খেলাধুলা

আইপিএলের প্লে-অফ চূড়ান্ত, কে কার মুখোমুখি—জেনে নিন সূচি

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

শেষ হয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ আসরের লিগ পর্ব। জমজমাট লড়াইয়ের পর অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে প্লে-অফের চার দল। শেষ দিনে সমীকরণ মিলিয়ে জায়গা করে নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস, আর শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

 

লিগ পর্ব শেষে সমান ১৮ পয়েন্ট পেয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, গুজরাট টাইটান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে সেরা নেট রানরেট থাকায় টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু।

অন্যদিকে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রাজস্থান রয়্যালস। শেষ পর্যন্ত ১৫ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের বাইরে থেকে গেছে পাঞ্জাব কিংস।

এবারের প্লে-অফ সূচিও চূড়ান্ত হয়েছে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ২৬ মে মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও গুজরাট টাইটান্স। এই ম্যাচের বিজয়ী সরাসরি ফাইনালে উঠবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে লড়বে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালস। এই ম্যাচে হেরে যাওয়া দল বিদায় নেবে টুর্নামেন্ট থেকে।

এবারের আসরে সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুর্দান্ত ব্যাটিং ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে দাপটের সঙ্গে। অন্যদিকে চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মতো দলগুলো হতাশ করেছে সমর্থকদের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্টে অজিদের ঘরে মাঠে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে ওপেনার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি এবং ৯ উইকেট নিয়েছেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। সহজ লক্ষ্য পেয়ে উইকেট ১ হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচে অজিদের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল। তারপর অস্ট্রেলিয়াকে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করল। স্বাগতিকের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়া ৫৬ রানের লিড নিয়ে এই ইনিংস শেষ করে। গ্রিন একটা সময় বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন। তাকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় টাইগাররা। দলগত ২৭৮ রানে ৯ উইকেট হারায় অজিরা। আর পেরে ওঠেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ তার পঞ্চম উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের অলআউট করেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়ন এলবিডব্লিউ হন। তার আগে চতুর্থ দিন প্রথমবার বল হাতে নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পান হাসান মাহমুদ। অফস্টাম্প বরাবর ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। ২০১ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ১০৪ রানে থামেন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। ম্যাচে ৯ উইকেট হয় তার। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৯৫ রানে জীবন পান গ্রিন। অজি ব্যাটার সুযোগ কাজে লাগিয়ে করে শতক হাঁকান। কিন্তু দলের কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করলেও ইনিংস বাড়াতে পারলেন না তিনি। এর আগে লাঞ্চ থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটায়। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ৩৪ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন স্টার্ক। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৩ রানের। ২৫০ রানে ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার। ২২ রানের লিড তাদের। চতুর্থ দিনেও প্রথম সেশন নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই লড়েছেন ক্যামেরন গ্রিন। তার হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে যায়। গ্রিন ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ টেস্ট রান ৮৫ ও মিচেল স্টার্ক ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। মিরাজ প্রথম দেড় ঘণ্টায় স্পিন জাদুতে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফেরান। বাংলাদেশি অফস্পিনারের বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু গ্রিন ও স্টার্কের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংস লিড নেয় স্বাগতিকরা। রোববার প্রথম সেশন শেষে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল অজিরা। দিনের সপ্তম ওভারে তারা পঞ্চম উইকেট হারায়। ক্যারিকে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি ভেঙে দেন মিরাজ। ক্যারি ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হন। ১৩ মাস পর ও ১৩ ইনিংসে প্রথম হাফ সেঞ্চুরিতে অপরাজিত গ্রিনের সঙ্গে ক্রিজে থাকতে পারেননি ওয়েবস্টার। মিরাজ তাকে ৫ রানে বোল্ড করেন। ১০৯ বলে ২ চারে ফিফটি করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে নেমে প্যাট কামিন্স মাত্র ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন। তাকেও ফেরান মিরাজ। এটি ছিল নতুন দিনে তার তৃতীয় ও ইনিংসে চতুর্থ উইকেট। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট পড়ে অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমেছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্টসহ আজ টিভিতে থাকছে যেসব খেলা

নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন কবিতা (ডানে) ও জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত

নারী অ্যাথলেটের লিঙ্গ নিয়ে বিতর্ক, বাতিল সব পদক ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার খুব কাছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
সাতসকালে মিরাজের ঝড়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পথে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালেই দাপট দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা এখনো পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের চেয়ে।   দিনের শুরুতে প্রথম উইকেট পান মিরাজ। ৫৯ দশমিক ৩ ওভারে তার একটি বল বড় বাঁক নিয়ে ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটের কানায় লাগে। বল গিয়ে জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। ৭২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন ক্যারি। এতে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙে। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন বো ওয়েবস্টার।   কিছুক্ষণ পর ফিফটি তুলে নেন গ্রিন। ৬১তম ওভারের শেষ বলে তিন রান নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি এটি। গত ১৩ ইনিংসে এই প্রথম পঞ্চাশ ছুঁলেন গ্রিন।   এরপর আবার আঘাত হানেন মিরাজ। দারুণভাবে সেট আপ করার ফল পান তিনি। আগের সবকটা বল বাঁক নিয়ে ভেতরে ঢুকেছে, তবে শেষ বলটা আর সে বাঁক নেয়নি, অথচ তা নেবে ভেবেই ব্যাট চালান ওয়েবস্টার। কিন্তু বল সোজা গিয়ে ভেঙে দেয় স্টাম্প। মাত্র ৫ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ক্রিজে আসেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।   তবে বেশিক্ষণ টেকেননি কামিন্সও। মিরাজের একটি বল অফ স্টাম্পের বাইরে কিছুটা চওড়া জায়গায় পড়ে। কামিন্স বল ঠেকাতে ব্যাট এগিয়ে দেন। কিন্তু বল ব্যাটে লেগে মোড় নেয়। শর্ট লেগে দাঁড়ানো সাদমান ইসলাম দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। ৩২ বলে ৮ রান করে ফেরেন কামিন্স। অস্ট্রেলিয়া তখনও ইনিংস হার এড়ানো থেকে দাঁড়িয়ে ২১ রানের দূরত্বে।   এই নিয়ে সকালের সেশনেই ৩ উইকেট তুলে নেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার এখন উন্মুক্ত। বাংলাদেশ এখন ইতিহাস গড়ার আরও কাছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ‘বুড়ো’ দল নিয়ে পন্টিংয়ের কড়া সমালোচনা, পুনর্গঠনের ডাক

ছবি: সংগৃহীত

ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট, তবুও জয়সওয়ালের বিরল কীর্তি

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
আইন ভেঙে স্টার্কের ‘নো বল’, বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে সফরকারী বাংলাদেশের কাছে পিষে যাচ্ছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও আধিপত্য ধরে রেখে পর্বতসম লিড তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে ম্যাচের তৃতীয় দিনে অজি পেসার মিচেল স্টার্ক করে বসেছেন এক বিরল ‘নো বল’।       টাইগারদের লোয়ার অর্ডারকে খাটো লেন্থের বলে পরাস্ত করতে কড়া পরিকল্পনা এঁকেছিলেন কামিন্স। সেই ফাঁদ সাজাতে ১২৬তম ওভারে বাউন্ডারি লাইনে ডিপ ফাইন লেগ, স্কয়ার ফাইন লেগ ও ডিপ স্কয়ার লেগে ফিল্ডার মোতায়েন করা হয়। কিন্তু সেই বডিলাইন ফিল্ডিং সেট-আপ মেলাতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে অস্ট্রেলিয়াশিবিরে।       স্টার্কের ওই ওভারের একটি বলের সময় স্কয়ার লেগের সামান্য পেছনে গিয়ে দাঁড়ান মারনাস লাবুশেন। ক্রিকেটের বডিলাইন বোলিং সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী—লেগ সাইডে স্কয়ারের পেছনে দুইয়ের অধিক ফিল্ডার রাখা নিষেধ। ফলে অন-ফিল্ড আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গেই বলটিকে ‘নো বল’ ডাকেন। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিকেট ডটকম ডটএইউ’-এর ম্যাচ বিশ্লেষণেও তুলে ধরা হয়েছে অজিদের এই ভুল ও হতাশাজনক চিত্র।     আইন লঙ্ঘনের কারণে একই ডেলিভারি স্টার্ককে আবার করতে হয়, যা আগুনে কাটা গায়ে লবণ ছিটানোর মতোই লেগেছে স্বাগতিকদের। কারণ ঠিক ওই ওভারের শেষদিকেই মারমুখী ব্যাটিংয়ে ১১৭ বলে নিজের ধৈর্যশীল ফিফটি পূরণ করে নেন মিরাজ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ শুরু লা লিগার নতুন মৌসুম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ঘিরে আজ টিভিতে যত খেলা

ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের তিন দিন পরই মাঠে ফিরতে প্রস্তুত রোনালদো

0 Comments