এশিয়ান আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বাংলাদেশের রাম কৃষ্ণ সাহা ও বন্যা আক্তার। রিকার্ভ পুরুষ ও কম্পাউন্ড নারী বিভাগের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে এই দুইজন ছিলেন বাংলাদেশের সেরা।
বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২তম স্থান অর্জন করেছেন বন্যা আক্তার, স্কোর করেছেন ৬৯৩ পয়েন্ট — যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। এ ইভেন্টে ভারতের দীপশিখা ৭০৫ স্কোর করে প্রথম হয়েছেন।
রিকার্ভ পুরুষ বিভাগে ৬৬৮ স্কোর করে ষষ্ঠ হয়েছেন রাম কৃষ্ণ সাহা। ৬৮৭ স্কোর করে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের সঞ্জয় ইয়াশদিপ ভোগে।
ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করার পর বন্যা বলেন, “আমি আমার পারফরম্যান্সে খুশি। অনুশীলনে যেমন স্কোর করতাম, আজও সেটা দিতে পেরেছি। বাতাস শুরুতে বেশ ছিল, তবে পরে কমে যায়। আন্তর্জাতিকভাবে প্রথমবার ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করেছি — এটি আগামী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
রাম কৃষ্ণ বলেন, “র্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে আসতে পেরে খুশি। নক-আউট রাউন্ডে সবাইকে হারানো সম্ভব, তাই নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারলে অবশ্যই মেডেল আশা করা যায়।”
এছাড়া রিকার্ভ পুরুষ বিভাগে মোহাম্মদ রাকিব ৬৪৭ স্কোর নিয়ে ৩২তম, সাগর ইসলাম ৬৩৯ স্কোর নিয়ে ৩৮তম এবং আব্দুর রহমান আলিফ ৬৩৭ স্কোর নিয়ে হয়েছেন ৪১তম। চারজনই প্রথম রাউন্ডে ‘বাই’ পেয়েছেন, রাম পেয়েছেন দুটি ‘বাই’ — সরাসরি উঠেছেন সেরা ১৬-তে।
কম্পাউন্ড নারী এককে বাংলাদেশের অন্যান্য আরচ্যারদের মধ্যে কুলসুম আক্তার ১৭তম (৬৮৮), পুষ্পিতা জামান ২৪তম (৬৮০) এবং মিথিলা আক্তার ৩২তম (৬৬২)।
এলিমিনেশন রাউন্ডে বন্যা মুখোমুখি হবেন ইরানের বিতা ওসকই আশেঘজাদেহের, কুলসুমের প্রতিপক্ষ ইরানের ফাতেমেহ বাঘেরি, পুষ্পিতা লড়বেন দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক জং উনের, আর মিথিলা খেলবেন সৌদি আরবের রাঘাদ কাবির বিপক্ষে।
দলগত ইভেন্টে পুরুষ দল রিকার্ভে ভিয়েতনামের বিপক্ষে, আর কম্পাউন্ড নারী দল সেমিফাইনালে উঠতে কাজাখস্তানের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শেষ হয়েছে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল পর্বের খেলা। নিজ যোগ্যতায় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত নারী ফুটবল দল। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আগামী শুক্রবার পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে নামে ভারতের মেয়েরা। পুরো টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল প্রতিপক্ষের গোলবারের দিকে একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। প্রতিবারই তারা খেই হারিয়েছে ভুটানের রক্ষণভাগের কাছে গিয়ে। অবশেষে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে গোল করেন ননগ্রুম। এই এক গোল লিড ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় ভারতের। এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও নেপাল। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার অলিম্পিক গোলে সমতায় ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধি দল। আর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে গোল করেন সাগরিকা। তাতেই টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম পর্বে একই গ্রুপ ছিল দুই ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ ও ভারত। সেখানে ভারতের বিপক্ষে পেরে উঠেনি মারিয়া মান্দার বাহিনী। হেরেছিল ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পর্তুগাল জাতীয় দলের প্রথম অনুশীলন সেশনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একাধিক ছবি পোস্ট করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন রোনালদো। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ অভিষেকের পর থেকে তিনি টানা ছয়টি আসরে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়তে চলেছেন। তবে বিশ্বকাপই একমাত্র বড় ট্রফি, যা এখনো তিনি অর্জন করতে পারেননি। তাই এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন পর্তুগিজ মহাতারকা। বর্তমান নেশনস লিগ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে। ১৭ জুন হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। এরপর ২৩ জুন একই ভেন্যুতে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ জুন মায়ামিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল।
ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব দিদিয়ের দেশম। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়া এই ফরাসি কিংবদন্তি এবারও দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকাপ মিশনে। তবে অতীতের সাফল্য নয়, তার মনোযোগ এখন পুরোপুরি বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশম বলেন, ‘আমি কেবল বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবি। আমার স্বভাবটাই এমন। সত্যি বলতে, এছাড়া অন্য কিছু আমার কাছে কোনো গুরুত্ব পায় না। সামনের দিনগুলোতে কী অপেক্ষা করছে, আমি শুধু সেটা নিয়েই ভাবছি।’ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ার দেশমের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিভিন্ন লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও বিশ্বকাপকে তিনি অন্য যেকোনো অর্জনের চেয়ে বেশি মর্যাদা দেন। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অনেক ট্রফি জেতার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। এই গৌরব অর্জনের পর আপনার নাম আগের মতোই থাকবে, কিন্তু নামের পাশে চিরদিনের জন্য যুক্ত হয়ে যাবে দুটি শব্দ, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’।’ ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হলেও সেগুলোকে পেছনে ফেলেই এগোতে চান দেশম। তার মতে, অতীতের অর্জন যত বড়ই হোক, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালে যা ঘটেছিল তা আজীবন আমার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে, তবে অতীতকে কখনো পরিবর্তন করা যায় না। এখন আমরা সামনে কী করছি, সেটাই আসল কথা। ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আমার দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছিল, কিন্তু দুটি গৌরবময় মুহূর্তেই আমি দলের সাথে ছিলাম। দুটি অভিজ্ঞতাই ছিল এককথায় জাদুকরী।’ আসন্ন বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে দেখছেন দেশম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমরা প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছি কারণ আমাদের কাছে ফল আছে। আমরা ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছি এবং ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছি। এ কারণে দর্শক সমর্থকরা আমাদের থেকে উচুঁমানের পারফরম্যান্সেরই প্রতাশ্যা কারে। আমরা সেই ১০-১২টি দেশের মধ্যে একটি যারা শিরোপার দাবিদার এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল। তবে এই লড়াইয়ে একটি দলই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। বাকিরা হতাশ হয়ে ফেরে।’ গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরাক ও নরওয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সামনে তাই শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।