সারাদেশ

দুই যুগ পর রংপুরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬

দীর্ঘ দুই যুগ পর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল রংপুর সফরে যাচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর বিভাগজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও সাজ সাজ রব। একই সঙ্গে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা।

 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। সমাবেশকে সফল করতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিভক্তি ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। যারা মনোনয়ন পাননি, তারাও অভিমান ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টায় তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

রংপুর বিভাগে মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রতিটি আসনে চার থেকে পাঁচজন করে প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে কিছুটা মান-অভিমান দেখা দিলেও তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সেই দূরত্ব ঘুচেছে। প্রচারণায় অংশ না নেওয়ায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকে শোকজ করা হলেও বর্তমানে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর চেম্বার ভবনের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এবং রংপুর বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর অঞ্চলে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিফলন জনসভায় দেখা যাবে।”
তিনি জানান, বিভাগের ৩৩টি আসন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিমানবন্দর চালু, শিল্পকারখানা স্থাপন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা দাবি তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, জনসভাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের (সদর ও আংশিক সিটি) প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের প্রধানের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মহানগর পুলিশ। সভামঞ্চ, আশপাশের ভবন এবং পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। নগরীর বিভিন্ন তল্লাশি চৌকিতে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

 

মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, জনসভাস্থল ও চলাচলের রাস্তাগুলো নিরাপদ রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ইউনিফর্মধারী ফোর্সের পাশাপাশি রুফটপে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদার দাবিতে হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫ লাখ টাকা লুট

কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে ডিজিটাল ডন নেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে নগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা-বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে এ ঘটনা ঘটে।    এ ঘটনায় অভিযোগের তির বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের দিকে। সিএমপির চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।    ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, দুই দিন আগে ডেভিড ইমন নামে এক সন্ত্রাসী ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা।    এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসেছে । এতে দেখা যায়, সশস্ত্র ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ঢুকে ডিডিএনের কার্যালয়ের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। তারা কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।   সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।   পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন, এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।   পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।   পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঝাড়ফুঁক-তাবিজের আড়ালে অপচিকিৎসা, কবিরাজকে জরিমানা

বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

আজ যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না

নদীর বুকে নির্মিত বাঁধ। ছবি: সংগৃহীত

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, ঝুঁকিতে নিম্নাঞ্চল

ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার গাড়িবহরের সামনে ইট নিক্ষেপের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল যাওয়ার পথে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গাড়ি লক্ষ্য করে ইটের টুকরা নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মাদারীপুরের সাধুরব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷ এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।   ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাচ্ছে। তাঁকে বহন করা বাসটির সামনে ও পেছনে একাধিক গাড়ি আছে। মহাসড়কের পাশে লোকজন ভিড় করেছেন। তারেক রহমান বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। তাঁকে বহন করা বাসটির পেছনে থাকা তৃতীয় গাড়িটির গাড়ির সামনে একটি ইটের টুকরা এসে পড়ে।   এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, নাকি দুর্বৃত্তদের কাজ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বহরের গাড়িতে একটি ইটের টুকরা পড়েছে। সেটি টায়ার থেকে আসছে, নাকি কেউ নিক্ষেপ করেছে, বিষয়টি নিয়ে আমরা অ্যানালাইসিস (অনুসন্ধান) করছি। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কিছু নেই। কী ঘটনা, সেটি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে বাসে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ১০টার কিছু আগে গৌরনদীর বাটাজোরে পৌঁছান। বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি সড়কপথে বরিশাল ত্যাগ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ বছরে নির্মাণ হয়েছে মাত্র ১৭টি পিলার

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

ছবি: সংগৃহীত

বন্যায় একটি মানুষকেও ক্ষুধার অভাবে মরতে দেওয়া যাবে না: ডিসি ফরিদা

ছবি: সংগৃহীত
‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি, মাসে ১০ লাখ চাঁদা দিতে হবে’

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।   হামলার আগে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নগরের চকবাজার থানার ১২১ মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ডিডিএনের ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস) মো. শামশুদ্দোহা মিনহাজ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুন, ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, মো. শহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল কায়েছকে সাক্ষী করা হয়েছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিদেশি একটি নম্বর এবং একটি দেশীয় নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে বলেন, চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চাঁদার দাবি প্রত্যাখ্যান করার দুই দিন পর সোমবার দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি রামদা, কিরিচ, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় অফিসের কাচের দরজা, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভাঙচুরের শিকার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এইচপির ৬টি, ডেলের ৩টি ও এসারের একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ডেলের ৩টি ও থিংকপ্যাডের একটি ল্যাপটপ, একটি ইপসন প্রিন্টার, স্টেলার ব্র্যান্ডের দুটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন এবং অফিসের বিভিন্ন কাচের স্থাপনা।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪৭ হাজার টাকা নগদ, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগে থাকা কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।   এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজেও মুখোশধারী হামলাকারীদের অস্ত্র হাতে অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালাতে দেখা গেছে।   ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, ‘হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। কয়েক দিন আগে ‘ডেভিড ইমন’ নামে একজন ফোন করে চাঁদা দাবি করেছিলেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। আমাদের ধারণা, চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।’   প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুন বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এমনকি বলা হয়, এখন থেকে আমাদের ব্যবসা তারাই পরিচালনা করবে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে।’   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডেভিড ইমন বিদেশে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের ‘বিশেষ’ অভিযানে আড়াই মাসে গ্রেপ্তার ৩৩ হাজার, বেশিরভাগই মাদক মামলায়

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যগামী নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পে হাঁটুপানি, চলাচলে সতর্কতা

0 Comments