ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কিত একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়, যার লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। তাকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে কি না এবং সেই পরিস্থিতির সুযোগ পাকিস্তান নিচ্ছে কি না—যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি দুই দেশের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান এই পরিস্থিতির কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে ভারতের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে, সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে এবং স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরেক প্রশ্নে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার বিষয়ে ভারত সরকার আলোচনা করেছে কি না জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়সহ সব প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
আলাদা আরেক প্রশ্নে ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোট’ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং এসব স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে প্রতিবেশি’ নীতির আওতায় ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।
নিজস্ব নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউরোপজুড়ে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সে আরও ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে মৃত্যুহার এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন আগামী কযেকদিনে ইউরোপে আরও চরম তাপমাত্র দেখা দিতে পারে। গত ২৪ জুন ফ্রান্সে দেশজুড়ে গড় হিসাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ওইদিন রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং দেশের অর্ধেক এলাকায় তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের 'লাল সতর্কতা' জারি করা হয়। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এই তাপপ্রবাহ প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। বেলজিয়ামে এ সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি অর্থাৎ, ১,২২২ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অর্ধেকই ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। ডাচ কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, নেদারল্যান্ডসেও গত সপ্তাহে তীব্র গরমের কারণে প্রায় ৪৮০ জন অতিরিক্ত মানুষ মারা গেছে। ওদিকে, ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার জানায়, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২,০২৫ জন বেড়েছে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। কেবল রাজধানী প্যারিসেই মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬২ শতাংশ। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, মৃত্যুর প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কমও হতে পারে। তীব্র দাবদাহে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিবিসি ওয়েদারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আজোরেস অঞ্চল থেকে পর্তুগাল ও স্পেন অভিমুখে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে এই সপ্তাহান্ত নাগাদ ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস আছে। বিশ্বজুড়েই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে ইউরোপে বিশেষত এর প্রভাব বেশি স্পষ্ট। কোপার্নিকাস জলবায়ু সেবার তথ্যানুযায়ী, ইউরোপই বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ও ওমান সম্ভাব্য ফি আরোপ করতে পারে—এমন পরিস্থিতিকে ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এখন কার্যত অনিবার্য বলে বিবেচনা করছে। তবে তাদের জোরালো দাবি, এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা চালু হলে তা যেন সব দেশের জাহাজের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য না থাকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে কোনো না কোনো ধরনের সেবাভিত্তিক ফি চালুর সম্ভাবনাকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বাস্তবতা হিসেবে দেখছে। তবে সম্ভাব্য এই ফি কী ধরনের হবে, কত অর্থ নির্ধারণ করা হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় তা আদায় করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তেহরান ও মাসকাটকে জানিয়েছে, নতুন কোনো ফি ব্যবস্থা চালু করা হলে তা অবশ্যই বৈষম্যহীন হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে আলাদা সুবিধা দেওয়া বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের পক্ষেও কাজ করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি অনেকাংশে ইরানকে ঘিরে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ এখনো মনে করে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক ফি আরোপের আইনি অধিকার ইরান ও ওমানের নেই। তাদের আশঙ্কা, এমন নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই ধরনের দাবি উত্থাপিত হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে নতুন কোনো নীতিমালা বা বিধিনিষেধ কার্যকর হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণভাবে পড়তে পারে।
অব্যাহত হুমকির মধ্যে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে তেহরান ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার(৩ জুলাই) তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে টেলিফোনে তিনি এ আহ্বান। এ সময় দুই সামরিক কর্মকর্তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেন। তাদের আলোচনায় তেহরান-আঙ্কারা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপায় নিয়ে পর্যালোচনা করেন। ইবনোলরেজা বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার ইতিহাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের নৃশংসতারও সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে অভিযোগ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে ইসলামি দেশগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান ইরানের এই নেতা। ইবনোলরেজা ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরসহ অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিদেশি সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। অন্যদিকে গুলের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের প্রতি সমর্থন জানান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আঙ্কারার প্রস্তুতির কথাও জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ। সূত্র: ইরানা নিউজ।