প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর ও চিরিরবন্দরে অবস্থিত চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে এ সক্ষমতা তৈরি করেছে কোম্পানিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জার্মান ইঞ্জিন এবং কো-জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এ কোম্পানিটির রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে কোম্পানির বিস্তারিত তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোম্পানিটি যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যেই চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হচ্ছে, যা কোম্পানিটির আয় ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জার্মান প্রযুক্তির ইঞ্জিন ও টার্বোচার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কো-জেনারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন তাপ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি আরও জনান, কো-জেনারেশন ব্যবস্থায় ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ ব্যবহার করে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এ প্রযুক্তির ফলে কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২৪ থেকে সাড়ে ২৪ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ছাড়াই উৎপাদন বাড়ানো এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বগুড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ইঞ্জিন পরিবহন ও স্থাপন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি ইঞ্জিনের ওজন প্রায় ৩৮০ টন হয়ায় নদীপথের সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হয়। এ জন্য ইঞ্জিনগুলোকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে পরিবহন করা হয়। এ কাজে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার সমন্বয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সেতু নির্মাণেরও প্রয়োজন হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফ্রান্স থেকে প্রতিটি ইঞ্জিনের প্রায় ১০ হাজার যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে এনে সেগুলো সংযোজন ও চালু করা ছিল অত্যন্ত জটিল কাজ। পুরো প্রক্রিয়ায় সময়মতো যন্ত্রাংশ সরবরাহ, পরিবহন ও সংযোজন নিশ্চিত করতে হয়েছে।কনফিডেন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সহায়তায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
খালেদ ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনগুলো শুরু থেকে সংযোজন করার অভিজ্ঞতা কোম্পানির প্রকৌশল দলকে প্রতিটি যন্ত্রাংশের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে নিজস্ব দক্ষতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের প্রকল্প বাস্তবায়নেও কাজে লাগবে।
উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর ভাষ্য অনযায়ী, শুধু প্রচলিত পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, চট্টগ্রামে পরিবহন, সেখান থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া এবং পরে সড়কপথে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৪০ টন ধারণক্ষমতার জ্বালানিবাহী লরি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ কোম্পানিটির জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করছে।
খালেদ ইসলাম আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রকৌশল, জ্বালানি পরিবহন ও কেন্দ্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনই কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির অন্যতম শক্তি। এসব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতে কোম্পানিটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি অবকাঠামো, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যাটারিভিত্তিক জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে গ্রুপটি।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল প্রায় ৩২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল প্রায় ১৯৩ টাকা। কোম্পানির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ইপিএস প্রায় ৬৩ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪১৩ টাকায় উন্নীত হতে পারে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
এ সময় কনফিডেন্স পাওয়ারের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদান রাখার নতুন সুযোগ পাই। আজ আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে রয়েছে সামুদ্রিক জ্বালানি খাতের কার্যক্রম, যা এখন কনফিডেন্স গ্রুপের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দীর্ঘ পথচলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেয়েছি। এবিবি, সিমেন্স, রোলস-রয়েস, ম্যান এবং জিই পাওয়ারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি হলো সুশাসন, স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা। আজ কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএসির আইপিও কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের নিরবচ্ছিন্ন শিল্পযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।
কোম্পানিটির পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সময়মতো বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এ ক্ষেত্রে কনফিডেন্স গ্রুপের উল্লেখযোগ্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে গ্রুপটির চারটি ভিন্ন স্থানে চারটি প্ল্যান্ট পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে ডিজেলভিত্তিক প্ল্যান্ট পরিচালনা ও দূরবর্তী স্থানে জ্বালানি পরিবহন বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় গ্রুপটি এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা পেলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা দল ও নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের অন্যতম মৌলিক ও সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোম্পানিটির আরেক পরিচালক সালমান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের সবচেয়ে লাভজনক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কনফিডেন্স গ্রুপ। এ লক্ষ্য অর্জনে কোম্পানির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৭০ শতাংশ আসবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎস থেকে। বর্তমানে দেশের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের লংলা এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট এবং পঞ্চগড়ে ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।
তিনি বলেন, কনফিডেন্স গ্রুপের প্রকৌশল, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন, স্টিল ফ্যাব্রিকেশন ও বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সক্ষমতা জোগাবে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি সম্প্রতি ইজিসিবির অধীনে সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুকরণের কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সালমান করিম বলেন, ‘ভিশন ২০৩৫’ কেবল একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
উল্লেখ, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হতে চায় কনফিডেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। কনফিডেন্স পায়ার মূলত বিদ্যুৎ ব্যবসায় নিয়োজিত কোম্পানি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে এই কোম্পানির ব্যবসা। এটি ২০১৭ সালে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। আর ২০২৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫০ টাকা, আর ১৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা হচ্ছে এর পরিশোধিত মূলধন (আইপিও-পূর্ববর্তী)। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি’র ১১৩ মেগায়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এটি ফার্নেস অয়েলে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটি ২০১৯ সালে উৎপাদনে যায়। আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনা-বেচার চুক্তি রয়েছে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি একটি হোল্ডিং কোম্পানি। এর অধীনে ৪টি সহযোগী কোম্পানি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেড এবং কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড। প্রথম তিনটি কোম্পানি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে। কোম্পানি তিনটির মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগড়া লিমিটেড ও কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট করে ২২৬ মেগাওয়াট। জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা হচ্ছে ৫৪.৩৬ মেগাওয়াট।
কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড হচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার ও ডোরিন পাওয়ারের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি। চলতি বছর প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানি ১০০ মেগাওয়াটক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণাধীন আছে।
সহযোগী কোম্পানিগুলোর মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড ও জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। অন্যদিকে কোম্পানিটি কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।
আইপিওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪শ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তোলিত তহবিলের একটি অংশ কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ও ঋণের একাংশ পরিশোধে ব্যবহার করবে কোম্পানিটি।
বর্তমানে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩৯৩.১৬ মেগাওয়াট। আইপিওর অর্থ বিনিয়োগে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে এর সঙ্গে ২৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যোগ হবে। তবে ফার্নেস তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হয়ে যাবে। সরকার চুক্তি নবায়ন করলে সেগুলো বহাল থাকবে, না হলে তা বন্ধ হয়ে যাবে।
আবার ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ পলিসির আওতায় চলতেও পারে। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির আওতায় অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করারও সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে কোম্পানিটি আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার আহুত দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। বরাদ্দ পেলে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতায় নতুন সংযোজন হবে।
চুক্তি অনুসারে, প্রকল্পভেদে সৌরবিদ্যুত কেন্দ্রগুলো ২০৪৮/৪৯ সাল পর্যন্ত সরকারের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করবে। এরপর এগুলো ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ারে রূপান্তরের সুযোগও থাকবে। ২০২৫ সালে প্রণীত মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আওতায় বেসরকারি খাতে উৎপাদিত সোরবিদ্যুত অন্য কোনো শিল্পকারখানা অথবা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ বছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩১ টাকা ৮৩ পয়সা। আগের দুই অর্থবছরে সমন্বিত ইপিএস ছিল যথাক্রমে ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা ও ৩১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৯৩ টাকা ২৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১৬১ টাকা ৪৯ পয়সা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের হোসেনের পদত্যাগের গুঞ্জন এবং এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ইশরাকের পদত্যাগে গুঞ্জনের মধ্যে দলের ভেতরে থাকা যেসব সঙ্গী খুশি হয়েছেন ও উল্লাস করেছেন, তাদের চেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। পোস্টে হাসনাত লেখেন, বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে। গতকাল প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাজকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো, আবার আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো। লিখতে না লিখতেই জানা গেলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভূয়া। হাসনাত আরও লেখেন, এখন আবার লিখতে হবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে না বলা কেনো ভালো হয়েছে সেটি। প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মাঝখান দিয়ে ইশরাক চিনে গেলেন নিজের দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা সেই সঙ্গীদের, যারা তার পদত্যাগে খুশি হয়েছেন, উল্লাস করেছেন। পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, এখন প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের উচিত পূর্ণমন্ত্রী পার্থের পদত্যাগ দাবি করা। পাশাপাশি, এই ‘মিডিয়া ক্যু’র পেছনে তার হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সরকারবিরোধী স্ট্যাটাস ও মন্তব্য করার অভিযোগে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার কবির রুবেলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল ইসলাম জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস ও মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক মনে করেনি দলীয় নেতৃত্ব। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড যথাযথ না হলে কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে তিনি দলকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পরও শাহরিয়ার কবির রুবেল অন্যান্য সরকারবিরোধী পোস্টে সহমত প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। তার এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব কারণ উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ এখন ‘ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের’ অধীনে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাত ৮টার দিকে এক বাক্যে এ পোস্ট দেন হাসনাত, যেটি ইংরেজিতে লেখা। পোস্টে কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য লিখেছেন, দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ আন্ডার দ্য গভর্ন্যান্স অব দ্য ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাব। বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এখন ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের শাসনে চলছে। তবে সেই বিদেশি বন্ধু কারা, সে বিষয়ে কিছু লেখেননি জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির এই নেতা। এ বিষয়ে ফোন করা করা হলেও তিনি ধরেননি।