সান মারিনোর বিপক্ষে আগামী ৫ জুনের ম্যাচ সামনে রেখে নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প। বিকেলে দলের প্রথম অনুশীলন সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় দলের নতুন সহকারী কোচ হিসেবে ইতালিয়ান-কানাডিয়ান নাগরিক মার্ক ব্রুনো দলে যোগ দিয়েছেন। গত রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছে টিম হোটেলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ফুটবল ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, হেড কোচ ডুলির পরামর্শেই নতুন সহকারী কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোচিং স্টাফের মাধ্যমে দলের পারফরম্যান্স উন্নত করার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এর আগে জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা নিয়ে কিছু অনিয়ম ও গোপনীয়তার অভিযোগ থাকলেও এবার ডুলির অধীনে ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন কয়েকজন খেলোয়াড়ও।
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের ঘোষিত ৩০ সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন:
গোলরক্ষক: মিতুল মারমা, মো. সুজন হোসেন, আনিসুর রহমান।
ডিফেন্ডার: তারিক রায়হান কাজী, তপু বর্মন, মো. শাকিল আহাদ তপু, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, জায়ান আহমেদ, তাজ উদ্দিন, রহমত মিয়া, আব্দুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন, ইশা ফয়সাল, এস এম মঞ্জুরুল রহমান।
মিডফিল্ডার: জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মো. হৃদয়, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শমিত সোম, শেখ মোরসালিন, সৈয়দ কাজেম কিরমানী শাহ।
ফরোয়ার্ড: ফাহমিদুল ইসলাম, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মিরাজুল ইসলাম, মিনহাজুল করিম স্বাধীন ও রফিকুল ইসলাম।
নতুন কোচিং সেটআপ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন পূরণ হলো না সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় চলমান বিশ্বকাপের রেফারিদের তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও তার জন্য নির্ধারিত পুরো পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। গত সোমবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়ে দেয় যে তিনি দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার উগ্রপন্থী সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্তাধীন কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথিত যোগাযোগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন আরতান। ঘটনার পর হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার সব কাগজপত্র ও ভিসা বৈধ ছিল। আমি শুধু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম।” প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর তাকে তুরস্কগামী একটি বিমানে পাঠানো হয়। পরে ইস্তাম্বুলে ফিফার প্রতিনিধিদের সহায়তায় তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যান। যদিও বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না এই রেফারি। ফিফা তার জন্য নির্ধারিত সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপ শেষে দায়িত্ব ও ম্যাচসংখ্যার ভিত্তিতে রেফারিদের সম্মানী পরিশোধ করা হয়। ৩৪ বছর বয়সী আরতান ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হন। এছাড়া প্রথম সোমালিয়ান হিসেবে মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে দায়িত্ব পালনের কৃতিত্বও রয়েছে তার। গত বছর আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিরামিডস এফসি ও মামেলোদি সানডাউন্সের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে অভিষেক না হলেও ফিফার পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তার পেশাদার অবদানের প্রতি সংস্থাটির আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জয়হীন ম্যাচেও অনেকসময় তারকা থাকে—নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পারফরম্যান্সকে ঠিক এভাবেই মূল্যায়ন করা যায়। যদিও জয় তুলে নেওয়ার জন্য এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিল না, তবুও এটি বলাই যায়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল পরাজয় এড়াতে পেরেছে শুধুমাত্র এই ৭ নম্বর জার্সিধারীর নৈপুণ্যেই। বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে ভিনি জুনিয়রকে ফিফার পক্ষ থেকে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়। ব্যক্তিগত ভুলে ভরা নিষ্প্রভ এক ম্যাচে ভিনিসিউস জুনিয়রই যেন ব্রাজিলের খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাঁ প্রান্ত ধরে তার একক নৈপুণ্য হোক কিংবা গ্যালারির দর্শকদের উজ্জীবিত করার আহ্বান—ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোর মূল কারিগর ছিলেন এই উইঙ্গারই। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচে মাঠে নেমে ভিনি পেয়েছেন নিজের দশম গোল—যা ছিল অনেকটা রিয়াল মাদ্রিদে তার খেলা স্টাইলের প্রতিচ্ছবি। প্রতিপক্ষের ডাবল মার্কিংয়ের মুখে বল পেয়েও দমে যাননি; একক দক্ষতার প্রদর্শনী দেখানোর পাশাপাশি ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া-নেওয়া করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নিজেকে নিয়ে যান। এরপর এল আইনাউইকে অনায়াসে ড্রিবল করে কাটানোর পর ইয়াসিন বুনোর নাগাল এড়িয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচ শেষে ‘জিই টিভি’কে ভিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রথমার্ধে আমরা খুব বাজেভাবে শুরু করেছিলাম, যা পরিস্থিতি অনেক কঠিন করে তুলেছিল। গোল খেয়ে বসার পর বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ছন্দে ফেরা সবসময়ই কঠিন। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে, কারণ এটি বিশ্বকাপ; এখানে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।’ দলের উন্নতির জায়গা দেখিয়ে ভিনি যোগ করেন, ‘আমাদের আরও বেশি বল দখলে রাখতে হবে, একপাশ থেকে অন্যপাশে পাস দিয়ে খেলা সচল রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় প্রতিপক্ষ রক্ষণে মনোযোগ দেবে এবং পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে। আপাতত বেশি কিছু বলার নেই, আমাদের কাজ করে যেতে হবে কারণ পরের ম্যাচটি খুব দ্রুতই আসছে।’ দ্বিতীয়ার্ধে যখন ব্রাজিল ও মরক্কো—উভয় দলই খুব একটা কার্যকর ফুটবল খেলতে পারছিল না, তখনও ব্রাজিলের সেরা সুযোগটি তৈরি হয়েছিল ভিনির পা থেকেই। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে রাফিনিয়াকে ব্যাকপাস দিয়েছিলেন ভিনি, যেখান থেকে গোলের ভালো একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এমনকি রক্ষণভাগেও ভিনির পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। প্রথমার্ধে রাফিনিয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার দায়িত্ব ছিল রক্ষণাত্মক কাজে সহযোগিতা করা, তবুও ভিনিসিয়ুস একাই চারবার বল রিকভার করেছেন। মাঠে তিনি ফাউল করেছেন ৩টি এবং ফাউলের শিকার হয়েছেন ২ বার। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের পরের ম্যাচ ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬.৩০ মিনিটে গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে সেলেসাওরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইতোমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা। শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ।তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এ ছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের। অন্যদিকে, ইতোমধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়া একাদশ: কুপার কনোলি, জশ ইংলিশ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, অলিভার পিক, জাভিয়ের বার্টলেট, বেন ডোয়ারইস, অ্যাডাম জাম্পা ও রাইলি মেরিডিথ।