বাংলাদেশে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি শাসনামলের ‘অন্ধকার দিনগুলো’ ফিরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যিনি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত।
এমন আশঙ্কার কারণ হিসেবে দেশে জঙ্গি ও উগ্রপন্থি শক্তির উত্থানের অভিযোগ করেছেন তিনি।
আর নিজের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ‘শিগগিরই’ ফিরবেন।
ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব আশঙ্কা ও সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। এ দলটি এর আগে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে ‘শিগগিরই’ ফেরার আশা শোনালেও সেটা যে দেশের ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভর করছে, সেটাও মানছেন চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো—
আপনি এর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনি কি শিগগিরই দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন?
১৭ মে আমার জন্য আবেগঘন ও স্মরণীয় একটি দিন। বাবা-মা, ভাই ও স্বজনদের হারিয়ে ১৯৮১ সালের এই দিনে ছয় বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছিলাম। সেই ফেরার ভিত্তি ছিল দেশের মানুষের ভালোবাসা। আর তখনও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল, মামলা ছিল ও জীবনের ঝুঁকি ছিল।
ফেরার বিষয়টি নির্দিষ্ট দিনক্ষণের ওপর নির্ভর করে না। আমরা দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি।
এসব বিষয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়াটা শুধু আমার ফেরার জন্য জরুরি নয়, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতেও জরুরি। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শিগগিরই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাব।
আরেকটা বিষয় আমি স্পষ্ট করতে চাই। সেটা হলো, আমার অনুপস্থিতি মানেই আমার নীরবতা নয়। প্রতিটি মুহূর্তে আমি দেশের জন্য লড়াই করছি এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি।
১৯টি হত্যাচেষ্টা থেকে আমি প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমাকে কোনো কিছুই থামাতে পারেনি। আল্লাহ যেহেতু আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাই আমি খুব শিগগিরই দেশের মাটিতে ফিরব।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। এর পরও কি আপনার দেশে ফেরা সম্ভব?
আওয়ামী লীগ জনগণের দল; বন্দুকের নল কিংবা ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদে এ দলের জন্ম নেয়নি। কাগজে লেখা কোনো নিষেধাজ্ঞাই আওয়ামী লীগকে দমাতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞায় যদি আওয়ামী লীগকে দমন করা যেত, তাহলে বাংলাদেশই জন্ম নিত না।
আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে বারবার ফিরে এসেছে। যারা ভাবছেন এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী, তাদের ইতিহাসের পাতা দেখা উচিত।
এই নিষেধাজ্ঞা হয়ত ক্ষমতাসীনদের সাময়িক ক্ষমতা প্রয়োগের প্রতিফলন, কিন্তু এটি মূলত তাদের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ; তারা আওয়ামী লীগকে ভয় পায়।
আমাদের লাখ লাখ সমর্থক এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও দেশে অবস্থান করছেন। হামলা, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের পরও তারা ঐক্যবদ্ধ। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী, এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।
বাংলাদেশের কোনো কোনো নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগ’ মেনে নেওয়া হতে পারে। এ অবস্থায় কি দল পুনর্গঠন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক একটি দল। দলের আদর্শ ধারণ করা নেতাকর্মীরাই এর প্রাণ; তারাই নেতৃত্ব নির্বাচন করে থাকেন। আপনি একে সংস্কার বা সমন্বয় যাই বলুন না কেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। ফলে কিছু ক্ষেত্রে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কখনো কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।
আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে, শুদ্ধি অভিযান বা বিপ্লবের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে।
আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের নিজের ঘর গোছানোর সক্ষমতা রয়েছে। আর গোছানোর কাজটি হবে দলের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরামর্শে নয়।
আওয়ামী লীগের আরো যেসব নেতা দেশ ছেড়েছেন, তারাও কি দেশে ফিরবেন?
দেশ ছেড়ে গেছেন— এই বাক্যের সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ হলো, কেউই নিজের ইচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ‘অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘নীরব রাজনৈতিক গণহত্যা’ চালিয়েছে। এই ‘গণহত্যা’ এখনও চলছে।
আমাদের প্রায় ৬০০ নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেড় লাখের বেশি নেতাকর্মীকে। অনেকের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর হয়েছে; দখল হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করায় হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দেশ ছাড়লেও তাদের অনেকে দলকে সংগঠিত করা এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের কাজ করছেন।
আমি এটাই বলতে চাই, দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা দেশে ফিরবেন।
বাংলাদেশ একটি ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ মুখোমুখি। এটি যেভাবে সামলানো হচ্ছে, সে বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?
ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগের চার মেয়াদে আমরা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলাম।
আমরা পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।
২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকার। তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৪৮২ ডলার; আর দেশের জিডিপির আকার ছিল ৭০ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে আমরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বশেষ বাজেট দিয়েছিলাম, তার আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৮৪ ডলার আর জিডিপির আকার ছিল ৪৫০ বিলিয়ন ডলার।
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। ‘মব ভায়োলেন্সের’ মাধ্যমে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে তলানিতে নেমে এসেছে বিদেশি বিনিয়োগ।
মাত্র দেড় বছরে তারা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারেও এই ধারা অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাসে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার, এমনকি বিএনপির সময়ও চীন ও পাকিস্তানের প্রতি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। অন্যদিকে ভারতবিরোধী বক্তব্য বেড়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি হলো, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। এই বন্ধুত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ। আমাদের সংবিধানেও এই নীতির কথা বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় সব বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বচ্ছ, বিশ্বস্ত ও স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রেখেছে। বিপরীতে অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভারত শুধু প্রতিবেশীই রাষ্ট্রই নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে অবদান, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু আমাদের দেশে স্বাধীনতাবিরোধী এবং আদর্শিকভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীর প্রধান হাতিয়ার হলো ভারতবিরোধী বক্তব্য। ইউনূসের সরকারও এই চর্চায় যোগ দিয়েছিল।
আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সব সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারতের কাছে ‘দেশ বিক্রি’ করার এবং ‘দেশবিরোধী চুক্তি করার’ অভিযোগ তুলত। অথচ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ বারবার বলি দেওয়া হচ্ছে।
উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরকারের সময় বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের ‘চারণভূমিতে’ পরিণত হয়েছিল।
দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়েছিল এবং আমার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। বিচারকদের হত্যা করা হয়েছিল; হামলা চালানো হয়েছিল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো ঘটনাও ঘটেছিল।
ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে দেশকে উগ্রবাদমুক্ত করতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেখেছি, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে জড়িত অনেক সংসদে প্রবেশ করেছেন। ২০০১-০৬ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলো আবারও ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল টিমোথি ডাকেট এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মিস কেট ওয়ার্ড। পরে জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। এছাড়া বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা, জামায়াতের ছায়া সরকার ও ছায়া বাজেট এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলায় খালাস পেয়েছেন। আজ বুধবার (১০ জুন) বেলা ১২ টায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ রায় দেওয়া হয়। তামিমা সুলতানার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেনের করা মামলায় অভিযোগ ছিল, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছিলেন যে, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মামলার এজাহারের তথ্য মতে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বিয়ে করেন রাকিব হোসেন নামের এক ব্যক্তি। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপরই একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন তামিমার প্রাক্তন স্বামী রাকিব হোসেন। তবে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ হয়ে গেলে একই বছরের ২০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। পরে তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেন।
গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ও সুস্বাদু আমের মৌসুম। বাজারে এখন হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিসহ নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেকেই আম খাওয়ার আগে শুধু ধুয়ে কাটেন, পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সঠিক অভ্যাস নয়। কেন আম পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত? আম চাষে ফলন বৃদ্ধি ও পোকামাকড় দমনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিকের কিছু অংশ আমের খোসায় লেগে থাকতে পারে। কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে খোসায় থাকা ময়লা, ধুলাবালি ও রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ অনেকটাই দূর হয়। কষ ও আঠালো পদার্থ দূর হয়: আমের বোঁটার অংশে থাকা কষ অনেক সময় ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই কষ ধীরে ধীরে বের হয়ে যায় এবং খাওয়ার সময় ঝুঁকি কমে। হজমে সহায়ক হতে পারে: অনেকের ধারণা, আম খাওয়ার পর শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয় বা পেটের অস্বস্তি দেখা দেয়। আম কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এ ধরনের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন? আম খাওয়ার আগে সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখা ভালো। এতে আম পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি কষও দূর হয়। আরও একটি পরামর্শ : আম পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে আবার ধুয়ে খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই অভ্যাস আরও উপকারী হতে পারে। স্বাস্থ্যকর উপায়ে আম খেতে চাইলে কাটার আগে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।