রাজনীতি

সংগৃহীত ছবি
‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগে সায় নেই, অপেক্ষাতেই দল

পুরোনো অবস্থানেই অনড় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা কিংবা পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান বদলের লক্ষণ নেই। ‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ধারণা ঘিরে দলটির ভেতরে আলোচনা আছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকা ও আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প পথ হিসেবে এই ধারণাকে সামনে আনছেন কেউ কেউ। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে শেখ হাসিনা, এ ধারণার প্রতি একেবারেই অনাগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘রিফাইন্ড’ বা সংস্কারের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিতদের নেতৃত্বে আনার বিষয়টি বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। নির্বাচনের পরও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নিজের সভাপতি পদ ছাড়তে নারাজ শেখ হাসিনা। বড়জোর সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে মুখপাত্র হিসেবে এক বা একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেটাও তাঁর পছন্দের এবং বিদেশে থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই করার পক্ষে তিনি, যা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কোনোভাবেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে সংস্কারের সব ধারণা আপাতত ‘মৃত’ বলেই মত সবার। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও অনলাইন আলোচনা থেকে দলটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর এখন দলে সবচেয়ে বিতর্কিত ও কট্টরপন্থীরা বেশি সক্রিয়। যাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার কিংবা অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা দেখাতে মোটেও প্রস্তুত নন। বরং দেশের ভেতর ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সংগঠিত হওয়ার পক্ষে। এ ছাড়া প্রশাসনের ভেতর সরকারবিরোধী মত প্রবল করাও তাঁদের লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে রিফাইন্ড বা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে যাঁরা আশা দেখছিলেন, তাঁরা অনেকটাই চুপসে গেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা নিজেই দলের নীতি নির্ধারণ করছেন। পরিবারের সদস্যরা এতে যুক্ত থাকেন। আর দেশের ভেতর ও আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আর সরকারের ভেতরের বিভিন্ন সংস্থায় থাকা দলঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন। এর বাইরে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ কিছুটা ‘সফট’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কিছু নেতা। বাকিরা অনলাইনে দলীয় প্রধান কিংবা অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে। এ ধরনের চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ভয়াবহ হবে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসবে। আলতাফ পারভেজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, দলে সংস্কার আনার বিষয়ে অনাগ্রহ বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কিছুটা অখুশি। বর্তমানে যে বিশ্বব্যবস্থা তাতে কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে—এমনটা মনে করছেন না তাঁরা। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ক্ষমতাসীন বিএনপি হয়তো আওয়ামী লীগের ওপর এতটা কঠোর হবে না। কিন্তু তারা কখনোই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুরোনো আওয়ামী লীগকে ফিরতে দেবে না। সুতরাং আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে; যা একেবারেই অবাস্তব। আরেকটি পথ হচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির মধ্যে চরম বিভেদের জন্য অপেক্ষা করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধারণারও খুব একটা ভিত্তি নেই। ফলে আওয়ামী লীগের এখনকার রাজনীতি অনেকটাই লক্ষ্যহীন। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনের সময় এলাকায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের অনেকেই অন্য দলে চলে যেতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন। নানা মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের প্রায়ই বলতেন, যাঁরা রাজনীতি করতে চান, তাঁরা দেশে ফিরে যান। অর্থাৎ দেশে গিয়ে কারাবরণ, মামলা মোকাবিলা করুন। এখন পর্যন্ত কেউ এই নির্দেশনায় সাড়া দেননি। আবার, দেশে এসে কারাগারে গেলে জামিন মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সরকার আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে এমন কোনো সমঝোতা কিংবা উদ্যোগও নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে-এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে জায়গা দিতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কোনো মহল থেকে কোনো চাপ আছে বলেও মনে করেন না দলটির নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা নেতারা দেশে ফেরার চিন্তা করছেন না। বরং কেউ কেউ দেশে ফেরার তাগিদ এড়াতে দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে দুজন প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্যের একজন মালয়েশিয়ায়, অন্যজন সাইপ্রাসে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, ভারতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক ভালো হলে সে দেশটি তাঁদের জন্য নিরাপদ না–ও হতে পারে। টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা-কর্মী বিদেশে আত্মগোপনে। দেশে থাকা নেতা–কর্মীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ কারাগারে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতাই হারায়নি, হারিয়েছে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক অবস্থান ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ। বিকল্প পথ ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ এমন সংকটময় বাস্তবতায় ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের ধারণা সামনে আসে। এটি হচ্ছে মূলত দলটি পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব, যেখানে বিতর্কিত বা অভিযুক্ত নেতৃত্বের বাইরে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য, কম বিতর্কিত ও ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তির’ নেতাদের দিয়ে দলকে নতুনভাবে দাঁড় করানো। ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের আলোচনা হলেও দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। এই ধারণার পেছনে যুক্তি হচ্ছে—বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক দায় তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান বার্তা প্রয়োজন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। তিনি চার দশকের বেশি ধরে দলের নেতৃত্বে। তাঁর রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফলে ভবিষ্যতের জন্য দলটিকে সংগঠিত করার একটা বিকল্প হচ্ছে নেতৃত্বে পরিবর্তন। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের ধারণাটি প্রথম সামনে আসে গত বছর মার্চে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। তাতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের; সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এরপর কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আবার বিষয়টি সামনে আসে বিএনপি সরকার গঠনের পর। তবে এবার বেশি আলোচনা হয় ভারতভিত্তিক কিছু অনলাইন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মূল বার্তা হচ্ছে—রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার সায় নেই বা এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হচ্ছে না। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশে ও বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। কট্টরপন্থীদের মত হচ্ছে—আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পাক। এরপর দলে সংস্কার আনা হবে। তবে সংস্কার হতে হবে শেখ হাসিনাকে রেখে এবং অন্য বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুনদের আনতে হবে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই হতাশ দেশে থাকা নেতা, কর্মী কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায়ই বিদেশে থাকা নেতাদের ফোনে কথা হয়। কেমন আছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ নেতার মুখ থেকে আসে দীর্ঘশ্বাস, ভালো থাকার সুযোগ কোথায়? দিল্লি, কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, দুবাই, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর—যেখানেই থাকুক না কেন কমবেশি সবার জবাব কাছাকাছি। ভারত ও ইউরোপে থাকা দুজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলছিলেন, রাজনীতি থেকে দূরে থাকলে অঢেল টাকা বা আয়েশি জীবন—কোনোটাই সুখের হয় না। পরিস্থিতি এমন যে ঘরের বাইরে যেতেও নানা সংশয়, মন টানে না। আবার বিদেশে থাকা সবাই আর্থিকভাবে খুব ভালো আছেন, তা–ও নয়। বিশেষ করে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে থাকা অনেকে আর্থিকভাবে কষ্টে আছেন বলেও কোনো কোনো নেতা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে—এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা। দেশে-বিদেশে প্রথমে আলোচনা ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু হতে পারে। বিএনপি সরকারের গঠনের পর গত ৭ এপ্রিল সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি পাঁচ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। তাঁকে নিয়েও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের গুঞ্জন ছড়ায়। সব মিলিয়ে নেতাদের কেউ কেউ এতে কিছুটা আশাও দেখছিলেন; এর মাধ্যমে যদি রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ হয়। তবে দলের ভেতরে একটা শক্তিশালী মত হচ্ছে—শেখ হাসিনার অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো টেকসই হবে না। কারণ, মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ এখনো তাঁর নেতৃত্বকেই চূড়ান্ত হিসেবে মানে। শেখ হাসিনার দিক থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সায় নেই জানার পর অনেকেই এখন আর আশা দেখছেন না। বিএনপির সরকার গঠন: আশা ও হতাশা বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে—এমনটা আশা করছিলেন অনেকেই। এমনকি গ্রেপ্তারকৃত নেতারা জামিন পাবেন, এরপর আত্মগোপনে থাকা নেতারা দেশে ফিরবেন—এমনও প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিএনপির তিন মাসের মেয়াদে এমন আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নেবেন এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা চালাবেন বলেও দলের একটি অংশ আশা করছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন না দলটির অনেক নেতা। ফলে বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে দলটির একটা অংশের ভেতর যে আশা ছিল, তা কিছুটা হতাশায় রূপ নিয়েছে। এই মিছিল চট্টগ্রামে গত এপ্রিলে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নানা স্থানে মাঝে–মধ্যে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয় এই মিছিল চট্টগ্রামে গত এপ্রিলে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নানা স্থানে মাঝে–মধ্যে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়ফাইল ছবি আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার মতো রাজনৈতিক ঝুঁকি বিএনপির পক্ষে এখন নেওয়া কঠিন। ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী শক্তি জামায়াত-এনসিপির মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে তাদের অবস্থান প্রায় একই। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার বড় ধরনের চাপে পড়ে কি না, সে জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আওয়ামী লীগের জন্য খুব একটা বিকল্প নেই। এর মধ্যে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বিএনপি জোট ও জামায়াত জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি কৌশলগত ভাবনা কাজ করেছিল—জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই লক্ষ্য থেকে বিএনপি জোটের প্রতি একধরনের নীরব সমর্থনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। জামায়াত ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারত। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই। গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসন ও রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও ভুল স্বীকার করতে হবে। ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি তাদের মেনে নিয়ে এর মুখোমুখি হতে হবে। কোনো সরকারই ফৌজদারি অপরাধের ক্ষমা করতে পারবে না। কিন্তু মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ এর কোনোটার জন্যই প্রস্তুত নয়। আলতাফ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে। এ ধরনের চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ভয়াবহ হবে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসবে। নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না আলতাফ পারভেজ। তাঁর মতে, বিএনপিও একই ভুল করল। বরং আওয়ামী লীগকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারত। যেমন নেপালে গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো দল নিষিদ্ধ করা হয়নি। পূর্বতন ক্ষমতাসীন দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে আওয়ামী লীগ এই প্রচার করতে পারছে যে তারা ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্ত।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
অংকের শিক্ষক বাবাকে ‘ফাঁকি দিয়ে’ যেভাবে রাজনীতিতে সোহেল

ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দলটির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির এ নেতা।  এবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলি তুলে ধরেছেন তিনি।   ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার পুরোনো স্মৃতিগুলো অনেক সময় খেয়াল করতে একটু সমস্যা হয়। তবে যতদূর মনে পড়ে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, রংপুর কারমাইকেলের স্টুডেন্ট ছিলাম। তখন আমার আব্বা কারমাইকেলেরই গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক ও হেড অব ডিপার্টমেন্ট ছিলেন। তাকে বলা হতো অংকের জাহাজ। শিক্ষক হিসেবে তার সুনাম ছিল। সবাই তাকে খান স্যার বলে চিনতেন। সারা বাংলাদেশেই ওনার অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে। অনেক শক্ত ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন। তার (হাবিব উন নবী খান সোহেলের বাবা) প্রেজেন্সে ওখানে আমার রাজনীতি করাটা খুব কঠিন ছিল।    হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, বাবা চাইতো না যে আমি ওনার কলেজে রাজনীতি করি, মিছিল মিটিং করি, এটা চিন্তাও করা যেত না। তবে আমি যখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তখন কলেজের ইলেকশন হলো, আমরা সে সময় যারা জেলা স্কুল থেকে কলেজে একসঙ্গে এসেছিলাম; তারা মিলে তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে কাজ করলাম। বিশেষ করে আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি বিশেষভাবে খুব দুর্বল ছিলাম। কারণ তার সততা এবং দেশপ্রেম আমাকে সবসময় উজ্জীবিত করতো, কাছে টানতো। কিন্তু মিছিল মিটিং করতে পারতাম না আব্বার ভয়ে। ইলেকশনে আমি একটু গোপনেই কাজ করলাম। সেই ৪০-৫০ দশকের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতারা যেভাবে গোপনে কাজ করতেন সেভাবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলকে আমরা জেতাতে পেরেছিলাম। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেড়েছে, দলের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে। দল যখন যে নির্দেশ দিয়েছে সে নির্দেশই পালন করেছি। 

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মনোনয়ন না পেলেও হতাশ নন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটায়ও জায়গা হয়নি এই নেতার। এমপি-মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে এবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন বিএনপির এ নেতা।   তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বর্তমানে দলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এটাই তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান। দল তাকে যেভাবে রাখে, যে কাজ দেয় সেটাই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করেন।   দল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি মূলত দলের সৃষ্টি। দল তাকে তৈরি করেছে। তাই দল যখন যেভাবে রাখে, তিনি সেভাবেই কাজ করেন; উইথ হার্ট অ্যান্ড সোল তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী পেলেন বা কী পেলেন না—এ নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবেন না। দল যে কাজ দেয় সেটিই তিনি খুশি মনে করেন এবং দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকেন।   বেগম খালেদা জিয়া থাকাকালীন সময়ে নির্বাচন হলে অনেক ত্যাগী নেতা এমপি বা মন্ত্রী হতে পারতেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি এভাবে মনে করেন না। দল সবসময় একই দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখে এবং তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যেখানে অন্য কেউ বেশি উপযুক্ত বা জয়ের সম্ভাবনা বেশি, দল তাকেই মনোনয়ন দেয়। তিনি এটাকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন।   তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এক জিনিস, ত্যাগ-তিতীক্ষা আরেক জিনিস। দল যাকে সঠিক মনে করে তাকেই বেছে নেয়, আর দলে যারা কাজ করেন তারা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নেন।   মন্ত্রিপরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার নাম শোনা যাচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন এবং সেবার সক্ষমতাই আসল মাপকাঠি।   তিনি আরও জানান, দলই তাকে তৈরি করেছে এবং দল যেভাবে তাকে কাজে লাগাবে, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন। এমপি হওয়া বা না হওয়াকে তিনি চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে দেখেন না; তার কাছে রাজনীতি হলো জনগণের জন্য কাজ করার মাধ্যম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফাইল অনুমোদন বিতর্কে প্রতিমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এক মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে আগামীকালের মধ্যেই ফাইলটি জনগণের সামনে স্পষ্ট করবেন।  শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, শাহে আলম বলেছেন, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই উপদেষ্টা একটি ফাইল অনুমোদন করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন ফাইল? ফাইল প্রক্রিয়ায় সচিবের স্বাক্ষর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন থাকাই নিয়ম। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সচিব অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফাইল অনুমোদন এগিয়ে যায়।  তিনি বলেন, মন্ত্রী বা উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি বিধিবহির্ভূত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি আংশিকভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে উপস্থাপন করলে মনে হয়, কোনো প্রক্রিয়া না মেনে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সঠিক নয়।  আসিফ মাহমুদ বলেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে আনা উচিত। তিনি মীর শাহে আলমকে আহ্বান জানান, সংশ্লিষ্ট ফাইলটি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে। তিনি আরও বলেন, আমি যে কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত আছি। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল অনুমোদন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।  শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন অভিযোগ করেন। পিরোজপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে কমিটি করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা ফাইল নোটিশে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন, নিজে সই করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটিও এই তদন্তের মধ্যে আসবে যেটি একদম রুলস অব প্রসিডিউর, রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থি।  কারণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ব্যতিরেকে কখনোই মন্ত্রী একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। এটি কখনোই আইনে রুলস অব প্রসিডিউরে এবং রুলস অব বিজনেসে নেই।

মারিয়া রহমান মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন প্রায় চূড়ান্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ চলছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী বাজেট অধিবেশনের আগে এই মন্ত্রিসভার একটি কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসার পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলে আসছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা আছে। তারা সরকারকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে থাকে। বাংলাদেশের বিরোধী দল এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তা রাজনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমান জাপান সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সভায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশে ফেরার পর তিনি আবারও বিষয়টির দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছায়া মন্ত্রিসভার একটি সম্ভাব্য তালিকা ছড়িয়ে পড়লেও দলীয়ভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রায় সবাই এতে যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতারাও এই কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। সম্ভাব্য তালিকায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম এবং এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-সহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের অনেক সদস্যের নাম রয়েছে। এছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কয়েকজন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। একাধিক অমুসলিম প্রতিনিধিকেও এই কাঠামোয় রাখার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা করব—এ কথা আগেই জানিয়েছি। এখন এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমিরে জামায়াত এ ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস।” দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “বাংলাদেশে যেহেতু এই ধারণাটি নতুন, তাই আমরা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছি। তাড়াহুড়া করছি না।” তিনি জানান, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে ছায়ামন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী থাকবেন। তারা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন, অসংগতি চিহ্নিত করবেন এবং প্রয়োজন হলে পরামর্শ বা বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তিনি আরও বলেন, “ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনার জন্য নয়; এটি একটি বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো। এতে সংশ্লিষ্ট নেতারা প্রশাসনিক বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তা সহজ হবে।” ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন হলেও বিশ্বের বিভিন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য-এর ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের কাঠামো রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বিকল্প নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বিরোধী দলকে কেবল সমালোচকের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগও তৈরি করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ফাইল ছবি
বিচারের মুখোমুখি হতে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

মৃত‍্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে চান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান তিনি। সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফরমে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহকারী এবং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এমন একাধিক আওয়ামী নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবরটি জানিয়েছে টাইমস অব বাংলাদেশ। দলীয় প্রধানের দেশে ফেরা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও বলা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে যা-ই বলছেন না কেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে স্ট‍্যান্টবাজি হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এটি দলের কর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল মাত্র। আসলে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরবেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ও গণহত্যা মামলায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দিয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে দ্রুত সময়ে ফিরতে চান। সে জন্য যেসব প্রক্রিয়া গ্রহণ করা দরকার, তা আমরা করছি। তিনি যেভাবে ভারতে গিয়েছেন সেভাবেই বীরদর্পে দেশে ফিরবেন।’ এ ধরনের বক্তব্যের আসলে বাস্তবতা আছে, নাকি কর্মীদের চাঙা করার কৌশল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা উপলক্ষে বিপুল জনসমাগম করতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলের অসহায় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।’ সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপ আওয়ামী লীগের এক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমসকে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান। তার এই মনোভাবের কথা ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে। এমনকি তিনি আগামী ১৫ আগস্টের আগেই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে ট্রাভেল পাসও চাইতে পারেন।’ সম্প্রতি দলের নেতাদের সঙ্গে টেলিগ্রামের একটি গ্রুপ কলে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তার এখন যে বয়স, তাতে আর সর্বোচ্চ কয়েক বছর বাঁচতে পারেন। দেশে এসে গণতন্ত্রের জন্য যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চেও যেতে হয়, তাতেও তার কোনো কষ্ট থাকবে না’, বলেন ইউরোপ আওয়ামী লীগের ওই নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। বহু নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৭ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করলে আরো চাপে পড়ে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় অংশ এখন মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে আসলেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য কী শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নাকি দলটির এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করেছে টাইমস। দলটির কয়েক ধাপের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও সেখানে তিনি নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভারত সরকার তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক করারও সুযোগ করে দিচ্ছে। সেখানে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন। দলীয় প্রধানের এমন দৃঢ় মনোভাবের পর দলের মাঠের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করতে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সারা দেশে এখন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত চাই, আইনিভাবে চাই। ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে অনুরোধ করেছি শেখ হাসিনাকে ফেরত চাই। আমরা চাই তিনি মামলা ফেস করুক।’ তবে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রত‍্যর্পণ ইস‍্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া না মিললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষমতার শেষ ১৫ বছরে মুখের জোরে শেখ হাসিনা টিকে ছিলেন। এখনো মুখের জোরে কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছেন তিনি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন তার বিশ্বাসযোগ্য কোনো উপাদান দেখছি না।’ দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা কবে আসতে চান সেটি বড় কথা নয়। বরং তাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব।’ আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, শেখ হাসিনা যেদিন দেশ ছেড়েছিলেন নিরাপত্তার শঙ্কায় তাকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। এখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তাই এখন দেশে ফিরলে তার জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। তিনি আইন-আদালত ফেস করতে পারবেন। এ ছাড়া, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারলে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করা সম্ভব বলেও মনে করছে দলটি। ফাঁসির রায়, দেশে ফিরলে যা মোকাবেলা করতে হবে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ে শেখ হাসিনাকে গণহত্যা, হত্যার নির্দেশ ও উসকানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে পূর্ণাঙ্গ রায়ে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি), দুদক এবং হত্যা-গুমসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দমন-পীড়ন ও আন্দোলন দমনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইসিটি মামলার বিচার হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারির মামলাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে প্রথমেই আইসিটি মামলায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম-খুন ও দুর্নীতির মামলাগুলো মোকাবেলা করতে হবে।’ দেশে ফিরলে ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা আপিল করতে পারবেন কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপিল করার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তিনি আপিল করতে পারবেন কি না সেটি সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দেবে।’ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি মামলাগুলো ফেস করলেন না অথচ এখন ফাঁসির আদেশ নিয়ে দেশে এসে মামলা ফেস করবেন, এটির সত্যতা আছে বলে মনে হয় না। এটি শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি। তিনি দেশে এসে ফেস করতে চাইলে সেটি ভালো কথা।’ সূত্র : টাইমস অব বাংলাদেশ

মারিয়া রহমান মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
দুই ‘শিবির নেতা’র বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ ছাত্রদল সম্পাদকের

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।    শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘মব ও সংঘাত উসকে দেওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দেন।  একইসঙ্গে, ঘটনাস্থলে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা দুজনকে ‘শিবির নেতা’ দাবি করে তাদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতা। ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত, সমালোচিত এবং মব ও সংঘাত উসকে দেওয়া ব্যক্তি হচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নাসির উদ্দীন নাসির অভিযোগ করে বলেন, আজ ঝিনাইদহে তিনি মব সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে স্থানীয় সাধারণ জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। এই ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা ‘সন্ত্রাসীরা’ সাধারণ জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা চালায়। স্ট্যাটাসে অস্ত্রধারী দুজনকে ‘শিবিরের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি দাবি করেন- ১. সিয়াম উদ্দিন তুর্য (পাঞ্জাবি পরা) : তার বাবা স্থানীয় জামায়াত নেতা সল্টু মাস্টার, যিনি বদরগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষক। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহের মাস্টারপাড়া, কোর্টপাড়া এলাকায়। ২. আশিক (টি-শার্ট পরা) : তার বাবা মৃত বাদশা। তিনি ঝিনাইদহের কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা এবং শিবিরের একজন নেতা। ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতা ঝিনাইদহের স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকাশ্য স্থানে অস্ত্র প্রদর্শনকারী এই দুই ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পরপরই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়কের নেতৃত্বে হকিস্টিক ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, উত্তেজনা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সুজন ইসলাম (৩২) বিএনপির কর্মী। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বাহিরমাদী গ্রামের মহরম জোয়াদ্দারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি একরামুল হক গ্রুপ এবং ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নয়ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুর ও সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে বাহিরমাদী চৌরাস্তায় অবস্থানকালে সুজন ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা আহত সুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে জামায়াতের মহিলা বিভাগের বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে মিরপুর-১১ এলাকায় শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার পর এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছেন। এ সময় তারা—‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘হত্যার বিচার চাই’, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সাত দিনে সারাদেশে চারটি শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বলেও দাবি জানান তারা।একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক নারী নেত্রী বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আপনারা জাতির বিবেক। আপনারা যদি প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন এবং আমাদের সঙ্গে আওয়াজ তোলেন, তাহলে হয়তো আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাই মা। নিহত শিশুটির বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার মনে হয়েছে, আজ যদি সেই জায়গায় আমার সন্তান থাকতো, তাহলে আমি কীভাবে বেঁচে থাকতাম? বিচার হলেও হয়তো কিছুটা শান্তি মিলবে, কিন্তু এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি কোনো পরিবার কোনোদিন ভুলতে পারবে না।’ বক্তারা বলেন, একটি মানববন্ধন বা বিক্ষোভে থেমে গেলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে এবং সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করতে হবে। বক্তারা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন তুলুন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান— নরপিশাচদের গ্রেপ্তারের পরও বিচারে দেরি কেন? একের পর এক ঘটনা ঘটে, আমরা প্রতিবাদ করি, তারপর সব থেমে যায়। এভাবে চলতে পারে না।’ বক্তারা আরো বলেন, ক্ষমতার মোহে বিবেককে বিসর্জন না দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরো অনেক পরিবারকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে হবে।

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
অধ্যাপক আসিফ নজরুল
আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গতকাল বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের এই পোস্টে মাহফুজ আলমের বক্তব্যের ভিন্নতা খুঁজে পাচ্ছেন নেটিজেনরা। ২০২৪ সালে ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের পাশাপাশি তাঁর ছাত্র মাহফুজ আলমও ছিলেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের তিন মাসের বেশি সময় পর গতকাল মঙ্গলবার মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, মাজারে ও হিন্দুদের ওপর হামলা এবং ডানপন্থীদের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ব্যাক’ করেছে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসিফ নজরুল একই বিষয়ে লেখেন। তাঁর তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার। এর আগে গত মঙ্গলবার মাহফুজ আলম তাঁর দীর্ঘ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’ এরপর আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরেছে, তার বিরাট একটি তালিকা তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরিণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’ এ ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তাঁর ভাষায়, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেস দেওয়া হইসিল।’ এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ওই সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে “বিএনপি ও *” অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর “বিএনপি ও *” ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিল অন্তরিণ।’

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে নিন্দা জানাল জামায়াত

ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ফখরুলের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, উসকানিমূলক ও অসত্য বলে বর্ণনা করেন। বুধবার (২০ মে) দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে গৎবাঁধা মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ও গণমুখী ইসলামী দলের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনকভাবে কুৎসা রটানোর পথ বেছে নিয়েছেন।’ গোলাম পরওয়ার বলেন, “মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন ‘আমরা নাকি ধর্মের নামে রাজনীতি করি বা মিথ্যা বলি।’ অথচ দেশবাসী ভালো করেই জানে, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও প্রকাশ্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আমরা ধর্ম নিয়ে কখনো কোনো ধরনের হীন ব্যবসা বা চাতুরীর আশ্রয় নেই না। বরং ধর্ম নিয়ে প্রকৃত ব্যবসা ও ভণ্ডামি করে বিএনপি নিজেই। সারা বছর তাদের বড় বড় নেতাদের নামাজের কোনো খবর থাকে না, অথচ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই তাদের গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরে, হাতে তসবিহ দেখা যায় এবং আতর মেখে মসজিদে ঢুকতে দেখা যায়। জনগণের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই সস্তা ও ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনীতি বিএনপির জন্যই বেশি প্রযোজ্য, জামায়াতের নয়। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল অমূলক দাবি করেছেন ‘এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কোনো দিন ক্ষমতায় বসাবে না।’ তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একটি দল। অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক জনতা জামায়াতকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে এবং আমাদের মন্ত্রীরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির স্থাপন করেছেন। জনগণের এই রায়কে যারা অস্বীকার করে, তারা আসলে গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। তিনি আরো বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের সভায় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার হীন উদ্দেশ্যে যে সস্তা নাটক তিনি মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করেছেন, তা তার মতো একজন সিনিয়র রাজনীতিকের কাছে কখনো কাম্য নয়। অপপ্রচার চালিয়ে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে তিনি যে পুরনো ও অসত্য বয়ান দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতে ইসলামী সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মিথ্যা এবং কুৎসার ওপর ভিত্তি করে কখনো টেকসই রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হবে সত্য, সততা এবং জনকল্যাণমূলক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে, যা জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে জামায়াতের বিরুদ্ধে অসত্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করার এবং এ ধরনের অসত্য মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আমি মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি
সজীব ওয়াজেদ জয়ের অজানা তথ্য ফাঁস!

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক অজানা তথ্য ফাঁস করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।  বুধবার (২০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে হাসিনাপুত্র জয়ের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সামনে আনেন তিনি।  পোস্টে সায়ের লেখেন, সাধারণত যা নিয়ে কাজ করি সে বিষয়ে কিছু লিখিনা, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা ও তার পঙ্গপালের আস্ফালন দেখে ভাবলাম অনেক কিছু যে এখনো জানার বাকি, জানানোর বাকি — সে বিষয়টা ওদের একটু অবহিত করা প্রয়োজন।  একটি নথি শেয়ার করে সায়ের বলেন, যে ডকুমেন্টটি দেখছেন সেটা হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের অংশ বিশেষ। ২২ পাতার ওই চুক্তির কেবল দুটি পাতা এখানে প্রকাশ করছি। যার অর্থ দাঁড়ায় সম্পূর্ণ ৩৪৬ পাতার ডকুমেন্টের মাত্র ২টি পাতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।    সায়ের আরও বলেন, যতটুকু তুলে ধরেছি সেখানে আপনারা দেখেছেন যে সামিট কমিউনিকেশনে হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মালিকানার পায়তারা চলছে, আদালতের কাছে উভয়পক্ষের স্বাক্ষর করা এই চুক্তিতে জয় তার স্ত্রীকে এককালীন ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত প্রতিমাসে ক্রিস্টিনাকে ২০ হাজার ডলার করে প্রদান করবেন এমনটাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।    আল জাজিরার এ সাংবাদিক বলেন, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতিবছর সজীব ওয়াজেদ জয় তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বছরে ২ লক্ষ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, ১০ বছরে সর্বমোট ২.৪ মিলিয়ন ডলার (২৪ লাখ ডলার) প্রদান করবেন। এছাড়াও চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময় ১ জুন, ২০২৫ এর মধ্যে ট্যাক্স ফ্রি ১ মিলিয়ন ডলার (১০ লক্ষ) প্রদান করবেন বলেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।   এ অনুসন্ধানী সাংবাদিক বলেন, হাসিনা সরকারের শাসনামলে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়েছে যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ অন্যতম। আবার হাসিনার পুত্রেরই রয়েছে সামিটের সাথেই ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব? ব্যাপারটা কি চরম স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে গেলো না?  সায়ের বলেন, আর এতসব অর্থই বা জয় সাহেব কীভাবে উপার্জন করলেন? এত এত ট্রাস্টের নেপথ্যে যে অর্থ সেসব কীভাবে সংগ্রহ করা হলো?  পোস্টের শেষে সায়ের বলেন, সম্পূর্ণ ডকুমেন্টটিতে এমন বহু-বহু তথ্য রয়েছে, সেসব যখন সামনে আসবে, তখন শির উঁচু করে প্রত্যাবর্তন খোয়াবের পরিবর্তে, মাথায় একটা লাইনই ঘুরপাক খাবে, আর তা হলো — ধরণী দ্বিধা হও।

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
মির্জা আব্বাস। ফাইল ছবি
আগের চেয়ে সুস্থ মির্জা আব্বাস, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নিজের সুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বুধবার (২০ মে) বিকালে মালয়েশিয়া থেকে অডিও কলে তিনি দেশবাসীর কাছে এই দোয়া চান। শরীরটা কেমন এখন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আছি মোটামুটি। এখনো ট্রিটমেন্টের মধ্যে আছি। থেরাপি নিচ্ছি। দেশবাসীকে আমার জন্য দোয়া করতে বলবা, দেশের মানুষ যেন আমার জন্য দোয়া করেন, সবার কাছে আমি দোয়া চাই। আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি… তিনি মহান।’ দেশে কবে ফিরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভালো হলেই দেশে চলে আসব। জানাব আমি। এখনো ট্রিটমেন্টে আছি…।’ খাওয়া-দাওয়া ঠিকভাবে করতে পারছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাওয়া-দাওয়া ঠিক আছে আল্লাহর রহমতে। মির্জা আব্বাস যখন কথা বলছিলেন তখন তার সহধর্মিনী আফরোজা আব্বাস পাশেই বসা ছিলেন। তিনি বলেন, ‘উনি এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। এখন তাকে নিয়মিত থ্যারাপি দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে তিনি থাকছেন।’ উল্লেখ্য যে, গত ১৪ এপ্রিল মির্জা আব্বাসকে ফিজিও থেরাপির জন্য মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন মির্জা আব্বাস। যিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টাও। গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হলে মির্জা আব্বাসকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম দ্রুত মির্জা আব্বাসের মতিষ্কে অস্ত্রোপচার করে। অস্ত্রোচারের পর ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়।সেখানে টানা একমাস চিকিৎসকদের নিবিড় চিকিৎসায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেন। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে ফিজিও থেরাপির জন্য মির্জা আব্বাসকে ভর্তি করা হয় মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে। এটি একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল।

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন গোলাম পরওয়ার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা আব্বাসকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল  গোলাম পরওয়ার। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।   জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মির্জা আব্বাস। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।   এই অবস্থার মধ্যেই গোলাম পরওয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন। সাক্ষাতের সময় তিনি মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।   হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অসুস্থতা ও মানবিক সংকটের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনৈতিক শিষ্টাচার। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহমর্মিতা ও মানবিকতার জায়গা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক বিভেদ কমিয়ে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত অসুস্থতা বা মানবিক সংকটে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নজির নতুন নয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়।   এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, দাবি মাহফুজ আলমের

চব্বিশের আন্দোলনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আবার দেশের রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এর বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে তিনি দলটির ‘ফিরে আসার’ প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করেছেন।   মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে তিনি এ নিয়ে দুটো ফেইসবুক পোস্ট দেন। এর প্রথমটিতে তিনি লেখেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।” কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন তিনি। মাহফুজ লেখেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যে দিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেসে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের ‘মজলুমগণ’।“ জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মাহফুজ এমন এক সময় এই স্ট্যাটাস দিলেন, যেদিন ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইমেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শিগগিরই দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত থাকা মাহফুজ এ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ফেরার প্রসঙ্গ নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দেন। তবে শেখ হাসিনার বিষয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজ কোনো কথা অবশ্য লেখেননি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্র্তী সরকারেরও কড়া সমালোচনা করে মাহফুজ বলছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিকাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হল এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া শুরু হল। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামাত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল। নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।” ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। সেই থেকে দলটি কার্যত রাজনীতির মাঠে নেই। বিভিন্ন সময় মিছিল-স্লোগানের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার হচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ফেইসবুক পোস্টে মাহফুজ লেখেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে 'মজলুমগণ' চুপ ছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেকুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এদেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যুনতম সংস্কার ও ‘ঐকমত্য কমিশন’ নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হল।” আওয়ামী লীগ সেদিনই ‘ব্যাক’ করেছিল, যে দিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে ‘লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব’ আর মবে রূপ নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন মাহফুজ। সব শেষে মাহফুজ লেখেন, “লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের। প্রচারে- নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থী বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস এন্ড দোস বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ।” এ দিকে তার এ স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পাল্টা স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে মাহফুজ লেখেন, “যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাঁদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা। “হঠকারী, উগ্রবাদী এবং অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতিকে পরাস্ত করা। সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের উপর হামলার বিচার করার দাবি অব্যাহত রাখা। জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে প্রধান করে তোলা এবং বিচারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা। “বাংলার বহু ভাষা-সংস্কৃতিকে যাপন-উদযাপন করা এবং রিগ্রেসিভ-ডিফিটিস্ট কালচারাল লড়াইকে জায়গা না দেয়া। কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা বিভিন্ন বর্গ থেকে জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ঔন করা। লীগের ফ্যাসিস্টদের লক্ষ্যবস্তু এরাই।” যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। একইসঙ্গে জুলাইয়ের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস/ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরির আহ্বান করেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
‘অনুপস্থিতি মানে নীরবতা নয়’, ফেরার বার্তা শেখ হাসিনার

বাংলাদেশে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি শাসনামলের ‘অন্ধকার দিনগুলো’ ফিরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যিনি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত।   এমন আশঙ্কার কারণ হিসেবে দেশে জঙ্গি ও উগ্রপন্থি শক্তির উত্থানের অভিযোগ করেছেন তিনি। আর নিজের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ‘শিগগিরই’ ফিরবেন। ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব আশঙ্কা ও সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। এ দলটি এর আগে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ‘শিগগিরই’ ফেরার আশা শোনালেও সেটা যে দেশের ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভর করছে, সেটাও মানছেন চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো— আপনি এর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনি কি শিগগিরই দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন? ১৭ মে আমার জন্য আবেগঘন ও স্মরণীয় একটি দিন। বাবা-মা, ভাই ও স্বজনদের হারিয়ে ১৯৮১ সালের এই দিনে ছয় বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছিলাম। সেই ফেরার ভিত্তি ছিল দেশের মানুষের ভালোবাসা। আর তখনও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল, মামলা ছিল ও জীবনের ঝুঁকি ছিল। ফেরার বিষয়টি নির্দিষ্ট দিনক্ষণের ওপর নির্ভর করে না। আমরা দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। এসব বিষয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়াটা শুধু আমার ফেরার জন্য জরুরি নয়, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতেও জরুরি। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শিগগিরই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাব। আরেকটা বিষয় আমি স্পষ্ট করতে চাই। সেটা হলো, আমার অনুপস্থিতি মানেই আমার নীরবতা নয়। প্রতিটি মুহূর্তে আমি দেশের জন্য লড়াই করছি এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। ১৯টি হত্যাচেষ্টা থেকে আমি প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমাকে কোনো কিছুই থামাতে পারেনি। আল্লাহ যেহেতু আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাই আমি খুব শিগগিরই দেশের মাটিতে ফিরব। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। এর পরও কি আপনার দেশে ফেরা সম্ভব? আওয়ামী লীগ জনগণের দল; বন্দুকের নল কিংবা ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদে এ দলের জন্ম নেয়নি। কাগজে লেখা কোনো নিষেধাজ্ঞাই আওয়ামী লীগকে দমাতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞায় যদি আওয়ামী লীগকে দমন করা যেত, তাহলে বাংলাদেশই জন্ম নিত না। আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে বারবার ফিরে এসেছে। যারা ভাবছেন এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী, তাদের ইতিহাসের পাতা দেখা উচিত। এই নিষেধাজ্ঞা হয়ত ক্ষমতাসীনদের সাময়িক ক্ষমতা প্রয়োগের প্রতিফলন, কিন্তু এটি মূলত তাদের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ; তারা আওয়ামী লীগকে ভয় পায়। আমাদের লাখ লাখ সমর্থক এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও দেশে অবস্থান করছেন। হামলা, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের পরও তারা ঐক্যবদ্ধ। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী, এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।   বাংলাদেশের কোনো কোনো নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগ’ মেনে নেওয়া হতে পারে। এ অবস্থায় কি দল পুনর্গঠন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক একটি দল। দলের আদর্শ ধারণ করা নেতাকর্মীরাই এর প্রাণ; তারাই নেতৃত্ব নির্বাচন করে থাকেন। আপনি একে সংস্কার বা সমন্বয় যাই বলুন না কেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। ফলে কিছু ক্ষেত্রে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কখনো কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে, শুদ্ধি অভিযান বা বিপ্লবের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের নিজের ঘর গোছানোর সক্ষমতা রয়েছে। আর গোছানোর কাজটি হবে দলের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরামর্শে নয়। আওয়ামী লীগের আরো যেসব নেতা দেশ ছেড়েছেন, তারাও কি দেশে ফিরবেন? দেশ ছেড়ে গেছেন— এই বাক্যের সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ হলো, কেউই নিজের ইচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ‘অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘নীরব রাজনৈতিক গণহত্যা’ চালিয়েছে। এই ‘গণহত্যা’ এখনও চলছে। আমাদের প্রায় ৬০০ নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেড় লাখের বেশি নেতাকর্মীকে। অনেকের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর হয়েছে; দখল হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করায় হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দেশ ছাড়লেও তাদের অনেকে দলকে সংগঠিত করা এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের কাজ করছেন। আমি এটাই বলতে চাই, দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশ একটি ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ মুখোমুখি। এটি যেভাবে সামলানো হচ্ছে, সে বিষয়ে আপনার ভাবনা কী? ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগের চার মেয়াদে আমরা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলাম। আমরা পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকার। তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৪৮২ ডলার; আর দেশের জিডিপির আকার ছিল ৭০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বশেষ বাজেট দিয়েছিলাম, তার আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৮৪ ডলার আর জিডিপির আকার ছিল ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। ‘মব ভায়োলেন্সের’ মাধ্যমে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে তলানিতে নেমে এসেছে বিদেশি বিনিয়োগ। মাত্র দেড় বছরে তারা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারেও এই ধারা অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাসে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার, এমনকি বিএনপির সময়ও চীন ও পাকিস্তানের প্রতি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। অন্যদিকে ভারতবিরোধী বক্তব্য বেড়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি হলো, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। এই বন্ধুত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ। আমাদের সংবিধানেও এই নীতির কথা বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় সব বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বচ্ছ, বিশ্বস্ত ও স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রেখেছে। বিপরীতে অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভারত শুধু প্রতিবেশীই রাষ্ট্রই নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে অবদান, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু আমাদের দেশে স্বাধীনতাবিরোধী এবং আদর্শিকভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীর প্রধান হাতিয়ার হলো ভারতবিরোধী বক্তব্য। ইউনূসের সরকারও এই চর্চায় যোগ দিয়েছিল। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সব সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারতের কাছে ‘দেশ বিক্রি’ করার এবং ‘দেশবিরোধী চুক্তি করার’ অভিযোগ তুলত। অথচ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ বারবার বলি দেওয়া হচ্ছে। উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরকারের সময় বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের ‘চারণভূমিতে’ পরিণত হয়েছিল। দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়েছিল এবং আমার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। বিচারকদের হত্যা করা হয়েছিল; হামলা চালানো হয়েছিল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো ঘটনাও ঘটেছিল। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে দেশকে উগ্রবাদমুক্ত করতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেখেছি, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে জড়িত অনেক সংসদে প্রবেশ করেছেন। ২০০১-০৬ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলো আবারও ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রেস্তোরাঁ–হোটেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‍্যাম্প ও টয়লেট না থাকলে লাইসেন্স বাতিল হবে

হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী একজন মানুষ পরিবারের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গেলেন, কিন্তু প্রবেশমুখে সিঁড়ি থাকায় ভেতরে ঢুকতেই পারলেন না। কোনোভাবে ঢুকলেও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট নেই। দেশের অনেক রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এমন ভোগান্তি এখনো নিত্যদিনের বাস্তবতা।   এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। সিটি করপোরেশন এলাকায় থাকা রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা র‍্যাম্প ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা নবায়ন বন্ধ রাখা হতে পারে।   এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৪ মে দেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতকরণ–সংক্রান্ত সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   সরকার জানিয়েছে, নগরের সেবা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তাই রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ক্যাফেগুলোতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি নাগরিক অধিকার।   বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ ২০২১ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছেন। শহরাঞ্চলেও প্রতিবন্ধী মানুষের হার উল্লেখযোগ্য। ফলে নগরের গণব্যবহার্য স্থাপনাগুলোতে তাঁদের সহজ চলাচল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।   আইনগতভাবেও বিষয়টি বাধ্যতামূলক। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ৩৪ ধারায় গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডেও গণব্যবহার্য ভবনে র‍্যাম্প, চলাচলের পথ ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট রাখার নির্দেশনা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু নামমাত্র র‍্যাম্প নির্মাণ করলেই হবে না। র‍্যাম্পের ঢাল, দরজার প্রশস্ততা, টয়লেটের ভেতরে হুইলচেয়ার ঘোরানোর জায়গা—সবকিছুই ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। কারণ অনেক স্থানে নিয়ম মানার জন্য র‍্যাম্প তৈরি করা হলেও বাস্তবে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকে।   বিবিএসের ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি। এর বেশির ভাগই বেসরকারি মালিকানাধীন। সরকারের নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো শুরু থেকেই প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।   স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “নগরের সেবা সবার জন্য। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যদি রেস্তোরাঁ, হোটেল বা ক্যাফেতে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে না পারেন, সেটি শুধু অবকাঠামোগত ঘাটতি নয়, এটি নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন।”

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ভাঙন নিয়ে যা বললেন চরমোনাই পীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সমঝোতা কেন ভেঙে গেলো— এই বিষয়ে কথা বলেছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও তাদের আসন বন্টনের বিষয়ে সমঝোতায় আগে থেকেই থাকা দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া, ভারত-আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করা, ইসলামের নিয়ম অনুয়ায়ী দেশ পরিচালনা না করে বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনা করার অঙ্গীকার করা, মার্কিনিদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রবাদী বলে সার্টিফাই করার প্রেক্ষিতে সমঝোতা ভেঙ্গে যায়। এরপরেও নানা প্রচেষ্টা করা হয়— কিন্তু সমঝোতা রক্ষা করা যায় নাই বলেও জানান তিনি।       সোমবার (১৮ মে) পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করার সময়ে তিনি এসব কথা জানান।     মতবিনিময় সভায় চরমোনাই পীর বলেন, কেবল এমপি ও মন্ত্রীত্বের জন্য আমরা রাজনীতি করি না। আমরা কেবলই ইসলাম, দেশ-জাতি ও মানবতার পক্ষেই অটল-অবিচল থাকবো। আগামীতেও এসবের ভিত্তিতে জোট হতে পারে।    জুলাই সনদের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার ওপরে আস্থা রাখতে চাই।    নির্বাচন পরবর্তী কাজের ব্যাপারে বলেন, নির্বাচনের পরে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দলের ভেতরে নানা সংস্কার চলছে। প্রশিক্ষণের কাজ চলছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে গোলামির চুক্তি আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি করেন চরমোনাই পীর।      পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, বিজেপি যা করছে তা কোনও সভ্যরাষ্ট্র করতে পারে না। তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। ভারতকে এই বর্বরতা থেকে বিরত থাকতেই হবে।   এই সভা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ঢাকার দুই সিটিতে নিজ দলের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হিসেবে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের নাম ঘোষণা করেন তিনি।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা, সিইসির কপালে চিন্তার ভাঁজ

আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।   তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমে দেখছি, বিভিন্ন দল থেকে অলরেডি মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে। এটা আমার জন্য চিন্তার, আমার কপালে ভাঁজ পড়েছে।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয় না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি ইনডিপেডেন্ট হয়ে যেত, পার্টির মালিকানা থাকত না, ওনারশিপ থাকত না, দলে দলে গোলমাল হত না। এজন্য মনে করি, দলগুলোর উচিত হবে নিজেরা বসে ফায়সালা করা; আমাদের সহায়তা থাকবে।   সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিরেন সিইসি।   তিনি বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, সব ধরনের নির্বাচনই ‘ভালো’ করতে হবে। ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর ‘রক্তপাতহীন’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা দরকার।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকারের ‘পূর্ণ সহায়তার’ কথা তুলে ধরেন সিইসি বলেন, “স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে আসছে। প্রয়োজনীয় আইন-বিধি সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হয় না।   আমরাও দলের সহযোগিতা চাই। প্রয়োজনে আপনারা নিজেরা নিজেরা বসেন। একটা ফায়সালায় আসেন, আমরা রক্তপাত দেখতে চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাই।   বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সহিংসতার যে ইতিহাস, সে কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, অতীতে দেখা গেছে অনেক মার্ডার হয়, একই পরিবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, খুব স্বল্প ব্যবধানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বর্শা নিয়ে মারামারির প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, টেঁটা মেরে দুই পাড়ায় মারামারি হয়। এখন দুই পাড়ায় যদি প্রার্থী দাঁড়ায়, তাহলে কি হবে? কারবালা হয়ে যাবে। এ ধরনের সিচুয়েশনে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করা উচিত, স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ঝামেলায় যাবে না।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ভালোভাবে আয়োজনের পর স্থানীয় নির্বাচনও ‘সুন্দরভাবে’ করে নির্বাচনি সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চান এএমএম নাসির উদ্দিন।   তিনি বলেন, এক নির্বাচন ভালো হল। এটার মানে এ নয় যে বাংলাদেশের নির্বাচন সবসময় ভালো হবে। আমরা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। শুধু একটা নয়, সব নির্বাচন ভালো হবে। নির্বাচনের ভালো সংস্কৃতি যেন গড়তে পারি, এজন্য দলগুলো নিজেরাও বসেন। আমরা চাই, সত্যিকার অর্থে শতভাগ ভালো একটা স্থানীয় নির্বাচন।   সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টারা এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার আভাস দিয়ে এসেছেন।   এ বিষয়ে সিইসি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে এখনও ফাইনাল হয়নি। নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, আমাদের কিছু বিধিবিধান সংস্কার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ শেষ করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসব। সরকার তো চাই-ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের মধ্যে শুরু করবে। এটার জন্য সময় লাগে।   অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।   আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত কমিটি এ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করে।   ভোট নিয়ে জামায়াত- এনসিপির অসন্তোষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয়ে অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা   জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ভোটে অনেক দল অংশ নিলেও মোটা দাগে এ নির্বাচন ‘পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যাবে না’।   তিনি বলেন, উপরে সব ঠিকঠাক, ভেতরে সদরঘাট। ভেতরে যে কাজটা হয়েছে, আগেও বলেছি সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? প্রক্রিয়ার ভেতরে সে স্বচ্ছতা মেনটেইন হয়নি।   এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ করেন।   তিনি বলেন, “আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এই ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিল যে ব্যালট পেপারে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে না। কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দিয়েছিল যে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে।   সেখানে নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কীভাবে ডিসি অফিসে নগ্নভাবে একটা ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দেখেছে। সে রিপোর্টগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও দিয়েছি।   এর ‘বিচার’ দেশেই হবে মন্তব্য করে নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এ নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, এর বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করেব। আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে হাত দেব, যাতে আপাদমস্তকে পরিবর্তন করব, ফাস্ট টার্গেট হবে এটা।   এনসিপি নেতার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে? ভোটগ্রহণই তো সুষ্ঠু ইলেকশন নয়। সুষ্ঠু ইলেকশনের জন্য ফেয়ার রেজাল্ট ডিক্লারেশন হতে হবে। এখানে স্বচ্ছতার বিষয় রয়েছে। কোয়ালিটিটিভ কিছু ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। কিন্তু মোটাদাগে সুষ্ঠু ইলেকশন আমরা বলতে পারছি না বলে দুঃখিত।   পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি বলেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন উল্লেখ করেন।   নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী যেটা অনুভব করেছেন, যেটা বিশ্বাস করেছেন, তিনি সেটা বলেছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ বক্তব্যে আহত হইনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
বিএনপির কোণঠাসা প্রবীণ নেতারা ঠাঁই পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়

দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, লাখো মামলা, অমানবিক নির্যাতন আর জেল-জুলুম পার করে অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ।   রাজপথের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা আজ নিজেদের দলেই ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তরুণদের প্রভাব বাড়তে থাকায় অভিজ্ঞরা পড়ছেন ছিটকে। তবে হতাশার এই ঘোর অন্ধকারের মাঝেই উঁকি দিচ্ছে নতুন আশার আলো।   জানা গেছে, ঈদুল আজহা ও বাজেট অধিবেশনের পর মন্ত্রিসভার যে সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে, সেখানে দলের এই ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের মূল্যায়নের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।   বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারির বিপুল নির্বাচনী বিজয়ের পর যখন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়, তখন অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। দলের যে প্রবীণ নেতারা বিগত দেড় যুগ ধরে বুক চিতিয়ে দলকে আগলে রেখেছিলেন, তাঁদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।   ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ছয়জন পূর্বে বিএনপি সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রথম দফার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি। প্রবীণ নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার করে কার্যত দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে তিনি স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছেন।   দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণীতে এখন লন্ডনভিত্তিক তরুণ নেতাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সরকার বা দল পরিচালনার মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এখন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অনেক সিনিয়র নেতার মতে, তারেক রহমান বিশ্বাস করেন বিদেশ থেকে শিক্ষিত এই তরুণরা আরও আধুনিক ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা নিয়ে এসেছেন এবং দলের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তাঁরাই বেশি যোগ্য। একসময় প্রভাবশালী থাকা সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অস্বস্তিবোধ করেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।   পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতার ভাষায়, 'পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চেয়ারম্যান নিজেই বয়স্কদের অবসরে পাঠাচ্ছেন'। এই পরিবর্তনের আভাস পেয়ে খোদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বয়সের কারণ দেখিয়ে শিগগিরই অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।   তিনি বলেছেন, 'আমার বয়স বাড়ছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছি। এখন একটি পরিবর্তন দরকার।'   ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে দেড় লাখ মামলায় আসামি করা হয়েছে। যাদের অনেকেই আজ নিস্ব। বাড়িঘর, জমিজমা, এমনকি গবাদিপশু বিক্রি করে, ঢাকায় রিকশা চালিয়েও অনেকে আন্দোলনের খরচ জুগিয়েছেন। আতঙ্কে অসংখ্য রাত কেটেছে ধানখেতে, খোলা আকাশের নিচে, সুপারি বাগানে কিংবা কবরস্থানে।   দলের অনেক ত্যাগী নেতার অভিযোগ, দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলে ত্যাগের স্বীকৃতি মিলবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও সরকার গঠনের পর তাঁদের ভাগ্য বদলায়নি। বরং আন্দোলনের সময় যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিচ্ছে।   ত্যাগী নেতাদের বঞ্চনার অন্যতম উদাহরণ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা রিজভীকে মন্ত্রী না করে কেবল উপদেষ্টা করা অনেকেই বিস্মিত। সাড়ে চারশ মামলার আসামি হাবিব উন নবী খান সোহেল দীর্ঘ সময় কারাগার ও আদালতে কাটালেও তাঁকে এখনো কোনো পদে মূল্যায়ন করা হয়নি।   তিন শতাধিক মামলার আসামি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিনা চিকিৎসায় তাঁর একটি কিডনি অকেজো হয়েছে। ২০০১ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ আলাল এখনো শরীরে গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। মায়ের মৃত্যুর সময় কারাগারে থাকায় শেষবার মায়ের মুখটাও দেখতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও সরকারে তাঁকে মূল্যায়ন না করায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।   অবশ্য আলাল এখনো আশাবাদী। তিনি বলেন, 'তারেক রহমান নিজে আমাদের ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সবকিছু অবগত রয়েছেন। চেয়ারম্যান যথাসময়েই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।'   বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'আমাদের দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর ত্যাগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সবেমাত্র সরকার গঠন হয়েছে। দেশ গঠনের কাজ চলমান। আশা করি একটা সময় কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন।'   সরকারের পাশাপাশি দলের ভেতরেও বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এ বছরের শেষের দিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরবর্তী মহাসচিব হতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।     স্থায়ী কমিটি থেকেও বয়স্ক ও অসুস্থ নেতাদের সরিয়ে তরুণদের জায়গা দেওয়া হতে পারে। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং সেলিমা রহমানকে স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ী কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া নব্বইয়ের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অনেক নেতা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পেতে পারেন।   সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের সম্ভাবনা প্রাথমিক বঞ্চনা ও হতাশার মধ্যেই দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে আসছে আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ। সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জনবান্ধব ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহা এবং বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে যাচ্ছে। আর এই সম্প্রসারণেই দলের পোড়খাওয়া ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।   সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের দেখা যাবে। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধি না থাকায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ছয়বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।   এছাড়া তৃণমূলের দাবি মেনে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো হেভিওয়েট নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকেও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।   এর বাইরে হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তরুণ ও উদীয়মান নেতাদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছেন খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল এবং ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও দুই-একজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার পরিচালনার শুরুতেই প্রবীণ ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে তরুণদের ওপর নির্ভরতা দলে কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের সৃষ্টি করেছিল। তবে তারেক রহমান খুব ভালো করেই জানেন, শুধু তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র চালানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রবীণদের মেধা, প্রজ্ঞা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ সেই ভারসাম্য রক্ষারই একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। রাজপথে রক্ত ঝরানো এই প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা যদি সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় যথাযথভাবে মূল্যায়িত হন, তবে দলের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশা যেমন দূর হবে, তেমনি দেশ গঠনেও তা এক নতুন মাত্রার যোগ করবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৯, ২০২৬
বিএনপি ও জামায়াতের লোগো
বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি ‘লোকদেখানো’

নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তুমুল বিরোধিতা দেখা গেলেও সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দল দুটি সরকার ও বিরোধী আসনে থাকলেও তাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘বোঝাপড়া আছে’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়েও দুপক্ষের অঘোষিত ঐক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতার মাঝে বৈঠক, জ্বালানি ইস্যু, বিরোধী এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে বিচার-সালিশ ও হাঁট-বাজারের ইজারাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে দুইপক্ষের মধ্যেই এক ধরনের সমন্বয় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ। তারা বলছেন, দুই দলের দৃশ্যমান বিরোধিতা দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে ঐক্য ঠিকই আছে।  ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা ছিল দীর্ঘদিনের। গত দুই দশক রাজপথ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই ছিল তাদের দহররম-মহররম সম্পর্ক। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দলেরই পথ হয়ে যায় আলাদা। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারাই একজন আরেকজনকে লক্ষ্য করে অভিযোগের তির ছোড়েন। বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, আবার জামায়াতের নেতারা বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন। রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের পর এ চিত্রের অনেকটা পরিবর্তন ঘটে। ‘আমরা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবো না। সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করবো,’ সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের পর এ ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। অবশ্য দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ঐক্য সময়োপযোগী বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ভঙ্গুর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তাই দেশের স্বার্থে সরকার যদি বাণিজ্যিক কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেটি ইতিবাচক হলে অবশ্যই বিরোধী দলের সহযোগিতা করা উচিত। আর আওয়ামী লীগ প্রশ্নেও তাদের বোঝাপড়া থাকা দরকার। কারণ দুইপক্ষই বিগত দিনে নির্যাতিত হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্য জরুরি।’ জ্বালানি সংকট নিয়ে ঐক্যের সূচনা ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করে। প্রতিটি পাম্পেই ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এ নিয়ে যখন অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, তখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। গত ২৪ এপ্রিল সংসদের ২০তম অধিবেশনে দুপক্ষের মধ্যে কমিটি গঠন করা হয়। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সারা দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কথা বলার আগ্রহ জানিয়ে স্পিকারের কাছে বার্তা পাঠান তিনি। বক্তব্যে তুলে ধরেন ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের মাধ্যমে আলোচনা করার। পরে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে সরকার দলের ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন সংসদ নেতা। এদিকে, বিরোধী দল থেকেও পাঁচ সদস্যের নাম চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে পাঁচ সদস্যের তালিকা দেয় বিরোধী দল। এসব কমিটির কারণে এ সংকট নিরসন হয় বলে দুই পক্ষেরই দাবি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে অভিন্ন অবস্থান জুলাইয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনও সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গত বছর ওই অধ্যাদেশের বলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানেও সরকার ও বিরোধী দলের তেমন দ্বিমত নেই। গত ৯ এপ্রিল দুপুরে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়। এই অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। এতে কোনও সত্তাকে নিষিদ্ধের পাশাপাশি তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও এই আইনে থাকছে। আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনও ব্যক্তি বা সত্তাকে নিষিদ্ধের বিধান থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সেখানে জামায়াতের আমির সংসদে আলোচনার কথা বললেও সরকারি দল এতে আগ্রহ দেখায়নি। আর বিরোধী দলও তেমন জোরালো আপত্তি করেনি। বাণিজ্যচুক্তিতে দুইপক্ষের সম্মতি নিয়ে আলোচনা নির্বাচনের তিন দিন আগে করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়েও সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের এক ধরনের ঐক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে কথা উঠেছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের পক্ষ থেকে সংসদে আলোচনা বা রাজপথে কোনও আন্দোলন না থাকায় এ ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধী দল যখন সংসদে এ সংক্রান্ত আলোচনা উপস্থাপন করেনি, সেখানে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আলোচনা করতে চাইলেও সুযোগ দেয়নি সরকারপক্ষ। তবে এই চুক্তিতে নিজেদের সম্পৃক্ততা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে বিরোধী দল জামায়াত। সর্বশেষ গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় কর্মসূচিতে এ নিয়ে মুখ খোলেন দলটির আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনও একজন মানুষও এ বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের ওপিনিয়ন।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘‘তথাকথিত বিরোধী দল যতই সরকারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করুক, দেশের মানুষের তা বোঝার বাকি নেই। তারা মূলত ‘আমরা আর মামুরা’ টাইপের সরকার চালাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বাণিজ্যচুক্তিতে দুইপক্ষেরই সম্মতি ছিল। আমাদের বিশ্বাস—তারা এ নিয়ে জবাবদিহি করবে না। তাই রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে আমাদেরই ভূমিকা রাখতে হবে।’’ দুই ধরনের ব্যাখ্যা নেতাদের সরকার ও বিরোধী দল আসলে কি লিয়াজোঁ রক্ষা করে চলছে? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের সহযোগী। অথচ বাইরে বিরোধিতার অভিনয় করছে। এতে জনগণের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা থাকবে।’ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা জনগণের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে ছাড় দিচ্ছি না। তবে ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করলেও যেকোনও অন্যায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সংসদ ও রাজপথে আমাদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।’ তবে ভিন্ন কথা বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।তিনি বলেন, ‘সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনও পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। আর বিরোধী দল কখন কী অবস্থান নেয়, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

দিলু মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত
বিনোদন

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা দিলু মজুমদার

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬