সারাদেশ

আমের বাজারে ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ, এখন থেকে কেনাবেচা কেজিতে

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী অঞ্চলের আম ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ করে কেজি দরে আম কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমচাষিদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 


সংশ্লিষ্টদের মতে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে আমচাষিরা তাদের উৎপাদিত আমের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘আমের বিপণন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায়’ সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।


সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আমচাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার, বাজার ইজারাদার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।


সভায় জানানো হয়, এতদিন আমচাষিদের কাছ থেকে এক মণ বা ৪০ কেজি আমের দাম পরিশোধ করা হলেও বাস্তবে আড়তদাররা ৫৪ কেজি পর্যন্ত নিতেন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এই ব্যবস্থাকে ‘ঢলন’ বলা হয়। চাষিদের অভিযোগ, এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম বিনা মূল্যে চলে যায় এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।


সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কেজি হিসেবে আম কেনাবেচা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ‘ঢলন’ প্রথার দিন শেষ ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে আড়তদারদের জন্য প্রতি কেজিতে তিন টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় একই নিয়মে আম বিপণন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।


দেশের বৃহত্তম আমের বাজার হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাজারের ব্যবসায়ী ওমর আলী বলেন, বর্তমানে বাজারে মণপ্রতি ১০ টাকা এবং ক্যারেটপ্রতি আট টাকা টোল নেওয়া হয়। এ অবস্থায় টোল আদায়ের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানাই।’


কানসাটের আমচাষি আহসান হাবিব বলেন, আম আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ঢলন প্রথার কারণে চাষিরা প্রতি বছর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম নেওয়া হলেও দাম দেওয়া হয় ৪০ কেজির। এতে প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আম বিনামূল্যে চলে যায়। কানসাট অঞ্চলে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার আম ব্যবসা হয়। ঢলন প্রথার কারণে এর একটি বড় অংশ অতিরিক্তভাবে চলে যায়। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।


শিবগঞ্জের আমচাষি শামীম হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ আমের হাট সড়কের পাশে বসানো হয়। এতে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। নিরাপদ স্থানে বাজার স্থানান্তরের দাবি জানাই।’


আমচাষি সোহেল রানা বলেন, ‘সংরক্ষণ ও পরিবহনের কারণে শতকরা পাঁচ ভাগ পর্যন্ত ওজন কমে যেতে পারে। তাই সীমিত পরিমাণ অতিরিক্ত ওজন গ্রহণ করা যৌক্তিক হলেও এর বেশি নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি সব বাজারে একই ওজন পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানাই।’


সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমচাষিরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বহুদিনের ঢলন প্রথা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। আজকের সিদ্ধান্তে আমচাষিদের আর্থিক ক্ষতি কমবে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় একই নিয়ম কার্যকর করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’


সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, কৃষি বিপণন অধিদফতর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান, ফল গবেষণা কেন্দ্র রাজশাহীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এজিএম মাহমুদুল আলম সজল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকের বাড়িতে ১২ দিন ধরে অনশনে তরুণী

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী।   বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়।   এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।   ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।   তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।   ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন।   তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন।   ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না।   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা।   শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।   উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।   এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ বাবা-ছেলেকে আটক

ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে একের পর এক বিস্ফোরণ, টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক

আসামি সেলিম মিয়া (৪৫)। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে পুলিশকে জখম করে হত্যা মামলার আসামি ছিনতাই

বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ
ভাঙ্গায় সুমন হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমন শেখের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।    গতকাল বুধবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডর দক্ষিণ পাশে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় আধাঘণ্টার মতো মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।    এর আগে বুধবার রাত ৭টার দিকে এলাকাবাসী সুমন হত্যার বিচার দাবিতে ভাঙ্গা থানা ঘেরাও করে। এ সময় ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল ভিডিও কলে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে থেকে সরে আসে।    এদিকে বাদ এশা ভাঙ্গা ঈদগাহ মসজিদে নিহত সুমন শেখের জানাজা শেষে ঈদগাহ গোরস্তানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।   উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলার অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে

ছবি : সংগৃহীত

আদালতে আত্মসমর্পণের পর এসএ পরিবহনের চেয়ারম্যান পেলেন জামিন

ছবি : সংগৃহীত

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ইসলাম গার্মেন্টস

ছবি : সংগৃহীত
‘এখন ক্ষমতা আছে তো গ্রেফতার দেখান, শেষটা আমরাও দেখে নেবো’

ফেনীর মহিপালে জুলাই আন্দোলনে পৃথক চারটি হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে শুনানির সময় মাসুদ উদ্দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভবিষ্যতে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফেনী সদর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান পৃথক চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।   হুমকি দেওয়ায় হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তাদের একজন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন বলে জানিয়েছে থানা সূত্র।   আদালত সূত্র জানায়, ফেনী মডেল থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর সাইদুল ইসলাম শাহী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, জাকির হোসেন শাকিব হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলি আহাদ, ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ও সরোয়ার জাহান মাসুদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন আদালতে শুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ও মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন।   মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আদালতে সরাসরি হাজির না করে পূর্বের আদালতের অনুমতি অনুযায়ী ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তারা মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে বলেন- এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেফতার দেখান। আমরাও এটার শেষ দেখে নেবো।’   মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বক্তব্যটি তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হুমকিস্বরূপ ছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালত দ্রুত তাকে চার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে ভার্চুয়াল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আদালতে উপস্থিত ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে আরও বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল। তবে আদালত দ্রুত কার্যক্রম শেষ করায় আর কিছু বলার সুযোগ হয়নি।’   ফেনী মডেল থানার ইন্সপেক্টর সাইদুল ইসলাম শাহী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘চারটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। চার জন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ছিলাম। তিনি (আসামি) কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন।’ ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আদালতে কিছু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।’ তবে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আর কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।   সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা থানায় জিডির বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।   ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য শেষে আদালত তাকে চার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানিতে আসামি ভার্চুয়ালি অংশ নেন।’   থানায় জিডি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, ‘বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় এসব মামলা করা হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
ঢাকার যানজট। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় যানজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা, আসছে ‘যানজট শুল্ক’

চন্দননগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান (বদি) ও ২নং চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদ। ছবি : সংগৃহীত

ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ফিরলেন আওয়ামী লীগ নেতা

প্রতীকী ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রী সিলেট থেকে উদ্ধার

0 Comments