বিষণ্নতা কোনো জৈবিক অবস্থা নয়; বরং রোগনির্ণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের কয়েকটি স্বতন্ত্র ধরন। সম্প্রতি বিষণ্নতায় আক্রান্ত ২৬৩ জন মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পাঁচটি ভিন্ন ধরন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি ধরনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং উদ্বেগ, মানসিক আঘাত ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের মতো উপসর্গের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিষণ্নতা আক্রান্ত দুজন মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। একজন হয়তো ক্রমাগত উদ্বেগ ও বারবার নেতিবাচক চিন্তায় ভুগছেন, অন্যজনের মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ কিংবা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রবণতা। কিন্তু এই পার্থক্যগুলো কি তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপেও প্রতিফলিত হয়?
ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটি চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই বিষণ্নতার রোগনির্ণয় থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন একে অপরের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের পাঁচটি ধরন
গবেষকেরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের শক্তি এবং তাদের কার্যকলাপ কোন কোন কম্পাঙ্কে সমন্বিত হয়, তার ভিত্তিতে বিষণ্নতায় আক্রান্ত অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করেন।
প্রতিটি দলের মস্তিষ্কের সংযোগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গের সম্পর্কও পাওয়া গেছে—
গ্রুপ ১: শক্তিশালী সংযোগ ও গুরুতর উপসর্গ
এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে। এই ধরনটির সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একই নেতিবাচক চিন্তা বারবার করতে থাকার মতো একাধিক উপসর্গের সম্পর্ক ছিলো।
গ্রুপ ২: দুর্বল সংযোগ ও তুলনামূলকভাবে মৃদু বিষণ্নতা
এই দলের বৈশিষ্ট্য ছিল মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দুর্বল যোগাযোগ। অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণত বিষণ্নতার উপসর্গগুলো কম তীব্র ছিল।
গ্রুপ ৩: মস্তিষ্কজুড়ে দুর্বল সংযোগ ও মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ
এই দলের মানুষের মস্তিষ্কের বিস্তৃত অংশজুড়ে সংযোগের দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি— অর্থাৎ গুরুতর মানসিক আঘাতের পর দেখা দিতে পারে এমন মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলে বেশি স্পষ্ট ছিল।
গ্রুপ ৪: কোথাও শক্তিশালী, কোথাও দুর্বল সংযোগ এবং একাধিক সমস্যা
এই দলের মস্তিষ্কে কিছু অঞ্চলের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে, আবার অন্য কিছু অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল দুর্বল। এই ধরনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গুরুতর বিষণ্নতা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের বেশি সমস্যা এবং সামগ্রিক সুস্থতার নিম্নমানের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গ্রুপ ৫: সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত উপসর্গ
গবেষণায় শনাক্ত পাঁচটি দলের মধ্যে এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
এই দলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে, মানসিক আঘাত-সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রকট ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচটি দলের মস্তিষ্কের কার্যকলাপই সুস্থ অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে আলাদা ছিল। এই পার্থক্য শুধু সংযোগ শক্তিশালী না দুর্বল—তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মস্তিষ্কের কোন কোন অঞ্চল এতে যুক্ত ছিল এবং কী কী কম্পাঙ্কে তাদের কার্যকলাপ সমন্বিত হচ্ছিল, সেসব ক্ষেত্রেও দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে, এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিষণ্নতা নির্ণয় করা হলেও বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক কার্যপ্রণালিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।
সূত্র: সাইন্স ডেইলি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিষণ্নতা কোনো জৈবিক অবস্থা নয়; বরং রোগনির্ণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের কয়েকটি স্বতন্ত্র ধরন। সম্প্রতি বিষণ্নতায় আক্রান্ত ২৬৩ জন মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পাঁচটি ভিন্ন ধরন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি ধরনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং উদ্বেগ, মানসিক আঘাত ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের মতো উপসর্গের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিষণ্নতা আক্রান্ত দুজন মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। একজন হয়তো ক্রমাগত উদ্বেগ ও বারবার নেতিবাচক চিন্তায় ভুগছেন, অন্যজনের মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ কিংবা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রবণতা। কিন্তু এই পার্থক্যগুলো কি তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপেও প্রতিফলিত হয়? ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটি চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই বিষণ্নতার রোগনির্ণয় থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন একে অপরের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের পাঁচটি ধরন গবেষকেরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের শক্তি এবং তাদের কার্যকলাপ কোন কোন কম্পাঙ্কে সমন্বিত হয়, তার ভিত্তিতে বিষণ্নতায় আক্রান্ত অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করেন। প্রতিটি দলের মস্তিষ্কের সংযোগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গের সম্পর্কও পাওয়া গেছে— গ্রুপ ১: শক্তিশালী সংযোগ ও গুরুতর উপসর্গ এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে। এই ধরনটির সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একই নেতিবাচক চিন্তা বারবার করতে থাকার মতো একাধিক উপসর্গের সম্পর্ক ছিলো। গ্রুপ ২: দুর্বল সংযোগ ও তুলনামূলকভাবে মৃদু বিষণ্নতা এই দলের বৈশিষ্ট্য ছিল মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দুর্বল যোগাযোগ। অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণত বিষণ্নতার উপসর্গগুলো কম তীব্র ছিল। গ্রুপ ৩: মস্তিষ্কজুড়ে দুর্বল সংযোগ ও মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ এই দলের মানুষের মস্তিষ্কের বিস্তৃত অংশজুড়ে সংযোগের দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি— অর্থাৎ গুরুতর মানসিক আঘাতের পর দেখা দিতে পারে এমন মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলে বেশি স্পষ্ট ছিল। গ্রুপ ৪: কোথাও শক্তিশালী, কোথাও দুর্বল সংযোগ এবং একাধিক সমস্যা এই দলের মস্তিষ্কে কিছু অঞ্চলের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে, আবার অন্য কিছু অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল দুর্বল। এই ধরনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গুরুতর বিষণ্নতা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের বেশি সমস্যা এবং সামগ্রিক সুস্থতার নিম্নমানের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গ্রুপ ৫: সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত উপসর্গ গবেষণায় শনাক্ত পাঁচটি দলের মধ্যে এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এই দলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে, মানসিক আঘাত-সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রকট ছিল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচটি দলের মস্তিষ্কের কার্যকলাপই সুস্থ অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে আলাদা ছিল। এই পার্থক্য শুধু সংযোগ শক্তিশালী না দুর্বল—তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মস্তিষ্কের কোন কোন অঞ্চল এতে যুক্ত ছিল এবং কী কী কম্পাঙ্কে তাদের কার্যকলাপ সমন্বিত হচ্ছিল, সেসব ক্ষেত্রেও দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। সব মিলিয়ে, এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিষণ্নতা নির্ণয় করা হলেও বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক কার্যপ্রণালিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। সূত্র: সাইন্স ডেইলি
রাতে টানা আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও অনেক সময় শরীর ও মন সতেজ লাগে না। বরং ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্তি, ঝিমুনি কিংবা অবসাদ অনুভূত হতে পারে। এর পেছনে শুধু ঘুমের সময় কম হওয়াই দায়ী নয়; ঘুমের মান, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কিংবা শরীরের ভেতরে থাকা কোনো সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের ব্যাধি, ঘুমানোর সময়ের অনিয়ম, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ এবং রাতে অ্যালকোহল পান—এসব অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। আট ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্তি থাকে কেন? ঘুমের ক্ষেত্রে শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; ঘুম কতটা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন হচ্ছে, সেটিও সমান জরুরি। বিছানায় আট ঘণ্টা কাটালেও ঘন ঘন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে শরীর পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায় না। এমনকি এসব কারণে রাতে ঘুম ভাঙলেও অনেক সময় তা মনে থাকে না। ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মেও প্রভাব পড়তে পারে। মনোযোগ ধরে রাখা, স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাভাবনার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও দিনের বেলায় অবসন্নতা অনুভূত হয়। তাই শুধু ঘুমের সময় বাড়ালেই যে ক্লান্তি দূর হবে, তা নয়। বরং ঘুমের মান কমিয়ে দিচ্ছে এমন কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে হতে পারে ক্লান্তি ঘুমের পরও ক্লান্তি থাকার অন্যতম কারণ হতে পারে স্লিপ অ্যাপনিয়া। এটি এমন একটি ঘুমের ব্যাধি, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা শ্বাস নেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে ঘুম বারবার বিঘ্নিত হতে পারে, যদিও আক্রান্ত ব্যক্তি সব সময় পুরোপুরি জেগে ওঠেন না। স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা। মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া। দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীরে শক্তি না পাওয়া। এসব লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকা বা শ্বাস আটকে আসার মতো ঘটনা ঘটলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচিও দায়ী প্রতিদিন আলাদা সময়ে ঘুমাতে যাওয়া কিংবা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। যেমন, সপ্তাহের কর্মদিবসে রাত ১১টায় ঘুমাতে যাওয়া হলেও ছুটির দিনে রাত ২টায় ঘুমাতে গেলে শরীরের ঘুম-জাগরণের ছন্দে পরিবর্তন আসে। এই ধরনের সময়সূচিগত অমিলকে ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’ বলা হয়। এর ফলে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি কিংবা ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে। এ সমস্যা কমাতে প্রতিদিন, এমনকি ছুটির দিনেও, কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। পাশাপাশি সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোতে থাকলে শরীরের জৈবঘড়ি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি, চা কিংবা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করার অভ্যাস ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যাফেইন শরীরে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে সহজে ঘুমিয়ে পড়লেও ঘুমের গভীরতা ও মান কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, অ্যালকোহল পান করলে শুরুতে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হতে পারে। তবে রাতের পরের দিকে এটি ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্তি থেকে যেতে পারে। এ ছাড়া ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে পেটে অস্বস্তি বা বুকজ্বালা হতে পারে, যা ঘুমের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে। ক্লান্তি দূর করতে কী করবেন? পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি অনুভূত হলে কয়েকটি অভ্যাসে পরিবর্তন আনা যেতে পারে— প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা। ঘুমানোর আগে চা-কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা। রাতে অ্যালকোহল পান না করা। ঘুমানোর আগে ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা। শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা। দিনের বেলায় নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং সকালে প্রাকৃতিক আলোতে থাকা। এসব পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব কিংবা মনোযোগের সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ ঘুমের ব্যাধির পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার কারণেও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, ভালো ঘুমের জন্য শুধু আট ঘণ্টা সময় বরাদ্দ রাখাই যথেষ্ট নয়। ঘুমের মান, নিয়মিত সময়সূচি এবং শারীরিক সুস্থতা—সবকিছুর সমন্বয়েই ঘুম থেকে উঠে সতেজ বোধ করা সম্ভব।
কাজু, আখরোটের পাশাপাশি কাঠবাদাম অনেকের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে। ছোট্ট এই বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ফলে পরিমিত পরিমাণে কাঠবাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। প্রতিদিন কতগুলি কাঠবাদাম খাবেন? সাধারণভাবে এক মুঠো বাদাম খাওয়ার কথা বলা হয়৷ কিন্তু প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজন, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং মোট ক্যালোরির চাহিদা এক নয়। তাই প্রতিদিন ২০-২৩টি বাদাম খেতেই হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। কম পরিমাণেও নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কারণ কাঠবাদাম থাকা ফ্যাট মূলত স্বাস্থ্যকর হলেও এটিতে ক্যালোরি অনেক বেশি থাকে। শীতকালে কাঠবাদাম কেন উপকারী? কাঠবাদাম থাকা ভিটামিন ই শরীরে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এতে থাকা স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত বাদাম খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমার সম্পর্কও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে। কাঁচা, ভেজানো না কি রোস্টেড? অনেকে সকালে ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম খান। আবার কেউ কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড কাঠবাদাম পছন্দ করেন। কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড, বিশেষ করে অতিরিক্ত নুন বা চিনি ছাড়া কাঠবাদামও স্বাস্থ্যকর। কারা সাবধান হবেন? যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের কাঠবাদাম এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া যারা ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদেরও পরিমাণ মেপে খাওয়া উচিত। কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত আমন্ড খেলে মুশকিল৷