ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা মাঠ পর্যায়ে বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে। এছাড়াও থাকছে কেন্দ্রীয় ও জোনভিত্তিক সমন্বয় বা তদারক সেল।
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নগরবাসীর সুষ্ঠু, স্বাস্থ্যকর ও নির্বিঘ্ন উৎসব নিশ্চিত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, প্রকৌশল ও সম্পত্তি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও কোরবানির প্রতিটি ধাপকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে একাধিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, গত বছর ঈদুল আজহায় মোট ২০ হাজার ৮৮৯ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ওই বছর ঈদের দিন অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬১৬ টন, পরদিন ৭ হাজার ৩৫৩ টন এবং তৃতীয় দিনে ২ হাজার ৯২২ টন।
এ বছরও প্রায় একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসহ জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংস্থার উপ-প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া বাসসকে জানান, ডিএনসিসি এলাকার কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণ কাজে সংস্থার নিজস্ব সাড়ে ৬ হাজার বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকবে। পাশাপাশি বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত সাড়ে ৪ হাজার কর্মী সরাসরি মাঠে কাজ করবেন।
এ ছাড়া রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০ জন করে মোট সাড়ে ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি ও মনিটরিং করবেন। সব মিলিয়ে ঈদের দিন থেকে বর্জ্য অপসারণ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রায় ১৬ হাজার জনবল নিয়োজিত থাকবে।
ঈদের দিন দুপুরে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি।
পশুর রক্ত অপসারণের পর জীবাণুনাশকের অংশ হিসেবে ছিটানোর জন্য ২৫ কেজির ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহারের জন্য ভাড়ায় সংগৃহীত ৪০৫টি, ডিএনসিসির নিজস্ব ২৬১টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৬টিসহ মোট ৭৫২টি পরিবহনযান মাঠে থাকবে। ট্রাক, ডাম্পার, পে-লোডার, পানির গাড়িসহ প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে প্লট-২৩-২৬, সড়ক-৪৬, গুলশান-২, নগর ভবনে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর : +৮৮০২৫৫০৫২০৮৪, ১৬১০৬।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বাসসকে জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ৫৪টি ওয়ার্ডে এক হাজার মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সঠিকভাবে জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়। এছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে খুতবায় সচেতনতা বার্তা প্রচার, র্যালি, টেলিভিশন-রেডিও-পত্রিকা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পশুর হাটের বর্জ্য ও কোরবানি করা পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং রাস্তা ধোয়ার জন্য ১ হাজার ৫৪৬টি বেলচা, ১ হাজার ২৮৪টি টুকরি, ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার (২৫ কেজির বস্তা), ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল (১ লিটার ক্যান), ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন (১ লিটার ক্যান) এবং ১৬ লাখ ৩০ হাজার পিস বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ৪৩টি পে-লোডার, ২টি টায়ার ডোজার, ৯টি বেকহো-লোডার, ৬টি স্কিড-লোডার, ৭টি চেইন ডোজার, ৯টি চেইন এক্সকাভেটর, ২টি কম্পেকশন ডোজার, ৬টি রোড সুইপার, ২টি জেট অ্যান্ড সাকার, ৫৮টি কম্পেক্টর ট্রাক, ৩২টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ৫টি আর্মরোল ক্যারিয়ার, ২২০টি ডাম্প ট্রাক, ১০টি খোলা ট্রাক, ৩২৯টি পিকআপ, ১০টি পানির গাড়ি এবং ২টি স্প্রে-ক্যাননসহ মোট ৭৫২টি যান যন্ত্রপাতি বর্জ্য অপসারণ কাজে ব্যবহার করা হবে।
কোরবানির তিনদিন আগে থেকেই মনিটরিং জোরদারে ১০টি জোনে ১০টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোরবানির একদিন আগে পশু জবাইয়ের স্থান প্রস্তুত ও বর্জ্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ল্যান্ডফিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, ডিএনসিসি এলাকায় একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী হাট ছাড়া আরও ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা প্রদান করা হয়েছে। হাটগুলোতে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিবহন নির্বিঘ্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একযোগে কাজ করছে।
বর্জ্য অপসারণে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্যমুক্ত শহর উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়য়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রেস উইং জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। বিশেষ করে বিআরটি’র নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন কাঠামো এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মো. শামসুল হক, মোসলেহ উদ্দীন হাসান, মো. হাদিউজ্জামান ও রাকিব আহসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সীমান্তে পুশ ইন (ঠেলে পাঠানো) নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা স্থগিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। তিনি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব এনেছিলেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ বিধিতে আনা প্রস্তাব (সাধারণ) নিয়ে আজ রোববার সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয় আজকের জন্য যে কার্যসূচি প্রকাশ করেছিল, সেখানে এ বিষয়ে আলোচনার সূচি নির্ধারিত ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ সংসদের মুলতবি ও অধিকার শাখা থেকে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়, অনিবার্য কারণে এই নোটিশের ওপর আজকের আলোচনা স্পিকার স্থগিত করেছেন। মীর আহমাদ বিন কাসেমের আনা প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশ ইন তৎপরতার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য বিধায় জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় মহান জাতীয় সংসদে আলোচনা।’ তবে আজ সংসদের বৈঠকে দিনের যে কার্যসূচি প্রকাশ করা হয়, সেখানে এই প্রস্তাবের বিষয়টি ছিল না। আজ বিকেলে সংসদের অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান আহমাদ বিন কাসেম। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, তিনি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন–সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিশ দিয়েছিলেন। সংসদের মুলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে তাঁকে জানানো হয়, আজ এই বিষয় আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, কিছুক্ষণ আগে মুলতবি শাখা থেকে তাঁকে জানানো হয়, অনিবার্য কারণে প্রস্তাবটি স্থগিত করা হয়েছে। এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার প্রশ্ন, জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, অনিবার্য কারণে এটাকে স্থগিত করতে হলো? দ্বিতীয় প্রশ্ন, এটা যে স্থগিত হলো, পরবর্তী কবে এটা আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে?’ জবাবে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, নোটিশটি তাঁর সামনেও আছে। স্থগিত হওয়া সাময়িক পদক্ষেপ। বাজেট অধিবেশন চলছে, সময়ের সীমাবদ্ধতা আছে। তিনি আশা করেন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক কোনো এক সময় নোটিশটির ওপর আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নিখোঁজ নেতাকে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। হট্টগোলে অচল অবস্থার সৃষ্টি হলে ডেপুটি স্পিকার হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রুলিং দেওয়া হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, গত ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১১ জুন রাতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসার জন্য জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। ভিকটিম নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এবং ইতিমধ্যে দুজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ি করতে চেয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার বলেই আমি এটি মহান সংসদে উত্থাপন করলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর সম্পূরক প্রশ্ন করার নিয়ম না থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাহের বলেন, একটি অনিষ্পত্তিকৃত ও বিতর্কিত বিষয়কে পার্লামেন্টে এভাবে আনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। মনে হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম (নিন্দা) করার জন্য ইনটেনশনালি (উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে) এটা প্রেস করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান এখন কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসান বা ভিকটিমের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না কেন? এখানে কোনো যড়যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে কি না? বিরোধীদলীয় উপনেতার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। উভয় পক্ষের সদস্যরা দাঁড়িয়ে চিৎকার ও হট্টগোল করতে থাকলে সংসদ কক্ষে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।