জাতীয়

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে চীনের দেওয়া চ্যালেঞ্জে বিপাকে ভারত

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সমীকরণে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের প্রভাব কমে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর বিপরীতে, চীন দ্রুততার সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়ে ঢাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টায় চীনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে ভারত।

 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাপানভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ‘দ্যা জাপান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং প্রত্যর্পণ না করাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যস্থান পূরণে দ্রুত এগিয়ে এসেছে চীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল বেইজিংয়ে, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়, যার আওতায় ভারতের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উৎপাদন স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো জোশুয়া কারলান্টজিক বলেন, বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর-কেন্দ্রিক চীনের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তার মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আশ্রয় ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রকাশ্য বক্তব্যের লড়াই চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ঢাকার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অতিরঞ্জিত বলে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যেও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার ছেলে বর্তমান বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত।

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে ভারত আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে বাংলাদেশ। এক দশকের বেশি সময় পর জানুয়ারিতে ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির মনে করেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে—বিশেষ করে বিএনপি ক্ষমতায় এলে—ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও স্থিতিশীল হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখনো সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার সুযোগ দেয় না। বাংলাদেশ ভারতের বিদ্যুৎ ও গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল, আবার ভারতও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রাভীন দোন্থির মতে, চীন বাংলাদেশের জন্য বড় অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারছে, যা ভারত সহজে দিতে পারছে না। তবে ভারত এমন কিছু বাস্তব সুবিধা দেয়, যা বাংলাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যদি স্থিতিশীল ও বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশ চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় চীনের দ্রুত ও সুসংগঠিত কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারত যে চাপে পড়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

 

সব মিলিয়ে, নির্বাচন শেষে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনের উত্থান ও ভারতের প্রভাব ধরে রাখার লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে—যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ঢাকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
খামেনি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   স্পিকার গালিবাফ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা মহামান্য আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য উপলক্ষে স্পিকার ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।   স্পিকার হাফিজ উদ্দিন মহামান্য ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরান সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সংহতি প্রকাশ করেন।    স্পিকার ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে শতাব্দী-প্রাচীন বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।   তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক সহজতর করার ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি ইরানের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান অর্জনে সব পক্ষ এই গতিবেগ গড়ে তুলবে।   স্পিকার গালিবাফকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।    রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে স্পিকার গতকাল তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে নজরদারি করবে ডিবি

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এলপিজির দাম কমানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় ভিসা নিয়ে হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে সরকার

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, নদীভাঙন রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   শুক্রবার বিকেলে কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনরোধে চলমান জরুরি তীর সংরক্ষণ ও জিওব্যাগ ফেলা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেন, এই অঞ্চলের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, নদীভাঙন রোধে সরকার এবং আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে আছি। প্রয়োজনীয় সব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, স্থায়ীভাবে ব্লক নির্মাণের মাধ্যমে নদীতীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। এতে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নসহ ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরদার, যুবদল নেতা মামুন শিকদার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হাওলাদার, বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শক্তিশালী গণমাধ্যমই শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

১ আগস্ট থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আবেদন: জেনে নিন নিয়ম

টাকার নোট, সরকারের লোগো ও নবম পে-স্কেল। ছবি : সংগৃহীত

বাস্তবায়িত পে-স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত, কার কত বেতন বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরেও শুরু হয়নি আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ-জাদুঘর প্রকল্প, ভিত্তিপ্রস্তরেই সীমাবদ্ধ উদ্যোগ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে ঘোষিত প্রায় এক হাজার ৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দুই বছর পেরিয়েও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। তোরণ, জাদুঘর, স্মৃতিস্তম্ভ ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে ‘আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম’ এবং পার্ক মোড়ে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।   ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তারা এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।   তবে দুই বছর পরও প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান দেখতে এলেও সেখানে স্থায়ী কোনো স্মারক বা জাদুঘর না থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।   শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হলেও তার স্মৃতি সংরক্ষণের মূল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু না হলে এটি ইতিহাসের প্রতি অবহেলার শামিল হবে।   অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পটি এখন সরকারি অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ.টি.জি.এম. গোলাম ফিরোজ জানান, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির অনুমোদনের পর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং একনেকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রকল্পটি বর্তমানে সরকারি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আবু সাঈদ গেট ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে।   উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীও আশা প্রকাশ করে বলেন, মেগা প্রকল্পটি ইউজিসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। বাজেট অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষা: অভিভাবকদের সুবিধায় কেন্দ্রের বাইরে শেড-চেয়ার রাখার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনে ফাঁকা আসন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জমল আয়োজন

সংগৃহীত ছবি

জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার পূর্বাভাস এফএফডব্লিউসির

0 Comments