নতুন করে ফের বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছে ভারতীয় অভিনেত্রী জেনিফার উইঙ্গেটকে ঘিরে। এর আগে ২০১২ সালে ভালোবেসে অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু মাত্র দু’বছর পরই সেই সংসার ভেঙে যায়। পরবর্তীতে করণ বিপাশা বসুর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পরলেও এখনো একাকীই জীবন কাটাচ্ছেন জেনিফার।
এবার এ অভিনেত্রীকে নিয়ে গুঞ্জন, অবশেষে আবারও বিয়ে করতে যাচ্ছেন জেনিফার। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দিল মিল গায়ে’-এর সহ-অভিনেতা করণ ওয়াহির সঙ্গে নাকি গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও একসঙ্গে কাজ করার সূত্র ধরেই এই জল্পনা আরো জোরদার হয়েছে।
তবে এই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন করণ ওয়াহি নিজেই। ইনস্টাগ্রামে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘সস্তা প্রচার করে আমাদের আরও জনপ্রিয় করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। এরপর যার সঙ্গে বিয়ের জল্পনা ছিল সেই জেনিফারের সঙ্গেও একটি রিল শেয়ার করেছেন এ অভিনেতা, যার ক্যাপশনে নিজেদের সম্পর্কের বন্ধনকে প্রেমের থেকেও বেশি গভীর বলে উল্লেখ করেন করণ ওয়াহি।
বিয়ের জল্পনা শুরু হতে না হতেই দুজনের তরফ থেকে এমন জবাবের পর এবার সেই গুঞ্জনকে আপাতত গুজব বলেই মনে করছেন নেটিজেনরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘তেরে বিন’। ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাটকটি ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করে প্রথম পাকিস্তানি নাটক হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়েছে। প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আবেগঘন গল্পে সাজানো ‘তেরে বিন’ শুধু পাকিস্তানেই নয়, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র মীরব ও মুরতাসিমের রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সম্প্রচার শুরু হওয়া নাটকটির প্রথম সিজন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শেষ হয়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকতেই নির্মাতারা দ্বিতীয় সিজনের ঘোষণা দেন। পরে ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রধান দুই তারকা ওহাজ আলী ও ইয়ুমনা জায়েদিকে নিয়েই নতুন সিজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। তবে ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় সিজনের শুটিং কিংবা সম্প্রচার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আর এই নীরবতাই দর্শকদের হতাশা ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা একের পর এক মন্তব্য করে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত বড় সাফল্যের পরও কেন দ্বিতীয় সিজনের কাজ শুরু হচ্ছে না। কেউ কেউ আবার মজার ছলে বলছেন, ‘তেরে বিন ২’ দেখতে হয়তো আরও অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে। বিনোদন অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের জুনের শেষ ভাগ অথবা জুলাইয়ের শুরুতে দ্বিতীয় সিজনের শুটিং শুরু হতে পারে। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে ৫০০ কোটির ভিউয়ের ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি এখন ভক্তদের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ‘তেরে বিন ২’। তাদের প্রত্যাশা, অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুব শিগগিরই নতুন সিজন নিয়ে আনুষ্ঠানিক সুখবর আসবে।
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় তিন দশক পর তার মরদেহ কবর থেকে পুনরায় উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে, এর আগে প্রথম দফা মরদেহ উত্তোলনের পর পচন ধরায় চিকিৎসকরা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি। ফলে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফের লাশ উত্তোলনের এ আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা। একই সঙ্গে লাশ উত্তোলনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃতদেহ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব। এদিকে লাশ উত্তোলনের আবেদনের কপি কালবেলার হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) আদালত হতে তথ্য প্রদানকারী নিলুফা জামান চৌধুরীর (নীলা চৌধুরী) পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী, বাদীর বোন জামাতা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহ্সহ নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ’র সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানান যে, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তখন তারা তাদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহ’র বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখন তারা দ্রুত নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় এসে দেখেন যে, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের উপরে মরার মতো পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অতঃপর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সংক্রান্তে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষাপট ও নতুন মোড় দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সম্প্রতি নতুন মোড় নেয় আইনি প্রক্রিয়া। গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা ‘অপমৃত্যু’ মামলাটি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের আবেদন থেকে জানা যায়, সালমান শাহের মরদেহ উত্তোলনের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দাফনের ৯ দিনের মাথায় তদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে কবর থেকে সালামন শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহালসহ ময়নাতদন্ত করা হয়। তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসক মত দেন যে ফাঁসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এবং তা আত্মহত্যাজনিত। তবে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তে মেডিকেল বোর্ড জানায়, লাশে পচন ধরার কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হত্যা মামলা হিসেবে পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবে নতুন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই মৃত্যুরহস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সেই কারণেই আদালত মরদেহ পুনরায় উত্তোলনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
ভারতীয় সিনেমায় তারকাদের পারিশ্রমিক বরাবরই আলোচনার বিষয়। নব্বইয়ের দশকে অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত এবং তিনখানের রাজত্বে তেলেগু অভিনেতা কনিদেলা চিরঞ্জিবী হঠাৎ বিপ্লব ঘটিয়ে দেন। ওই সময়ে তিনি একটি সিনেমার জন্য এক কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে বসেন। এরপর থেকেই ভারতীয় সুপারস্টারদের পারিশ্রমিক সিনেমাপ্রেমী ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের আগ্রহের বড় একটি জায়গা নিয়ে আছে। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এরপর তিন দশক ধরে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ভারতীয় অভিনেতাদের তালিকায় আধিপত্য ধরে রেখেছিল বলিউড সুপারস্টাররা। তবে গত কয়েক বছরে সিনেমার সাফল্য, অভিনয় শিল্পীদের পারিশ্রমিক ও বাজেট-সব কিছুতেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে টেক্কা দিয়েছে দক্ষিণ ভারতের প্যান-ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রগুলো। দক্ষিণের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রসারের ফলে তেলেগু ও তামিল তারকারাও এই প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের একজনই বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ভারতীয় অভিনেতা। ২০২৪ সালে মুক্তি পায় ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’। এর মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একক সিনেমার জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়ার রেকর্ড গড়েন আল্লু অর্জুন। এই সিনেমার জন্য তিনি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের পাশাপাশি সিনেমার আয়ের একটি অংশও নিয়েছিলেন। আর এই লভ্যাংশই তাকে অন্য সব তারকার থেকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের দাবি, বিশ্বজুড়ে ১৭০০ কোটিরও বেশি রুপি আয় করে ‘পুষ্পা ২’। সিনেমার লাভের পরিমাণ ছিল ৬০০ কোটিরও বেশি। তার একটা বড় অংশ পেয়েছেন পর্দার ‘পুষ্পা’। নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের পাশাপাশি সিনেমা থেকে তার মোট আয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি দাঁড়ায়। এই অঙ্ক ভারতের বহু বড় বাজেটের সিনেমার মোট নির্মাণ খরচের থেকেও বেশি। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, এক সময়ের সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় সিনেমা ‘বাহুবলী ২’-এর বাজেট ছিল ২৫০ কোটি রুপির কম। তিন খানের আধিপত্য দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় রাজত্ব করেছেন তিন খান— শাহরুখ খান, আমির খান এবং সলমন খান। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে অমিতাভ বচ্চন ও সঞ্জয় দত্তের পরে তাদের উত্থান ঘটে। ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে ক্রমশ বেড়েছে তাদের পারিশ্রমিকও। শাহরুখই প্রথম সিনেমার লাভের অংশ নেওয়ার প্রথা চালু করেন, আর আমির খান প্রথম ১০০ কোটির পারিশ্রমিকের গণ্ডি পেরোন। ২০১০-এর দশকের শেষ দিকে তিন খানই সিনেমাপ্রতি ১০০ কোটির বেশি আয় করতেন। ২০২৩ সালে ‘পাঠান’ এবং ‘জওয়ান’ সাফল্যের পরে শাহরুখের পারিশ্রমিক ২০০ কোটিরও গণ্ডি পেরিয়ে যায়। তবে ২০২৪ সালে এই তারকাদের ছাড়িয়ে যান তামিল সুপারস্টার রজনীকান্ত। সত্তরের কোঠায় থাকা থালাইভা খ্যাত রজনীকান্ত সর্বকালের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী তামিল চলচ্চিত্র 'জেলার'-এর জন্য ২৫০ কোটি রুপির বেশি আয় করেন।