসন বা প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে যে বিএমইটি কার্ড দেওয়া হয়েছিল, সেটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের খুব একটা কাজে আসেনি। নতুন করে এই কার্ড চালু করা হলে সেটিতে যেন নাগরিকরা সত্যিকারে উপকৃত হয়, সেই চিন্তাও করতে হবে সরকারকে।

 

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা সরকারের কাছেও নেই। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সেই হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অন্তত দেড় কোটি। এর বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি আছে কিন্তু তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।

 

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নতুন নতুন অনেক কার্ড চালু করেছে। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ একটি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সেবা কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সুবিধা পাবেন।

 

বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই চালু হয়েছিল বিএমইটি কার্ড। এই কার্ড ছাড়া কোনো শ্রমিক বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারবে না। বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, এই প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হবে।

 

সবমিলিয়ে, বহুল প্রত্যাশিত প্রবাসী কার্ড এখন প্রবাসীদের আলোচনার কেন্দ্রে। কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং ঘোষিত সুবিধাগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
নিহত মাফল। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মাফল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার (১৪ জুন) তার মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায়। নিহত মাফল মাদারগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, এক মাস ১২ দিন আগে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান। তবে গত ২৯ মে’র পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাদের দাবি, ড্রোন হামলায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের চাচা আনিস জানিয়েছেন, জীবিকার সন্ধানে তার ভাতিজা প্রায় দেড় মাস আগে রাশিয়াতে যান। একটি এজেন্সির মাধ্যমে তাকে সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেই যুদ্ধের ময়দানেই ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।    নিহতের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এক মাস ১২ দিন আগে রাশিয়ায় গিয়েছিল। সে ড্রোন হামলায় মারা গেছে। আমরা সরকারের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’   নিহতের বোন আছিয়া বলেন, ‘আমার ভাইসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি একসঙ্গে রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাদের আর্মি ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আমার ভাই অনেক অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। এখন আমাদের একটাই দাবি, সরকার যেন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনেন।’   মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘রাশিয়ায় মৃত্যুর খবর শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যে হাসনাত-সাদিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাটজিপিটি থেকে নেওয়া ভুয়া মামলা উদ্ধৃতির জেরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবীর সনদ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৭৯ জন অভিবাসী আটক

ছবি : সংগৃহীত
ইতালিতে কঠোর হচ্ছে আশ্রয় ও ডাবলিন প্রক্রিয়া

ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইতালি সরকার। ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন রি-ইমিগ্রেশন ডিক্রি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।   বিশেষ করে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশকারী, আশ্রয়প্রার্থী, ডাবলিন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত ব্যক্তি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ওপর এই আইনের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ইতালি সরকারের দাবি, নতুন এই ডিক্রির মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসন কমানো, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অতিরিক্ত কঠোরতা মানবাধিকার সংকট তৈরি করতে পারে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশকারী অথবা যাদের কোনো বৈধ লিগ্যাল স্ট্যাটাস নেই তাদের বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার বা বর্ডার ক্যাম্পে রাখা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে এসব ব্যক্তিকে।   এই সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, আশ্রয় আবেদন মূল্যায়ন এবং আবেদন বাতিল হলে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হতে পারে।   ছোট শিশু নিয়ে ইতালিতে প্রবেশকারী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী শিশুদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পরিবারগুলোকে আলাদা পরিবারভিত্তিক কেন্দ্রে রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, একা প্রবেশকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও কিশোরদের জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে।   তবে বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাবলিন রেগুলেশন অনুযায়ী, ইউরোপে যে দেশে প্রথম প্রবেশ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়া হয়, সাধারণত সেই দেশই আশ্রয় আবেদন পরিচালনা করে। নতুন ডিক্রির আওতায় ইতালি এখন ডাবলিন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে হাঁটছে।   অর্থাৎ, কেউ যদি অন্য ইউরোপীয় দেশ থেকে ইতালিতে আসে কিন্তু তার প্রথম রেজিস্ট্রেশন অন্য দেশে হয়ে থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত সেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।   নতুন নিয়মে ‘তৃতীয় নিরাপদ দেশ’ নীতির গুরুত্বও বাড়তে পারে। যদি কোনো আশ্রয়প্রার্থী এমন একটি দেশ হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করে যাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ইতালি তার আশ্রয় আবেদন গ্রহণ না করে সেই দেশেই ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে।   এ বিষয়ে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও আলবেনিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটক রাখা, দ্রুত ডিপোর্টেশন এবং সীমান্তে কঠোর নীতি আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে নতুন এই প্রক্রিয়া।   তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা রাজনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির এই নতুন অভিবাসন ডিক্রি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতেই নয়, বরং পুরো ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ যে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে এই নতুন আইন যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭০০ কোটি টাকা মেরে পালিয়ে দেশে কাতার প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে ১০০ কোটি টাকার লটারি জিতলেন প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে কর্মস্থলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে অগ্রগতি, সম্মতি দিল মস্কো

রাশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।   মস্কোয় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।   বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য দুই দেশ শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে।   বৈঠকে শুধু শ্রমবাজার নয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   এছাড়া কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে রাশিয়া একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে পাঠাতে সম্মত হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাংলাদেশ–রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীকে বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে ২ যুবক রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কর্মীদের মেডিকেল নিয়ে সৌদির কড়া আইন

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের সেবায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ হাইকমিশন

0 Comments