অন্যান্য

‘অনুপস্থিতি মানে নীরবতা নয়’, ফেরার বার্তা শেখ হাসিনার

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি শাসনামলের ‘অন্ধকার দিনগুলো’ ফিরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যিনি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত।

 

এমন আশঙ্কার কারণ হিসেবে দেশে জঙ্গি ও উগ্রপন্থি শক্তির উত্থানের অভিযোগ করেছেন তিনি।

আর নিজের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ‘শিগগিরই’ ফিরবেন।

ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব আশঙ্কা ও সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। এ দলটি এর আগে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে ‘শিগগিরই’ ফেরার আশা শোনালেও সেটা যে দেশের ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভর করছে, সেটাও মানছেন চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো—

আপনি এর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনি কি শিগগিরই দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন?

১৭ মে আমার জন্য আবেগঘন ও স্মরণীয় একটি দিন। বাবা-মা, ভাই ও স্বজনদের হারিয়ে ১৯৮১ সালের এই দিনে ছয় বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছিলাম। সেই ফেরার ভিত্তি ছিল দেশের মানুষের ভালোবাসা। আর তখনও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল, মামলা ছিল ও জীবনের ঝুঁকি ছিল।

ফেরার বিষয়টি নির্দিষ্ট দিনক্ষণের ওপর নির্ভর করে না। আমরা দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি।

এসব বিষয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়াটা শুধু আমার ফেরার জন্য জরুরি নয়, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতেও জরুরি। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শিগগিরই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাব।

আরেকটা বিষয় আমি স্পষ্ট করতে চাই। সেটা হলো, আমার অনুপস্থিতি মানেই আমার নীরবতা নয়। প্রতিটি মুহূর্তে আমি দেশের জন্য লড়াই করছি এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি।

১৯টি হত্যাচেষ্টা থেকে আমি প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমাকে কোনো কিছুই থামাতে পারেনি। আল্লাহ যেহেতু আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাই আমি খুব শিগগিরই দেশের মাটিতে ফিরব।

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। এর পরও কি আপনার দেশে ফেরা সম্ভব?

আওয়ামী লীগ জনগণের দল; বন্দুকের নল কিংবা ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদে এ দলের জন্ম নেয়নি। কাগজে লেখা কোনো নিষেধাজ্ঞাই আওয়ামী লীগকে দমাতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞায় যদি আওয়ামী লীগকে দমন করা যেত, তাহলে বাংলাদেশই জন্ম নিত না।

আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে বারবার ফিরে এসেছে। যারা ভাবছেন এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী, তাদের ইতিহাসের পাতা দেখা উচিত।

এই নিষেধাজ্ঞা হয়ত ক্ষমতাসীনদের সাময়িক ক্ষমতা প্রয়োগের প্রতিফলন, কিন্তু এটি মূলত তাদের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ; তারা আওয়ামী লীগকে ভয় পায়।

আমাদের লাখ লাখ সমর্থক এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও দেশে অবস্থান করছেন। হামলা, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের পরও তারা ঐক্যবদ্ধ। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী, এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।

 

বাংলাদেশের কোনো কোনো নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগ’ মেনে নেওয়া হতে পারে। এ অবস্থায় কি দল পুনর্গঠন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক একটি দল। দলের আদর্শ ধারণ করা নেতাকর্মীরাই এর প্রাণ; তারাই নেতৃত্ব নির্বাচন করে থাকেন। আপনি একে সংস্কার বা সমন্বয় যাই বলুন না কেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। ফলে কিছু ক্ষেত্রে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কখনো কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।

আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে, শুদ্ধি অভিযান বা বিপ্লবের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের নিজের ঘর গোছানোর সক্ষমতা রয়েছে। আর গোছানোর কাজটি হবে দলের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরামর্শে নয়।

আওয়ামী লীগের আরো যেসব নেতা দেশ ছেড়েছেন, তারাও কি দেশে ফিরবেন?

দেশ ছেড়ে গেছেন— এই বাক্যের সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ হলো, কেউই নিজের ইচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ‘অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘নীরব রাজনৈতিক গণহত্যা’ চালিয়েছে। এই ‘গণহত্যা’ এখনও চলছে।

আমাদের প্রায় ৬০০ নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেড় লাখের বেশি নেতাকর্মীকে। অনেকের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর হয়েছে; দখল হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করায় হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দেশ ছাড়লেও তাদের অনেকে দলকে সংগঠিত করা এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের কাজ করছেন।

আমি এটাই বলতে চাই, দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা দেশে ফিরবেন।

বাংলাদেশ একটি ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ মুখোমুখি। এটি যেভাবে সামলানো হচ্ছে, সে বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগের চার মেয়াদে আমরা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলাম।

আমরা পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকার। তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৪৮২ ডলার; আর দেশের জিডিপির আকার ছিল ৭০ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে আমরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বশেষ বাজেট দিয়েছিলাম, তার আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৮৪ ডলার আর জিডিপির আকার ছিল ৪৫০ বিলিয়ন ডলার।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। ‘মব ভায়োলেন্সের’ মাধ্যমে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে তলানিতে নেমে এসেছে বিদেশি বিনিয়োগ।

মাত্র দেড় বছরে তারা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারেও এই ধারা অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাসে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার, এমনকি বিএনপির সময়ও চীন ও পাকিস্তানের প্রতি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। অন্যদিকে ভারতবিরোধী বক্তব্য বেড়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি হলো, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। এই বন্ধুত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ। আমাদের সংবিধানেও এই নীতির কথা বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় সব বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বচ্ছ, বিশ্বস্ত ও স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রেখেছে। বিপরীতে অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভারত শুধু প্রতিবেশীই রাষ্ট্রই নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে অবদান, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু আমাদের দেশে স্বাধীনতাবিরোধী এবং আদর্শিকভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীর প্রধান হাতিয়ার হলো ভারতবিরোধী বক্তব্য। ইউনূসের সরকারও এই চর্চায় যোগ দিয়েছিল।

আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সব সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারতের কাছে ‘দেশ বিক্রি’ করার এবং ‘দেশবিরোধী চুক্তি করার’ অভিযোগ তুলত। অথচ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ বারবার বলি দেওয়া হচ্ছে।

উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরকারের সময় বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের ‘চারণভূমিতে’ পরিণত হয়েছিল।

দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়েছিল এবং আমার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। বিচারকদের হত্যা করা হয়েছিল; হামলা চালানো হয়েছিল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে দেশকে উগ্রবাদমুক্ত করতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেখেছি, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে জড়িত অনেক সংসদে প্রবেশ করেছেন। ২০০১-০৬ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলো আবারও ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
রমজানের প্রস্তুতি : ১০০ দিন আগ থেকেই যেসব কাজ শুরু করতে হবে

পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় ১০০ দিন বাকি। তবে রোজা রাখার প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে শুরু না করে এখন থেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।     ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের রুটিনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া সহজ হতে পারে। খবর খালিজ টাইমস সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজান শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ সব অভ্যাস বদলে ফেলার চেষ্টা না করে অল্প অল্প করে পরিবর্তন আনা ভালো। এতে নতুন রুটিনের সঙ্গে শরীর ও মনকে মানিয়ে নেয়ার সময় পাওয়া যায়।     দুবাইয়ের এনজিএসের ইমাম ও ধর্মীয় আলোচক শেখ আয়াজ হাউজে বলেন, রমজানের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়।     এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, প্রতিদিন কুরআনের কয়েকটি আয়াত পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে। তার পরামর্শ, একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলার লক্ষ্য না রেখে ছোট অভ্যাস নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।   যারা মাসিক, সাময়িক অসুস্থতা বা ভ্রমণের কারণে আগের রমজানে রোজা রাখতে পারেননি, তাদের পরবর্তী রমজানের আগে সম্ভব হলে সেই রোজাগুলো কাজা করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।     ঘুম ও খাবারের রুটিনে পরিবর্তন : দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বপ্না মেরি জনের পরামর্শ, এখন থেকেই খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমানো এবং গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেয়া উচিত।     রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, তত ধীরে ধীরে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় পরিবর্তন করে সেহরির উপযোগী রুটিন তৈরি করা যেতে পারে।   দিনভর নিয়মিত পানি পান এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। যারা প্রতিদিন কয়েক কাপ চা বা কফি পান করেন, তাদেরও ধীরে ধীরে ক্যাফেইন গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। রমজানে হঠাৎ চা-কফি বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বিরক্তি দেখা দিতে পারে।     খাবারে রাখতে হবে ভারসাম্য : রমজানের প্রস্তুতিতে প্রতিদিনের খাবারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বপ্না মেরি জন।   সেহরিতে ওটস, পূর্ণশস্যের রুটি, ডিম, দই, শিমজাতীয় খাবার ও শাকসবজি রাখা যেতে পারে। ইফতারে শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পরিমিত শস্যজাতীয় খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় থাকে।   অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, ভাজাপোড়া ও ঘন ঘন নাশতা খাওয়ার অভ্যাসও ধীরে ধীরে কমানো উচিত। তবে শরীরের প্রয়োজনীয় খাবার কমিয়ে দেয়াই লক্ষ্য নয়; বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।     শরীরচর্চা বন্ধ নয়, চাই নিয়মিত অভ্যাস : দুবাইয়ের এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জয়মোহন উন্নিথান বলেন, রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শরীরচর্চা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বা তীব্রতা বাড়ানো উচিত নয়।     রমজানে ইফতারের আগে হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জন্য ইফতারের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরের সময়টি তুলনামূলক উপযোগী। আঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে ব্যায়ামের রুটিন পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।     বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী কিংবা শারীরিক আঘাত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। রোজা অবস্থায় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা তীব্র মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক উপসর্গ ভেবে অবহেলা করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।     বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ, রমজানের প্রথম দিন যেন ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের সম্পূর্ণ নতুন রুটিন শুরুর দিন না হয়। তার প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০১, ২০২৬
পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসেমপুত্র রাসেল কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, আঘাত হানতে পারে যে উপকূলে

ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বচ্ছ মাথার বিরল মাছের দেখা পেলেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, কবে কোথায় আঘাত হানবে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’, যার অর্থ ‘ঢোল’ এবং এই নামটি ভারত প্রস্তাব করেছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শনিবার দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সদ্য বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তুলনায় এই ঝড়টির শক্তি কিছুটা কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। এই ঝড়ের প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।   ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে এবং পরদিনও এসব এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে এবং ২ ও ৩ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলেও ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬

৬ বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

ফাইল ছবি

তিন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস

ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে রাখে, কীভাবে ঠিক হয় সেই নাম?

ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাব বাংলাদেশেও

ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।   বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্নব বুধবার সকালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।   পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায়ও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।   এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   ঢাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৭ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে এবং শুক্রবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩ মিনিটে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬

জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, আজ ভারতের উপকূলে আঘাতের শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব নিয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বাংলাদেশে: আবহাওয়াবিদ

0 Comments