জাতীয়

১৯ বছর পর বিএনপির বাজেট, বড় স্বপ্নের মুখে সীমিত সক্ষমতা

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

স্বপ্ন বড়, কিন্তু সক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় এসে একটি দুর্বল, চাপগ্রস্ত এবং নানা সংকটে জর্জরিত অর্থনীতি পেয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এ অবস্থায় আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে দলটি। জানা যায়, বাজেটে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের দুর্বল ভিত্তি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অর্থায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।


সরকার বলছে, করের হার নয়, বাড়ানো হচ্ছে আওতা। করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা এবং অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাত সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি এবং স্টার্টআপের স্বীকৃতি মিলছে। তবে আমদানিনির্ভর পণ্য এবং ডিজিটাল সেবায় কর বাড়ছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে এসব খাত। করব্যবস্থা আরও প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক এবং বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা, কর প্রশাসনের সক্ষমতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর।


জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাজেটের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হতে হবে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করে নিম্ন-আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। যদি মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফলও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ, মুদ্রানীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় ছাড়া শুধু বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।


ব্যয়, আয় ও ঘাটতি :

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ৬৬ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি যেমন অন্যতম বড় বাজেট; আবার ঘাটতির দিক থেকেও এটি সবচেয়ে বড়। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ব্যাংকব্যবস্থা থেকে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং এ খাতে বরাদ্দ থাকবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। যেখানে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা খাতে ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে।


জানতে চাইলে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ  বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও পুরো অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, বছর শেষে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ অব্যয়িত থেকে যায়। আবার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যও অনেক সময় পূরণ হয় না। ফলে ঘাটতি অর্থায়নে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেহেতু বড় বাজেট নেওয়া হয়েছে, এখন রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।


করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল :

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকবে। এর পরের ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী ধাপগুলোয় ক্রমান্বয়ে উচ্চহারে কর আরোপ করা হবে।


ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা :

এবার ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গেছে। ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নির্দিষ্ট সেবা ভ্যাটমুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং কর্মবাজারে বাংলাদেশের লাখো তরুণ অনলাইনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। ফলে এ খাত ভ্যাটের চাপমুক্ত রাখা সরকারের স্মার্ট অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


স্টার্টআপ পেল আইনি পরিচয় :

অর্থ আইন ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড স্টার্টআপ’ সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, নতুন ব্যবসায়িক মডেল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা নতুন পণ্য উন্নয়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এ মুহূর্তে স্টার্টআপের জন্য বড় কোনো করছাড় ঘোষণা করা হয়নি। তবে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, কর সুবিধা ও নীতিগত সহায়তার ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


কর নেটের বাইরে থাকা ব্যবসাকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ :

অর্থ আইনের অন্যতম বড় বার্তা হলো ব্যবসাকে আরও বেশি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা। এখন ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিআইএন প্রয়োজন হবে। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে দীর্ঘদিন করব্যবস্থার বাইরে থাকা বহু ব্যবসা ও লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব হবে।


কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান :

অর্থ আইন ২০২৬-এ আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কর ফাঁকি শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, নথি জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সূত্র বলছে, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে শুধু নতুন কর আরোপ নয়, বিদ্যমান করের যথাযথ বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।


ডিজিটাল হিসাবব্যবস্থার আইনি স্বীকৃতি :

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসাবে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) এবং অনুমোদিত সফটওয়্যারে সংরক্ষিত হিসাবকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজনির্ভর হিসাবব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর হিসাব ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়বে। একই সঙ্গে কর কর্তৃপক্ষের জন্যও তথ্য যাচাই ও নিরীক্ষা সহজ হবে।


বিদেশি ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট :

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায় ক্লাউড কম্পিউটিং, সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন ডেটা সেবা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা অন্তর্ভুক্ত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে।


আমদানিনির্ভর পণ্যে বাড়তি কর :

রাজস্ব আহরণের আরেকটি বড় উৎস হিসাবে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। আমদানি করা আম, আপেল, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফলের ওপর ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চকলেট, বিস্কুট, ওয়েফার, আলুর চিপস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপরও উচ্চহারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে।


তামাক ও কোমল পানীয় খাতে উচ্চকর অব্যাহত : জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব-উভয় বিবেচনায় তামাকজাত পণ্য, কোমল পানীয় এবং মদ্যপণ্যের ওপর উচ্চ করহার বহাল রাখা হয়েছে। কোমল পানীয়র ওপর ১০০, বিয়ারে ২৫০ এবং বিভিন্ন ধরনের মদের ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সিগারেট, নিকোটিন পাউচ এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও উচ্চকর আরোপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।


বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নতুন করনীতি :

ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য পৃথক মূল্যভিত্তিক কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। কম মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করহার কম রাখা হলেও উচ্চমূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে বিলাসী শ্রেণির উচ্চমূল্যের গাড়ি থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম জামায়াতের

দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি পদত্যাগ না করলে তার এমপি পদ বাতিলের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল এখন আর জামায়াতের কেউ নন। ফলে তিনি জামায়াতের এমপি নন। তাই এই বিষয়ে যেসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে সবই নেওয়া হবে। জানা গেছে, সম্প্রতি গাজী নজরুলকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুসারে গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে স্বেচ্ছায় এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত দলকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করবেন না- এমন অবস্থানও তিনি স্পষ্ট করেননি। জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য বলেন, সংসদীয় দলের কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নেননি। বরং সবাই চেয়েছেন তাকে বহিষ্কার করা হোক। তা না হলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দলকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল যদি পদত্যাগ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে যান, তাহলে হয়তো তিনি কিছু মাস বা এমনকি প্রায় এক বছর পর্যন্ত এমপি পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদে বসতে পারবেন না। গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। ওই তরুণীও জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। একই দাবি করেন তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও। যদিও বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, ১৭ জুন নয়, বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়। যদিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আগে বিয়ে সম্পন্ন করে পরে তা নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় জামায়াতে ইসলামী।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
বাংলাদেশি (বাঁয়ে) ও উগান্ডার পাসপোর্ট (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা সুবিধায় উগান্ডার চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট

এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানালেন মন্ত্রী

ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ফের বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণ জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে গেছে বলেও জানান তিনি।      বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।       ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের জ্বালানি খাতে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হলেও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানি প্রয়োজন, সেটির যোগান নেই। গত ১৭ বছরে দেশে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি। ফলে পুরো দেশ এখন আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।”     তিনি বলেন, “আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে দেশে মাত্র দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এলএনজি খালাসের কাজ করছে। এর একটি সম্প্রতি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। আজ এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, সিএনজি পাচ্ছে না। অনেক জায়গায় মানুষ সড়ক অবরোধ করছে। এটি প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”     মন্ত্রী আরও বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির অবকাঠামোও আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে কোনো একটি স্থাপনায় সমস্যা দেখা দিলে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হয়।”     ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরির চেষ্টা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও স্পষ্ট নির্দেশনা হলো, সরকারি অর্থে আর সবকিছু করার প্রয়োজন নেই। যেখানে সম্ভব, বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দিন। দেশ তো সবার। আমার অধীন যেসব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে আমি সেগুলোর বেসরকারিকরণ দেখতে চাই। আমি চাই দক্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিতরণ ব্যবস্থার দায়িত্ব নিক। ভারতের উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে। কলকাতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স, দিল্লিতে আদানির মতো কোম্পানিগুলো এই দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে। তাহলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কেন পারবেন না? সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা। সরকারের খুচরা পর্যায়ের ব্যবসা পরিচালনা করা উচিত নয়।” সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, বাল্ক পর্যায়ে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু খুচরা বিতরণ ব্যবস্থাটি দক্ষ বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত— এটাই আমার ব্যক্তিগত মত বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।     বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “আমাদের এনার্জির যে লোকাল রিসোর্সেস আছে এটা আসলে খুব বেশি না। আমাদের সামান্য কয়লা আছে, যেটা উত্তোলন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে আছি। গ্যাস যেটা বাংলাদেশের অন্যতম সম্পদ, ২০১৬-১৭ সালে প্রতিদিন প্রায় ২৬০০-২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখন প্রতিদিন স্থানীয় উৎস থেকে ১৭০০ মিলিয়ন সাপ্লাই হচ্ছে। আমাদের আরো গ্যাস আছে কিনা, এখনও নিশ্চিত না।”     ভারত মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গত কিছুদিন আগে নিউজ দেখলাম মায়ানমার তার দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি ১০০ টিসিএফ রিজার্ভ পেয়েছে, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ একই সময় পেয়েছে ২৯ টিসিএফ। কিন্তু আমাদের বঙ্গোপসাগরে আমরা গত ১৭ বছরে কোন অনুসন্ধান করতে পারিনি। আমরা যদি সার্ভে শেষ করতে পারি, তারপরও কমপক্ষে পাঁচ বছর লাগবে, আমাদের জানতে যে অফসরে গ্যাস আছে কিনা।”     বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ দেশের জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পিপলস লীগকে নিবন্ধন দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ভোটারদের লাইন। ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি জানালেন ইসি আনোয়ারুল

প্রতীকী ছবি।

বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দিতে চায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত
দল থেকে বহিষ্কারের পর নজরুলের আসন নিয়ে ইসির বক্তব্য

দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।      জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোনো দলের সংসদ সদস্যকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না- এমন আইনি প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন।   বুধবার (২২ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ঢাকা পোস্টকে এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানান।   তিনি এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর সাধারণ নীতি তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া।   তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে পৌঁছেনি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।    তিনি উল্লেখ করেন, ইসির নিজস্ব কার্যপ্রণালি ও উপ-নির্বাচনের ঘোষণার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। অফিশিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কোনো অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সঠিক নয়। লিখিত নথি ও সুনির্দিষ্ট আইন কোট করেই ইসি তার দাপ্তরিক অবস্থান স্পষ্ট করবে। নথিপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা এবং পরবর্তী উপ-নির্বাচন সংক্রান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হবে।   উল্লেখ্য, নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬

গ্যাস সংকট, ত্রুটি সমাধানে দুই দিন লাগতে পারে: মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাইলেন এমপি নজরুলের সহকারী

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে: নাহিদ ইসলাম

0 Comments