শিক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

 

তিনি জানান, অক্টোবরের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে যে কোনো এক দিন ফল প্রকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

 

এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ৯ সেপ্টেম্বর এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।

 

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় এসব পরীক্ষা।

 

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী।

 

এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

 

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
ক্যাডেট কলেজের আদলে গড়ে উঠছে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ক্যাডেট কলেজের ধাঁচে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি দৃষ্টিনন্দন মডেল স্কুল ও কলেজ গড়ে তোলার এক বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ভাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য আলাদা দুটি সম্পূর্ণ আবাসিক সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তোলা হবে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে থাকবে থাকার বন্দোবস্ত, খেলাধুলা, সাঁতার শেখা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের দারুণ সব সুযোগ।   প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) বেশ আগেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও বিপুল অঙ্কের বাজেটের এই প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখেনি।   মূলত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এই মেগা প্রকল্পের মোট খরচের ৭০ শতাংশ বিদেশি সাহায্য থেকে আনার পরিকল্পনা করা হলেও সেই অর্থায়নের পথ এখনো পরিষ্কার নয়। এর ওপর ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় জমি জোগাড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং ভবিষ্যতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন খরচ কীভাবে আসবে—সেসব জটিল বিষয়েও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা তৈরি করা হয়নি।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২০ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশ এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৪৭ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বা ৭০ শতাংশ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কোরিয়ার ইডিসিএফ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীর কাছে সম্ভাব্য অর্থায়নের কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো সংস্থার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি এখনো নিশ্চিত নয়।   প্রকল্পের মোট ব্যয়কে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ভাগ করলে প্রতিটি স্কুল নির্মাণে গড় ব্যয় দাঁড়ায় ১১৪ কোটি টাকা। তবে এটি শুধু প্রকল্পের প্রস্তাবিত মূলধনী ব্যয়ের হিসাব।   প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে একটি বালক ও একটি বালিকা স্কুল নির্মাণ করা হবে। এই হিসাবে ৩০০টি বালক এবং ৩০০টি বালিকা স্কুল মিলিয়ে মোট প্রতিষ্ঠান হবে ৬০০টি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনুমানিক তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে জমির প্রয়োজন দাঁড়াবে প্রায় এক হাজার ৮০০ একর।   সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে জমির প্রাপ্যতা, স্থান নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করার কথা রয়েছে। সংসদীয় আসনভিত্তিক সমানসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কোনো এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি, জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে স্থান নির্বাচন কিভাবে হবে, তা প্রস্তাবে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে। একটি প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে। প্রতি শ্রেণিতে তিন থেকে চারটি শাখা এবং প্রতিটি শাখায় ৩৮ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসাবে ৬০০ প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ছয় লাখ।   শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বহুতল একাডেমিক ভবন, সাধারণ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের পরীক্ষাগার নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি থাকবে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকস চর্চার জন্য বিশেষ ল্যাব এবং ডিজিটাল শিক্ষাকেন্দ্র। ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট সংযোগ, ই-লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লার্নিং ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরীয়, আরবি ও ম্যান্ডারিন ভাষা শেখার জন্য ভাষা ল্যাব স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। থাকবে পাঠাগার, মিলনায়তন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সংগীত, নাচ, নাটক ও চিত্রকলার চর্চার সুযোগ। বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।   প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০০ আসনের আবাসিক হোস্টেল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। খেলার মাঠ, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা, ইনডোর গেমস এবং বহুমুখী ক্রীড়া অবকাঠামো রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সুইমিংপুল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখানো ও জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে এ উদ্যোগের।   শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় রান্নাঘর ও খাবার ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে জাপানের স্কুলভিত্তিক খাবার ও পুষ্টিশিক্ষা ব্যবস্থার আদলে কার্যক্রম পরিচালনার ধারণা দেওয়া হয়েছে।   প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ও প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষ, স্কুল নার্স, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। মেয়েদের জন্য পৃথক কমনরুম, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও মাসিককালীন স্বাস্থ্যসেবার সুবিধাও থাকবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য র‌্যাম্প, লিফট ও বাধামুক্ত চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সীমানাপ্রাচীর, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, সিসিটিভি ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হবে।   পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানি পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ৪৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন হবে। সেই হিসাবে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষক লাগবে প্রায় ২৭ হাজার। প্রস্তাবিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত হবে প্রায় ২২ঃ১। শিক্ষক ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরীক্ষাগার ও তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট জনবল, গ্রন্থাগারিক, নার্স, পুষ্টি ও খাবার ব্যবস্থাপনার কর্মী, হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক এবং নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন হবে।   প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে অর্থায়ন নিশ্চিত করা। মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশি সহায়তা থেকে সংগ্রহ করতে হবে।   এ ছাড়া ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি সংগ্রহ, পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা এবং একসঙ্গে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়গুলোও বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন সুবিধা চালু রাখতে বিপুল পরিচালন ব্যয় প্রয়োজন হবে। এসব ব্যয় কিভাবে এবং কোন খাত থেকে বহন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য চার কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। সমীক্ষায় প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, স্থান নির্বাচন, জমির প্রাপ্যতা, ব্যয়, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করার কথা। সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিস্তারিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করতে হবে।   পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় নেই। উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ ও অর্থায়নের সম্ভাবনা থাকলে নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ডিপিপি প্রণয়ন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্প এখনো পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা

ছবি:  সংগৃহীত

ঢাবির পাঁচ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বহুমুখী সহযোগিতা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর আলোচনা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষার সুযোগ দিতে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত’ এক আলোচনা সভায় বিষয়টি উঠে আসে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।   সভা সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চান শিক্ষামন্ত্রী। এই পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি ভর্তি পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।   শুরুতে কয়েকজন উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই প্রস্তাবে কিছুটা আপত্তি জানালেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন সম্মতি প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ হাজার ১৩ জন কম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সুযোগ নিয়ে চরম সংশয়

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার আধুনিকায়নে এআই ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্বারোপ শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

১৯১ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসায় উপস্থিত মাত্র ১১, সুপারকে ঢাকায় তলব

ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য মেলার ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মাঠে নির্মিত বাণিজ্য মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটক ভেঙে কর্মসূচি শেষ করেছেন শিক্ষার্থীরা।   সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে ফটক ভাঙার কাজ শেষ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে যান।   এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মেলার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসা দুটি ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়। এক পর্যায়ে মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটকটিও ভেঙে ফেলেন তারা।   বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে বাণিজ্য মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন করা যাবে না। মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।   শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করতে হবে এবং সেখানে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।   এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরদিন ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশ গেটসহ বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।   এ ছাড়া মাঠ উদ্ধারের দাবিতে কয়েক দফায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির শেষ ধাপের কার্যক্রম শুরু

ছবি: সংগৃহীত

ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অর্ক সাহা আটক

ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, ফল প্রকাশ ৩১ ডিসেম্বরে

0 Comments