শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের পর মতিউর রহমান সাগর তার ফেসবুক আইডিতে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে—মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লিখেছেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল আলহামদুলিল্লাহ।’ এর আগে গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে চুক্তি করতে হবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজসহ বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সমান অংশীদার করতে হবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পলাশী চত্বরে শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারেও এই নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশে পাওয়ার কথা থাকলেও গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ সেই ন্যায্য হিস্যা পায়নি। ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সেটা শুধু পানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার একটি পরিকল্পনা, একটি হাতিয়ার। তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে আমাদের ১৯৭৭ সালে চুক্তি করার কথা ছিল। মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়। সেই পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। সেই মেয়াদ শেষ হওয়াকে ঘিরে আমাদের কাছে নতুন প্রশ্ন এসেছে। আবরার ফাহাদ যেটা চেয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করার সময় এখন এসেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার, বিরোধী দল এবং ভারত যে ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, সেটা প্রমাণ করতে হবে। ভারত-বাংলাদেশের এই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি আবার কীভাবে হচ্ছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের আজকের সময়ের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, এটা শুধু নবায়ন করলেই হবে না। এই পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে স্বাক্ষরিত করতে হবে। শুধু পানি নয়, বরং নদীর যৌথ হিসাবের প্রশ্নে, নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশকে অংশীদারিত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের নদী এই গঙ্গা, পদ্মা অথচ আমরা জানি না, এই নদীতে কত পরিমাণ, কত কিউসেক পানি আসলে প্রবাহিত হয়। এই তথ্য পর্যন্ত আমাদের সরবরাহ করা হয় না। তিনি বলেন, যে গ্যারান্টি ক্লজের কথা বাংলাদেশ বলছে, ন্যূনতম প্রবাহ সবসময় নাব্যতা বজায় রাখার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। যদি শুষ্ক মৌসুম আসে, যদি কোনো ঘাটতি হয়, সেই ঘাটতি ভারত-বাংলাদেশ সমানভাবে নিতে হবে। এই গ্যারান্টি ক্লজসহ এই চুক্তি নতুন করে করতে হবে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে আমরা সমুন্নত করতে চাই, তাহলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই চায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক, তাহলেই শুধু তিস্তাসহ যেসব অভিন্ন নদী রয়েছে, সেসব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সমভাবে এবং ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের শাহাদাতকালে আমরা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তথা যে সার্বভৌমত্ব, সেটি আমরা অক্ষুণ্ন রাখব। বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গকে বুঝতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি-সমৃদ্ধি যতটা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা বাংলাদেশের আশপাশের সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যায় আমরা একবিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। এ বছর যে গঙ্গা চুক্তি হবে, সেখানে ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব নদীর পানি বণ্টন প্রক্রিয়া, নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যাতে সমান অংশীদারিত্ব পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা গত দুই বছরেও আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা ওসমান হাদির বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় এখনো কার্যকর করতে পারিনি। আমাদের এই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এই তালিকা দীর্ঘ হওয়ার আগেই আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় অবিলম্বে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন করে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা খুনিদের যেই রায় হয়েছে, ফাঁসির দণ্ড, সেই রায় আমরা অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, আমরা মনে করি, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে। বাংলাদেশের জনগণ যে সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়াই করেছিল, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা আট স্তম্ভ এই পলাশীর মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, আমাদের গণতন্ত্র, প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব, আমাদের জাতীয় সম্পদ, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষার জন্য, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন আমাদের, আপনাদের সবার। সরকারের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে বলব, আমরা এখানে আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, যা কেবল ভারতবিরোধিতা নয়, বরং যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরোধিতা করে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং স্বার্থ সুরক্ষা করা। তিনি বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না। আমরা দেখতে চাই, সরকার এই পানি, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কীভাবে সম্পাদন করে, বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে। আমরা সেটা দেখতে চাই। নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ সরকার কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না। সরকার চীন যাচ্ছে, জাতিসংঘে যাচ্ছে, সব জায়গায় গিয়ে শুধু বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলছে, বৈঠকের কথা শুনছি। কিন্তু বাংলাদেশ গত সাত মাসে কী অর্জন করতে পেরেছে, এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের জনগণের সামনে এটা পরিষ্কার করতে হবে। এই গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার কথাটি মাথায় রেখেই আমরা সেই চুক্তির পক্ষ বা বিপক্ষ নেব।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া ও মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বার্তায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হলো। অপর বার্তায় মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থ বিবেচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নির্দেশক্রমে দলীয় কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হলে। একই সাথে দলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উভয় বার্তায় বলা হয়েছে।
একটি নির্বাচিত সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ‘পতিত দোসররা’ নানা ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এসব ব্যক্তিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিজভী এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা অপরাধকে প্রশ্রয় দেবেন না। সম্প্রতি পুলিশের ভ্যান থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশের ভ্যান থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে পারে? এ ঘটনায় যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আগে থেকে সচেতন হওয়া গেলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে বাসার আশেপাশে পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে করে ডেঙ্গু বাসা না বাঁধতে পারে। আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়া হতো, এখন তা বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদন কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আর নাম পাল্টে নেপথ্যে থেকে সেই কোম্পানি পরিচালনা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদন কোম্পানি তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকোর নাম বদলে জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এই সিগারেট কোম্পানি নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করছে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।’ রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী ঘনিষ্ঠ এ কে এম জিয়া উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে এমডি বনে যান। পরবর্তীতে এই ব্যক্তি চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পাদ পান। তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শরণাপন্ন হন। নিশ্চয়ই তুষার ভূঁইয়া ও প্রাডো গাড়ি কাণ্ডের কথা কেউ ভুলে যান নি! অর্থাৎ, আওয়ামী সুবিধাভোগীদের শেল্টার দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কি তাহলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি?’ তিনি প্রশ্ন করে এরপর বলেন, ‘কেনো কুষ্টিয়ার ঘটনায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চুপ, এখন বুঝতেছেন?’ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আওয়ামী প্রতিষ্ঠান শেল্টার দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়ার এনসিপির নেতারাও আর দায় নিতে রাজি হয়নি। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বিষয়টি জানার পর চুপ হয়ে যায়! এখন দেখা যাক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না? নাকি এই সিগারেট কোম্পানি থেকে উপার্জিত অর্থের ভাগ নাহিদ ইসলাম পর্যন্তও যায় বলে এই ঘটনায় চুপ থাকবে এনসিপি?’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় ৫ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে। আগামী এক বছরের ঘোষিত এ কমিটিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন ‘জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্স’র কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী। এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এমপি এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের রয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে এবং জড়িতদের আটকের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলামোটর মোড় থেকে ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। আয়োজকদের ভাষ্য, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটকের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার রাতে এক তথ্য বিবরণীতে কর্মসূচির বিষয়টি জানান ঢাকা মহানগরী উত্তরের জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার।
কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা নাইম আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাজারের মতো একটা পবিত্র জায়গার ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।’ হামলার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকারের সময় এটি নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপর পঞ্চমবারের মতো হামলা।’ তিনি আরও বলেন,‘বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না,’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। হাসনাত লেখেন, ‘হামলা করে পাটওয়ারীদের কেউ থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’ হাসনাত বলেন,‘ন্যায়, অধিকার ও আজাদীর যে লড়াই শুরু হয়েছে, কোনো বাধাই তা থামাতে পারবে না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’ ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এটি পঞ্চমবারের মতো হামলা। একজন নেতাকে কতটা ভয় পেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এতটা উন্মাদ হতে পারে?’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার কুষ্টিয়ায় মাজারের ভেতরে প্রবেশ করে পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েমকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। রোববার রাজধানীর মধুবাগে দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে পরিচয় করিয়ে দেন। শফিকুর রহমান বলেন, “ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছি আমরা। তিনি খাল, নর্দমা যেখানে ডেঙ্গুর মশার চাষ হয় সেগুলো পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান শুরু করেছেন। “দক্ষিণে সাদিক কায়েম আছে। গ্রাম পর্যন্ত আমাদের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।’’ রোববার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে দুইনেতাকে পরিচয় করিয়ে দেন দলের আমির।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘রাড্ডা কাণ্ডের দায় শুধুমাত্র একজন নারী সংসদ সদস্যের ওপরে নয়, এর দায় প্রধানমন্ত্রীকে বহন করতে হবে। আপনাদের দলীয় ফোরামকে নিয়ন্ত্রণ করুন। গণভোটের গণ রায় কার্যকর করুন। তেল গ্যাস বিদ্যুৎসহ জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য জনগণের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা করুন। সিন্ডিকেট প্রথা বানচাল করুন। দলীয়করণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যবস্থা করুন।’ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ দিন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উদ্যোগে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মামুনুল হক বলেন, ‘মহিলা এমপি দখলদারি করেছে, সন্ত্রাসী করেছে। তার মহিলা এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সরিয়ে দিয়ে দলকে শুদ্ধ করতে চায়।’ তারেক রহমানের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বলতে চাই, এই ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য প্রধান দায়ী আপনি। বিরোধী দলের প্রত্যেকটি আসনে আপনার দলীয় মহিলা এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে বিরোধী দলীয় এমপিদের অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আর বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনে আপনার নারী এমপিরা সন্ত্রাসী করবে চাঁদাবাজি করবে ভাঙচুর করবে। যে দলের নারী নেত্রীদের এই অবস্থা হলে সে দলের পুরুষ চাঁদাবাজ দখলদারের কী অবস্থা।’ মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা রাজপথে নামতে ৬ মাস সময় নিয়েছি। আপনারা গণভোটের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে গাদ্দারি করতে ৬ মিনিট সময় বিলম্ব করেননি। সংসদ সদস্যের শপথ নিলেন; কারণ সংসদ সদস্যের শপথ নিলে সরকার গঠন করা যায় মন্ত্রী হওয়া যায়। চেয়ারের ভাগ-বাঁটোয়ারা, চাঁদাবাজি শুরু করে দিলেন।’ খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, ‘একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশজুড়ে দুটি ভোট হয়েছে। এক ভোটে আপনারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের নিশ্চিত আসনের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন; বাংলাদেশের মানুষ তা সাক্ষী। আমরা সংসদে গিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলবো- সে জন্য আমাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করে নিয়েছেন। সব আমরা সহ্য করেছি।’ মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর নতুন চিন্তা করতেছেন। অনুরোধ করি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা কইরেন না; যদি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করেন- বাঙালি রাজপথ দেখিয়ে ছেড়ে দেবে। আপনারা শেখ হাসিনার মতো প্রতাপশালী জালিম স্বৈরাচারী হতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে তার বিদেশি প্রভুরা টিকিয়ে রাখতে পারে নাই।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল ও মাওলানা এনামুল হক মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হোসাইন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহসভাপতি খন্দকার আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালীন সময় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তার স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরের সময়ের কিছু ঘটনা, যাতে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব তুলে ধরেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার শপথ গ্রহণের দিনের ঘটনা উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘পুলিশ বিড়ম্বনা, আমি থাকতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ফুলার রোডে। উপদেষ্টা হওয়ার পরও সেখানে থাকতে চেয়েছিলাম। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করে ফুলার রোডের বাসায় ফিরি। আমাদের বাসা তিনতলায়। সেখানে উঠতে গিয়ে দেখি নিচে সিঁড়িঘরে পাঁচ-ছয়জন পুলিশ। তারা মনমরা হয়ে বসে ছিলেন। আমাকে দেখামাত্র উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। এমনভাবে সালাম দিলেন, মনে হলো স্যালুট করলেন আমাকে। স্যালুটের চোটে একজনের কাঁধ থেকে রাইফেল খসে পড়ল। মায়া লাগল দেখে।’ তিনি লেখেন, ‘বাসায় ঢুকে দেখি গিজগিজ করছে মানুষ। বেশির ভাগই অপরিচিত। তাদের নানা রকম দাবি। মনে হলো, আজ রাতেই এসব দাবি পূরণ না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গভীর রাতে ক্লান্তি-বিধ্বস্ত হয়ে ঘুমাতে গেলাম। পরদিন ছুটির দিন, আমি তবু অফিস করব ঠিক করেছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘সকাল ৮টায় অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়েছি। উঠে রেডি হচ্ছি, এমন সময় তীব্র শব্দে ডোরবেল বেজে উঠল। দেখি ফুলার রোডের একটা ছেলে। পাড়ার সব ছেলে-মেয়েই আমার সন্তানের মতো। কাজেই যত বিরক্ত লাগুক, দরজা খুলি। সে চুল উঁচু করে রাখা লম্বা একটা ছেলে। জেন-জি জেনারেশন। বিনা ভূমিকায় আমাকে জিজ্ঞেস করল: ‘আংকেল, আপনার বিল্ডিংয়ের সামনে পুলিশ কেন?’ আমি মিনমিন করে ব্যাখ্যা দিলাম। পুলিশ আমি চাইনি, সরকার থেকে দিয়েছে, এটাই নিয়ম। তার মন গলল না। বিরক্ত কণ্ঠে বলল: ‘পুলিশ সরান, আংকেল। পুলিশ দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়, জ্বালায় দিতে ইচ্ছে করে।’ আমি হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। এই শান্ত-ভদ্র ছেলেটা বলে কী!’ ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ‘সে গরগর করে বলতে থাকে: ‘আমরা হাসিনাকে সরাইছি, পুলিশ আমাদের গুলি করে মেরেছে। চোখের সামনে পুলিশ দেখলে কেমন লাগে, বুঝেন না আংকেল!’ তিনি আরও লেখেন, ‘সে বীরের মতো বিদায় হলো। এই ছেলে যে জুলাই গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তা আমি জানতাম না। তবে এটা জানতাম যে তার বাবা জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল। এ ধরনের শিক্ষকদের সমাবেশের অগ্রভাগে তার ছবি দেখেছিলাম। এমন বাবা থাকলে হয়তো সন্তানকে বেশি করে চেতনা দেখাতে হয়। একজনের চেতনা অন্যদের খুব দ্রুত প্রভাবিত করে। ফুলার রোডে বাচ্চাদের মধ্যেও এটা হতে পারে। পুলিশ তখন আক্রান্ত হলে কী করব আমি!’ তিনি লেখেন, ‘বুঝলাম, ফুলার রোডে থাকা কপালে নেই আমার। বাসার নিচে বসে থাকে অল্প বয়েসি মলিন চেহারার পুলিশ। শেখ হাসিনা তাদের মহাবিপদে ফেলে গেছে। আমি তাদের বিপদ বাড়াতে পারি না। আমাদের সন্তানরা ফুলার রোড ছাড়তে চায় না। বহুকষ্টে তাদের রাজি করানো হলো। মন্ত্রিপাড়ায় বাড়ির খোঁজ নেওয়া শুরু হলো।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ ও এর উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নিজের ভারিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান। হাসনাত আবদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টটি ইত্তেফাক ডিজিটালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার বিশেষ আদালত তাকে ওই মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর আকতার হোসেন লিমিটেডে’র মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে সরকারি কাজের সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ওই অর্থ নেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘুষের ১ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।’ হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে চকরিয়ায় মাছের ঘের-সংক্রান্ত দুটি মামলার বিষয়ও উল্লেখ করে বলেন, ‘২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল। অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে। ১০ বছরের ও ৩ বছরের সাজা মিলিয়ে ১৩ বছর হয়েছিল। এছাড়াও, চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের দুটি মামলাও ছিল সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে মামলাটি করা হয়েছিল। এই দুই মামলা থেকেও সালাহউদ্দিন সাহেব অন্তর্বর্তী সরকারের খালাস পান। এ রায়ের পর তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির আজকের এমন অনেক মন্ত্রীই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তারা দুদকের মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করেন। এখন বিএনপির সময়ে দুদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। সেটির অংশ হিসেবে বিএফইউআইয়ের মাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংকের হিসাব চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র যে কারো ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি তখন উদ্বেগজনক হয়, যখন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে ব্যাংক হিসাব তলব করা হচ্ছে। যদি রাষ্ট্রীয় কল্যাণের জন্যই ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তাহলে প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হোক।’ এনসিপির এই নেতা তার পোস্টে গুলশানে সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ, সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় এবং এসব সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে সালাউদ্দিন আহমেদ গুলশানের অন্যতম দামি ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন। গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। উনার স্ত্রী হাসিনা আহমদ অংশ নেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, ২০০৮ এ সালাহউদ্দিন-হাসিনা দম্পতির মোট সম্পদ ছিলো ৬.৩ কোটি। ২০১৮ তে ১২.৭ কোটি এবং ২০২৫ এ ৩০ কোটি।’ এত সম্পদের উৎস কী- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি বলেন, ‘৮৫ বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারি চাকরিজীবি হওয়ায়, ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ব্যবসা করার সুযোগ তার ছিল না । ১৯৯৬ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে যখন তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন তখন মাসে বেতন ভাতা মিলিয়ে বড়জোর ৬ হাজার টাকা পেতেন। মূল্যস্ফীতি হিসাবে যা বর্তমান বাজারের ৪০ হাজার টাকার চেয়েও কম সমান। আজ থেকে ২০ বছর আগেও গুলশানে ফ্ল্যাটের দাম ছিল কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বর্গফুট। ৩ হাজার বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ওই সময়েই কোটি টাকা। ৬ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মকর্তা কী কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনতে পারেন?’ হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ‘২০০১ সালে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী পদে থাকায় ব্যবসা করার অধিকার সালাহউদ্দিন আহমদের ছিল না। পরের দুই বছর কারাগারের ছিলেন। এরপর বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। চাকরি থেকে রাজনীতিতে এসে সেই সময়ে সংসদ সদস্য হওয়া সালাহউদ্দিন, এই সময়ে কী ব্যবসা করলেন যে, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরের কয়েক বছরে গুলশানে সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন! শুধু দেশেই নয়, তার সন্তানদেরও পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনা করিয়েছেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থের উৎস কী ছিল? এই সম্পদের কতটা আয়, কতটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কতটা বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে—তার কি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা রয়েছে? আর সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য এত বিপুল অর্থ কীভাবে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে? একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না—সেটিও জনস্বার্থে খতিয়ে দেখা জরুরি।’ পোস্টের শেষ অংশে হাসনাত লিখেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক। আমাকে দিয়ে তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব তারা নিজেরাই প্রকাশ করে গেছেন। দেখি, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ ও এর উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নিজের ভারিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান। হাসনাত আবদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টটি ইত্তেফাক ডিজিটালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার বিশেষ আদালত তাকে ওই মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর আকতার হোসেন লিমিটেডে’র মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে সরকারি কাজের সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ওই অর্থ নেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘুষের ১ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।’ হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে চকরিয়ায় মাছের ঘের-সংক্রান্ত দুটি মামলার বিষয়ও উল্লেখ করে বলেন, ‘২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল। অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে। ১০ বছরের ও ৩ বছরের সাজা মিলিয়ে ১৩ বছর হয়েছিল। এছাড়াও, চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের দুটি মামলাও ছিল সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে মামলাটি করা হয়েছিল। এই দুই মামলা থেকেও সালাহউদ্দিন সাহেব অন্তর্বর্তী সরকারের খালাস পান। এ রায়ের পর তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির আজকের এমন অনেক মন্ত্রীই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তারা দুদকের মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করেন। এখন বিএনপির সময়ে দুদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। সেটির অংশ হিসেবে বিএফইউআইয়ের মাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংকের হিসাব চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র যে কারো ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি তখন উদ্বেগজনক হয়, যখন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে ব্যাংক হিসাব তলব করা হচ্ছে। যদি রাষ্ট্রীয় কল্যাণের জন্যই ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তাহলে প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হোক।’ এনসিপির এই নেতা তার পোস্টে গুলশানে সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ, সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় এবং এসব সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে সালাউদ্দিন আহমেদ গুলশানের অন্যতম দামি ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন। গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। উনার স্ত্রী হাসিনা আহমদ অংশ নেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, ২০০৮ এ সালাহউদ্দিন-হাসিনা দম্পতির মোট সম্পদ ছিলো ৬.৩ কোটি। ২০১৮ তে ১২.৭ কোটি এবং ২০২৫ এ ৩০ কোটি।’ এত সম্পদের উৎস কী- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি বলেন, ‘৮৫ বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারি চাকরিজীবি হওয়ায়, ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ব্যবসা করার সুযোগ তার ছিল না । ১৯৯৬ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে যখন তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন তখন মাসে বেতন ভাতা মিলিয়ে বড়জোর ৬ হাজার টাকা পেতেন। মূল্যস্ফীতি হিসাবে যা বর্তমান বাজারের ৪০ হাজার টাকার চেয়েও কম সমান। আজ থেকে ২০ বছর আগেও গুলশানে ফ্ল্যাটের দাম ছিল কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বর্গফুট। ৩ হাজার বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ওই সময়েই কোটি টাকা। ৬ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মকর্তা কী কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনতে পারেন?’ হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ‘২০০১ সালে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী পদে থাকায় ব্যবসা করার অধিকার সালাহউদ্দিন আহমদের ছিল না। পরের দুই বছর কারাগারের ছিলেন। এরপর বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। চাকরি থেকে রাজনীতিতে এসে সেই সময়ে সংসদ সদস্য হওয়া সালাহউদ্দিন, এই সময়ে কী ব্যবসা করলেন যে, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরের কয়েক বছরে গুলশানে সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন! শুধু দেশেই নয়, তার সন্তানদেরও পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনা করিয়েছেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থের উৎস কী ছিল? এই সম্পদের কতটা আয়, কতটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কতটা বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে—তার কি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা রয়েছে? আর সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য এত বিপুল অর্থ কীভাবে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে? একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না—সেটিও জনস্বার্থে খতিয়ে দেখা জরুরি।’ পোস্টের শেষ অংশে হাসনাত লিখেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক। আমাকে দিয়ে তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব তারা নিজেরাই প্রকাশ করে গেছেন। দেখি, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!’
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের এক হাজার আট শতাধিক নেতাকর্মী এ সভায় ভার্চুয়ালি যোগদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির একাধিক নেতা। ওই সভায় নতুন সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আরা মান্নান। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সভাপতি না থাকায় সিনিয়র সহসভাপতিকে সভাপতির দায়িত্ব দেন দলীয় প্রধান। এ ছাড়া আগের কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে দলীয় কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। সভায় এক হাজার আট শতাধিকের বেশি নেতাকর্মী যুক্ত ছিলেন। ভার্চুয়াল এ সভায় সৌদি আরব থেকে যুক্ত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিহাদ হাসান। তিনি জানান, ‘এআরটিও’ প্ল্যাটফর্মে এ ভার্চুয়াল সভাটি পরিচালনা করেন বাকের ইমাম মজুমদার। এ ভার্চুয়াল সভায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এসএম কামাল, সাইফুজ্জামান শেখরসহ অনেক সিনিয়র নেতারা যুক্ত ছিলেন। সভায় সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়ুব হোসেন খান। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকের বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রিগান, মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু এবং আলাল হোসেনসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী নেতা তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করলে বিষয়টি সামনে আসে। এ ব্যাপারে জানতে সদ্য ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আরা মান্নানের মোবাইলে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। যুগান্তর মাল্টিমিডিয়ার যোবায়ের আহসান জাবেরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা দেশে ফিরে এসে জনগণের কাছে ভোট চাইলে পরিস্থিতি কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে যে মহামানবরা আছেন, যাদের নাম শুনি—তারা শুধু এসে একটা জায়গায় বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলুক, আমি নেতা, আমি আবার এসে পড়েছি। দেখেন না কী হয়। তাদের কি এই সাহস আছে?’ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার এমন কোনো বড় নেতা আছেন, যাদের তিনি মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, যাদের দিয়ে দেশ চালিয়েছেন—তার সেই মন্ত্রী-এমপিরা দেশে এসে আবার বলবেন, এই আমাদের ভোট দেন, আমরা আপনাদের জন্য কাজ করেছি। মানুষ তখন কী করবে?’ শেখ হাসিনা বিদেশে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে শেখ হাসিনা চলে গেছে, দেশে এলেই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় চলে যাবে—এমন তো না।’ আওয়ামী লীগ কবে আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে—এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’ এর ব্যাখ্যায় ফজলুর রহমান বলেন, ‘৭৫-এর পর তো আওয়ামী লীগ দেশেই ছিল, দেশে থাকতেই তো ২১ বছর লেগেছে। আমি বলছি, এবার ৬৩ বছর লাগবে তাদের ক্ষমতায় ফিরতে।’ তবে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে দলটির নাম এখনো আলোচনায় আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফজলুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ আছে বলেই এখনো ভাষা ভাষা আওয়ামী লীগের নামটা আসে। কারণ আওয়ামী লীগের যিনি প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং পরে যিনি আওয়ামী লীগের মূল নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের নামটা আসলে দুইটা লোকের নাম আসে।’ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, শেখ হাসিনা ও দলটির সাবেক নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং জনগণের প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ফজলুর রহমান।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন চকরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত নাদিম অভি। জিসান হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জিসান হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আলটিমেটাম দেন। পোস্টে ছাত্রদল নেতা শাহাদাত নাদিম অভি লিখেন, ‘জিসান ভাইয়ের হত্যার বিচার না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। এর আগে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের চার ঘণ্টা পর সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক এনসিপি নেতার ওপর হামলার ঘটনার পর ‘আর কোনো কর্মীর ওপর হামলা হলে থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার। সোমবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে ওসির কক্ষের সামনে যুবাইর সরদারকে বলতে শোনা যায়, “আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইট পর্যন্ত খুলে নেব।” এ বক্তব্যের ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এনসিপির নেতা-কর্মীরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে উত্তেজিত কণ্ঠে নেতা-কর্মীদের সামনে এ ধরনের বক্তব্য দিতে শোনা যায় যুবাইর সরদারকে। ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, “এই ধরনের বক্তব্য কেউ দিয়েছে কি না, আমি তা শুনিনি। তখন আমি ভেতরে ছিলাম। কিন্তু এমন বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকলে তা ভালো চর্চা নয়। ওনারা দায়িত্বশীল পদে অবস্থান করে এভাবে থানার ভেতরে বক্তব্য রাখতে পারেন না। এই ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সেভাবে ব্যবস্থা নেবেন।” তবে এ বিষয়ে যুবাইর সরদার বলেন, এনসিপির জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার পর তাদের নেতা-কর্মীরা অনেক বেশি উত্তেজিত ছিলেন। তাঁদের কোনোভাবেই শান্ত করা যাচ্ছিল না। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের শান্ত করার জন্য বলা হয়। পরে তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত করার জন্য এ ধরনের বক্তব্য দেন। এতে নেতাকর্মীরা শান্ত হন। এর আগে সোমবার রাতে ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন এনসিপির জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম। এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটা নিয়ে বক্তব্য রাখায় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালান। হামলার পর এনসিপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে অবস্থান নেন। থানার সামনে মিছিল করেন এবং বিএনপির লোকজনের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন। রাতে থানায় যান এনসিপির স্থানীয় সংসদ সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-৪) আব্দুল্লাহ আল আমিনও। পরে রাতেই এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে হালিম আজাদসহ ১৬ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। তবে এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব।
কোনো অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই গণমাধ্যমের সামনে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বক্তব্য প্রদান ও তা প্রচারের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পক্ষ থেকে অতীতে প্রচারিত এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আরজি জানানো হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা এই রিট পিটিশনে (নম্বর: ১৩৮৮৫/২০২৬) দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এ আবেদনটি দাখিল করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক জানান যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ হতে পারে অনুসন্ধান সমাপ্তির পর; অনুসন্ধান শুরুর আগেই এমন মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার কমিশনের কর্মকর্তাদের নেই। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই বক্তব্যের পর ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টিকে অসাবধানতাবশত বলা বা ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বার্তা আদান-প্রদানের গ্রুপে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও বিদেশে অর্থপাচারসহ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক নতুন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। দুদকের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকেই প্রশাসনিক আদেশে নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছে, তা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়। ফলে এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকার কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সুযোগ নেই। রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসিফ মাহমুদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং সংস্থাটির ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার আদালতকে এ তথ্য জানান তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এদিন দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় নজরুলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য দিয়েছেন। দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে এদিন নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে বলা হয়, “গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে বলেছেন যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগ্নে। মরিয়ম সম্পর্কে আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং তার সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন।” জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ বলেছে, গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম মরিয়মকে ধর্মীয় নিয়মে বিয়ে করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করেন। আবেদনে পুলিশ বলেছে, মরিয়ম ও আরেক আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন নজরুল ইসলাম। “মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুল শয়নকক্ষের পাশে বেলকনিতে ঘুমাতেন।” জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ‘আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আদালতকে বলেছে। নজরুল ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, "আসামিকে প্রথমে রিমান্ডে নেয় থানা পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো সম্পৃক্ততা, এমনকি প্ররোচনার বিষয়ে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। এরপর ডিবি পুলিশও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারাও কোনো অগ্রগগতিমূলক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। কাজেই আসামি জামিন পাওয়ার যোগ্য।” গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলোচনায় আসেন গত ২০ জুলাই। সেদিন রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়।’ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ।’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারী দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অসামাজিক, অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’ পাশাপাশি রাড্ডার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, শাহ আলম তুহিন, ডা. মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধাসহ অনেকে।
সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছিলেন বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন, অথচ সারা পৃথিবী বলে জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নাশকতা, নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে নানারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফজলুর রহমান বলেন, বিএনপিকে এবং তারেক জিয়াকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখানো বন্ধ করতে হবে, কারণ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন। বিগত দুই বছরে কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা থেকে তওবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না; তাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।