স্বাস্থ্য

সকালে ভাত খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর, কী বলছেন পুষ্টিবিদ?

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সকালের নাশতায় কী খাবেন, তা নিয়ে অনেকেরই থাকে নানা পছন্দ। কেউ রুটি, কেউ ওটস, আবার কেউ পাউরুটি কিংবা ফল দিয়ে দিনের শুরু করেন। তবে বাঙালির খাদ্যতালিকায় ভাতের প্রতি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত কিংবা গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি—অনেকের কাছেই সকালের নাশতায় এমন খাবার বেশ পছন্দের। ভাত খেলে পেট ভরা থাকে এবং শরীরে শক্তি মেলে। কিন্তু সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

 

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথশটসের এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ নেহা পাঠানিয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিমিত পরিমাণে ভাত খেলে তা সকালের নাশতার অংশ হতে পারে। তবে শুধু ভাত না খেয়ে এর সঙ্গে সবজি, ডিম কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার যোগ করলে নাশতাটি আরও সুষম হয়ে ওঠে।

 

সকালে ভাত খাওয়ার যেসব উপকারিতা রয়েছে

১. শরীরে শক্তি জোগায়

ভাত কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তাই সকালের নাশতায় ভাত খেলে দিনের শুরুতে দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যেতে পারে। যারা ভাত খেতে পছন্দ করেন এবং ভাত ছাড়া নাশতায় তৃপ্তি পান না, তাদের জন্যও এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

 

২. সবজি যোগ করলে বাড়ে পুষ্টিগুণ

শুধু ভাত না খেয়ে এর সঙ্গে মটরশুঁটি, শিম, গাজর, পালংশাক কিংবা কুমড়ার মতো সবজি যোগ করা যেতে পারে। এতে খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়। চালের ধরন অনুযায়ী এর পুষ্টিগুণেও পার্থক্য থাকে। যেমন, লাল চালে কিছু পুষ্টি উপাদান বেশি থাকতে পারে। তাই ভাতের সঙ্গে বিভিন্ন সবজি মিশিয়ে খেলে সকালের নাশতায় পুষ্টির বৈচিত্র্য আনা সম্ভব।

 

৩. দিনের শুরুতে শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দৈনন্দিন কাজ শুরু করতে শরীরের শক্তি প্রয়োজন হয়। এ সময় ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কতটা ভাত খাওয়া উচিত, তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজের ধরন ও শক্তির চাহিদার ওপর।

 

বিশেষ করে যাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় কিংবা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ভাত খাওয়ার পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ, ভাতের পরিমাণ ও ধরন রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভাতের সঙ্গে আঁশসমৃদ্ধ সবজি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে।

 

দিনের কোন সময়ে ভাত খাওয়া ভালো?

অনেকের ধারণা, রাতে ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। সকালের নাশতা কিংবা দুপুরের খাবারের মতো রাতের খাবারেও ভাত রাখা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো, সারা দিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা।

 

দিনের প্রথম ভাগে শরীরের কর্মতৎপরতা বেশি থাকায় এ সময়ে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অনেকের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে রাতে ভাত খেলেই ওজন বেড়ে যাবে, এমন ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  

 

ডায়াবেটিস কিংবা ওজনজনিত সমস্যা থাকলে নিজের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

 

তাহলে সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?

সকালের নাশতায় ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর বলা যায় না। বরং পরিমিত ভাতের সঙ্গে ডিম, মাছ, ডাল কিংবা সবজি যোগ করলে তা সুষম নাশতার অংশ হতে পারে। তবে শুধু ভাত খেয়ে নাশতা শেষ না করে খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

 

তাই সকালে ভাত খেতে পছন্দ করলে অভ্যাসটি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ ঠিক করুন এবং সঙ্গে রাখুন প্রোটিন ও সবজিসমৃদ্ধ খাবার। এতে পরিচিত এই খাবারই হয়ে উঠতে পারে সকালের নাশতার স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক বিকল্প।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সকালে ভাত খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর, কী বলছেন পুষ্টিবিদ?

সকালের নাশতায় কী খাবেন, তা নিয়ে অনেকেরই থাকে নানা পছন্দ। কেউ রুটি, কেউ ওটস, আবার কেউ পাউরুটি কিংবা ফল দিয়ে দিনের শুরু করেন। তবে বাঙালির খাদ্যতালিকায় ভাতের প্রতি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত কিংবা গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি—অনেকের কাছেই সকালের নাশতায় এমন খাবার বেশ পছন্দের। ভাত খেলে পেট ভরা থাকে এবং শরীরে শক্তি মেলে। কিন্তু সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?   স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথশটসের এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ নেহা পাঠানিয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিমিত পরিমাণে ভাত খেলে তা সকালের নাশতার অংশ হতে পারে। তবে শুধু ভাত না খেয়ে এর সঙ্গে সবজি, ডিম কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার যোগ করলে নাশতাটি আরও সুষম হয়ে ওঠে।   সকালে ভাত খাওয়ার যেসব উপকারিতা রয়েছে ১. শরীরে শক্তি জোগায় ভাত কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তাই সকালের নাশতায় ভাত খেলে দিনের শুরুতে দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যেতে পারে। যারা ভাত খেতে পছন্দ করেন এবং ভাত ছাড়া নাশতায় তৃপ্তি পান না, তাদের জন্যও এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।   ২. সবজি যোগ করলে বাড়ে পুষ্টিগুণ শুধু ভাত না খেয়ে এর সঙ্গে মটরশুঁটি, শিম, গাজর, পালংশাক কিংবা কুমড়ার মতো সবজি যোগ করা যেতে পারে। এতে খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়। চালের ধরন অনুযায়ী এর পুষ্টিগুণেও পার্থক্য থাকে। যেমন, লাল চালে কিছু পুষ্টি উপাদান বেশি থাকতে পারে। তাই ভাতের সঙ্গে বিভিন্ন সবজি মিশিয়ে খেলে সকালের নাশতায় পুষ্টির বৈচিত্র্য আনা সম্ভব।   ৩. দিনের শুরুতে শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দৈনন্দিন কাজ শুরু করতে শরীরের শক্তি প্রয়োজন হয়। এ সময় ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কতটা ভাত খাওয়া উচিত, তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজের ধরন ও শক্তির চাহিদার ওপর।   বিশেষ করে যাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় কিংবা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ভাত খাওয়ার পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ, ভাতের পরিমাণ ও ধরন রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভাতের সঙ্গে আঁশসমৃদ্ধ সবজি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে।   দিনের কোন সময়ে ভাত খাওয়া ভালো? অনেকের ধারণা, রাতে ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। সকালের নাশতা কিংবা দুপুরের খাবারের মতো রাতের খাবারেও ভাত রাখা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো, সারা দিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা।   দিনের প্রথম ভাগে শরীরের কর্মতৎপরতা বেশি থাকায় এ সময়ে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অনেকের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে রাতে ভাত খেলেই ওজন বেড়ে যাবে, এমন ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।     ডায়াবেটিস কিংবা ওজনজনিত সমস্যা থাকলে নিজের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   তাহলে সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর? সকালের নাশতায় ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর বলা যায় না। বরং পরিমিত ভাতের সঙ্গে ডিম, মাছ, ডাল কিংবা সবজি যোগ করলে তা সুষম নাশতার অংশ হতে পারে। তবে শুধু ভাত খেয়ে নাশতা শেষ না করে খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।   তাই সকালে ভাত খেতে পছন্দ করলে অভ্যাসটি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ ঠিক করুন এবং সঙ্গে রাখুন প্রোটিন ও সবজিসমৃদ্ধ খাবার। এতে পরিচিত এই খাবারই হয়ে উঠতে পারে সকালের নাশতার স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক বিকল্প।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি আছে যে ৫ খাবারে

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বিভাগে প্রাণহানি ২০০

ফাইল ছবি

ত্বকের কালো দাগ দূর করার সহজ উপায়

ফাইল ছবি
চোখের মেকআপে যেসব ভুল হতে পারে বিপদের কারণ

স্মোকি আই, ক্যাট-আই লাইনার কিংবা কাজল—চোখের সাজে নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন অনেকে। তবে সৌন্দর্য বাড়ানোর এই অভ্যাসে পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল না রাখলে চোখে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি কিছু ভুল অভ্যাস চোখের সংবেদনশীল অংশেরও ক্ষতি করতে পারে।   চোখের সাজে যে ৯ ভুল এড়িয়ে চলবেন ১. মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার: পুরোনো মাসকারা, আইলাইনার ও আইশ্যাডোতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এগুলো ব্যবহারে চোখ ওঠা, চোখের পাতায় সংক্রমণ ও প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত মাসকারা তিন মাস পরপর পরিবর্তন করা ভালো। অন্য প্রসাধনীগুলোও মেয়াদ ও অবস্থা বিবেচনায় নিয়মিত বদলাতে হবে।   ২. অন্যের প্রসাধনী ব্যবহার: অন্যের মাসকারা, আইলাইনার বা মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়াতে পারে। একবার ব্যবহার করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   ৩. চোখের পাতার ভেতরের কিনারায় আইলাইনার লাগানো: চোখের পাতার ভেতরের অংশে কাজল বা আইলাইনার লাগালে অশ্রুর তৈলাক্ত স্তর তৈরির জন্য দায়ী গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চোখের শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা ওঠানামার সমস্যা বাড়তে পারে।   ৪. মেকআপ না তুলে ঘুমানো: রাতে চোখের মেকআপ না তুললে চোখের পাতার গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চোখের পাতা প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘুমানোর আগে আলতোভাবে মেকআপ তুলে ফেলতে হবে।   ৫. চোখের খুব কাছে প্রসাধনী লাগানো: গ্লিটার বা রঙের কণা চোখে ঢুকে কর্নিয়ায় আঁচড় সৃষ্টি করতে পারে। কিছু প্রসাধনী অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। সহজে ঝরে পড়ে এমন প্রসাধনী চোখের পাপড়ির কাছাকাছি ব্যবহার না করাই ভালো।   ৬. অপরিষ্কার ব্রাশ ব্যবহার: মেকআপ ব্রাশে তেল, মৃত ত্বককোষ ও ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। তাই নিয়মিত ব্রাশ পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে।   ৭. অতিরিক্ত ওয়াটারপ্রুফ প্রসাধনী ব্যবহার: ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা ও আইলাইনার তুলতে বেশি শক্তিশালী রিমুভার এবং ঘষাঘষির প্রয়োজন হতে পারে। এতে চোখের পাতা জ্বালাপোড়া করতে পারে এবং পাপড়ি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।   ৮. চোখে সংক্রমণ থাকলেও মেকআপ করা: চোখে সংক্রমণ বা প্রদাহ দেখা দিলে মেকআপ ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।   ৯. উপযুক্ত প্রসাধনী ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম উপেক্ষা করা: চোখের জন্য পরীক্ষিত প্রসাধনী বেছে নেওয়া এবং পরিষ্কার মেকআপ রিমুভার দিয়ে আলতোভাবে মেকআপ তোলা জরুরি।   যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন মেকআপ ব্যবহারের পর চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া বা অতিরিক্ত পানি পড়াকে অবহেলা করা উচিত নয়। যে প্রসাধনী ব্যবহারের পর সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রসাধনীর মেয়াদ পরীক্ষা করা এবং পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা জরুরি।   সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, একদিনে ৭ জনের মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩

ছবি: সংগৃহীত

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা ও রক্ত পরীক্ষা জরুরি, চিকিৎসার ব্যয়ে বিপাকে রোগীরা

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে আধুনিক চিকিৎসার তথ্য ও সুযোগ বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই

সংগৃহীত ছবি
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে যে ৫ খাবার

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগে অসুবিধা, পেট ফাঁপা এবং পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো সম্ভব।     বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক পাঁচটি খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. শিলপা অরোরার পরামর্শের ভিত্তিতে খাবারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।   ১. কাঁচা পেঁপে পেঁপেতে রয়েছে প্যাপেইন নামের একটি এনজাইম, যা প্রোটিন ভাঙতে ও হজমে সহায়তা করে। এ ছাড়া পেঁপের খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পেঁপে খেলে মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।   ২. ভেজানো কিশমিশ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে খাদ্যতালিকায় ভেজানো কিশমিশ রাখা যেতে পারে। কিশমিশে থাকা খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক শর্করা অ্যালকোহল রয়েছে, যা অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে এবং মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগ তুলনামূলক সহজ হতে পারে।     ৩. শুকনো বরই বা প্রুন কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুকনো বরই, যা প্রুন নামেও পরিচিত, বেশ উপকারী একটি খাবার। এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের খাদ্যআঁশ রয়েছে। অদ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।     এ ছাড়া প্রুনে থাকা সরবিটল মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।     ৪. পর্যাপ্ত পানি পান কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ফলে মলত্যাগ কঠিন হয়ে পড়ে।   তাই সারা দিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে যাদের কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে চিকিৎসক তরল গ্রহণ সীমিত রাখতে বলেছেন, তাদের সেই নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।     ৫. আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার রাখুন। এসব খাবারে থাকা খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচলে সহায়তা করে।     তবে দীর্ঘদিন কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করে আঁশের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দিলে পেটে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো এবং পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।     কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরও কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বমি, পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা মল ও গ্যাস একেবারেই বের না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।   গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলেও নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৮৮ জন

ফাইল ছবি

সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু খাওয়ার যত উপকারিতা

ছবি: সংগৃহীত

হাড়ের শক্তি বাড়াতে কার্যকর হতে পারে লবঙ্গ, ইঙ্গিত গবেষণায়

0 Comments