জাতীয়

বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না’— রামিসার বাবার ক্ষোভ

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষোভ ঝাড়লেন রামিসার বাবা। তিনি বলেন, “আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। শুধু আশ্বাস দিয়ে সময় পার করা হচ্ছে, কিন্তু অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

 

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তারা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। রামিসার বাবা দাবি করেন, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ মানুষের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও কমে যাবে।

 

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রামিসার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিবারের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, তারা দৃশ্যমান বিচার দেখতে চান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
সীমিত সম্পদের মধ্যেই সবার জন্য বাজেট দেয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই বাজেট দেয়া আমাদের জন্য কঠিন ছিল। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেই সবার জন্য এই বাজেট দেয়া হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।   অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য এই বাজেট দেয়া হয়েছে। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বরাদ্দের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে। বরাদ্দে ব্যয় যেন সঠিকভাবে হয় সেটা নিশ্চিত করা হবে।   মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকার ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।   তিনি বলেন, নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের অর্থনীতির মূল ধারায় আনতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এত বড় বরাদ্দ আগে কোনো বাজেটে হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কের মাঝেও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ৬ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার মেলাকায় বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৪৯ প্রবাসী আটক

ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করে বাজেট দেয়া হয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।   শুক্রবার (১২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিদ্যুতে সয়লাব করার কারণে অপরিকল্পিত অনেক লাইন সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে উৎপাদন, সঞ্চালন ও সরবরাহ—এই তিন জায়গায় সমন্বয় করা হয়নি। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ঠিক থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিকভাবে করা হয়নি, যার ফলে লোডশেডিং হয়।   তিনি বলেন, বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।   রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নভেম্বর মাস থেকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। এই কেন্দ্র থেকে সাড়ে তিনশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।   জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আঠারো বছরের নির্বাচননিহীন সরকার আমাদের ওপর অনেক বোঝা রেখে গেছে। সব বিদ্যুতের চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সেসবের আইনি বাধা না থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।   তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ফসিল ফুয়েল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

কাল একদিনের সফরে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন (ফাইল ছবি)

বাজেটের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

ফাইল ছবি

সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ সাপেক্ষে পে-স্কেলের শর্ত চায় টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত
যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিএসএফ–বিজিবি সীমান্ত বৈঠক

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত চার দিনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হয়েছে।   বুধবার শেষ হওয়া এই বৈঠকে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি, বিভিন্ন অভিযোগ এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।   আলোচনায় বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর বাংলাদেশিদের হামলা এবং সীমান্ত এলাকায় বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ও উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   তবে বৈঠক শেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ডিজি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কোনো যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, যা সাধারণত এ ধরনের বৈঠকের শেষে নিয়মিতভাবে হয়ে থাকে। এর পরিবর্তে শুধুমাত্র একটি লিখিত প্রেস বিবৃতি প্রকাশের কথা জানানো হয়।   গত সোমবার বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। মঙ্গলবার থেকে বিএসএফ সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়।   সাধারণত ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং ১৯৯৩ সাল থেকে এটি বছরে দুইবার করার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের এই প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন না হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান কিছু সংবেদনশীল ইস্যুর ইঙ্গিত বহন করে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় পৌঁছালেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে ইট নিক্ষেপ করে মোটরসাইকেল চালককে আহতের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিককে মারধর, ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0 Comments