রাজনীতি

ছবি : সংগৃহীত
টকশোতে অনেকে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন : রিজভীর

টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।    তিনি বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?    শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।    রিজভী বলেন, অনেক উপস্থাপক-উপস্থাপিকাকে দেখছি টকশোতে নানাভাবে শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন। যারা পাঁচ আগস্টের পরে ছিলেন না, তারা ধীরে ধীরে জয়েন করছেন এবং শেখ হাসিনার গুণগান গাওয়ার চেষ্টা করছেন।   রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? বেগম খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।    তিনি বলেন, ইতিহাসের যে উল্লে­খযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল, সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।   রিজভী আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ছিল ঘৃতাহুতির (আগুনে ঘি ঢালা) মতো। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের রাজনীতি হচ্ছে বারবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। কিন্তু আমি দেখেছি, কিছুদিন পর পর তারা নিজেরাই ঘোলা পানিতে পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে। কিন্তু তাদের আদর্শ কী? গোটা দেশ স্বাধীনতার পক্ষে গেলেও তারা ছিল বিপক্ষে। সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে জনগণ- তা মেনে নেবে না।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।    তিনি বলেন, ২৪-এর ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশ ছিল। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। নানা বাধা পেরিয়ে প্রেস ক্লাবে পৌঁছানোর পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ করে। পরে আমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।    রিজভী বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমি আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পারি। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।   শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, শিশু হত্যাকারী, কিশোর হত্যাকারী, তরুণ হত্যাকারীর মাফ হবে কী করে? তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়।    তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজেরও মূল্যায়ন করা উচিত। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সারা দেশে নিহতদের স্মরণ করেন রিজভী। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।   সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজপথে এবি পার্টির কফিন মিছিল

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে এবি পার্টি। শুক্রবার বিকাল ৪টায় এই মিছিল শুরু হয়।   মিছিলটি বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।   মিছিল শুরুর আগে বক্তব্য‍ রাখেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।   তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ৭১ এর শহীদদের বাস্তব অনুসারী, তারা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা তাদের সার্থক উত্তরসূরি। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’। যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবেন তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আমাদের আজীবন পথ দেখাবে এবং আমাদের গৌরবময় জুলাই বার বার ফিরে আসবে।    এসময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত: নাহিদ ইসলাম

উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক কৃষক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় বর্তমান সরকার এ অঞ্চলকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলা করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি, যা আঞ্চলিক বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তুলেছে। কৃষিখাতের বর্তমান সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কৃষকদের জন্য প্রবর্তিত ‘কৃষক কার্ড’ কেবল আর্থিক সহায়তার একটি মাধ্যম মাত্র, যা কৃষির মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং এই কার্ডকে ঘিরে নতুন করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কুড়িগ্রামের আলু চাষিদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হচ্ছে। সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষি খাতে আধুনিকায়ন এবং সরকারি খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানান তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের মতো সাহসী সন্তানেরা আত্মত্যাগ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী এই আন্দোলনে অবদান রাখলেও বাজেটে উত্তরাঞ্চলের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহত কুড়িগ্রামের রাজিব হাসানের মা জান্নাতুল ফেরদৌসসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ এতে অংশ নেন। বক্তারা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি
চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান

চেক ডিজঅনারের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের এ আদেশ দেন।   আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।    এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।     মামলার অপর আসামিরা হলেন, আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।   মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি ‘Insufficient Fund’ (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না, বরং তা ছিল শোষণের পুরোনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক সাতমাথায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।   বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সারজিস আলম বলেন, গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ যে কথাগুলো বলেছেন, আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। যে গণভোটের পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে, তা যদি বৈধ না হয়, তবে এই সরকারেরও কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। বৈধ হলে সরকারের সবকিছুই বৈধ হবে, অবৈধ হলে দুটিই অবৈধ হবে।   এর আগে, বিকেল থেকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জুলাই পথসভা শেষে সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের দত্তবাড়ী এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি থানামোড় এলাকায় পৌঁছালে সারজিস আলম ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এতে যোগ দেন। পরে পদযাত্রাটি শহরের সাতমাথায় এসে মূল সমাবেশে মিলিত হয়।   সমাবেশে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের ‘ব্রয়লার মুরগি’ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বলে ছোট করার সুযোগ নেই। তারা যখন রাজপথে রক্ত ও জীবন দিচ্ছিল, তখন আপনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না। আপনি ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং তাদের সমস্যা বুঝে ব্যবস্থা নিন। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে দুই-চার দিন পরীক্ষা পেছানো কোনোদিন বড় হতে পারে না।   বিগত সরকারের আমলে বগুড়ার প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। শুধু বগুড়ার বাসিন্দা হওয়ার কারণে চাকরির ভেরিফিকেশন ও ভাইভা বোর্ডে মানুষকে অপমান করা হয়েছে। আমরা আগামীতে এই বৈষম্য আর দেখতে চাই না। তবে বগুড়ার নাম ভাঙিয়ে আগামী ৫ বছরে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজি করার স্পর্ধা দেখায় তাদেরও বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না।   সমাবেশে তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। একই সঙ্গে দিনের বেলা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে রাতে তার ভাগ নেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের হুঁশিয়ারি দেন।   সাতমাথার এই সমাবেশ থেকেই বগুড়া সদর উপজেলার আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে জাতীয় ছাত্র শক্তির বগুড়া জেলার আহ্বায়ক এ এম জেড শাহরিয়ার জুহিনের নাম ঘোষণা করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, আমরা টাকা বা পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নয়, জুলাইয়ের পক্ষে ইনসাফ ও ন্যায়ের লড়াইয়ে থাকা তরুণ প্রার্থীকে বেছে নিয়েছি।   এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আবদুস সবুর সুমনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমা না চাইলে সারজিস-তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপি। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির নেতারা।    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারকে মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে জেলাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় পাবনায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।   সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার জানান, ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক সফর করেন। বিএনপি তাদের স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দুই নেতা তাদের সভা-সমাবেশে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির পাবনা জেলা শাখা এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তাদের বক্তব্য ছিল উসকানিমূলক ও সংসদ সদস্যের সম্মানহানির অপচেষ্টা। তাদের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শিমুল বিশ্বাসের নামে তারা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পাবনার মানুষের মনে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য পাবনাবাসীর কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে পাবনার জনগণ যেকোনো সভা-সমাবেশে সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন।   মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, ‌‘সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজে পাবনার জনগণের নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। পাবনার জনগণ তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে পাবনার জনমনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করা সম্ভব নয়।’   সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, আনিসুল হক, নূর মোহাম্মদ মাসুম, শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিমেল রানাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   এ বিষয়ে পাবনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক বরকতুল্লাহ ফাহাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বক্তব্য দিয়েছি। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, সেটিও আমরা জেনেছি। আজ সন্ধ্যার পর এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’   গত ৯ জুলাই পাবনা সফরে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষার অভিযোগ করেছিলেন, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ইন্ধনে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছেন না। জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানসহ পাবনার আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তিনি। ওই বক্তব্যর পর থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। গত কয়েক দিনে জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, সেচ্ছাসবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবে বিএমইউ

শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসাবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করতে পারবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এই ক্ষমতা দিয়ে আনা ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।   মূলত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য এ বিল পাস করা হয়েছে। তবে বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দল।   বিল পাস হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, এই বিল পাস হলে চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ হবে। এটি নজিরবিহীন হবে। এটি হলে এই হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষ এখনকার মতো সেবা পাবেন না। দরিদ্র মানুষ সেবাবঞ্চিত হবে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় আয় বা ব্যবসার জন্য কাজ করবে, তখন আর জনকল্যাণ থাকবে না।   বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশে স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাই। এখানে তাঁরাই আসেন, যাদের সামর্থ্যে কুলায় না। এখন লাভজনক কোনো বিষয় যুক্ত করা হলে জনগণের ওপর দায় চাপবে। যতটুকু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে তাতেও বিঘ্ন ঘটবে।   বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দক্ষ, উঁচু মানের একটি হাসপাতাল করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ হাসপাতাল থেকে লাভ হলে, সেটা কেউ বাইরে নিতে পারবে না। এখানে সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটাকে কোম্পানি আইন দিয়ে অধিক বিজ্ঞ এক্সপার্ট লোক এনে আরও ভালো, উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। অনেক দরিদ্র মানুষ এখানে যেতে পারবেন না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা ঠিক না। দরিদ্রদের জন্য কোটা থাকবে। হাসপাতালকে জনকল্যাণমুখী করা হচ্ছে। এখানে সন্দেহ থাকার কোনো অবকাশ নেই।   একপর্যায়ে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসেবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের অধীনে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা বা অন্য কোনো আইনের অধীনে দাতব্য কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্যে কোনো সংগঠন গঠন করা এবং এ ধরনের কাজ থেকে উদ্ভূত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। যেকোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করতে পারবে।   বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এবং পরিচালনার পদ্ধতি সুস্পষ্ট না হওয়ায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পরিচালনা পদ্ধতি ও জনবল নিয়োগ করার জন্য এই হাসপাতালকে কোম্পানি আইনের অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
বক্তব্য দিচ্ছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্যে কাজ করবে এবি পার্টি

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন থাকাই স্বাভাবিক। তবে তাদের এসব অপচেষ্টা জুলাইপন্থী শক্তির ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।   আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জীবনপণ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।   মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরব। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। যারা আজ জুলাইকে খাটো করার চেষ্টা করছে, তাদের অতীত অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা বরাবরই জুলাইবিরোধী শক্তির অংশ ছিল। অথচ আবরার ফাহাদ হত্যা, বিশ্বজিৎ হত্যা কিংবা ধারাবাহিক ধর্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে তারা কখনোই সোচ্চার ছিল না।   তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। তারা ভুলে গেছে, প্রায় তিন শতাধিক সংসদীয় আসন নিয়ে ক্ষমতায় থাকার পরেও জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিষেধক।   মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উঠলেই এবি পার্টির নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। এই অবস্থান কাউকে দিয়ে অর্জন করা হয়নি; অসীম ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তা অর্জিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এবি পার্টি নিজেদের সামর্থ্যেরও বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। সার্বক্ষণিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল, কারফিউ ভেঙে মিছিল হয়েছে, নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।    আন্দোলন সফল না হলে এবি পার্টির কার্যালয় হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত এবং দলের নেতৃত্বের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন।   তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবি পার্টি বিশ্বাস করেছে,জনগণই আন্দোলনের মূল শক্তি। আমরা বলেছিলাম, জনগণই রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শূন্য থেকে গড়ে ওঠা একটি অর্গানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে এবি পার্টি শুরু থেকেই ঝুঁকি নিয়েই পথচলা শুরু করেছে।   তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনেক দল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বিভক্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। এবি পার্টি মধ্যপন্থার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা ধর্মীয় দল নই, তবে ধর্মভিত্তিক সব দলের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা ক্ষমতাসীন দলও নই, কিন্তু রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখি। এখন এবি পার্টির রাজনীতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে গণভিত্তিক ও ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।   সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান বলেন, এবি পার্টির রাজনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।   যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা রাজপথে ছিলাম। ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও আমরা একইভাবে প্রস্তুত থাকব। যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করে যুব পার্টিকে শক্তিশালী করা হবে।   সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ,  সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব পার্টির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান ইমতু, সদস্য সচিব ইশরাত জাহান লিজা, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সাবেরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ফিরলেই কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে: প্রধান কৌঁসুলি

প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরানো হলে তার আত্মসমর্পণের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।   তিনি বলেছেন, “সরকার—ভারত সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে যে তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো নিজে নিজে তার আসার কোনো সুযোগ নাই।   “হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন) আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হ্যান্ডওভার করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।”   রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।   মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।   বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।   এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এ বক্তব্য দিয়েছে শেখ হাসিনা। বরং সরকার কূটনৈতিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”   দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন হয়েছে, এরকম নজির নাই।   দেশে ফেরার পর আইনি পদক্ষেপ কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে তো সংগত কারণেই যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ—তিনি প্রথমত জেলে যাবেন এবং জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।”   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেখ হাসিনা আপিলের অধিকার খুইয়েছেন জানিয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “সেকশন ২১ এর ৩ পরিষ্কার করে বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয় তা হবে।”   সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেন্টেন্সের সাথে কিন্তু তার সম্পত্তি যেগুলো আছে বাংলাদেশে, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সেটাও বাজেয়াপ্ত করেছে। অতএব তার ব্যাংকে যদি কোনো টাকা থাকে; তার যদি ইমুভেবল কোনো প্রপার্টি থাকে, তাহলে সেটা কিন্তু এখন রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা। এটার মালিকানা কিন্তু আর তার নাই।”   ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।   জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।   ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।   ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।   এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে । দ্রুতই এগুলোর প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।   আওয়ামী লীগের শাসনামলের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অভিযোগগুলোও তদন্তাধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন জমির উদ্দিন: শফিকুর রহমান

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।    রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায় এক ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান সিনিয়র আইনজীবী এবং একজন পরিচ্ছন্ন ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।   পোস্টে তিনি আরও লিখেন, মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকা অবস্থায় তিনি ছিলেন সবার কাছেই সমাদৃত। ফ্যাসিবাদী আমলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ যাদের ওপর আইনি জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সে সময় তিনি আমাদের প্রতি পরম সহানুভূতিশীল ছিলেন। নানা বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।   তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের পক্ষে তিনি আদালতে দাঁড়িয়েছেন। কোনো দিন আমরা জোর করেও তাকে কোনো ফি দিতে পারিনি। তিনি বলতেন, ‘এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব—এই মজলুমদের পাশে দাঁড়ানো।’ আমরা তার কাছে গভীর কৃতজ্ঞ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, আপনজন, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের উত্তম ধৈর্যধরার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
এমপি হান্নান মাসউদের নির্দেশে মাঝ নদী থেকে ঘাটে ফিরল ফেরি

নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরিটি ২৩ মিনিট পর পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে। বিষয়টি নিয়ে ফেরী যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তাদের জানানো হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ ঘাটে এসেছেন। তাকে নিয়ে নলচিরা ঘাটে যেতে হবে। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এমপিকে নিয়ে গন্তব্যে যায় ফেরি।   শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফেরি মহানন্দার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম। ফেরির যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি মহানন্দা। ফেরি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর গাড়িযোগে চেয়ারম্যান ঘাটে আসেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি ফেরিতে নদী পার হয়ে হাতিয়া যাবেন তাই ফেরি পুনরায় ঘাটে আনতে কর্তৃপক্ষকে জানান। ততক্ষণে ফেরি ছাড়ার ২৩ মিনিট শেষ। এমপিকে নিতে মেঘনা নদীর মাঝপথ থেকে ফেরিটি ঘুরিয়ে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে আনা হয়। তখন এমপি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা শুরু করে।   ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, ‘ফেরির মাস্টার প্রথমে আমাকে জানান, ফেরি ছাড়বে না। পরে আবার জানান, বিকাল সাড়ে ৩টায় ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর ফেরি আবার ফিরে আসে এমপি হান্নান মাসউদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর আবার এমপিকে নিয়ে গন্তব্যে চলে যায়।’   একাধিক যাত্রী জানান, ঘাট থেকে ছেড়ে আসার অনেকক্ষণ পর হঠাৎ দেখি ফেরি ঘুরে যাচ্ছে। পরে ঘাটে ফিরে দেখি এমপি হান্নান মাসউদ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। এতে যাত্রীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এমন বৈরী আবহাওয়ায় একদিকে আমরা ভয়ের মধ্য দিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছি আর এমপি তার ক্ষমতা দেখালো। যদি আবহাওয়া খারাপ হয়ে যেতো তাহলে হাতিয়া যাওয়া আমাদের অনিশ্চিত ছিল। তাছাড়া ফেরী ঘুরে আসতে যে সময় লেগেছে ততক্ষণে আমরা নলচিরা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে যেতাম।   ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর এমপির জন্য ফেরি ঘাটে ফিরে আসে। এমন ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এটি সবসময় করা লাগে। ফেরি মহানন্দার মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, আমি এত কিছু জানি না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানান, ঘাটে এমপি এসেছেন। ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে আমরা ঘাটে ফিরে এমপিকে নিয়ে নলচিরা ঘাটে যাই।   এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ভিআইপির জন্য নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রারত ফেরি মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা কতটা যৌক্তিক।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে চক্রান্ত করছে একটি দল’

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ-বিভক্তির সুযোগ নিয়ে একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।   শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার কানকিরহাট উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।    জয়নুল আবদিন ফারুক  বলেন, বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ, বিভক্তি ও বিরোধের কারণে একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না।   তিনি বলেন, গেল ১৬ বছর দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম ছিল। সংবিধানকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই বর্তমান সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।     বিএনপির এই নেতা বলেন, ভুল হলে জনগণের কাছে তা স্বীকার করতে হবে। মানুষ ক্ষমা করে দেবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজসহ বিএনপির উপজেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন

বাংলাদেশে ফেরার প্রশ্নে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। কোনো কোনো দল তার বিরুদ্ধে বিচারের কথা বলছে, কোনো দল আবার ষড়যন্ত্র দেখছে। এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।   শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।   পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেন, স্বাগতম, শেখ হাসিনা। অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।   বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী? আপনার শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকান্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ-এসব বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? কেন দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম? এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।   পোস্টে জুলাই গণঅভূত্থানকালে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আপনি আগেই বিদেশে পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে আসিফ বলেন, কিন্তু আপনার সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির ভার বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তাদের অনেকেই আজও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন।    একইসঙ্গে যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা আর না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না বলেও জানান তিনি।   প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের পলাতক নেতাকর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন। তারা আত্মসমর্পণের কথা ভাবছেন বলেও রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।   তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়া শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা এর আগেও সামনে এসেছে।   এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছেন। ফলে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া হয়েছে রাজনীতিতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণ–অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ–অভ্যুত্থান হবে না।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল চব্বিশে, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবন বাজি রেখেছিল। তারপর যখন দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান, অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার, কোটিবার চিন্তা করবে এ রকম গণ–অভ্যুত্থানে যাওয়ার জন্য।’   আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।   ‘গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।   আলোচনায় রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলে বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলেন, গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন রক্ষা হলো না? চব্বিশের অভ্যুত্থানের ঠিক পরেই মুক্তিযুদ্ধের মুর‍্যাল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একাত্তর আর চব্বিশকে কেন মুখোমুখি করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন।   গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। সেটা আগে জানলে কয়জন রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।   ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০–এর গণ–আন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।’   ‘চব্বিশেও ব্যর্থ হয়েছি’ ’৪৭, ৭১ ও ৯০ সালের আন্দোলনের পরে জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরে প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেন তিনি।   প্রতিবারের মতো এবারও আন্দোলনপরবর্তী অংশীজনদের বিভাজনের চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন হাসনাত কাইয়ুম। নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়েছেন বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে, অথবা সংস্কারের দোহাই দিয়ে কয়েকটা আসনের জন্য কেউ জামায়াতের দিকে চলে গেলেন।’   জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে তা একটি ‘ঐক্যমত কমিশনে’ সীমিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ছোট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত কাইয়ুম। তাঁর মতে, জুলাই সনদ আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।   ‘জন–আকাঙ্ক্ষা এখনো উপেক্ষিত’ আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, চব্বিশ–পরবর্তী গণমানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা ছিল, সেটা এখনো উপেক্ষিত। সংস্কারের জন–আকাঙ্ক্ষা অর্জিত না হলে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খাবে।   এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থান সংগঠিত করা যত সহজ, অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সামনে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিরল সুযোগ রয়েছে।   আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এনসিপির ৬ এমপি ২১২ জনের সমান শক্তিশালী: হাসনাত আবদুল্লাহ

সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান ভূমিকার প্রশংসা করে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সংসদে এনসিপির মাত্র ৬ জন সংসদ সদস্য থাকলেও তাদের ৫ মিনিটের বক্তব্যের জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৪৫ মিনিট ব্যয় করতে হয়। শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহীদ ওসমান চত্বরে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “সংসদে আমরা পাই ৫ মিনিট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রিপ্লাই দেন ৪৫ মিনিটে। আমরা যদি ৪৫ মিনিট সময় পাই, তাহলে তার জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি পুরো অধিবেশন লেগে যাবে। এই তরুণ প্রজন্ম কারও কাছে তাদের বিবেক বন্ধক দেয়নি” তিনি আরও বলেন, এনসিপির এই ৬ জন সদস্য আসলে ২১২ জনের সমপরিমাণ শক্তি ও প্রভাব রাখেন।   নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যখন এনসিপি নির্বাচনে অংশ নেয়, তখন প্রতিপক্ষ তাদের ‘চিলড্রেন পার্টি’ আখ্যা দিয়ে উপহাস করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, এনসিপি ৫০০ ভোটও পাবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তাদের ভোট ১ লাখ ৬৮ হাজারে পৌঁছায় এবং কোনো কেন্দ্রেই তাদের বিজয় ঠেকানো সম্ভব হয়নি।   আগামীতে মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেয়র নির্বাচনে তরুণদের বেশি বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। পরাজিত হলেও সমস্যা নেই, অন্তত নিজের ভোট নিজে পেলেও নির্বাচনে থাকুন। যতদিন তরুণ প্রজন্ম রাজপথে এবং নেতৃত্বে সক্রিয় থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে না।”   রায়পুর শহীদ ওসমান চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মাহবুব আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিন এবং লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাছুম বিল্লাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।  

মারিয়া রহমান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি দুর্বৃত্তদের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে : হাসনাত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমাদের রাজনীতিটাকে দুর্বৃত্তের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা কোনো পদক্ষেপ নেয় না।   শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।   হাসনাত বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেলে রাজনীতিবিদরা নীরব থাকে। কারণ নির্বাচনের আগে রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে। নির্বাচনের পরে ওই ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে যখন দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায়, তখন রাজনীতিবিদরা চোখে কাঠের চশমা পরে সংসদে শুধু প্রধানমন্ত্রীর গুণগানে ব্যস্ত থাকে।     তিনি আরও বলেন, আমরা যখন সংসদে কথা বলতে চাই, তখন স্পিকার আমাদের বলে এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ। এটা ভাবার দরকার নেই, আমরা শুধু সংসদে কথা বলব। সংসদে যদি আপনি আমাদের কথা বলতে না দেন, আমরা সংসদের বাহিরে কথা বলব, জনগণের সামনে কথা বলব। আমাদের কথা বলা থেকে দূরে রাখতে পারবেন না। মনে রাখবেন, ভয় দেখিয়ে জয়কে বন্ধ করে রাখা যাবে না।   এ সময় বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মাহবুব আলম, সংগঠক আরমান হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিন ও লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাছুম বিল্লাহসহ অনেকে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের ‘অগ্রগতি’ দেখতে চান জামায়াত আমির

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, তার দৃশ্যমান অগ্রগতি ‘জনগণ দেখতে চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।   বন্যা পরিস্থিতি দেখতে ও বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে শুক্রবার চট্টগ্রামে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তিনি সাংবাদকিদের এ কথা বলেন।   সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “দেশের চারটা বিভাগে মূলত এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে। আর বাকি বিভাগগুলো অতটা ভালনারেবল না। কিন্তু এই চারটা বিভাগের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে রংপুর বিভাগ বেশি হুমকিতে পড়বে যদি তিস্তার ওইদিক থেকে বাঁধ সব খুলে দেওয়া হয়।   তাহলে যেটা প্রত্যেক বৎসরই হয়, এটা দুঃখ হয়ে আছে। সেই ঝামেলাটা দেখা দেবে। এজন্য আপনারা জানেন যে, ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।”   জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি। আমরা জানি প্রজেক্টটা অনেক বড়। সময় লাগবে। কিন্তু আন্তরিকভাবে কাজটা শুরু হোক, দৃশ্যমানভাবে, জনগণ এটা দেখতে চায়।”   চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “যারা কষ্টে আছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং সরেজমিনে দেখে গিয়ে আমাদের করণীয়, সরকারে করণীয় সম্পর্কে আমাদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপনের জন্য মূলত আমরা এখানে এসেছি। আমি সর্বপ্রথম সেই সমস্ত মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, সম্প্রতি বন্যায় যারা নিহত হয়েছেন, পাহাড় ধসের কারণে বা বিভিন্ন কারণে।   বিশেষভাবে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন, চট্টগ্রাম মহানগরী হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। কিন্তু একটু বর্ষা নেমে এলেই পুরা চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুর্ভোগ দেখা দেয়। নালা নর্দমা উপচে পড়ে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার কারণে দুয়েকটা মৃত্যুর ঘটনাও গতবার ঘটেছে।”   শফিকুর রহমান বলেন, “সরকারের দায়িত্ব মূলত এগুলো সমাধান করা। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব আছে বিষয়গুলো সরকারকে ধরে দেওয়া। এবং জনগণের হয়ে দাবি আদায় করা, কাজ করা। আমাদের আজকের আসাটাও অনেকটা সেরকমের।   “আমরা ইনশাল্লাহ এখান থেকে বাঁশখালী যাচ্ছি। বাঁশখালী থেকে ফেরার পথে আমরা লোহাগাড়া এবং সাতকানিয়া যেতে চেষ্টা করব। এরপরে শহরেরও কিছু জায়গায় আমরা যাব, দেখব। আপনাদের অবস্থা দেখে আপনাদের পক্ষ থেকে, আপনাদের হয়ে আমরা যাতে কাজ করতে পারি সেই চেষ্টা করব।”   তিনি বলেন, “তাছাড়াও আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াব। বিশেষ করে নিহত পরিবারগুলোর পাশে কিভাবে দাঁড়াতে পারি সেটা আমরা চিন্তা করছি। এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়ও যতটুকু পারি আমাদের পক্ষ থেকে দলীয় অবস্থান থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। এবং কেন্দ্র থেকে আমরা এটা সমন্বয় করছি।   এরপর তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরিতে এবং সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের বকশিরখিলসহ বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।   রয়টার্স লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।   ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথমবারের মত কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিলেও সাক্ষাৎকার দেননি।   এর আগে ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে এ বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এবারই তিনি সুনির্দিষ্ট সময়ের আভাস দিলেন।   বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও ফাঁসির আসামি। এক প্রশ্নের জবাবে রয়টার্সকে তিনি বলেন, "দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।"   তার ভাষ্য, "আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।"   ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।   জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।   ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।   এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়, আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। তবে আমি নিজেই যাব।"   রয়টার্স লিখেছে, শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভক্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বর্তমান বিএনপি সরকার দুই বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আবার শেখ হাসিনা ফিরলে তা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলাতেও সাহায্য করতে পারে।   প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।   “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”   তবে কবে দেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ সাক্ষাৎকারে বলেননি শেখ হাসিনা।   তিনি বলেন, "আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।"   সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি কোনো আলোচনা করেননি।   "গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।"   কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই দাবি করে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।   টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর কেন দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তার বাসভবনের দিকে যখন জনতা এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন জীবন শঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ছাড়েন।   তিনি বলেন, "যখন কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল হতেই পারে, কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-বেঠিক বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচারের ভার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।"   দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।   নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, "তারা হয়ত আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন।   শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তবে তার বা দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
চলছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ইরানে কী অবস্থায় আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

স্থায়ী চুক্তি আলোচনা এবং ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে চলমান কর্মসূচির মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এনসিপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশটিতে যায়। তবে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের মধ্যে শুধু এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইরানে এখনও অবস্থান করছেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে মুঠোফোনে চ্যানেল 24-কে তিনি তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ছয়জন প্রতিনিধি ছিলাম, এরমধ্যে পাঁচজন চলে গেছে। আমার ফ্লাইট একটু পরে ছিল, তাই আমি এখনও আছি।’   শুক্রবার সকাল সাতটায় দেশে ফিরবেন তিনি। পাটওয়ারী জানান, ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে তিনি দেশে এসে পোঁছাবেন।  কী অবস্থায় আছেন এবং ইরানে এখন পরিস্থিতি কেমন এ বিষয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এখানে নিরাপদে আছি। এখনও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অনেকেই এখানে আছেন। হামলা মূলত হচ্ছে ইরানের উত্তরাঞ্চলে, আমরা আছি দক্ষিণের দিকে। মাশহাদে হামলা হয়েছে, বন্দর আব্বাসে হয়েছে। তবে, আমাদের এদিকে এখনও হয়নি। আমরা সেফ আছি।’   এর আগে ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হওয়া হামলার ধ্বংসাবশেষ নিজ চোখে দেখেছেন বলেও জানান পাটওয়ারী। বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি-মার্চে চালানো হামলায় অনেক ভবন ধসে পড়েছে, সেগুলো দেখেছি। তবে বর্তমানে এখানে মানুষের জীবনযাত্রা, সবকিছুই স্বাভাবিক আছে। অস্বাভাবিক কিছু এখনও চোখে পড়েনি। যেভাবে মিডিয়ায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাস্তবে এ ধরনের কোনো কিছু দেখছি না।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও ৩

দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে আটক হন দুই নেতা। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী। গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম, মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলাম।   পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, তাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।   তবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়লেন জাবের-জুমার

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।   বুধবার রাতে পৃথক পৃথক ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়লেও ইনকিলাব মঞ্চের দায়িত্বে থাকবেন তারা।   শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যমান দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জাবের এবং জুমা।   পোস্টে জাবের লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি।’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   ‘আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’— পোস্টে উল্লেখ করেন জাবের।   অন্যদিকে  ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির স্বার্থে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতা সামনে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।    পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নানা আলোচনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপে পড়েন।   ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা লেখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’   জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হলেও, এরপর থেকে তার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে।   ‘ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে’— যোগ করেন ডাকসুর এই নেত্রী।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

আমরা হরমুজ প্রণালির নাম দেব ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’: ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬