খেলাধুলা

ক্রিকেটের ময়দানে বাংলাদেশ-ভারতের ‘গুলিবিহীন যুদ্ধ’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬

পৃথিবীতে নানা ধরনের মিথ্যা কথা অপ্তবাক্য হিসেবে জনপ্রিয়। তবে একটি অপ্তবাক্য এতোটাই মিথ্যা যে তা রীতিমত হাস্যকর। বাক্যটি হচ্ছে খেলাধুলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না। বিরাজনীতিকরণের অদ্ভুত উন্নাসিকতা থেকে উৎসারিত এই বাক্যটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা ভুলে যান যে, আন্তর্জাতিক খেলাধুলা মানেই রাজনীতি। শুধু রাজনীতিই নয়, কেউ কেউ মনে করেন, হাজার হাজার বছর ধরে দেশ দখল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের লক্ষে দেশে দেশে যে যুদ্ধ হতো, তার আধুনিক রূপ হচ্ছে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা। অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার যে শিকারী প্রবণতা, খেলার মাঠে তা কেবল অবদমন করা হয়। আধুনিক যুগে মরণঘাতী যুদ্ধের অভাব রাষ্ট্রগুলো খেলার ময়দানে পূরণ করে।

 

এই কারণেই জর্জ ওরওয়েল আন্তর্জাতিক খেলাধুলাকে বলেছিলেন, ‘ওয়ার মাইনাস দ্য শুটিং’। এবং সেই নাম ধরে মার্কিন ক্রীড়ালেখক মাইক মারকুইসি ১৯৯৬ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার রাজনীতি, কূটনীতি এবং এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ গোটা ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন।

ঠিক ৩০ বছর পর, উপমহাদেশে আরেকটি বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ক্রিকেট কূটনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী—বাংলাদেশ ও ভারত। এই ঘটনার নানাদিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ক্রিকেট কূটনীতি শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের সম্পর্ক এবং আরও নানা বিষয়কে প্রভাবিত করে।

ঘটনার বিস্ফোরণ ঘটে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। ৯ কোটি রুপির বেশি টাকায় তাকে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেওয়া হলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হস্তক্ষেপে তাকে দলে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বোর্ডের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজকে দলে রাখা সম্ভব নয়। এর পেছনের কারণ, ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দলের এক নেতা হুমকি দিয়েছিলেন যে, মুস্তাফিজ আইপিএলে খেললে কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলটির মালিক শাহরুখ খানকেও দালাল বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শাহরুখ ভারতের সুপারস্টার হলেও তিনি মুসলমান। মুস্তাফিজও মুসলমান। বিজেপির শাসনে তুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বাংলাদেশি মুসলমানদের উপর বহু হামলার নজির রয়েছে। ভারতে হিন্দুত্ববাদী শাসনে অহিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য জীবনযাপন অনিরাপদ। চলমান জাতিগত বিদ্বেষ ও হত্যাকাণ্ডের ধারা দেশে ভয়ঙ্কর মাত্রা পেয়েছে।

তবে, সেই বিজেপি দাবি করছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন চলার পর হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গণহত্যার চিত্র তৈরি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশটিতে বাংলাদেশকেও প্রায় একই ধরনের সম্পর্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা চলছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ঘৃণার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদের প্রভাব জোরদার হচ্ছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গত দেড় বছর ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অক্ষমতার কারণে মাজার ভাঙচুর ও মব আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অমুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে। তবে, ভারতের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বিপুল মাত্রায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়নি।

বিরোধী মতের ওপর চাপ দিয়ে, স্বৈরশাসক হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ভারত সরকার পরিস্থিতিকে বিদ্বেষপূর্ণ করতে চায়। হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কঠোর করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে শিথিলতা সীমিত। মোদির আমলে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ভারত প্রভাব বিস্তার করে, অন্যদের খেয়াল রাখে না। মোদির শাসনে আক্রমণাত্মক কূটনীতি ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণ করে।

মুস্তাফিজের ঘটনায় ভারত সরকারের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক ও অন্যদের তুচ্ছ করার মনোভাব থেকে উদ্ভূত। তবে তারা ভুলে গেছে, এর প্রতিউত্তর আসতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে এটি একটি কৌশলগত সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ আসন্ন এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে দলকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত করা সম্ভব।

ভারত হয়তো ধারণা করতে পারেনি যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। কারণ, আইপিএল বিশ্বকাপের পরে শুরু হবে। তখন মুস্তাফিজের প্রতিহিংসা করলে বাংলাদেশের পক্ষে সীমাবদ্ধতা থাকবে না।

মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে বাংলাদেশ বিরোধিতা ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় কার্ড। ধর্ম ও ক্রিকেটকে ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরি করা সহজ।

প্রশ্ন হলো, মুস্তাফিজ অন্য কোনো অঞ্চলের দলে খেললে কি এমন প্রতিক্রিয়া হতো? রাজনীতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। পোস্ট-ট্রুথ যুগে মানুষকে ঘৃণার মাধ্যমে পরিচালনা করা রাজনীতিবিদদের জন্য ফলপ্রসূ। মোদি বা ট্রাম্পের বিজয় তা প্রমাণ করে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায়। তবে এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পাশ কাটিয়ে পরবর্তী সরকারের সঙ্গে করতে চায়।

দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এই ধরনের শীতল সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর নয়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। ভারত বরাবরই পাপেট সরকার বসাতে চেয়েছে। হাসিনার শাসনামল সেই চেষ্টার উদাহরণ। গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন যেকোনো সরকারকে সাবধান থাকতে হবে।

লোকরঞ্জনবাদের যুগে রেটোরিক ও উত্তেজনা রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশের মানুষও প্রায়শই এই উত্তেজনায় আবদ্ধ। “দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান যেমন প্রচলিত, তেমন বাস্তব নীতি নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি কীভাবে স্বনির্ভর হবে, ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে—এ নিয়ে কোনো দৃঢ় পরিকল্পনা নেই।

অর্থনীতিবিদ মাহা মির্জা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে হাসিনার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত হত্যা, জ্বালানি খাতের চুক্তি—এসব মোকাবিলার জন্য স্বনির্ভর অর্থনীতি ও নীতি প্রয়োজন। মুখে “ঢাকা ঢাকা” বললে জনতুষ্টি হয়, কিন্তু আধিপত্যবাদ ঠেকানো যায় না।

ক্রিকেট কূটনীতিতে লক্ষ্য ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। লুজ বলের মতো সুযোগ মিস করলে খেলার সুবিধা হারায়। ভারত লুজ বল দিয়েছে, বাংলাদেশ সুচিন্তিতভাবে ছক্কার মাধ্যমে তা ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের কৌশল ও প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপে দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। ভারতকে দেখাতে হবে যে, গুণ্ডামির জবাব দেওয়া যায়। ক্রিকেট বোর্ড নিয়ম মেনে কাজ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দল পাঠানো হতো না। আয়োজক দেশের জন্য, বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের জন্য, এটি অস্বস্তিকর।

বাংলাদেশ সরকারও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। একদিকে মববাজি, অন্যদিকে ব্যর্থ সরকারের জন্য ভারতবিরোধী কৌশল হলো শক্তিশালী হাতিয়ার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ সময় নিজেদের স্কোর বাড়াতে চায়।

ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য কী? এক্সিট প্ল্যান কী? বাংলাদেশ কি সম্পর্ক বন্ধ করবে, নাকি দরকষাকষি করে সম্মান নিশ্চিত করবে? বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ হলো ভারতের ভুলকে কাজে লাগানো, দরকষাকষি করা, আইসিসিতে প্রভাব খাটানো।

১৯৯৬ সালে অ-এশীয় ব্লক শ্রীলংকা বয়কট করেছিল। আজহারউদ্দিন ও ইমরান খানের নেতৃত্বে দল খেলে, আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। রাজনৈতিক ব্লকের শক্তি না থাকায় কেনিয়া হারায়। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বেশি এগোয়নি।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই কূটনৈতিক স্বার্থে সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশের বার্তা হবে কেবল ক্রিকেট নয়—তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা, সীমান্ত হত্যা—এসবেও ভারতকে সতর্ক করতে হবে। বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সার্কের মতো সংগঠনের পুনর্জাগরণও প্রয়োজন।

কূটনীতি হলো ঠাণ্ডা মাথার রাজনীতি। ছোট দেশের জন্য বড় দেশের সঙ্গে কৌশলী, একতাবদ্ধ ও বাস্তববাদী পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওপারের বিজেপি ও ঘৃণাবাদীরা রিয়েল পলিটিকে আগ্রহী নয়। তারা ধর্ম ও উগ্র জাতীয়তাবাদের কার্ড ব্যবহার করে উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চায়।

বাংলাদেশ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ একপেশে সম্পর্ক, নতজানু অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা জনগণের দাবি। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া মানসিক ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। তবে পরবর্তী চালগুলো কৌশলী হতে হবে।

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, সম্পর্ক বন্ধ করাও চাই না। সমতার কূটনীতি ও সম্মান নিশ্চিতকরণের রাজনীতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শুধু জাতীয়তাবাদী হাতিয়ার না বানিয়ে সত্যিকারের ধারালো করতে হবে। বিশ কোটি মানুষের দেশের বাজার শক্তি অর্জন করতে হবে। মুস্তাফিজের ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শক্তি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ব্যবহার করতে হবে।

রুডইয়ার্ড কিপলিং বলেছিলেন, হোয়্যাট শ্যুড দে নো অফ ইংল্যান্ড হু অনলি ইংল্যান্ড নো? শুধুমাত্র ইংল্যান্ড জানলেই কি সাম্রাজ্য বোঝা যায়? অনুরূপভাবে, সিএলআর জেমস বলেছেন, হোয়্যাট ডু দে নো অফ ক্রিকেট হু অনলি ক্রিকেট নো? কেবল স্কোর, রান, অ্যাভারেজ মিলে ক্রিকেট বোঝা যায় না; ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ, শ্রেণি ও রাজনীতি না বোঝা পর্যন্ত ক্রিকেট বোঝা যায় না।

 

ক্রিকেট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার। বাংলাদেশের অর্জন প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে হলেও, এটি ভবিষ্যতে ন্যায্যতার লড়াই শুরু করতে পারে। ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাবার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন মেসি, ইন্টার মায়ামির পরবর্তী ম্যাচে নামা অনিশ্চিত

ব্যক্তিগত বিমানটি যুক্তরাজ্যে ফিরলেও ফেরেননি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের না ফেরাটাই স্বাভাবিক।     বাবাকে শেষবিদায় জানানোর পর তাই এখনো পরিবারের সঙ্গেই রোজারিওতে আছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।   মায়ামিতে কবে ফিরবেন মেসি সেটাও এখনো নির্দিষ্ট নয়। তাই ইন্টার মায়ামির হয়ে তার মাঠে নামাটাও এখন অনিশ্চিত। গত ৮ আগস্ট পরপারে পাড়ি জমান মেসির বাবা হোর্হে মেসি।       বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই শনিবার রাতে ফোর্ট লডারডেল থেকে রোজারিও পৌঁছান মেসি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো।     পরের দিন পেরেজের এল প্রাদো কবরস্থানে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন মেসি। শেষকৃত্যে শেষে রোজারিওর বাসায় ফেরেন।     সেখানেই মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি, ভাই রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং বোন মারিয়া সোলসহ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী প্লেমেকার। বাবাকে হারানোর পর তার ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে বাবার শেষবিদায়ে ড্রোনের নজরদারিতে ক্ষুব্ধ হন মেসির পরিবার।     মায়ামির পরের ম্যাচ আগামী ১৩ আগস্ট। লিগস কাপের প্রথম পর্বে মায়ামির প্রতিপক্ষ লিওন।     মেসি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরায় তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেও চলে। অবশ্য এখনো সাবেক বার্সেলোনা-পিএসজির ফরোয়ার্ডকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি মায়ামি।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনা থেকে ধারে লিভারপুলে আরাউহো

ছবি: সংগৃহীত

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ফর্টিসের অভিষেক, সামনে কঠিন পরীক্ষা মুরাস ইউনাইটেড

ছবি: সংগৃহীত

বাবার শেষকৃত্যে ড্রোনের হানা, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি মেসির

ছবি : সংগৃহীত
ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা, আরও পিছাতে পারে সিরিজ

২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সেই সফর আর হয়নি। তবে সেই সিরিজ নিয়ে দুই বোর্ডের কথা চলছে মাসখানেক ধরে। ই-মেইলে আলোচনা হচ্ছিল নানা বিষয়াদি নিয়ে। ভারত স্থগিত হওয়া সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে তা আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছিল। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অপেক্ষায় ছিল সরকারের সবুজ সংকেতের। কিন্তু সেই সবুজ সংকেত সহসাই আসছে না তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে দুই বোর্ড।       বৈরিতা ভুলে প্রতিবেশী দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বরফ গলতে শুরু করলেও রাজনৈতিক উত্তেজনায় দুই দেশের সরকারের দূরত্ব আগের মতোই। বরং টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সরকারের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। তাতে ক্রিকেটীয় কূটনীতিতেও পড়েছে প্রভাব।       ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক টানাপোড়েন শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকার সেই সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর থেকে দুই বোর্ডের সম্পর্কে আরও দূরত্ব বেড়ে যায়।     বাংলাদেশ পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপও খেলতে যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের কথাও শুনেনি। সব মিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিল বিসিবি। নতুন সরকার পেছনের তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।     কিন্তু বুধবার নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন ও এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার পর ব্যাপারটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই বোর্ডও এখন অনুভব করতে পারছে, এই সময়ে আর সিরিজটি সম্ভব নয়।       তবে বিসিবির বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আরও এক দফা সিরিজটি স্থগিত হতে যাচ্ছে। অন্তত ছয় মাসের জন্য সিরিজটি স্থগিত হতে চলছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে সিরিজ আয়োজনের জোর চেষ্টা চালাবে বোর্ড। মূলত ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিরিজটি স্থগিত করা হয়েছিল। আরও একবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে।     বিসিবির বছরের শুরুতে দেয়া সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে আসবে। তিন ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তিন টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ঢাকায়। টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে আর্জেন্টাইন ফুটবলে শোক

ছবি: সংগৃহীত

পিকে-শাকিরার সেই ‘প্রাসাদ’ কত দামে কিনলেন ইয়ামাল?

বাবার মৃত্যুতে জন্মশহরে মেসি, ম্যাচের আগে শ্রদ্ধা জানালো মায়ামি

ছবি: সংগৃহীত
৯ বছরের ছোট ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ম্রুণালের

ভারতীয় জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে নিজের প্রেমের চটকদার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর। মুম্বাইয়ের একই রেস্তোরাঁ থেকে দুজনকে বের হতে দেখার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রেমের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তবে এসব ভুয়া খবর ও গুজবে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেটিজেন ও সংবাদমাধ্যমকে কড়া জবাব দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।   ঘটনার সূত্রপাত মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ওয়েস্টের একটি ক্যাফেতে। দুজনকে প্রায় একই সময়ে সেই ক্যাফে থেকে বের হতে দেখা গেলে ইন্টারনেটে মুহূর্তের মধ্যে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ভক্তদের একাংশ দাবি করতে থাকেন যে ম্রুণাল ও ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার যশস্বী প্রেম করছেন। ইন্টারনেটে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ম্রুণাল ঠাকুর কি তার চেয়ে ৯ বছরের ছোট ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়ালকে ডেটিং করছেন?’   এই ধরনের মনগড়া খবরে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ঘরে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান ম্রুণাল ঠাকুর। ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘ভাই, একটু শান্ত হন! আমরা কোথায় একসঙ্গে ছিলাম? আপনারা এত পড়াশোনা করা মানুষ হয়েও কীভাবে এমন একটা ভুয়া খবরকে সত্যি বলে বিশ্বাস করছেন?’   নিজের মন্তব্যে থামেননি ম্রুণাল। দেশজুড়ে চলা গুরুতর বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দেশে কত কিছু ঘটছে। জেন-জি (নতুন প্রজন্ম) থেকে কিছু শিখুন আর আসল বিষয়গুলো নিয়ে ভিডিও বানান, তাতে ভিউ আরও অনেক বেশি পাবেন।’   প্রিয় অভিনেত্রীর এমন স্পষ্ট ও সাহসী জবাবে সায় দিয়েছেন তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। কমেন্ট সেকশনে ম্রুণালের সমর্থনে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এক ভক্ত লিখেছেন, ‘কেন এই ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে?’ অন্য একজন প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘একই দিনে দুইজন মানুষ কি একটি রেস্তোরাঁতে যেতেও পারেন না?’ আর এক নেটিজেন রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘এই খবরটা যে রটেছে, তা কি ম্রুণাল ঠাকুর নিজে জানেন?’   উল্লেখ্য, তারকাদের সঙ্গে ম্রুণাল ঠাকুরের প্রেমের জল্পনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে দক্ষিণী অভিনেতা ধানুশের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল এবং ২০২৬ সালে তারা বিয়ে করছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তীতে দুই শিল্পীই সেই খবর পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।   অন্যদিকে, ২৪ বছর বয়সী যশস্বী জয়সওয়াল বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান তরুণ তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকেই ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এই তারকা।   সূত্র: এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোচ: প্ল্যান এ, বি, সি- সব পরিকল্পনাতেই স্কালোনি

ছবি: সংগৃহীত

সাকিব-হৃদয়দের হারিয়ে এলপিএল চ্যাম্পিয়ন শানাকার দল

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে সরাসরি আফগানিস্তান, বাংলাদেশের ভাগ্য এখন ভারতের হাতে

0 Comments