খেলাধুলা

২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের পথে জার্মানি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২২, ২০২৬

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।


জার্মান ফুটবল ফেডারেশনকে এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংসদ-সদস্যরা। জার্মান সরকারের এতে সম্মতি আছে।

গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ডেনমার্ক, জার্মানিসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সেটি কার্যকর হলে পালটা ব্যবস্থা হিসাবে বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পরে জার্মানি।

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ তিনটি হলেও অধিকাংশ ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করেন, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে।

আপাতত জার্মানি নিজেদের কাজ এগিয়ে রাখছে। বিশ্বকাপে খেলা বা না খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি)। বয়কটের পক্ষে জনমত গঠনে প্রচারণা চালাচ্ছেন রাজনীতিবিদরা।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৪৭ শতাংশ মানুষ ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে। বিপরীতে বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে ৩৫ ভাগ মানুষ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মিঠুনের নেতৃত্বে কোয়াবের এক বছর, ক্রিকেটারদের স্বার্থে আরও কাজের পরিকল্পনা

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন। এক বছর পূর্তিতে ক্রিকেটারদের অধিকার, কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।   মিঠুন বলেন, সবার সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত ১২ মাস সফলভাবে পার করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সময়টা সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   কোয়াব সভাপতি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটারদের অধিকার ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় না দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করেছে সংগঠনটি।   গত এক বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে ক্রিকেটারদের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন মিঠুন। বিশেষ করে বিপিএল আয়োজন না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে কোয়াব। ক্ষতির প্রভাব কীভাবে কিছুটা কমানো যায়, সে বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কাজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।   এ ছাড়া ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অধিকার ও স্বার্থ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান কোয়াব সভাপতি।   কোয়াবের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অধিকার, কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষায় কোয়াবের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সংগঠনটি।   আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, ক্রিকেটারদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি ক্রিকেটার যাতে এসব উদ্যোগের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।   মিঠুন বলেন, কল্যাণমূলক কাজ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই সম্মিলিত উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেশি সংখ্যক ক্রিকেটারকে এর আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। গত এক বছরে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবসরের পরও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরতে পারেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

বয়সের নথিতে গরমিল, নিষেধাজ্ঞায় ভারতের যুব ক্রিকেটার; তালিকায় বিশ্বকাপজয়ীও

ছবি: সংগৃহীত

জোন্সকে সরিয়ে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের দায়িত্বে মিশু

ছবি: সংগৃহীত
মেসির অবসরের পর সেপ্টেম্বরে প্রথমবার মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পর প্রথমবার মাঠে নামতে যাচ্ছে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একইসঙ্গে তারা লিওনেল মেসির অবসরের পর নতুন অধ্যায় ‍শুরু করবে। সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে তিনি প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় আর্জেন্টিনা। যদিও এখনও তাদের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ওই সময়ে দুই থেকে তিনটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত না হলেও বুয়েন্স আয়ার্স, কর্দোবা ও রোজারিওতে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে লিওনেল স্কালোনির দলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা হবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনায় ফিফার দেওয়া নিষেধাজ্ঞার শাস্তি প্রীতি ম্যাচে কার্যকর হবে কি না, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়। কারণ খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দর্শক ধারণক্ষমতার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর আগে চীনে সফর করে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাও আলোচনায় ছিল। তবে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত সেই পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে দিয়েছে। বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম মেসিকে ছাড়া মাঠে নামবে ‘আলবিসেলেস্তেরা’। ফলে দেশের মাটিতে আর্জেন্টিনার এই ম্যাচগুলো মেসিবিহীন নতুন যুগের প্রথম পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে। ২০২২ আসরের পর সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপেও শিরোপার দ্বারপ্রান্তে ছিল স্কালোনি-মেসির দল। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ সব কামব্যাকের গল্প লেখা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ফাইনালে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। একপেশে ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জিতে শিরোপা উৎসবে মাতে। আগেই ধারণা করা হচ্ছিল এই আসর দিয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার। এর দু’দিন পরই নাকি মেসি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, তবে বাবার মৃত্যুতে কিছুদিন সময় নিয়ে সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণা দেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অর নিয়ে মরিনিয়ো-এনরিকের কথার লড়াই

স্মৃতি মান্ধানা। সংগৃহীত ছবি

নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড স্মৃতি মান্ধানার

ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনার রিজার্ভ দল ছেড়ে কাতারের ক্লাবে রজার মার্টিনেজ

ছবি: সংগৃহীত
৫ রানে ৭ উইকেট, হ্যাটট্রিক করে লঙ্কান ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস আতাপাত্তুর

ব্যাট হাতে বহুবার রেকর্ড গড়া চামারি আতাপাত্তু এবার বল হাতে গড়লেন অনন্য কীর্তি। নারী এশিয়া কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন দেশটির অধিনায়ক। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের পথে হ্যাটট্রিকও করেছেন তিনি।   বুধবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩.৩ ওভার বল করে ৫ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন আতাপাত্তু। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে একসঙ্গে তিনটি জাতীয় রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।   শ্রীলঙ্কার নারী টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার এখন আতাপাত্তু। একই সঙ্গে তিনিই দেশটির নারী টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ডও এবার তার দখলে।   আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আতাপাত্তু। তবে এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচে পাঁচ উইকেটও নিতে পারেননি তিনি। এক ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এবার নিজের ক্যারিয়ারের বোলিং রেকর্ডও অনেক দূর এগিয়ে নিলেন এই লঙ্কান তারকা।   তবে বিশ্ব রেকর্ডের তালিকায় আতাপাত্তুর বোলিং ফিগার সেরা নয়। আইসিসির সব সদস্য দেশ টি-টোয়েন্টি মর্যাদা পাওয়ার পর নারী ক্রিকেটে তার চেয়েও দুর্দান্ত বোলিংয়ের নজির রয়েছে আরও চারজনের।   এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ব্রাজিলের লরা কার্দোসো। গত এপ্রিলে লেসেথোর বিপক্ষে মাত্র ৪ রান খরচ করে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।   এ ছাড়া ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকেই ইন্দোনেশিয়ার রহমিলা শূন্য রানে ৭ উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। ২০২১ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ফ্রেডেরিক ওভারডাইক ৩ রান দিয়ে ৭ উইকেট এবং পরের বছর পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আলিসন স্টকসও ৩ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।   এই তালিকায় ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে আতাপাত্তুর অবস্থান পঞ্চম। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে পঞ্চম হলেও ম্যাচের গুরুত্ব ও পারফরম্যান্সের বিচারে তার কীর্তি ছিল অসাধারণ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন অধিনায়ক আতাপাত্তু।   ব্যাটিং, নেতৃত্ব ও এবার বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে চামারি আতাপাত্তুর অবস্থান যে আরও উঁচুতে উঠল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার বদলে ভারত, বদলে গেল নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক

খেলোয়াড় বিক্রি করে ইংলিশ ক্লাব চেলসির বিশ্বরেকর্ড

ভারতের পর আবারও এশিয়া সফর করবে ব্রাজিল

0 Comments