জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে রবিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩ এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হল। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছর এ পদে নিযুক্ত থাকবেন।
জনস্বার্থে এর আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
খুলনার দৌলতপুরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জামে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে এ ঘটনায় লোকমান ও আলম নামে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার পরে ঘটনাটি ঘটে। তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আহত আলম খুলনা মেডিকেল কলেজ হসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশের (ওসি তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফজরের নামাজ শেষ হলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তাদের ছোড়া গুলিতে লোকমান ও আলম নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। লোকমান নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে কোরআন তেলোয়াত করছিলেন। স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। তাদের মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। অপরজনকে খুমেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শখ থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে আমের চারা সংগ্রহ করে বাড়িটির সীমানার মধ্যে রোপণ করা হয়। ৫০–এর অধিক আমের জাত এখন ওই বাড়ির বাগানে। কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন গাছে, বিভিন্ন জাতের আম আসছে। এতে ওই বাড়ির লোকজনের আমের চাহিদাই শুধু পূরণ হচ্ছে না, আমের বৈচিত্র্যপূর্ণ স্বাদের সঙ্গেও তাঁদের পরিচিত করছে। এবার টানা খরার কবলে পড়ে বাগানটি, তারপরও গাছে গাছে ধরেছে প্রায় ৩৭ জাতের আম। নানা আকার, রং ও স্বাদের আম এখন গাছের ডালে ডালে ঝুলছে। এতেই ‘শৌখিন চাষি’ রেজাউল করিম খন্দকারের মন ভরে উঠেছে। শুধু আমই নয়, অন্য সব ফলও আছে রেজাউলের বাগানে। তবে এখন আমের মৌসুম, তাই আমটাই বেশি চোখে পড়ে। ধীরে ধীরে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আম পাকছে। এভাবেই আরও একটা মাস নানা বৈচিত্র্য ও স্বাদের আম রেজাউল করিমের শ্রম ও আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা দিতে থাকবে। রেজাউলের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সরিয়া গ্রামে। সরিয়া গ্রামের টিলামতো বাড়িটি এখন অনেক রকমের ফল-ফুলে অনেকটা বুনো চেহারা নিতে শুরু করেছে। বৃষ্টি পেয়ে সবুজ হয়ে উঠছে পুরো বাড়ি। প্রায় দুই একরের বাড়ির যেদিকে তাকানো যায়, নানারকম ফল গাছেরই সমারোহ চোখে পড়ে। এরমধ্যে আমই বেশি। কোনো গাছে আম এখনো কাঁচা-সবুজ, কোনোটিতে পাক ধরেছে। কোনোটি পেকে গেছে। আম পাকার এই ধারা পর্যায়ক্রমে এক মাস ধরে চলবে। রেজাউল করিম বাড়ির বাগানে ফল চাষের শুরুটাও করেছিলেন আমের চারা রোপণের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে শখ থেকে বাড়ি লাগোয়া একটি টিলায় আমের চারা রোপণ করেন। সেই থেকে ফল রোপণের শুরু, ধীরে ধীরে আমের জাত ও গাছের সংখ্যা বেড়েছে। যত দিন গেছে—নানা স্বাদ ও রঙের বৈচিত্র্য তাঁকে আমের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আমের চারা সংগ্রহ করেছেন। আমের জাত ছাড়িয়েছে ৫০–এর অধিক। রেজাউল করিম গত শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই চাকরির বাইরে যেটুকু অবসর পান, তার বেশির ভাগ সময় ওই বাগানেই ব্যয় করে থাকেন। এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, এটি তাঁর শখের, ভালো লাগার, ভালোবাসার একটি উদ্যান। যখনই গাছে আমের এমন সমারোহ দেখেন, গাছের দিকে তাকান—তাঁর মন ভরে যায়। এখন আমের মৌসুম। গাছের শাখা-প্রশাখায় কাঁচা–পাকা আম ঝুলছে। এসব আমের মধ্যে আছে আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, নাচ ১, নাচ ২, নাচ ৩, বৈশাখী, বান্দি নুড়ি, গৌর মতি, কাটিমন, থাই কাঁচা মিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডাক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্লাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনাই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, ন্যাম ডকমাই ইয়েলো, ন্যাম ডকমাই মুন, সীতাভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং, সারেংগা ইত্যাদি। রেজাউল করিম জানিয়েছেন, এবার ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। লম্বা খরার কবলে না পড়লে গাছে প্রচুর আম থাকত। খরায় অনেক আম ঝরে পড়েছে। খরার সময় তাঁর সেচের মোটরটি নষ্ট হয়ে যায়। এটি ঠিক করাতে দুই দিন সময় যায়। এতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এবার নাচ ১ ও নাচ ৩, সামার বেহেস্ত, আমেরিকান কেস্ট ও আমেরিকান পালমা জাতের আম বেশি এসেছে। খরার সময় ব্যানানা জাতের এক গাছে ২০০ আম গুনে দেখেছেন। ব্রুনাই কিং জাতের একটি আম এখনই গাছে দুই কেজি ওজন হয়েছে। এখনো কাঁচা রয়েছে। গত বছর একই জাতের একটি আম সাড়ে তিন কেজি ওজন হয়েছিল। এবার দুই কেজির আমটি পাঁচ কেজির মতো হতে পারে বলে আশা করছেন। নিজের বাগানের আম নিয়ে শৌখিন এই চাষির ভাষ্য, বাগানে যে আম আছে, সব গাছের সেই আম পাকতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। এতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্বাদের আম খেতে পারবেন তিনি। তাঁর বাগানের আম বিক্রি করার ইচ্ছা নেই। এই বাগান তৈরি করায় নিজের পরিবারের আমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৈচিত্র্যপূর্ণ আম খেতে পারছেন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়স্বজনকে দিতে পারছেন নতুন ধরনের, নতুন স্বাদের আম। তাঁর আমবাগান দেখতে প্রায়ই পরিচিত লোকজন এসে থাকেন। রেজাউল করিম জানান, এই আম চাষে চারা রোপণ শেষে তাঁর তেমন কোনো বাড়তি খরচ নেই। গাছে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। নিজে প্রয়োজনীয় জৈব সার তৈরি করেন—এই সারই ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমের চারা সংগ্রহ করা ছাড়াও ভারত থেকেও চারা এনেছি। আমের জাত আরও বাড়ানোর ইচ্ছা আছে। এবার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও চারা আনাব। বাড়ির মধ্যে বাগান তৈরি ও আম চাষে আমার তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে প্রায়ই তিন-চারটা বানর আসে, এ ছাড়া বেশি সমস্যা করে কাঠবিড়ালি ও বাঁদুড়। নানা কায়দায় তাদের তাড়ানোর ব্যবস্থা করি। সমস্যা বলতে এটুকুই।’ রেজাউলের বাড়িতে নানা জাতের আমের সমাহারে মুগ্ধ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও। বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহেও আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। এবার মোটামুটি ফলন ভালো হয়েছে। আমের অনেক ধরনের ভেরাইটি আছে। কোনো জাতের ভালো হয়েছে, কোনো জাতের কিছুটা কম। ফলন খুব ভালো না, আবার একেবারে খারাপ না। উনি তো শুধু বাংলাদেশ না বাইরের অনেক দেশ থেকে আমের জাত, চারা এনেছেন।’
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিসহ সঙ্গে থাকা অন্য এক চোরাকারবারি দেশটির ভেতরে পালিয়ে গেছে । শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের টহলদল। এ সময় দুজন সন্দেহভাজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে চ্যালেঞ্জ করে টহলদল। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহলদলের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুঁড়ে। এতে এক চোরাকারবারি আহত হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্য চোরাকারবারি ভারতে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান কর্নেল আতাউর রহমান সুজন। একইসঙ্গে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।