বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের সংস্কৃতি সেলের উদ্যোগে "নাগরিক বর্ষবরণ ১৪৩৩" আয়োজনে থাকবে বর্ণাঢ্য বৈশাখী র্যালি, বাউল গান, নৃত্য, আবৃত্তি, লোকজ পরিবেশনা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের নানান ছোঁয়া। এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, পহেলা বৈশাখের দিন মঙ্গলবার দুপুরের পরই মূল আয়োজন শুরু হবে। বেলা ৩টায় বর্ণিল এক শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বাংলামোটর থেকে শুরু করে শাহবাগ হয়ে এ শোভাযাত্রা বাংলামোটরে ফিরে এসে শেষ হবে। একই সময়ে বাংলামোটরের নেভি গলিতে বসবে বৈশাখী মেলা। এ আয়োজনে থাকবে গান, নৃত্য ও বায়োস্কোপসহ বাঙালিয়ানার নানা অনুষঙ্গ। মুড়ি-মুড়কি ও জিলাপির আয়োজনও থাকছে। এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, নতুন বছরের নতুন দিনে আমাদের সঙ্গে মিলিত হোন ঐতিহ্য আর উৎসবের রঙে রঙিন হতে। আপনার উপস্থিতি আমাদের আনন্দকে আরও পূর্ণ করবে। নেভি গলির আয়োজনস্থলে সোমবার রাত ৮টার পর থেকেই শুরু হয় আল্পনা আঁকা। মঙ্গলবারের মেলায় বাহারি খাবার ও মাটির তৈজসপত্রের দোকানও বসবে বলে জানা গেছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পূর্বেই মেলার কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক লুৎফর রহমান।
আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে কারাগার থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রোববার (১২ এপ্রিল) নির্বাচনের ফরমে তার স্বাক্ষরের অনুমতি চেয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদন করা হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ এই আবেদন জমা দেন। আইনজীবী লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে সুমন আগ্রহী। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা ১৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। প্রার্থী হতে হলে নির্বাচনের ফরমে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আবেদন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৯ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ এপ্রিল। যেহেতু ব্যারিস্টার সুমন বর্তমানে কারাবন্দি, তাই নির্বাচনী ফরমে তার স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য জেল কোড অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২২ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বর্তমানে সাতটি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবী এই সংগঠনের নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোনসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর পল্টন মডেল থানা। এর আগে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. জহুরুল ইসলাম (৩৮)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১৭টি স্মার্টফোন ও বাটন ফোন এবং ২০টি পুরোনো চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন কম দামে সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধচক্র চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, দুদকসহ যেসব অধ্যাদেশ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে প্রয়োজন- সেগুলো বিএনপি সবকিছু গায়ের জোরে ফেলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেওয়া হবে না। বুধবার দুপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড, জেলা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় ক্যু শুরু করেছে। সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করে গত শুক্রবার সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে জামায়াত-এনসিপি জোট। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, ততদিন সংসদে থাকব। আগামীতেও চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের। শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি গর্ব করে বলে ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪- সবকিছু তাদের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের জন্মই হয়নি। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান প্রথমবার নিজের পক্ষ থেকে, পরেরবার আরেকজনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করার চেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর, দালাল বলা হয়েছিল। জামায়াত ওই রাজনীতি আর চায় না। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কারে বাস্তবায়ন করবে বলেছিল। এর প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। এখন তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা শুধু জাতির সঙ্গে নয়, দলীয় সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বশেষ বয়সসীমা নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন সেখানে মব সৃষ্টির অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার কিছু লোককে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে দর্শক গ্যালারিতে বসিয়েছিল। আলোচনার এজেন্ডা যখন আসল, তখন সরকারি দল থেকে তাদের ইশারা দেওয়া হলো। বোঝা গেল, এটা পাতানো। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াত ও ১১ দলের নেতরা বক্তৃতা করেন সভায়। জুলাই শহীদদের পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধারা সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০), রেজাউল শেখ (৪০) ও আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)। পুলিশ জানায়, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনজনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার জাল নোট ও একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়। গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তেই উদ্ধার করা নোটগুলো জাল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জাল নোটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বারবার ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পীর হত্যার ঘটনায় সরকারের এই ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলছে, সরকার একদিকে মব কালচার দমনের কথা বললেও অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত পক্ষগুলোকে সরাসরি প্রশ্রয় দিচ্ছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধান পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছে, যা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। বিবৃতিতে এনসিপি উল্লেখ করে, ধর্ম অবমাননা বা এ ধরনের যেকোনো সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের আইনগত কর্তৃপক্ষ হচ্ছে আদালত। ‘মব-সহিংসতা’র মাধ্যমে যারা হত্যা ও অগ্নিসংযোগ করেছে, তারা আইনের চরম লঙ্ঘন করেছে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই হামলার উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় দলটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয় ক্ষমতার ছত্রছায়া ছাড়া সম্ভব নয়। এর আগে রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই নিহত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে দুপুরে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন সতর্কতা অবলম্বন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। এনসিপির দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও ‘প্রকৃত মব’ থামাতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) সরকার-সমর্থিত পক্ষের ‘মব’ করে কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করার উদাহরণ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার একদিকে মব দমনের বুলি আওড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিজ সমর্থকদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। এমনকি ‘মব কালচার’ পরিভাষাটিকে সরকারি দল এখন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পরিশেষে, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার ভঙ্গ করছে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরকারের সব বিষয়ের মুখপাত্র না হয়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশককর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, তবে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে মশক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএনসিসির বিশেষ প্রচারাভিযান ‘Operation Clean Homes, Healthy Lives’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন। সামনে আরও বড় পরিসরে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। রাস্তাঘাট বা জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে এলাকাবাসী জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিশেষ প্রচারাভিযান আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন ডিএনসিসির ১০ জন এবং ব্র্যাকের ১০ মশককর্মী এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্রতি শনিবার মোট ২১টি বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এ বিষয়ে সব নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতাই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই শুরু করতে হবে নিজ নিজ বাসা থেকে। জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া এ কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী। কর্মসূচি উদ্বোধনের পর প্রশাসক আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি করেন এবং স্থানীয় মানুষকে করপোরেশনের কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এর মধ্যে রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাধিক মেডিকেল কলেজ শাখা রয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোপালগঞ্জ জেলা, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে শিগগিরই এসব ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। শফিকুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম দেশের শুধু একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই নন; তিনি অসহায় ও গরিবের বন্ধু, মানবিক ডাক্তার হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ও প্রশংসিত।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি অশুভ চাঁদাবাজ চক্র রাজনৈতিক খুঁটির জোরে তার কাছে চাঁদা চেয়ে আসছিল। তিনি অবৈধ চাঁদা দিতে বরাবরই অপারগতা প্রকাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত চাঁদাবাজরা এমন একজন জ্যেষ্ঠ, প্রথিতযশা, মানবিক চিকিৎসককেও সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হলো। তার সঙ্গে গর্হিত আচরণ করল।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘এ রকম অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামদের সামাজিক সেবা থেকে কারা জনগণকে বঞ্চিত করছে, তা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। এই দুষ্টদের কঠোর হস্তে দমন করা সময়ের দাবি, জনতার দাবি। আমরা এ দাবির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’ সর্বশেষ তিনি অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের জন্য দোয়া করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিন এবং দুষ্ট চক্রকে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিন। আমিন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম দিনেই ৬০০ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। প্রথম দিনেই বিপুল সংখ্যক আগ্রহী প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রাত ৮টা পর্যন্ত প্রথম দিনে মোট ৬০০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বলে এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তর সংযুক্ত) তারিকুল আলম তেনজিং। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণে নেতাকর্মীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর ওপর আলোচনাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আম খান। বিদ্যমান আইনের সংজ্ঞায় বীর মুক্তিযোদ্ধা বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে, যারা ৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সংজ্ঞায় তিনটি রাজনৈতিক দলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—১. মুসলিম লীগ, ২. নেজামে ইসলাম পার্টি ও ৩. জামায়াতে ইসলামী। বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, এই তালিকা থেকে দলীয় পরিচয় সরিয়ে দেওয়া হলে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক। আমরা এই জাতিতে আর কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বিলে যে প্রস্তাবনা করা হয়েছে, স্বাধীনতার পরের শাসকরা তা আনেননি। এমনকি জিয়াউর রহমান বা পরবর্তী সরকারগুলোও এটি করেনি। এটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।’ তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের জন্য বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যারা দেশ ও জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং মারা গেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’ বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও তুলে ধরেন। বিশেষ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিষয়ে স্মরণ করেন। আলোচনা শেষে স্পিকার জানান, বিলটি নিয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো লিখিত মতামত দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বক্তব্য শেষ করে সংসদকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুকে দেখতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু)। এ সময় তিনি দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আদনানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। ডা. বিটু আদনানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আদনানকে প্রথমে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বিচার প্রক্রিয়ায় একটি অগ্রগতি বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি। শহীদ আবু সাঈদের বিচারের রায়কে স্বাগত জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার ২৫ আসামির মধ্যে মাত্র দুজন গ্রেপ্তার আছে। বাকি সবাই পলাতক। পলাতক আসামিদের আটক করতে সরকারের জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। এরপর উচ্চ আদালতের শুনানিসহ নানা প্রক্রিয়া শেষ করে রায় বাস্তবায়ন হয়। এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্য মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে সাজা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত কাজ করতে হবে।’ তার মতে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কুশীলব অপরাধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গ্রেপ্তারে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। এই বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা কামনা করেন তিনি। এই মামলাতে হুকুমের আসামিদের নমনীয় শাস্তি হয়েছে, বলছেন আতাউর রহমান। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রায়ের পর চিৎকার করে বলছিল, ‘আমি হুকুমের গোলামমাত্র।’ বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মরত একজন পুলিশের এএসআই ও কনস্টেবলের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বা রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশ মান্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এ ধরনের ঘটনায় হুকুমদাতাই মূল শাস্তি প্রাপ্য হওয়া উচিত।’ আইনের ধারা ও প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। অপরাধীরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে বলে আশা আতাউর রহমানের। তার মতে, অপরাধীরা প্রাপ্য শাস্তি পেলে কেউ কোনো দিন জনতার ওপর গুলি চালানোর সাহস করবে না।
রাজধানী তুরাগের রানাভোলার আব্দুর রহমান হাই স্কুলের পাশের একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৬টা ২৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পাঁচটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহোদর প্রয়াত আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। এ সময় সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ারও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ-সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এ দাবি জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করে বলেন, ‘৩০ বছর পর আসনটি জনগণ বিএনপিকে উপহার দিয়েছে। আমি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এ আসনটি আপনারা উপহার দিলে, দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে, ভাওয়াল মাঠের জনসভায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন।’ মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘সেখানকার জনগণ এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় আগমনের অপেক্ষা করছে।’ নির্যাতিত-নিপীড়িত একটি বিপ্লবের নাম তারেক রহমান উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর যুগশ্রেষ্ঠ উক্তি “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানে গাজীপুরবাসী উজ্জীবিত। তিনি বলেন, ‘আমার আবেগের একটি কথা, একাত্তর সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়া ও তার সহোদর ভাই পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ৯ মাস বন্দি ছিলেন। যদি কোনো দিন সুযোগ হয়, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধের যে অবদান, সে জন্য তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, আর তার সহোদর ভাই—আমাদের ভাইকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছি।’ মুজিবুর রহমান দাবি করে বলেন, এই প্রস্তাব তিনি প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য করছেন না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন। আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দল ও জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমানসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না; সেক্ষেত্রে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে বৈধ প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল শিগগির ঘোষণা করা হবে, যেখানে মনোনয়নপত্র জমার দিন, বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে। তাদের মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলে রয়েছে। তাদের জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল আদালতের আদেশে গেজেট আকারে প্রকাশ বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব আসনের ফল সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে একজন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার এবং একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচন ভবনে তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। বিএনপি জোটে কারা আলোচনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাই নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে। দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড বা স্থায়ী কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন—আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রেহেনা আক্তার রানু, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও চৌধুরী নাদিরা আক্তার। এছাড়া আলোচনায় আছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, সালিমা বেগম অরুনি, শাকিলা ফারজানা, খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, খায়রুন নাহার, মাহমুদা হাবিবা, আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবরিনা শুভ্র, মাহারীন খান ও বীথিকা বিনতে হোসাইন। আরও সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, নাহারিন খান, সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা, ডালিয়া রহমান, মানসুরা আক্তার, ফারহানা চৌধুরী বেবী ও সাবরিনা খান। দলীয় সূত্র বলছে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত নারীদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে। একই সঙ্গে মিত্র দলগুলোর নারীনেত্রীদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াত জোটে কারা আলোচনায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পাবে। এর মধ্যে জামায়াত পেতে পারে ১১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি এবং এনসিপি একটি আসন। জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনে দলের মহিলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ নেত্রীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদেরও বিবেচনায় আনা হতে পারে। এনসিপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ঢাকা শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই সিটি করপোরেশনে বিভক্ত করার পেছনে কোনো জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এটি ছিল তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত, যা প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে ঢাকার রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. রিপন ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ড. রিপন বলেন, “নিউইয়র্ক সিটি বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ আয়তনের, অথচ সেখানে এক জন মেয়র সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। সেখানে অসংখ্য মিউনিসিপাল হসপিটাল, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ ঢাকাকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করার কী প্রয়োজন ছিল? আমি বলব—‘ওয়ান সিটি, ওয়ান ঢাকা, ওয়ান মেয়র’। দুই সিটির কারণে নাগরিকরা শুধু মশা পেয়েছে, আর কিছুই নয়।” একটি আদর্শ সিটি করপোরেশনের কাজ নিয়ে তিনি বলেন, “মেয়রের কাজ কেবল মার্কেট বানানো নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নই প্রধান অগ্রাধিকার। ঢাকায় কিছু স্কুল এমন, যেখানে স্থানীয়দের সন্তানরাও পড়ে না। দায়িত্ব পেলে আমি এই পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুলে রূপান্তর করব।” ড. রিপন আরও বলেন, “রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। না হলে ১৫-২০ বছরের মধ্যে শহর পরিত্যক্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আমি এক পয়সা হারাম খাই না, আর কাউকেও হারাম খেতে দেব না। দায়িত্ব নিলে চাঁদাবাজ-দুর্বৃত্তদের হাত থেকে ঢাকাকে মুক্ত করব।” ড. রিপনের এই মন্তব্য বিএনপির ঢাকা পুনঃএকত্রীকরণ প্রতিশ্রুতি ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার দিক নির্দেশ করছে
চল্লিশ দিন ধরে মুসলিমদের পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এ অবস্থায় আল-আকসা খুলে দিয়ে সেখানে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যৌথ এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তারা। বিবৃতিতে তারা বলেন, আল-আকসা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকার ঘটনা মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। তারা বলেন, ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে গণহারে ফাঁসির আইন পাসের খবর মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা প্রকাশ করে। আল-আকসা বন্ধ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহারে ফাঁসির আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে আল-আকসায় প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল, নিরপরাধ বন্দিদের মুক্তি এবং সব ধরনের দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা পায়। মানবতা, ন্যায়বিচার এবং শান্তির স্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা।
বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীন সফরে যাচ্ছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে যাওয়া ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব দেবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি আগামী ১৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং আগামী ২১ এপ্রিল প্রতিনিধিদলটি দেশে ফিরে আসবেন। সফরকালে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লি’র সঙ্গে বিএনপি নেতৃবৃন্দের নানা বিষয়ে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বন্ধুপ্রতিম কোনো দেশের আমন্ত্রণে দলটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিদেশ সফরে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলে যারা থাকছেন, তাদের অধিকাংশই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলে জানা গেছে। চীন সফরে বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, ড.আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, বেবী নাজনীন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, সহজলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি, সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন, মায়ের ডাকের সানজিদা ইসলাম তুলি, কামাল আনোয়ার আহমেদ, এলজিআরডি মন্ত্রীর একান্ত সহকারী ইউনুস আলী, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে বক্সিং মেশিনে আঘাত করার সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘনের শামিল। তারা বলছেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের প্রতি ন্যূনতম সম্মান ও সংযম বজায় রাখা উচিত। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন “প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ”। সংগঠনটি নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে এনসিপির “দুঃখ” হিসেবেও উল্লেখ করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, “নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর একটা ভিডিও দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে বক্সিং মেশিনে অসুস্থ্য মির্জা আব্বাস সাহেবের নাম বলে পাঞ্চ করে মকারি করতে দেখা গিয়েছে। এগুলা আমাদের কাছে স্পষ্টতই সীমালঙ্ঘন মনে হয়। যেমন নিয়মিত সীমালঙ্ঘন করে জামায়াতের আমির হামজা সাহেব নারীদের নিয়ে, ভিন্ন ধর্ম নিয়ে বা ওয়াজে যা খুশি তাই বলে। রাজনীতিতে জানা উচিত কোথায় গিয়ে থামা উচিত! নাহলে কদিন বাদে মানুষ বলতে শুরু করবে — চিনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো, জামায়াতের দুঃখ যেমন আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ তেমনি নাসীরুদ্দীন!” তবে, বিতর্কিত এ ঘটনার বিষয়ে নাসীরুদ্দীনের কোনও বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। ভিডিওটি কবে এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে সেটিও জানা যায়নি। ভিডিওতে নাসীরুদ্দীনকে ন্যাড়া মাথায় দেখা গেছে। সম্প্রতি তিনি ওমরাহ পালনে গিয়ে মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন। তাই নেটিজেনদের ধারণা, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুর রহমান কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এরপর থেকে টানা তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবার স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। শিরীন শারমিন রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এরপর শেখ হাসিনা পতনের ২৭ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।