রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে আ.লীগকে ফেরানোর ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত-এনসিপি : রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যৌথভাবে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা এবং জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা একই ষড়যন্ত্রের অংশ।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   রাশেদ খাঁন বলেন, ১৯৯৬ সালের মতো আবারও আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নামার ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতেই এ অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   সাম্প্রতিক আলোচিত ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল চুক্তিটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। দেশের জনগণের একটি বড় অংশও এতে ইতিবাচক। দেশের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক নীতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।   ডাকসুর জিএস পদ ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, তৎকালীন নির্বাচনে ভিপি পদে নুরুল হক নুর এবং জিএস পদে তিনি জয়ী হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের ইশারায় তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটাধিকারকে সম্মান জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ফেরার বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলে ফিরতে চাইবে, দলীয় হাইকমান্ড তাদের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর তার দল দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।’   মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।   সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’   তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’   আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।   বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।   আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।   গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।   সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।   এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।   সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাভারে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।   মঙ্গলবার সকালে সাভার পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালিতে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সাভার উপজেলা চত্বর থেকে র‍্যালিটি বের হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাভার মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।   র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাভারেও র‍্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, বিএনপি এমন সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে, যখন দুই দশক পর আবারও দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের ছেলে তারেক রহমান দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   র‍্যালিতে সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়ন খোরশেদ আলম, সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়ে যে কথা শুনলেন আমির হামজা

কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, ডিসি, এসপি বা ইউএনও—কারও কাছে তিনি কোনো অবৈধ সুপারিশ করবেন না। তিনি যা নিয়েই যান, তা জনগণের উপকারের জন্যই নিয়ে যান, যাতে জনগণ শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে আমির হামজা হাসতে হাসতে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সবাই দেখা করেছে, আমিও হাত মেলাতে গেছি। আমাকে তিনি বলেছেন, আপনিও তো প্রধানমন্ত্রী। আমি বললাম, এটা তো আমি রূপক অর্থে বলেছি।’ এ বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কথা হলো, একটা দেশে প্রধানমন্ত্রী কয়জন থাকে! কুষ্টিয়া তো একটা দেশ নয়; একটা জেলা। এক আসনে প্রধানমন্ত্রী হয় কেউ! পাগলেও তো বলবে, এটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে।’ হলফনামার প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘হলফনামা দিয়েছি, পাঁচ বছরে আমার একটি টাকাও বাড়বে না। সুতরাং, আপনার কাছে অন্য কোনো আবদার নিয়ে আসব কেন!’ প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা, যারা জনগণের জন্য কাজ করবে না, তাদের আমি রাখব না। বিকালে দুই ওসি-এসপি পাল্টিয়ে দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম। যদি না ধরেন, তাহলে ঘেরাও দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে ডিসি-এসপিরা ঝাড়িমারা কথা বলত, আর এখন কথা বললে ৬০ সেকেন্ডের ৪০ সেকেন্ড স্যার স্যার করে। কারণ, তিনি জানেন যে কিছু হলেই ১০ হাজার মানুষ দিয়ে ঘেরাও দিলে আমি আর থাকতে পারব না। তারা জানেন, আমি কোনো খারাপ আবদার নিয়ে আসব না।’ সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যদি সারা বাংলাদেশে এই সিস্টেমটি চালু করতে পারি, সাড়ে চার বছর এখনও সময় আছে, এই সময়ে আল্লাহ এই জমিনটি আমাদের জন্য অনুকূল করে দেবেন।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৭ বছর ৫ মাস পর ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস ঘোষণা রাশেদ খাঁনকে

২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ৭ বছর ৫ মাস পর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. রাশেদ খাঁনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সেই নির্বাচনে আগের ঘোষিত বিজয়ী (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। মো. রাশেদ খাঁনকে ২০১৯ সালের ডাকসুর নতুন জিএস হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে বিষয়টি জানান মো. রাশেদ খাঁন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক শোকজ নোটিশের উপযুক্ত জবাব দিতে না পারায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে ডাকসু পদ বাতিল করা হয়েছে এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২য় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত মো. রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা -৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস সুস্থ হয়েছেন। আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন তিনি।     রবিবার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত ৯টায় মির্জা আব্বাস বাংলাদেশ বিমানে ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া চিকিৎসা শেষে মেডিক্যা বোর্ডের পরামর্শ ও আল্লাহর রহমতে অনেকটা সুস্থ হয়ে মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসতেছেন তিনি।     প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ রমজান মাসে ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস।     সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।     সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩০, ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমদ।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার রোমহর্ষক সত্য প্রকাশ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।     দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে।     আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়। ‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি।       ঢাকার উত্তরায় যার ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন তিনি বাসসকে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।     দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।     তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন সরকার। এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন দলটির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে।     সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তার সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।       গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন- সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।       সৈয়দ হাবিব হাসনাত বলেন, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’       ‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’       ‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছুপর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’       তিনি বলেন, ‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’       হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে।’     সৈয়দ হাবিব হাসনাত বাসসকে বলেন, ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’       হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-"চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।" এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’       তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লাখ লাখ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’   ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তার দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তার গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল। ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’       উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।       তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’       এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি। ওই দিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কওমি শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকতে বললেন রাশেদ খাঁন

কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করে তাদের দেশপ্রেম এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। দেশমাতৃকার যে কোনো প্রয়োজনে এভাবেই সজাগ থাকার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।   শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা লেখেন।   পোস্টে লেখা হয়, ‘কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আমার কাছে সবসময় প্রিয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না।’   সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে পোস্টে আরও বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।   দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কওমি তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশা করে পরিশেষে বলা হয়, ‘দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো হে বীর দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীরা।’   ফেসবুকে এই বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের নেটিজেনদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকে মন্তব্যের ঘরে কওমি শিক্ষার্থীদের অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে পালন করা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘু: রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধকে ‘লঘু’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।   পোস্টে তিনি বিরোধীদলের সঙ্গে সরকারের আচরণ নিয়ে জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাহেরের বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াত-এনসিপি ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।   পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘বিরোধীদলের সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে, তা আওয়ামী লীগও করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আমি আগেই বলেছিলাম, ভবিষ্যতে জামায়াত-এনসিপি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন করবে। এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট হলো।   তার ভাষ্য, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর লংমার্চের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করে, ডিসেম্বর থেকে আওয়ামী লীগসহ নামবে জামায়াত!   ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, তাহের সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ এর অধিক শহীদ, ৩০০০০ আহত যোদ্ধার রক্ত জামায়াতের কাছে কিছুই না! এজন্য জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়! তা না হলে ২৪ এর গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগও জামায়াতের ওপর দমন করেনি, এ কথা বলে কীভাবে?   তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর জামায়াতের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেনি, কারণ জামায়াত আওয়ামী লীগের মধ্যেই ‘লুকিয়ে ছিল’। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরতে জামায়াতের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে আনা হচ্ছে।   পোস্টের শেষাংশে তিনি জামায়াত নেতা তাহেরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামও বিষয়টি উপভোগ করছেন বলে মন্তব্য করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমি নিতাই রায়ের সঙ্গে বসতে চাই না: যুবদল নেতা নয়ন

মাগুরা-২ আসনে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে সমঝোতার জন্য সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বসতে চান না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।   বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পানিঘাটা গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   নিতাই রায়ের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘না, আমি নিতাই রায়ের সঙ্গে বসতে চাই না। বসতে চাই না এই কারণে, আমি তো সরকারের কোনো পার্ট না। আমি কেন বসব? নিতাই রায় বসবেন জনগণের সঙ্গে। তার লোকজন জনগণের টাকা-পয়সা লুটপাট করে খাচ্ছে। তিনি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি জনগণের সঙ্গে বসবেন।’   নয়ন আরও বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের আশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। উনি আসেন, বাড়িতে ওঠেন, আর সার্কিট হাউসে ওঠেন।’   নিতাই রায়ের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন নয়ন। তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে দেখছি, উনি শুধু মেয়েদের হাত টানাটানিতে ব্যস্ত থাকেন। ওনার কাছে কোনো মেয়েরা গেলে, সব লোকজনকে বের করে দিয়ে উনি পাঁচ-সাত ঘণ্টা মেয়েদের সঙ্গে আলাপ করেন।’   স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা-২ আসনে দলটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। উপজেলা বিএনপির একটি অংশ নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী এবং অপর অংশ রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী।   গত ২৪ আগস্ট মহম্মদপুর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহম্মদপুর থানায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।   পরে জেলা বিএনপির আশ্বাসে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদাহরণ টেনে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।   শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা পৌনে ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি দুঃখিত। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে ভিন্ন ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। পরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন। হাসনাত বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেনি; তারা শুধু শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিল। তাই এ ঘটনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে নৌকাবাইচের বিষয়ে নিজের তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি জানান, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত। হাসনাত আরও বলেন, সংসদে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে বিষয়টির উপস্থাপন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত সময় সীমিত থাকায় তিনি বিস্তারিত বলার সুযোগ পাননি। ‘এই বাংলাদেশ সবার’ নিজের পোস্টে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্রের ওপরও গুরুত্ব দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেশে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। যে যার পছন্দের কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন এবং অন্যের পছন্দের প্রতি সম্মান দেখাবেন। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে কেউ অন্যের ওপর নিজের মতামত বা বিশ্বাস চাপিয়ে দিতে না পারে। হাসনাতের ভাষায়, ‘জুলাই’ একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং মতপার্থক্য থাকলেও কেউ অন্যের ওপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবে না। এই আদর্শের প্রতি তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন। যে বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে গেছে। গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, সে প্রশ্নও করেন তিনি। এর প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। তারা হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া, তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এনসিপির পক্ষ থেকেও হাসনাতের দুঃখপ্রকাশের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তা ফটোকার্ড আকারে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নতুন পে-স্কেল দেওয়া হবে কি না, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান : আতিক

নতুন পে-স্কেল দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয় এবং এসব বিষয়ে রাজনীতি করা হলে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের পরিচিতি সভা ও ‘শিক্ষা খাতে সুশাসন: নিয়োগ, বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   বক্তব্যের শুরুতে বারবার পে স্কেল নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করার তাগিদ দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ ছেড়ে দিলে অযোগ্য বা খারাপ স্বভাবের লোক নিয়োগ পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় মেধা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।   শিক্ষকদের বেতন ও অবকাঠামোগত বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, বড় বড় ভবন বা প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও শিক্ষকদের মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, ৩ কোটি টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেখানকার ইমামের বেতন মাত্র ৪ হাজার টাকা—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজ টিকিয়ে রাখতে শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। এদিকে সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান রিজভী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে চান, কিন্তু পেটের দায়ে তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমপিওভুক্তির দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কারণে দেশের হাজার হাজার শিক্ষক বর্তমানে বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।   অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়োগ, বরাদ্দ, শিক্ষক বদলি এবং পদোন্নতিসহ সব খাতের অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানান বক্তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রুমিন আপার মধ্যেও ‘হাসিনার ছায়া’ দেখছেন দুষ্ট লোকেরা: রাশেদ খাঁন

গণঅভ্যুত্থান ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির সাবেক নেত্রী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্যকে ‘দুষ্ট লোকের কথা’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসব তার নিজের বক্তব্য নয়।   রাশেদ খাঁন তার পোস্টে লেখেন, ১৯ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ‘দুষ্ট সমন্বয়করা’ হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘হাসিনার আব্দুল্লাহ’ নামে ডাকতে শুরু করেন। একই সময় ডিবি হেফাজতে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য ছড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।   রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এমন কি ডিবি হেফাজতে যেসময় নাহিদ-আসিফরা মাইর খাচ্ছিলো, সেসময় পুকুর পাড়ে হাসনাত-সারজিসদের জুস খেতে দেখে, দুষ্ট পুলিশ সদস্যরা বলাবলি করছিল, গণঅভ্যুত্থানের রক্তের সাথে বেইমানি করার কারণেই ডিবি হেফাজতে থেকেও বুকে বাতাস লাগিয়ে ঘুরতে পারতেছে হাসানাত-সারজিস!’ পোস্টে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি নেতা হাসিনার আব্দুল্লাহ বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা আপাকে ‘বিএনপির আওয়ামী বিষয়ক সম্পাদক’ বলার পর থেকে দুষ্ট লোকেরা এখন রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখতে পায়।   রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, চায়ের দোকানে কেউ কেউ এমন কথাও বলছেন যে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সুরে কথা বলছেন এবং সংসদে আওয়ামী লীগের ‘যোগ্য প্রতিনিধি’ হয়ে উঠেছেন।   তবে এসব মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রেখে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এগুলো সব দুষ্ট লোকের কথা। কোনোটাই আমার কথা নয়।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। ফাইল ছবি
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন স্বপন

বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জহির উদ্দিন স্বপনকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাশ হয়।   এর আগে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন আবদুল মঈন খান। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ায় সভাপতির পদটি শূন্য হয়।   পুনর্গঠিত কমিটিতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম খান, ফখরুল ইসলাম, শওকতুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, সাইফুল আলম ও রাশিদুল ইসলাম সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬
সংসদে উপস্থিত সকলকে সালাম দিয়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া
সংস্কারের দাবিতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট বিরোধীদলের

জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদ চলাকালে রাত ৮টা ৭ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি সকলকে সালাম দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।   এদিন রাত ৮টার দিকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কার্যাবলি শুরু হয়। সেখানে বিল উত্থাপনের আগে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলের দাবির কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে বিল উত্থাপনের পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে বিরোধী জোটের অন্য সদস্যরাও ওয়াকআউট করেন।   এর আগে, বেসরকারি দিবসে (বৃহস্পতিবার) তিনটি সরকারি বিল উত্থাপন করার কার্যক্রম শুরু করলে সংসদে দাঁড়িয়ে যান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শেষ পার্যায়ে বিল, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।   বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এটাই জানতাম যে, বেসরকারি দিবসটা বেসরকারি সদস্যদের জন্য। কিন্তু সবকিছুতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাজের মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হবে। আমরা সেই চাপা দেওয়ার পক্ষে নই।’   সংস্কারের দাবিতে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থানে আছি। আমরা এখান থেকে সরিনি—অফিশিয়ালি, নন-অফিশিয়ালি।’   বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাইরে অনেকবারই অনুরোধ করা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের কমিটিতে আসেন। একটা কমিটি এখানে পাস হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদ ছিল। আমরা অংশগ্রহণ করিনি। ’   তিনি বলেন, ‘পরে আমরা যখন বললাম, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনও কমিটি হওয়ার কোনও বিধান নেই, তখন আমরা শুনলাম যে, এর আগে একটা বিশেষ শব্দ বসানো হয়েছে। সেই বিশেষটা এখানে পাস করা হয়েছে কি না, আমি জানি না।’   কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘একটা কমিটি যদি আসলে এই হাউস থেকে পাস করানো হয়, তাহলে তার প্রত্যেকটি অক্ষরও এখান থেকে পাস করাতে হবে। সেটা তো হয়নি। ওইটার পক্ষে আমরা ছিলাম না। বড় কথা এটা নয়। আমি বলছি, এখানে প্রসিডিউরটা মেইনটেইন করা হয়নি।’   স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এখন যে বিষয়টা আপনি উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন, আমরা যেহেতু বৃহত্তর স্বার্থে পুরো সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এভাবে কোনও প্রসেসের অংশ হতে চাই না।’   এর পরই সংসদ অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো না। এ পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আবার ওয়াকআউট করছি। আমরা আবার যখন উপযুক্ত মনে করবো, তখন ইনশাআল্লাহ আমরা আসবো, অংশগ্রহণ করবো, জনগণের পক্ষে কথা বলবো।’   ওয়াকআউট ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে। বাট সংসদের ভেতরে সবকিছু আলোচনা করা দরকার। না হলে জাতি কী পাবে?’   বিরোধীদলীয় নেতাকে অধিবেশনে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো, আপনারা বসেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক থাকবে। বিতর্কের মধ্য দিয়েই তো জাতি পরিচালিত হবে আপনাদের নেতৃত্বে।’   এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমিরের কড়া জবাব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে হট্টগোল হয়েছে। তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবিও জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।    প্রথমে কুমিল্লা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন বুঝতে পারেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি। এর পরপরই প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। তাদের হট্টগোলের সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। আপনারা তো ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ করতে পারছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। তারপর আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে দেব। প্রশ্নোত্তর উনি দিক, তারপর যদি তা পছন্দ না হয় আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে মাইক দেব। এরপরও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ সময় স্পিকার বলেন, পরমতসহিষ্ঞুতা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে। স্পিকারের কথা বলার সময় যে রোষটা আপনারা দেখাচ্ছেন এটা সংসদ পরিপন্থি কাজ। আমি আমার জ্ঞান বুদ্ধিমতো নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। তখন স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কথা বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার যে শব্দচয়নে ওনাদের আপত্তি সেটার জবাবটা আমি দিতে পারবো। আপনারা সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে আমিও পারবো। যদি কথা না বলতে দেন তাহলে কীসের বাক্‌স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় কোন এমপির মামলায় আসামি গ্রেপ্তার হয় নাই সেটার স্পেসিফিক বর্ণনা দরকার। শুধু হাওয়াইভাবে যদি বলা হয় এসব হচ্ছে প্রতিকার কী। স্পেসিফিক প্রশ্ন করতে হবে। এরপরে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমি সম্মান রেখেই বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলা উচ্চারণ করেননি। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সবাইকে বক্তব্য দেন। উনি নিজেকে কী মনে করেন আমি বুঝতে পারি না। তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে চাইলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে, উনার লেকচার শুনবে।  তিনি আরও বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন। আমি মনে করি, এটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না। উনি এই পল্টন আজকে নতুন করে বলেন নাই, উনি আজকে নতুন করে হিট দিয়ে কথা বলেননি। আমি সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। যদি এইটুকু করেন তাহলে আমরা বসব। না হলে অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার কোনো প্রশ্নই উঠে না। 

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৭, ২০২৬
সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।
সালাহউদ্দিন গুম মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির জিয়াউল আহসান

২০১৫ সালে বিএনপির নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।   গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ তার গুমের ঘটনায় অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও একেএম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।   অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যান। সে সময় তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।   পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।   এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ১০ মন্ত্রী-এমপিকেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আমির হোসেন আমুসহ অন্যরা রয়েছেন। এ মামলায় আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।   এছাড়া ২০১৩ সালে হাফেজ জাকিরকে গুমের অভিযোগে র‍্যাব-১’র সাবেক অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মোমেনকেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা গুমের অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম চলছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেজে কী পোস্ট করা উচিত, কমনসেন্স থাকা দরকার’: সারজিস আলম

একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কী ধরনের বিষয়বস্তু প্রচার করা উচিত, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম সাধারণ বোধ থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।   বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টের মন্তব্য ঘরে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই পোস্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারের প্রচার করা হয়। পোস্টে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারের ভিডিও লিংকটি প্রথম কমেন্টে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।   রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের লিংক প্রচারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান সারজিস আলম। পোস্টটির মন্তব্যে তিনি লেখেন, ‘একটা দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড পেজ থেকে কী পোস্ট করা উচিত, সেই বিষয়ে আপনাদের মিনিমাম কমনসেন্স থাকা দরকার।’   সারজিস আলমের এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দিষ্ট পোস্টে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়।   এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরন, সরকারি তথ্য প্রচারের নীতিমালা এবং মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড পেজে কী ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ করা উচিত—এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের ‘ছায়া সরকার’ নিয়ে রাশেদ খানের মন্তব্য, ‘এনসিপি আউট’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এনসিপিকে আসন ও নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় মোছার চেষ্টা করেছে।   বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট! জামায়াত কখনো ক্ষমতায় গেলে প্রকৃত সরকার থেকেও এভাবেই এনসিপি আউট থাকবে।’ এনসিপিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনী খরচ দেওয়ার প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, এর পেছনে দলটির ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় মোছার চেষ্টা ছিল। তিনি দাবি করেন, ‘শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না, এনসিপিকে দিয়ে ৭১-এর গণহত্যার দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।’ তার ভাষ্য, জামায়াত যতদিন থাকবে, ততদিন দলটিকে ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায় নিয়েই থাকতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকেও ২০২৪ সালের গণহত্যার দায় নিয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ছায়া সরকার নিয়ে রাশেদ খানের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ও বিভিন্ন জরিপে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতাদের হতাশা ছায়া সরকার গঠনের মাধ্যমে কিছুটা কমবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ছায়া সরকার গঠনের পর জামায়াত নেতাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বাড়তে পারে। ক্ষমতায় যেতে না পারার আক্ষেপ থেকে তাদের মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও কমে আসতে পারে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারকে বিকল্প নীতির প্রস্তাব দিয়ে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুর রহমান আজাদের মতো গুম নিয়ে ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার’ চালানো হলে মানুষ ছায়া সরকারকে ‘গুজব সরকার’ এবং এর মন্ত্রীদের ‘গুজব মন্ত্রী’ বলা শুরু করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।   নারী নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ছায়া মন্ত্রিসভায় ৫ আগস্টের পর ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া নারী নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধিকে রাখার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। এ প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজের নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো নারীকে মন্ত্রিত্বে বসাবে কি না। রাশেদ খান আরও দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করে জামায়াত কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের আগেই নারী প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে এবং সরকারে দায়িত্ব পাওয়ার পরও সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার এসব মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
নারী এমপিদের তদারকি ক্ষমতা অসাংবিধানিক: ৬৭ এমপির আপত্তি

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের তদারকির ক্ষমতা দেওয়া পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।   স্পিকারের কাছে গত ২৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তির চিঠি জমা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চিঠি ও পয়েন্টগুলোর কথা সামনে আনলে বিষয়টি সামনে আসে। চিঠিতে ৬৭ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।   চিঠিতে সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, ‘সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট আসনে নির্বাচিত এমপির ওপর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের তদারকির কোনো সুযোগ নেই। কোথাও কোথাও এই ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরাসরি সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের পরিপন্থি।’   এতে বলা হয়, ‘জবাবদিহিতার কাঠামোর কারণেই কোনো আইন একজনকে অপরজনের কাজ তদারকি, অনুমোদন বা সমন্বয়ের ক্ষমতা দেয়নি। বিশ্বে নারী প্রতিনিধিত্বে শীর্ষের রয়েছে রুয়ান্ডা (বর্তমানে ৬৩.৮%)। সেখানে সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা স্থানীয় নারী পরিষদ ও জেলা পরিষদ সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলীর (Electoral College) মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তাদের নির্বাচনি এলাকা থাকে একটি সম্পূর্ণ প্রদেশ। প্রদেশ-পর্যায়ের সংরক্ষিত সদস্য কোনো প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত অধস্তন ডেপুটির কাজ তদারকির ক্ষমতা রাখেন না। তাদের ম্যান্ডেট নীতিনির্ধারণী এবং আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ, বিশ্বের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামোতেই একই এলাকায় একজন প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সদস্যের কাজের ওপর অন্য কোনো সদস্যের আইনি তদারকি বা সমন্বয়ের নজির নেই।   এছাড়া চিঠিতে পাকিস্তান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের ‘মডেল’ তুলে ধরা হয়েছে।   চিঠিতে বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় আইনের শাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব প্রদানের উদ্যোগ ও প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার কোনো বিকল্প নেই। অতএব, উপর্যুক্ত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হলো।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
কথা বলছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: সংগৃহীত
একদিন জামায়াতই বাংলাদেশ পরিচালনা করবে: হামিদুর রহমান আযাদ

ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না উল্লেখ করে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বেই পরিচালিত হবে। জনগণের অধিকার আদায়ে দলটি জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি আদর্শিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় গণতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের পক্ষে কথা বলে আসছে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে জনগণের সংকট ও দাবিগুলো তুলে ধরছেন। তবে সরকার যদি এসব ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে তা উপেক্ষা করে, তবে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান সমর্থন দেখে একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।   সংগঠনের ভিত্তিকে মজবুত করতে তৃণমূলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো আদর্শিক সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো তার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখতে পারলে কোনো অপশক্তিই তাদের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না। এ সময় তিনি আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য দলীয় নেতাদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।   বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। এতে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারিরা অংশ নেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
খেলা

এমবাপ্পের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬